মূল অংশে যান

আয-যুমার

الزمر

সূরা ৩৯ মাক্কী ৭৫ আয়াত

بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

  1. ১

    تَنزِيلُ ٱلۡكِتَٰبِ مِنَ ٱللَّهِ ٱلۡعَزِيزِ ٱلۡحَكِيمِ

    এই কিতাব (আল কুরআন) পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

  2. ২

    إِنَّآ أَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ بِٱلۡحَقِّ فَٱعۡبُدِ ٱللَّهَ مُخۡلِصٗا لَّهُ ٱلدِّينَ

    নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি সত্যসহ এ কিতাব নাযিল করেছি। সুতরাং তুমি আল্লাহরই ইবাদত করো, তাঁর জন্য দীনকে একনিষ্ঠ করে।

  3. ৩

    أَلَا لِلَّهِ ٱلدِّينُ ٱلۡخَالِصُۚ وَٱلَّذِينَ ٱتَّخَذُواْ مِن دُونِهِۦٓ أَوۡلِيَآءَ مَا نَعۡبُدُهُمۡ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَآ إِلَى ٱللَّهِ زُلۡفَىٰٓ إِنَّ ٱللَّهَ يَحۡكُمُ بَيۡنَهُمۡ فِي مَا هُمۡ فِيهِ يَخۡتَلِفُونَۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهۡدِي مَنۡ هُوَ كَٰذِبٞ كَفَّارٞ

    জেনে রেখো, (শিরকমুক্ত) বিশুদ্ধ ইবাদাত-আনুগত্য আল্লাহর জন্যই। আর যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদেরকে (১) অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, তারা বলে: ‘আমরা কেবল এজন্যই তাদের ‘ইবাদাত করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করিয়ে দিবে।’ যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে আল্লাহ নিশ্চয় সে ব্যাপারে তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ চরম মিথ্যাবাদী ও কাফিরকে হিদায়াত দেন না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  4. ৪

    لَّوۡ أَرَادَ ٱللَّهُ أَن يَتَّخِذَ وَلَدٗا لَّٱصۡطَفَىٰ مِمَّا يَخۡلُقُ مَا يَشَآءُۚ سُبۡحَٰنَهُۥۖ هُوَ ٱللَّهُ ٱلۡوَٰحِدُ ٱلۡقَهَّارُ

    আল্লাহ যদি সন্তান গ্রহণ করতে ইচ্ছা করতেন, তবে তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তা থেকে যাকে ইচ্ছা (সন্তানরূপে) বেছে নিতেন। তিনি মহাপবিত্র! তিনিই আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়, সর্বময় কর্তৃত্বশালী।

  5. ৫

    خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ بِٱلۡحَقِّۖ يُكَوِّرُ ٱلَّيۡلَ عَلَى ٱلنَّهَارِ وَيُكَوِّرُ ٱلنَّهَارَ عَلَى ٱلَّيۡلِۖ وَسَخَّرَ ٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَۖ كُلّٞ يَجۡرِي لِأَجَلٖ مُّسَمًّىۗ أَلَا هُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡغَفَّٰرُ

    তিনি (এক মহান উদ্দেশ্যে) যথাযথভাবে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবিষ্ট করেন আর দিনকে প্রবিষ্ট করেন রাতের মধ্যে এবং সূর্য ও চাঁদকে নিয়ন্ত্রণাধীন করেছেন। প্রত্যেকে এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলছে। জেনে রাখ, তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।

  6. ৬

    خَلَقَكُم مِّن نَّفۡسٖ وَٰحِدَةٖ ثُمَّ جَعَلَ مِنۡهَا زَوۡجَهَا وَأَنزَلَ لَكُم مِّنَ ٱلۡأَنۡعَٰمِ ثَمَٰنِيَةَ أَزۡوَٰجٖۚ يَخۡلُقُكُمۡ فِي بُطُونِ أُمَّهَٰتِكُمۡ خَلۡقٗا مِّنۢ بَعۡدِ خَلۡقٖ فِي ظُلُمَٰتٖ ثَلَٰثٖۚ ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمۡ لَهُ ٱلۡمُلۡكُۖ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَۖ فَأَنَّىٰ تُصۡرَفُونَ

    তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে, তারপর তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন। আর চতুষ্পদ জন্তু থেকে তোমাদের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন আট জোড়া(১); তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেন তোমাদের মাতৃগর্ভে: এক সৃষ্টির পর আরেক সৃষ্টি, তিনটি অন্ধকারে(২); তিনিই হলেন আল্লাহ; তোমাদের রব; রাজত্ব তাঁরই; তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তারপরও তোমাদেরকে কোথায় ফিরানো হচ্ছে?

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  7. ৭

    إِن تَكۡفُرُواْ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَنِيٌّ عَنكُمۡۖ وَلَا يَرۡضَىٰ لِعِبَادِهِ ٱلۡكُفۡرَۖ وَإِن تَشۡكُرُواْ يَرۡضَهُ لَكُمۡۗ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٞ وِزۡرَ أُخۡرَىٰۚ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُم مَّرۡجِعُكُمۡ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَۚ إِنَّهُۥ عَلِيمُۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ

    তোমরা যদি কুফরী কর তবে জেনে রাখ, আল্লাহ তোমাদের থেকে অমুখাপেক্ষী। আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরী পছন্দ করেন না এবং তোমরা যদি কৃতজ্ঞ হও তবে তোমাদের জন্য তিনি তা পছন্দ করেন। আর কোন বোঝা বহনকারী, অপরের বোঝা বহন করবে না। তারপর তোমাদের রবের দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তোমরা (দুনিয়াতে) যে আমল করতে, তিনি তা তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন। নিশ্চয় তিনি অন্তরে যা (লুকায়িত) আছে, সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।

  8. ৮

    ۞ وَإِذَا مَسَّ ٱلۡإِنسَٰنَ ضُرّٞ دَعَا رَبَّهُۥ مُنِيبًا إِلَيۡهِ ثُمَّ إِذَا خَوَّلَهُۥ نِعۡمَةٗ مِّنۡهُ نَسِيَ مَا كَانَ يَدۡعُوٓاْ إِلَيۡهِ مِن قَبۡلُ وَجَعَلَ لِلَّهِ أَندَادٗا لِّيُضِلَّ عَن سَبِيلِهِۦۚ قُلۡ تَمَتَّعۡ بِكُفۡرِكَ قَلِيلًا إِنَّكَ مِنۡ أَصۡحَٰبِ ٱلنَّارِ

    আর যখন মানুষকে কোনো দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে একনিষ্ঠচিত্তে তার রবকে ডাকে এবং তাঁরই দিকে ফিরে আসে। অতঃপর তিনি যখন নিজ পক্ষ থেকে তাকে কোনো নিয়ামত দান করেন, তখন সে পূর্বে যে কারণে তাঁকে ডাকছিল তা ভুলে যায় এবং আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করে, যাতে মানুষকে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। বলুন, ‘তুমি তোমার কুফরী নিয়ে কিছুকাল ভোগ করে নাও; নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।’

  9. ৯

    أَمَّنۡ هُوَ قَٰنِتٌ ءَانَآءَ ٱلَّيۡلِ سَاجِدٗا وَقَآئِمٗا يَحۡذَرُ ٱلۡأٓخِرَةَ وَيَرۡجُواْ رَحۡمَةَ رَبِّهِۦۗ قُلۡ هَلۡ يَسۡتَوِي ٱلَّذِينَ يَعۡلَمُونَ وَٱلَّذِينَ لَا يَعۡلَمُونَۗ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُواْ ٱلۡأَلۡبَٰبِ

    যে ব্যক্তি রাতের বিভিন্ন প্রহরে সাজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার রবের রহমত কামনা করে, হে রাসূল! তুমি বলো: ‘যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান?’ বিবেকবান লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে।

  10. ১০

    قُلۡ يَٰعِبَادِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ رَبَّكُمۡۚ لِلَّذِينَ أَحۡسَنُواْ فِي هَٰذِهِ ٱلدُّنۡيَا حَسَنَةٞۗ وَأَرۡضُ ٱللَّهِ وَٰسِعَةٌۗ إِنَّمَا يُوَفَّى ٱلصَّٰبِرُونَ أَجۡرَهُم بِغَيۡرِ حِسَابٖ

    হে রাসূল! তুমি বলো: ‘হে আমার মু’মিন বান্দারা! যারা ঈমান এনেছ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো। যারা এ দুনিয়ায় ভালো কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ।(১) আর আল্লাহর জমিন প্রশস্ত।(২) নিশ্চয় ধৈর্যশীলদেরকে (পরকালে) বিনা হিসেবে পূর্ণরূপে তাদের প্রতিদান দেয়া হবে।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  11. ১১

    قُلۡ إِنِّيٓ أُمِرۡتُ أَنۡ أَعۡبُدَ ٱللَّهَ مُخۡلِصٗا لَّهُ ٱلدِّينَ

    হে রাসূল! বলো: ‘নিশ্চয় আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, আমি যেন আল্লাহর-ই জন্য আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে ইবাদাত করি ।’

  12. ১২

    وَأُمِرۡتُ لِأَنۡ أَكُونَ أَوَّلَ ٱلۡمُسۡلِمِينَ

    ‘আমাকে আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন আমি প্রথম মুসলিম হই।’

  13. ১৩

    قُلۡ إِنِّيٓ أَخَافُ إِنۡ عَصَيۡتُ رَبِّي عَذَابَ يَوۡمٍ عَظِيمٖ

    হে রাসূল! বলো: ‘আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে আমি এক মহাদিবসের শাস্তির ভয় করি।’

  14. ১৪

    قُلِ ٱللَّهَ أَعۡبُدُ مُخۡلِصٗا لَّهُۥ دِينِي

    হে রাসূল! বলো: ‘আমি (খাঁটি মনে) আল্লাহর-ই জন্য আমার আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে তারই ইবাদাত করি।’

  15. ১৫

    فَٱعۡبُدُواْ مَا شِئۡتُم مِّن دُونِهِۦۗ قُلۡ إِنَّ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٱلَّذِينَ خَسِرُوٓاْ أَنفُسَهُمۡ وَأَهۡلِيهِمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۗ أَلَا ذَٰلِكَ هُوَ ٱلۡخُسۡرَانُ ٱلۡمُبِينُ

    অতএব, (হে মুশরিকরা!) তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাকে ইচ্ছা ইবাদত করো।’ বলুন, ‘নিশ্চয় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের এবং নিজেদের পরিবার-পরিজনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। জেনে রেখো, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।’

  16. ১৬

    لَهُم مِّن فَوۡقِهِمۡ ظُلَلٞ مِّنَ ٱلنَّارِ وَمِن تَحۡتِهِمۡ ظُلَلٞۚ ذَٰلِكَ يُخَوِّفُ ٱللَّهُ بِهِۦ عِبَادَهُۥۚ يَٰعِبَادِ فَٱتَّقُونِ

    তাদের জন্য তাদের ওপরের দিকে থাকবে জাহান্নামের আগুনের মেঘমালা।(১) আর তাদের নিচের দিকেও থাকবে অনুরূপ আগুনের মেঘমালা। উপরিউক্ত শাস্তি দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে ভয় দেখান। ‘হে আমার বান্দারা, তোমরা আমাকেই ভয় করো।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  17. ১৭

    وَٱلَّذِينَ ٱجۡتَنَبُواْ ٱلطَّٰغُوتَ أَن يَعۡبُدُوهَا وَأَنَابُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ لَهُمُ ٱلۡبُشۡرَىٰۚ فَبَشِّرۡ عِبَادِ

    আর যারা তাগূতের(১) উপাসনা পরিহার করে এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তাদের জন্য রয়েছে (জান্নাতের) সুসংবাদ। অতএব, হে রাসূল! তুমি আমার বান্দাদেরকে (জান্নাতের) সুসংবাদ দাও।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  18. ১৮

    ٱلَّذِينَ يَسۡتَمِعُونَ ٱلۡقَوۡلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحۡسَنَهُۥٓۚ أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ هَدَىٰهُمُ ٱللَّهُۖ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمۡ أُوْلُواْ ٱلۡأَلۡبَٰبِ

    যারা মনোযোগ সহকারে কথা শোনে, অতঃপর তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে, তাদেরকেই আল্লাহ হিদায়াত দান করেন। আর তারাই বুদ্ধিমান।

  19. ১৯

    أَفَمَنۡ حَقَّ عَلَيۡهِ كَلِمَةُ ٱلۡعَذَابِ أَفَأَنتَ تُنقِذُ مَن فِي ٱلنَّارِ

    যার ব্যাপারে (কুফরী ও পাপের কারণে) শাস্তির আদেশ অবধারিত হয়েছে। হে রাসূল! তুমি কি তাকে মুক্তি দিতে পারবে যে জাহান্নামে আছে?

  20. ২০

    لَٰكِنِ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوۡاْ رَبَّهُمۡ لَهُمۡ غُرَفٞ مِّن فَوۡقِهَا غُرَفٞ مَّبۡنِيَّةٞ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُۖ وَعۡدَ ٱللَّهِ لَا يُخۡلِفُ ٱللَّهُ ٱلۡمِيعَادَ

    কিন্তু যারা স্বীয় রবকে (তাঁর আদেশ-নিষেধ মান্য কারার মাধ্যমে) ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে (জান্নাতে) সুউচ্চ আবাসস্থল, যার একটি অপরটির ওপর অবস্থিত। তার তলদেশ দিয়ে নদ-নদী প্রবাহিত। এটি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি; আল্লাহ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।

  21. ২১

    أَلَمۡ تَرَ أَنَّ ٱللَّهَ أَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءٗ فَسَلَكَهُۥ يَنَٰبِيعَ فِي ٱلۡأَرۡضِ ثُمَّ يُخۡرِجُ بِهِۦ زَرۡعٗا مُّخۡتَلِفًا أَلۡوَٰنُهُۥ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَىٰهُ مُصۡفَرّٗا ثُمَّ يَجۡعَلُهُۥ حُطَٰمًاۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَذِكۡرَىٰ لِأُوْلِي ٱلۡأَلۡبَٰبِ

    তুমি কি দেখ না, আল্লাহ আকাশ থেকে (বৃষ্টির) পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর জমিনে তা (নদ-নদী ও) ঝর্ণা হিসেবে প্রবাহিত করেন, তারপর তা দিয়ে নানা বর্ণের ফসল উৎপন্ন করেন, তারপর তা শুকিয়ে যায়। ফলে তোমরা তা দেখতে পাও হলুদ বর্ণের, অবশেষে তিনি তা খড়-খুটায় পরিণত করেন। অবশ্যই এতে বুদ্ধিমানদের জন্য উপদেশ রয়েছে।

  22. ২২

    أَفَمَن شَرَحَ ٱللَّهُ صَدۡرَهُۥ لِلۡإِسۡلَٰمِ فَهُوَ عَلَىٰ نُورٖ مِّن رَّبِّهِۦۚ فَوَيۡلٞ لِّلۡقَٰسِيَةِ قُلُوبُهُم مِّن ذِكۡرِ ٱللَّهِۚ أُوْلَٰٓئِكَ فِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٍ

    আল্লাহ ইসলামের জন্য যার বক্ষ খুলে দিয়েছেন, ফলে সে তার রবের পক্ষ থেকে নূরের (জ্ঞানের) ওপর রয়েছে, অতএব ধ্বংস সে সব কঠিন হৃদয়ের লোকদের জন্য যারা আল্লাহর স্মরণ বিমুখ! তারা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিপতিত।

  23. ২৩

    ٱللَّهُ نَزَّلَ أَحۡسَنَ ٱلۡحَدِيثِ كِتَٰبٗا مُّتَشَٰبِهٗا مَّثَانِيَ تَقۡشَعِرُّ مِنۡهُ جُلُودُ ٱلَّذِينَ يَخۡشَوۡنَ رَبَّهُمۡ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمۡ وَقُلُوبُهُمۡ إِلَىٰ ذِكۡرِ ٱللَّهِۚ ذَٰلِكَ هُدَى ٱللَّهِ يَهۡدِي بِهِۦ مَن يَشَآءُۚ وَمَن يُضۡلِلِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِنۡ هَادٍ

    আল্লাহ নাযিল করেছেন সর্বোৎকৃষ্ট বাণী (আল কুরআন), সাদৃশ্যপূর্ণ একটি কিতাব(১) যা বারবার পাঠ করা হয়। যারা তাদের রবকে ভয় করে, এতে তাদের গা শিহরিত হয়, তারপর তাদের দেহ ও মন আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়ে যায়। এটা আল্লাহর হিদায়াত, তিনি যাকে চান তাকে এর দ্বারা হিদায়াত করেন। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোন হিদায়াতকারী নেই।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  24. ২৪

    أَفَمَن يَتَّقِي بِوَجۡهِهِۦ سُوٓءَ ٱلۡعَذَابِ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۚ وَقِيلَ لِلظَّٰلِمِينَ ذُوقُواْ مَا كُنتُمۡ تَكۡسِبُونَ

    যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার মুখমণ্ডল দ্বারা (জাহান্নামের) কঠিন শাস্তি ঠেকাতে চাইবে, (১) আর যালিমদেরকে (ধমকির স্বরে) বলা হবে: ‘তোমরা যা অর্জন করতে, তার স্বাদ আস্বাদন কর।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  25. ২৫

    كَذَّبَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡ فَأَتَىٰهُمُ ٱلۡعَذَابُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَشۡعُرُونَ

    তাদের পূর্বে যারা ছিল, তারাও (রাসূলদেরকে) মিথ্যারোপ করেছিল। ফলে তাদের প্রতি এমনভাবে শাস্তি এসেছিল যে, তারা অনুভব করতে পারেনি।

  26. ২৬

    فَأَذَاقَهُمُ ٱللَّهُ ٱلۡخِزۡيَ فِي ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ وَلَعَذَابُ ٱلۡأٓخِرَةِ أَكۡبَرُۚ لَوۡ كَانُواْ يَعۡلَمُونَ

    ফলে আল্লাহ (শাস্তির মাধ্যমে) তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা আস্বাদন করালেন। আর আখিরাতের শাস্তি নিশ্চয় আরো বড় কঠিন, যদি তারা জানত!

  27. ২৭

    وَلَقَدۡ ضَرَبۡنَا لِلنَّاسِ فِي هَٰذَا ٱلۡقُرۡءَانِ مِن كُلِّ مَثَلٖ لَّعَلَّهُمۡ يَتَذَكَّرُونَ

    আর নিশ্চয় আমি এই আল কুরআনে মানুষের জন্য প্রত্যেক প্রকার দৃষ্টান্ত(১) বর্ণনা করেছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  28. ২৮

    قُرۡءَانًا عَرَبِيًّا غَيۡرَ ذِي عِوَجٖ لَّعَلَّهُمۡ يَتَّقُونَ

    বক্রতামুক্ত আরবী (ভাষায় নাযিলকৃত) আল কুরআন, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে।

  29. ২৯

    ضَرَبَ ٱللَّهُ مَثَلٗا رَّجُلٗا فِيهِ شُرَكَآءُ مُتَشَٰكِسُونَ وَرَجُلٗا سَلَمٗا لِّرَجُلٍ هَلۡ يَسۡتَوِيَانِ مَثَلًاۚ ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِۚ بَلۡ أَكۡثَرُهُمۡ لَا يَعۡلَمُونَ

    আল্লাহ (মুশরিক ও একত্ববাদীর) একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন: এক ব্যক্তি যার মনিব অনেক, যারা পরস্পর বিরোধী; পক্ষান্তরে আরেক ব্যক্তি, যে এক মনিবের অনুগত, এ দু’জনের অবস্থা কি সমান? সকল প্রশংসা আল্লাহর; কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।

  30. ৩০

    إِنَّكَ مَيِّتٞ وَإِنَّهُم مَّيِّتُونَ

    হে রাসূল! নিশ্চয় তুমি মরণশীল এবং তারাও মরণশীল।

  31. ৩১

    ثُمَّ إِنَّكُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ عِندَ رَبِّكُمۡ تَخۡتَصِمُونَ

    তারপর হে মানুষ! নিশ্চয় তোমরা কিয়ামতের দিন তোমাদের রবের সামনে পরস্পর বাক-বিতণ্ডা করবে।

  32. ৩২

    ۞ فَمَنۡ أَظۡلَمُ مِمَّن كَذَبَ عَلَى ٱللَّهِ وَكَذَّبَ بِٱلصِّدۡقِ إِذۡ جَآءَهُۥٓۚ أَلَيۡسَ فِي جَهَنَّمَ مَثۡوٗى لِّلۡكَٰفِرِينَ

    সুতরাং তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে হতে পারে , যে আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করে(১) এবং তার কাছে সত্য (দ্বীন) আসার পরও তা অস্বীকার করে? জাহান্নামই কি কাফিরদের আবাসস্থল নয়?

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  33. ৩৩

    وَٱلَّذِي جَآءَ بِٱلصِّدۡقِ وَصَدَّقَ بِهِۦٓ أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُتَّقُونَ

    পক্ষান্তরে (নবীগণ) যে সত্য (দ্বীন) নিয়ে এসেছে এবং যে ব্যক্তি তা সত্য বলে মেনে নিয়েছে , তারাই মুত্তাকী।

  34. ৩৪

    لَهُم مَّا يَشَآءُونَ عِندَ رَبِّهِمۡۚ ذَٰلِكَ جَزَآءُ ٱلۡمُحۡسِنِينَ

    তাদের জন্য তাদের রবের কাছে তা-ই রয়েছে যা তারা চাইবে। এটাই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান।

  35. ৩৫

    لِيُكَفِّرَ ٱللَّهُ عَنۡهُمۡ أَسۡوَأَ ٱلَّذِي عَمِلُواْ وَيَجۡزِيَهُمۡ أَجۡرَهُم بِأَحۡسَنِ ٱلَّذِي كَانُواْ يَعۡمَلُونَ

    যাতে তারা (দুনিয়াতে) যেসব মন্দ কাজ করেছিল, আল্লাহ তা ক্ষমা করে দেন এবং তারা যে সর্বোত্তম আমল করত, তার প্রতিদানে তাদেরকে (পরকালে) পুরস্কৃত করেন।

  36. ৩৬

    أَلَيۡسَ ٱللَّهُ بِكَافٍ عَبۡدَهُۥۖ وَيُخَوِّفُونَكَ بِٱلَّذِينَ مِن دُونِهِۦۚ وَمَن يُضۡلِلِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِنۡ هَادٖ

    আল্লাহ কি তাঁর বান্দা (মুহাম্মাদ)-এর জন্য যথেষ্ট নন? অথচ তারা তোমাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের ভয় দেখায়। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোন হিদায়াতকারী নেই।

  37. ৩৭

    وَمَن يَهۡدِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِن مُّضِلٍّۗ أَلَيۡسَ ٱللَّهُ بِعَزِيزٖ ذِي ٱنتِقَامٖ

    আর আল্লাহ যাকে হিদায়াত করেন, তার জন্য কোন পথভ্রষ্টকারী নেই। আল্লাহ কি মহাপরাক্রমশালী প্রতিশোধ গ্রহণকারী নন?

  38. ৩৮

    وَلَئِن سَأَلۡتَهُم مَّنۡ خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُۚ قُلۡ أَفَرَءَيۡتُم مَّا تَدۡعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ إِنۡ أَرَادَنِيَ ٱللَّهُ بِضُرٍّ هَلۡ هُنَّ كَٰشِفَٰتُ ضُرِّهِۦٓ أَوۡ أَرَادَنِي بِرَحۡمَةٍ هَلۡ هُنَّ مُمۡسِكَٰتُ رَحۡمَتِهِۦۚ قُلۡ حَسۡبِيَ ٱللَّهُۖ عَلَيۡهِ يَتَوَكَّلُ ٱلۡمُتَوَكِّلُونَ

    হে রাসূল! তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, কে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে: ‘আল্লাহ’। হে রাসূল! বলো: ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ- আল্লাহ আমার কোন ক্ষতি চাইলে, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক, তারা কি সেই ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমাকে রহমত করতে চাইলে, তারা সেই রহমত বারণ করতে পারবে?! বলো: ‘আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ তাওয়াক্কুলকারীগণ তাঁর ওপরই তাওয়াক্কুল করে।

  39. ৩৯

    قُلۡ يَٰقَوۡمِ ٱعۡمَلُواْ عَلَىٰ مَكَانَتِكُمۡ إِنِّي عَٰمِلٞۖ فَسَوۡفَ تَعۡلَمُونَ

    হে রাসূল! বলো, ‘হে আমার জাতি! তোমরা স্ব স্ব অবস্থানে কাজ করে যাও, নিশ্চয় আমিও আমার কাজ করব। অতঃপর শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে।’(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  40. ৪০

    مَن يَأۡتِيهِ عَذَابٞ يُخۡزِيهِ وَيَحِلُّ عَلَيۡهِ عَذَابٞ مُّقِيمٌ

    কার ওপর (দুনিয়াতে) লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি নেমে আসবে এবং কার ওপর (পরকালে) স্থায়ী শাস্তি আপতিত হবে?

  41. ৪১

    إِنَّآ أَنزَلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ لِلنَّاسِ بِٱلۡحَقِّۖ فَمَنِ ٱهۡتَدَىٰ فَلِنَفۡسِهِۦۖ وَمَن ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيۡهَاۖ وَمَآ أَنتَ عَلَيۡهِم بِوَكِيلٍ

    হে রাসূল! নিশ্চয় আমি মানবজাতির জন্য তোমার প্রতি যথাযথভাবে এ কিতাব আল কুরআন নাযিল করেছি। তাই যে সৎপথ অবলম্বন করে, সে তা নিজের জন্যই করে এবং যে পথভ্রষ্ট হয় সে নিজের ক্ষতির জন্যই পথভ্রষ্ট হয়। আর তুমি তাদের তত্ত্বাবধায়ক নও।(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  42. ৪২

    ٱللَّهُ يَتَوَفَّى ٱلۡأَنفُسَ حِينَ مَوۡتِهَا وَٱلَّتِي لَمۡ تَمُتۡ فِي مَنَامِهَاۖ فَيُمۡسِكُ ٱلَّتِي قَضَىٰ عَلَيۡهَا ٱلۡمَوۡتَ وَيُرۡسِلُ ٱلۡأُخۡرَىٰٓ إِلَىٰٓ أَجَلٖ مُّسَمًّىۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّقَوۡمٖ يَتَفَكَّرُونَ

    আল্লাহ জীবসমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মরেনি তাদের নিদ্রার সময়। তারপর যার জন্য তিনি মৃত্যুর ফয়সালা করেন, তার প্রাণ তিনি রেখে দেন এবং অন্যগুলো ফিরিয়ে দেন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  43. ৪৩

    أَمِ ٱتَّخَذُواْ مِن دُونِ ٱللَّهِ شُفَعَآءَۚ قُلۡ أَوَلَوۡ كَانُواْ لَا يَمۡلِكُونَ شَيۡـٔٗا وَلَا يَعۡقِلُونَ

    তবে কি তারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে সুপারিশকারী গ্রহণ করেছে? হে রাসূল! তুমি (তাদেরকে) বলো: ‘তারা কোন কিছুর মালিক না হলেও এবং তারা না বুঝলেও?

  44. ৪৪

    قُل لِّلَّهِ ٱلشَّفَٰعَةُ جَمِيعٗاۖ لَّهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ ثُمَّ إِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ

    হে রাসূল! তুমি (তাদেরকে) বলো: ‘সকল সুপারিশ আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব একমাত্র তাঁরই। তারপর তোমরা তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তিত হবে।’

  45. ৪৫

    وَإِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَحۡدَهُ ٱشۡمَأَزَّتۡ قُلُوبُ ٱلَّذِينَ لَا يُؤۡمِنُونَ بِٱلۡأٓخِرَةِۖ وَإِذَا ذُكِرَ ٱلَّذِينَ مِن دُونِهِۦٓ إِذَا هُمۡ يَسۡتَبۡشِرُونَ

    যখন আল্লাহকে এককভাবে স্মরণ করা হয়, তখন যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সংকুচিত হয়ে যায়। পক্ষান্তরে আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্যগুলোর কথা বলা হলে তখনই তারা আনন্দে উৎফুল হয়।

  46. ৪৬

    قُلِ ٱللَّهُمَّ فَاطِرَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ عَٰلِمَ ٱلۡغَيۡبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ أَنتَ تَحۡكُمُ بَيۡنَ عِبَادِكَ فِي مَا كَانُواْ فِيهِ يَخۡتَلِفُونَ

    হে রাসূল! বলো: ‘হে আল্লাহ, আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা, গায়িব ও উপস্থিত বিষয়াদির জ্ঞানী; তুমি তোমার বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিবে, যাতে তারা মতবিরোধ করছে।’(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  47. ৪৭

    وَلَوۡ أَنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُواْ مَا فِي ٱلۡأَرۡضِ جَمِيعٗا وَمِثۡلَهُۥ مَعَهُۥ لَٱفۡتَدَوۡاْ بِهِۦ مِن سُوٓءِ ٱلۡعَذَابِ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۚ وَبَدَا لَهُم مِّنَ ٱللَّهِ مَا لَمۡ يَكُونُواْ يَحۡتَسِبُونَ

    আর যারা যুলম করেছে, যদি জমিনে যা আছে, তা সব এবং এর সমপরিমাণ সম্পদও তাদের জন্য হয়; তবে কিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে মুক্তিপণস্বরূপ তারা তা দিয়ে দিবে।(১) সেখানে আল্লাহর কাছে থেকে তাদের জন্য এমন কিছু (নানা ধরনের শাস্তি) প্রকাশিত হবে, যা তারা কখনো কল্পনাও করত না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  48. ৪৮

    وَبَدَا لَهُمۡ سَيِّـَٔاتُ مَا كَسَبُواْ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُواْ بِهِۦ يَسۡتَهۡزِءُونَ

    আর তারা যা অর্জন করেছিল, তার মন্দ ফল (শাস্তি) তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়বে এবংতারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত, তা-ই তাদেরকে পরিবেষ্টন করবে।

  49. ৪৯

    فَإِذَا مَسَّ ٱلۡإِنسَٰنَ ضُرّٞ دَعَانَا ثُمَّ إِذَا خَوَّلۡنَٰهُ نِعۡمَةٗ مِّنَّا قَالَ إِنَّمَآ أُوتِيتُهُۥ عَلَىٰ عِلۡمِۭۚ بَلۡ هِيَ فِتۡنَةٞ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَهُمۡ لَا يَعۡلَمُونَ

    অতঃপর যখন কোন বিপদাপদ (অবিশ্বাসী) মানুষকে স্পর্শ করে, তখন সে আমাকে ডাকে। তারপর যখন আমি আমার পক্ষ থেকে নি‘আমত দিয়ে তাকে অনুগ্রহ করি তখন সে বলে, ‘জ্ঞানের কারণেই কেবল আমাকে তা দেয়া হয়েছে।’ বরং এটা একটি পরীক্ষা। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।

  50. ৫০

    قَدۡ قَالَهَا ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡ فَمَآ أَغۡنَىٰ عَنۡهُم مَّا كَانُواْ يَكۡسِبُونَ

    অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তী কাফিররাও এ ধরনের কথা বলেছিল; কিন্তু তারা যা অর্জন করেছে, তা তাদের কোন উপকারে আসেনি।

  51. ৫১

    فَأَصَابَهُمۡ سَيِّـَٔاتُ مَا كَسَبُواْۚ وَٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ مِنۡ هَٰٓؤُلَآءِ سَيُصِيبُهُمۡ سَيِّـَٔاتُ مَا كَسَبُواْ وَمَا هُم بِمُعۡجِزِينَ

    ফলে তাদের (শিরক ও পাপাচার) কৃতকর্মের মন্দ পরিণতি তাদের উপর আপতিত হয়েছিল। আর এদের মধ্যে যারাই যুলম করে, তাদের ওপরেও তাদের কৃতকর্মের মন্দ পরিণতি শীঘ্রই আপতিত হবে। আর তারা (আল্লাহকে) অক্ষম করতে পারবে না।

  52. ৫২

    أَوَلَمۡ يَعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ يَبۡسُطُ ٱلرِّزۡقَ لِمَن يَشَآءُ وَيَقۡدِرُۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّقَوۡمٖ يُؤۡمِنُونَ

    এ সব মুশরিকরা কি জানে না, আল্লাহ (পরীক্ষা করতে) যাকে ইচ্ছা করেন রিযক প্রশস্ত করে দেন আর যাকে ইচ্ছা (রিযক) সংকীর্ণ করে দেন? নিশ্চয় এতে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  53. ৫৩

    ۞ قُلۡ يَٰعِبَادِيَ ٱلَّذِينَ أَسۡرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ لَا تَقۡنَطُواْ مِن رَّحۡمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغۡفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ

    হে রাসূল! আমার বান্দাহদেরকে বলো: ‘হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দিবেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

  54. ৫৪

    وَأَنِيبُوٓاْ إِلَىٰ رَبِّكُمۡ وَأَسۡلِمُواْ لَهُۥ مِن قَبۡلِ أَن يَأۡتِيَكُمُ ٱلۡعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنصَرُونَ

    আর তোমরা তোমাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তন করো এবং তোমাদের ওপর শাস্তি আসার পূর্বেই তার কাছে আত্মসমর্পণ কর। অতঃপর তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না।

  55. ৫৫

    وَٱتَّبِعُوٓاْ أَحۡسَنَ مَآ أُنزِلَ إِلَيۡكُم مِّن رَّبِّكُم مِّن قَبۡلِ أَن يَأۡتِيَكُمُ ٱلۡعَذَابُ بَغۡتَةٗ وَأَنتُمۡ لَا تَشۡعُرُونَ

    আর তোমরা অনুসরণ কর আল কুরআনের যা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম বাণী হিসাবে নাযিল করা হয়েছে, তোমাদের ওপর আকস্মিকভাবে শাস্তি আসার পূর্বে; অথচ তোমরা উপলব্ধি করতে পারবে না।

  56. ৫৬

    أَن تَقُولَ نَفۡسٞ يَٰحَسۡرَتَىٰ عَلَىٰ مَا فَرَّطتُ فِي جَنۢبِ ٱللَّهِ وَإِن كُنتُ لَمِنَ ٱلسَّٰخِرِينَ

    যাতে কাউকেও বলতে না হয়, ‘হায় আফসোস! আল্লাহর হক আদায়ে আমি যে শৈথিল্য করেছিলাম, তার জন্য (এ শাস্তি)। আর আমি কেবল ঠাট্টা-বিদ্রুপকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।’

  57. ৫৭

    أَوۡ تَقُولَ لَوۡ أَنَّ ٱللَّهَ هَدَىٰنِي لَكُنتُ مِنَ ٱلۡمُتَّقِينَ

    অথবা যাতে কাউকে একথাও বলতে না হয়, ‘আল্লাহ যদি আমাকে হিদায়াত দিতেন, তাহলে অবশ্যই আমি মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’

  58. ৫৮

    أَوۡ تَقُولَ حِينَ تَرَى ٱلۡعَذَابَ لَوۡ أَنَّ لِي كَرَّةٗ فَأَكُونَ مِنَ ٱلۡمُحۡسِنِينَ

    অথবা শাস্তি প্রত্যক্ষ করার পর যাতে কাউকে একথাও বলতে না হয়, ‘আমার যদি একবার (দুনিয়াতে) ফিরে যাওয়ার সুযোগ হত, তাহলে আমি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।

  59. ৫৯

    بَلَىٰ قَدۡ جَآءَتۡكَ ءَايَٰتِي فَكَذَّبۡتَ بِهَا وَٱسۡتَكۡبَرۡتَ وَكُنتَ مِنَ ٱلۡكَٰفِرِينَ

    আল্লাহ বলবেনঃ হ্যাঁ, অবশ্যই তোমার কাছে আমার নিদর্শনাবলি এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলোকে মিথ্যারোপ করেছিলে এবং তুমি অহংকার করেছিলে। আর তুমি কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।

  60. ৬০

    وَيَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ تَرَى ٱلَّذِينَ كَذَبُواْ عَلَى ٱللَّهِ وُجُوهُهُم مُّسۡوَدَّةٌۚ أَلَيۡسَ فِي جَهَنَّمَ مَثۡوٗى لِّلۡمُتَكَبِّرِينَ

    আর যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে কিয়ামতের দিন তুমি তাদের চেহারাগুলো কালো দেখতে পাবে। অহংকারীদের বাসস্থান জাহান্নামের মধ্যে নয় কি?

  61. ৬১

    وَيُنَجِّي ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوۡاْ بِمَفَازَتِهِمۡ لَا يَمَسُّهُمُ ٱلسُّوٓءُ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ

    আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, আল্লাহ তাদেরকে সাফল্যসহ উদ্ধার করবেন। তাদেরকে কোন অকল্যাণ (শাস্তি) স্পর্শ করবে না এবং তারা কোন ব্যাপারে চিন্তিতও হবে না।

  62. ৬২

    ٱللَّهُ خَٰلِقُ كُلِّ شَيۡءٖۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ وَكِيلٞ

    আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সব কিছুর তত্ত্বাবধায়ক।

  63. ৬৩

    لَّهُۥ مَقَالِيدُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۗ وَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡخَٰسِرُونَ

    আসমানসমূহ ও জমিনের চাবিসমূহ তাঁরই কাছে। আর যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে, তারাই (দুনিয়া ও আখিরাতে) ক্ষতিগ্রস্ত।

  64. ৬৪

    قُلۡ أَفَغَيۡرَ ٱللَّهِ تَأۡمُرُوٓنِّيٓ أَعۡبُدُ أَيُّهَا ٱلۡجَٰهِلُونَ

    হে রাসূল! (১) বল: ‘হে অজ্ঞরা, তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদাত করার আদেশ করছ?’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  65. ৬৫

    وَلَقَدۡ أُوحِيَ إِلَيۡكَ وَإِلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكَ لَئِنۡ أَشۡرَكۡتَ لَيَحۡبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ

    আর অবশ্যই তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি ওহী করা হয়েছে যে, যদি তুমি শিরক কর, তবে অবশ্যই তোমার সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

  66. ৬৬

    بَلِ ٱللَّهَ فَٱعۡبُدۡ وَكُن مِّنَ ٱلشَّٰكِرِينَ

    বরং তুমি আল্লাহরই ইবাদাত কর এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হও।

  67. ৬৭

    وَمَا قَدَرُواْ ٱللَّهَ حَقَّ قَدۡرِهِۦ وَٱلۡأَرۡضُ جَمِيعٗا قَبۡضَتُهُۥ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وَٱلسَّمَٰوَٰتُ مَطۡوِيَّٰتُۢ بِيَمِينِهِۦۚ سُبۡحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشۡرِكُونَ

    আর তারা আল্লাহকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি; অথচ কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবীই থাকবে তাঁর মুষ্টিতে এবং আকাশসমূহ তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা থাকবে। তিনি পবিত্র, তারা যাদেরকে শরীক করে, তিনি তাদের অনেক ঊর্ধ্বে।

  68. ৬৮

    وَنُفِخَ فِي ٱلصُّورِ فَصَعِقَ مَن فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَن فِي ٱلۡأَرۡضِ إِلَّا مَن شَآءَ ٱللَّهُۖ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخۡرَىٰ فَإِذَا هُمۡ قِيَامٞ يَنظُرُونَ

    আর শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে। তখন আসমানসমূহে যারা আছে এবং জমিনে যারা আছে, তারা সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাদের ইচ্ছা করবেন তারা ব্যতীত। এরপর আবার তাতে দ্বিতীয়বার ফুঁক দেওয়া হবে, তখনই তারা দাঁড়িয়ে (কিয়ামত দিবসের কঠিন দৃশ্য) দেখতে থাকবে।

  69. ৬৯

    وَأَشۡرَقَتِ ٱلۡأَرۡضُ بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ ٱلۡكِتَٰبُ وَجِاْيٓءَ بِٱلنَّبِيِّـۧنَ وَٱلشُّهَدَآءِ وَقُضِيَ بَيۡنَهُم بِٱلۡحَقِّ وَهُمۡ لَا يُظۡلَمُونَ

    আর (১) জমিন তার রবের নূরে আলোকিত হবে, (সকলের) আমলনামা উপস্থিত করা হবে এবং নবীগণকে ও সাক্ষীগণকে আনা হবে, তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করা হবে এমতাবস্থায় যে, (সেদিন) তাদের প্রতি কোন যুলম করা হবে না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  70. ৭০

    وَوُفِّيَتۡ كُلُّ نَفۡسٖ مَّا عَمِلَتۡ وَهُوَ أَعۡلَمُ بِمَا يَفۡعَلُونَ

    আর প্রত্যেককে তার (ভালো-মন্দ) আমলের পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে এবং তারা যা করে সে সম্পর্কে তিনিই সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।

  71. ৭১

    وَسِيقَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ إِلَىٰ جَهَنَّمَ زُمَرًاۖ حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءُوهَا فُتِحَتۡ أَبۡوَٰبُهَا وَقَالَ لَهُمۡ خَزَنَتُهَآ أَلَمۡ يَأۡتِكُمۡ رُسُلٞ مِّنكُمۡ يَتۡلُونَ عَلَيۡكُمۡ ءَايَٰتِ رَبِّكُمۡ وَيُنذِرُونَكُمۡ لِقَآءَ يَوۡمِكُمۡ هَٰذَاۚ قَالُواْ بَلَىٰ وَلَٰكِنۡ حَقَّتۡ كَلِمَةُ ٱلۡعَذَابِ عَلَى ٱلۡكَٰفِرِينَ

    আর (ফিরিশতাগণ কর্তৃক) কাফিরদেরকে দলে দলে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে তারা যখন জাহান্নামের কাছে এসে পৌঁছবে, তখন তার দরজাগুলো খুলে দেয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে: ‘তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসূলগণ আসেনি, যারা তোমাদের কাছে তোমাদের রবের আয়াতগুলো তিলাওয়াত করত এবং এ দিনের সাক্ষাৎ সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করত?’ তারা বলবে: ‘অবশ্যই এসেছিল’; কিন্তু কাফিরদের উপর শাস্তির বাণী সত্যে পরিণত হল।

  72. ৭২

    قِيلَ ٱدۡخُلُوٓاْ أَبۡوَٰبَ جَهَنَّمَ خَٰلِدِينَ فِيهَاۖ فَبِئۡسَ مَثۡوَى ٱلۡمُتَكَبِّرِينَ

    বলা হবে, ‘তোমরা জাহান্নামের দরজাসমূহ দিয়ে প্রবেশ কর; সেখানে তোমরা চিরকাল অবস্থান করবে।’ অতএব, অহংকারীদের আবাসস্থল কতই না নিকৃষ্ট!

  73. ৭৩

    وَسِيقَ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوۡاْ رَبَّهُمۡ إِلَى ٱلۡجَنَّةِ زُمَرًاۖ حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءُوهَا وَفُتِحَتۡ أَبۡوَٰبُهَا وَقَالَ لَهُمۡ خَزَنَتُهَا سَلَٰمٌ عَلَيۡكُمۡ طِبۡتُمۡ فَٱدۡخُلُوهَا خَٰلِدِينَ

    আর যারা (আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্য করে) তাদের রবকে ভয় করেছে তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে যখন তারা জান্নাতের কাছে পৌঁছবে এবং এর দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে তখন জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে: ‘তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা ভালো ছিলে। অতএব চিরস্থায়ীভাবে থাকার জন্য জান্নাতে প্রবেশ কর।’

  74. ৭৪

    وَقَالُواْ ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ ٱلَّذِي صَدَقَنَا وَعۡدَهُۥ وَأَوۡرَثَنَا ٱلۡأَرۡضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ ٱلۡجَنَّةِ حَيۡثُ نَشَآءُۖ فَنِعۡمَ أَجۡرُ ٱلۡعَٰمِلِينَ

    আর মু’মিনরা (জান্নাতে প্রবেশের পর) বলবে: ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের দেয়া তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন। আর আমাদেরকে (জান্নাতের এ) জমিনের অধিবাসী করেছেন, এখন আমরা (এ) জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা সেখানেই বসবাসের জায়গা করে নিবো। অতএব (নেক) আমলকারীদের প্রতিফল কতই না উত্তম!’

  75. ৭৫

    وَتَرَى ٱلۡمَلَٰٓئِكَةَ حَآفِّينَ مِنۡ حَوۡلِ ٱلۡعَرۡشِ يُسَبِّحُونَ بِحَمۡدِ رَبِّهِمۡۚ وَقُضِيَ بَيۡنَهُم بِٱلۡحَقِّۚ وَقِيلَ ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ

    আর তুমি ফিরিশতাদেরকে আরশের চারপাশে বেষ্টন করে থাকতে দেখবে; তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করবে। আর সৃষ্টিকুলের মাঝে ন্যায়সঙ্গতভাবে বিচার-ফয়সালা করা হবে এবং (সবার তরফ থেকে) বলা হবে, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সৃষ্টিকুলের রব।’

অনুবাদ: রাওয়াদ ট্রান্সলেশন সেন্টার. উৎস: QuranEnc.com, সর্বশেষ মিলিয়ে দেখা: ২৬ অক্টোবর ২০২৬.

আরবি পাঠ: বাদশাহ ফাহাদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স. সূরার তথ্য: Tanzil.net (CC BY 3.0).

এটি কুরআনের অর্থের অনুবাদ। মানুষের যেকোনো কাজের মতো এতে ভুল থাকতে পারে।