মারইয়াম
مريم
بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
-
১
كٓهيعٓصٓ
কাফ-হা-ইয়া-‘আঈন-সোয়াদ।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
২
ذِكۡرُ رَحۡمَتِ رَبِّكَ عَبۡدَهُۥ زَكَرِيَّآ
(হে নবী!) এটা তোমার রবের তাঁর বান্দা যাকারিয়্যার প্রতি রহমতের বিবরণ।
-
৩
إِذۡ نَادَىٰ رَبَّهُۥ نِدَآءً خَفِيّٗا
যখন সে তার রবকে গোপনে ডেকেছিল।
-
৪
قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ ٱلۡعَظۡمُ مِنِّي وَٱشۡتَعَلَ ٱلرَّأۡسُ شَيۡبٗا وَلَمۡ أَكُنۢ بِدُعَآئِكَ رَبِّ شَقِيّٗا
তিনি বললেন, “হে আমার রব! আমার অস্থিগুলো দুর্বল হয়ে গেছে, আর আমার মাথা পাকা চুলে ছেয়ে গেছে। হে আমার রব! আপনার কাছে দোয়া করে আমি কখনো বঞ্চিত হইনি।
-
৫
وَإِنِّي خِفۡتُ ٱلۡمَوَٰلِيَ مِن وَرَآءِي وَكَانَتِ ٱمۡرَأَتِي عَاقِرٗا فَهَبۡ لِي مِن لَّدُنكَ وَلِيّٗا
‘আর আমি আমার (মৃত্যুর) পরে আত্মীয়-স্বজনদের সম্পর্কে (দুনিয়াদারীতে নিমগ্ন থাকার) আশঙ্কাবোধ করছি। এদিকে আমার স্ত্রীও বন্ধ্যা। অতএব আপনি আমাকে আপনার পক্ষ থেকে একজন উত্তরাধিকারী (পুত্র সন্তান) দান করুন।’
-
৬
يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنۡ ءَالِ يَعۡقُوبَۖ وَٱجۡعَلۡهُ رَبِّ رَضِيّٗا
‘যে আমার (নবুওয়াতের) উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকূবের বংশের উত্তরাধিকারী হবে। হে আমার রব! আপনি তাকে (ধর্ম, চরিত্র ও জ্ঞানে) পছন্দনীয় বানিয়ে দিন।’
-
৭
يَٰزَكَرِيَّآ إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَٰمٍ ٱسۡمُهُۥ يَحۡيَىٰ لَمۡ نَجۡعَل لَّهُۥ مِن قَبۡلُ سَمِيّٗا
(প্রার্থনার সাড়া দিয়ে আল্লাহ তাকে বললেন:) ‘হে যাকারিয়া! আমি তোমাকে একটি পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম ইয়াহইয়া। আমি ইতঃপূর্বে এ নামে অন্য কারো নাম রাখিনি।’
-
৮
قَالَ رَبِّ أَنَّىٰ يَكُونُ لِي غُلَٰمٞ وَكَانَتِ ٱمۡرَأَتِي عَاقِرٗا وَقَدۡ بَلَغۡتُ مِنَ ٱلۡكِبَرِ عِتِيّٗا
সে (যাকারিয়্যা) বললো: ‘হে আমার রব! আমার কীভাবে পুত্র সন্তান হবে; অথচ আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা, আর আমিও তো বার্ধক্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছি।’
-
৯
قَالَ كَذَٰلِكَ قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٞ وَقَدۡ خَلَقۡتُكَ مِن قَبۡلُ وَلَمۡ تَكُ شَيۡـٔٗا
সে (সংবাদদাতা ফিরিশতা) বললো: ‘এভাবেই হবে।’ তোমার রব বলেছেন: ‘এটা (বন্ধ্যা মা এবং বৃদ্ধ পিতা থেকে কাউকে সৃষ্টি করা) আমার জন্য খুবই সহজ। আমি তো ইতঃপূর্বে তোমাকে সৃষ্টি করেছি, তখন তুমি কিছুই ছিলে না।’
-
১০
قَالَ رَبِّ ٱجۡعَل لِّيٓ ءَايَةٗۖ قَالَ ءَايَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ ٱلنَّاسَ ثَلَٰثَ لَيَالٖ سَوِيّٗا
সে বললো: ‘হে আমার রব! আমার জন্য (সুসংবাদ লাভের) একটি নিদর্শন ঠিক করে দিন।’ তিনি বললেন: ‘তোমার জন্য এটাই নিদর্শন যে, তুমি সুস্থ থেকেও তিনদিন কারো সাথে কথা বলবে না।’
-
১১
فَخَرَجَ عَلَىٰ قَوۡمِهِۦ مِنَ ٱلۡمِحۡرَابِ فَأَوۡحَىٰٓ إِلَيۡهِمۡ أَن سَبِّحُواْ بُكۡرَةٗ وَعَشِيّٗا
অতঃপর সে মিহরাব(১) হতে বের হয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে আসলো এবং ইশারায় তাদেরকে বললো যে, ‘তোমরা সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ পাঠ কর।’
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
১২
يَٰيَحۡيَىٰ خُذِ ٱلۡكِتَٰبَ بِقُوَّةٖۖ وَءَاتَيۡنَٰهُ ٱلۡحُكۡمَ صَبِيّٗا
(পরিণত বয়সে উপনীত হলে আল্লাহ তাকে সম্বোধন করে বললেন:) ‘হে ইয়াহইয়া! তুমি কিতাবটিকে (তাওরাতকে) দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো।’ আমি তাকে শৈশবেই প্রজ্ঞা ও জ্ঞান(১) দান করেছি।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
১৩
وَحَنَانٗا مِّن لَّدُنَّا وَزَكَوٰةٗۖ وَكَانَ تَقِيّٗا
আর আমি তাকে নিজ পক্ষ থেকে (দয়াপরবশ হয়ে) স্নেহ-মমতা ও পবিত্রতা দান করেছি। আর সে ছিল, (আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মানা সত্যিকারেরই) মুত্তাকী।
-
১৪
وَبَرَّۢا بِوَٰلِدَيۡهِ وَلَمۡ يَكُن جَبَّارًا عَصِيّٗا
আর সে ছিল তার পিতামাতার সাথে সদাচারী। আর সে (তার রব ও পিতামাতার প্রতি) উদ্ধত, অবাধ্য ছিল না।
-
১৫
وَسَلَٰمٌ عَلَيۡهِ يَوۡمَ وُلِدَ وَيَوۡمَ يَمُوتُ وَيَوۡمَ يُبۡعَثُ حَيّٗا
আর তার ওপর (আল্লাহর পক্ষ থেকে) শান্তি ও নিরাপত্তা, যেদিন সে জন্ম লাভ করেছিল, যেদিন সে মারা যাবে এবং যেদিন তাকে জীবিত অবস্থায় উঠানো হবে।
-
১৬
وَٱذۡكُرۡ فِي ٱلۡكِتَٰبِ مَرۡيَمَ إِذِ ٱنتَبَذَتۡ مِنۡ أَهۡلِهَا مَكَانٗا شَرۡقِيّٗا
আর (হে রাসূল!) তুমি কিতাবে মারইয়াম-এর কথা উল্লেখ কর, যখন সে তাঁর পরিবার থেকে পৃথক হয়ে পূর্ব দিকের এক নির্জন স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলো।
-
১৭
فَٱتَّخَذَتۡ مِن دُونِهِمۡ حِجَابٗا فَأَرۡسَلۡنَآ إِلَيۡهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرٗا سَوِيّٗا
তখন সে তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য একটি পর্দা গ্রহণ করল। অতঃপর আমি তার কাছে আমার রূহ (জিবরীলকে) প্রেরণ করলাম, আর তিনি তার সামনে এক পরিপূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করলেন।
-
১৮
قَالَتۡ إِنِّيٓ أَعُوذُ بِٱلرَّحۡمَٰنِ مِنكَ إِن كُنتَ تَقِيّٗا
মারইয়াম বললো: ‘আমি তোমার থেকে পরম করুণাময়ের আশ্রয় চাচ্ছি; যদি তুমি মুত্তাকী হও।’
-
১৯
قَالَ إِنَّمَآ أَنَا۠ رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلَٰمٗا زَكِيّٗا
জিবরীল বললেন: আমি তো তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসূল। (তিনি আমাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছেন,) যাতে আমি তোমাকে এক পবিত্র সন্তান দান করি।
-
২০
قَالَتۡ أَنَّىٰ يَكُونُ لِي غُلَٰمٞ وَلَمۡ يَمۡسَسۡنِي بَشَرٞ وَلَمۡ أَكُ بَغِيّٗا
মারইয়াম বললো: ‘কীভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে? অথচ কোনো (পুরুষ) মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি। আর আমি তো ব্যভিচারিণীও নই।’
-
২১
قَالَ كَذَٰلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٞۖ وَلِنَجۡعَلَهُۥٓ ءَايَةٗ لِّلنَّاسِ وَرَحۡمَةٗ مِّنَّاۚ وَكَانَ أَمۡرٗا مَّقۡضِيّٗا
সে (জিবরীল) বললো: ‘এভাবেই হবে।’ তোমার রব বলেছেন: ‘এটা (পিতা ছাড়া সন্তান জন্ম দেয়া) আমার জন্য খুবই সহজ। আর যেন আমি তাকে করে দেই মানুষের জন্য নিদর্শন এবং আমার পক্ষ থেকে রহমত। আর এটি (এ সন্তানের জন্ম) একটি সিদ্ধান্তকৃত বিষয়।
-
২২
۞ فَحَمَلَتۡهُ فَٱنتَبَذَتۡ بِهِۦ مَكَانٗا قَصِيّٗا
তারপর (ফিরিশতার ফুঁয়ের পর) সে তাকে (‘ঈসাকে) গর্ভে ধারণ করলো এবং তাকে নিয়ে দূরবর্তী একটি স্থানে(১) চলে গেলো।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
২৩
فَأَجَآءَهَا ٱلۡمَخَاضُ إِلَىٰ جِذۡعِ ٱلنَّخۡلَةِ قَالَتۡ يَٰلَيۡتَنِي مِتُّ قَبۡلَ هَٰذَا وَكُنتُ نَسۡيٗا مَّنسِيّٗا
অতঃপর (গর্ভধারণের সময় পূর্ণ হবার পর) প্রসব বেদনা তাকে একটি খেজুর গাছের গোড়ায় আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। (প্রসবের যাতনা ও লোকলজ্জার ভয়ে আর্তনাদ করে) সে বললো: ‘হায়! এর আগেই যদি আমি মরে যেতাম এবং মানুষের স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে যেতাম।
-
২৪
فَنَادَىٰهَا مِن تَحۡتِهَآ أَلَّا تَحۡزَنِي قَدۡ جَعَلَ رَبُّكِ تَحۡتَكِ سَرِيّٗا
তখন তার নিচ থেকে সে(১) তাকে ডেকে বললো যে, ‘তুমি চিন্তা করো না। তোমার রব তোমার নিচে একটি ঝরনা সৃষ্টি করেছেন।’
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
২৫
وَهُزِّيٓ إِلَيۡكِ بِجِذۡعِ ٱلنَّخۡلَةِ تُسَٰقِطۡ عَلَيۡكِ رُطَبٗا جَنِيّٗا
আর তুমি খেজুর গাছের কাণ্ডটি নিজের দিকে ঝাঁকাও; তা তোমার ওপর তাজা-পাকা খেজুর ঝরিয়ে দেবে।
-
২৬
فَكُلِي وَٱشۡرَبِي وَقَرِّي عَيۡنٗاۖ فَإِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ ٱلۡبَشَرِ أَحَدٗا فَقُولِيٓ إِنِّي نَذَرۡتُ لِلرَّحۡمَٰنِ صَوۡمٗا فَلَنۡ أُكَلِّمَ ٱلۡيَوۡمَ إِنسِيّٗا
‘অতঃপর তুমি (তাজা খেজুর) খাও, (পানি) পান করো এবং (নিজ সন্তানকে দেখে) চোখ জুড়াও। আর যদি তুমি কোনো লোককে দেখতে পাও তাহলে বলে দিও, ‘আমি পরম করুণাময়ের জন্য চুপ থাকার মানত করেছি। অতএব আজ আমি কোনো মানুষের সাথে কিছুতেই কথা বলবো না।’
-
২৭
فَأَتَتۡ بِهِۦ قَوۡمَهَا تَحۡمِلُهُۥۖ قَالُواْ يَٰمَرۡيَمُ لَقَدۡ جِئۡتِ شَيۡـٔٗا فَرِيّٗا
তারপর মারইয়াম তাকে (সন্তান ‘ঈসাকে) কোলে নিয়ে নিজ জাতির নিকট আসলো। তারা বললো: ‘হে মারইয়াম! তুমি তো একটি জঘন্য পাপের কাজ করে ফেলেছো!’(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
২৮
يَٰٓأُخۡتَ هَٰرُونَ مَا كَانَ أَبُوكِ ٱمۡرَأَ سَوۡءٖ وَمَا كَانَتۡ أُمُّكِ بَغِيّٗا
‘হে হারূনের বোন!(১) (এমন একটা ঘটনা তুমি কিভাবে ঘটালে?) তোমার পিতা তো খারাপ লোক ছিলো না। আর তোমার মা-ও ব্যভিচারিণী ছিল না।’
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
২৯
فَأَشَارَتۡ إِلَيۡهِۖ قَالُواْ كَيۡفَ نُكَلِّمُ مَن كَانَ فِي ٱلۡمَهۡدِ صَبِيّٗا
তখন মারইয়াম শিশুটির দিকে ইশারা করলো। তারা (আশ্চর্য হয়ে) বললো: ‘আমরা কীভাবে একটি কোলের শিশুর সাথে কথা বলবো?’
-
৩০
قَالَ إِنِّي عَبۡدُ ٱللَّهِ ءَاتَىٰنِيَ ٱلۡكِتَٰبَ وَجَعَلَنِي نَبِيّٗا
শিশুটি বললো: ‘নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব (ইন্জীল) দিয়েছেন এবং আমাকে নবী বানিয়েছেন।’
-
৩১
وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيۡنَ مَا كُنتُ وَأَوۡصَٰنِي بِٱلصَّلَوٰةِ وَٱلزَّكَوٰةِ مَا دُمۡتُ حَيّٗا
‘আর আমি যেখানেই থাকি না কেনো তিনি আমাকে (তাঁর বান্দাদের জন্য) বরকতময় করেছেন এবং যতদিন আমি জীবিত থাকি তিনি আমাকে সালাত ও যাকাত আদায় করতে আদেশ করেছেন।’
-
৩২
وَبَرَّۢا بِوَٰلِدَتِي وَلَمۡ يَجۡعَلۡنِي جَبَّارٗا شَقِيّٗا
‘আর তিনি আমাকে আমার মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ করেছেন এবং আমাকে (আমার রবের প্রতি) অপ্রচণ্ড অহংকারী, বিদ্রোহী বানাননি।’
-
৩৩
وَٱلسَّلَٰمُ عَلَيَّ يَوۡمَ وُلِدتُّ وَيَوۡمَ أَمُوتُ وَيَوۡمَ أُبۡعَثُ حَيّٗا
‘আর আমার ওপর শান্তি ও নিরাপত্তা, যেদিন আমি জন্মেছি এবং যেদিন আমি মারা যাবো আর যেদিন (কিয়ামতের দিনে) আমাকে জীবিত অবস্থায় উঠানো হবে।’(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৩৪
ذَٰلِكَ عِيسَى ٱبۡنُ مَرۡيَمَۖ قَوۡلَ ٱلۡحَقِّ ٱلَّذِي فِيهِ يَمۡتَرُونَ
এই (বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পন্ন) হচ্ছে মারইয়াম পুত্র ‘ঈসা। এটিই হলো তাঁর ব্যাপারে চূড়ান্ত সত্য কথা, যে বিষয়ে লোকেরা সন্দেহ পোষণ করছে।
-
৩৫
مَا كَانَ لِلَّهِ أَن يَتَّخِذَ مِن وَلَدٖۖ سُبۡحَٰنَهُۥٓۚ إِذَا قَضَىٰٓ أَمۡرٗا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ
সন্তান গ্রহণ করা তো আল্লাহর কাজ নয়। তিনি পবিত্র মহান। তিনি যখন কোন কিছু করতে চান তখন তদুদ্দেশ্যে শুধু বলেন: ‘হও’, অমনি তা হয়ে যায়।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৩৬
وَإِنَّ ٱللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمۡ فَٱعۡبُدُوهُۚ هَٰذَا صِرَٰطٞ مُّسۡتَقِيمٞ
আর নিশ্চয় আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদেরও রব। সুতরাং তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদাত করো। এটাই সরল-সঠিক পথ।
-
৩৭
فَٱخۡتَلَفَ ٱلۡأَحۡزَابُ مِنۢ بَيۡنِهِمۡۖ فَوَيۡلٞ لِّلَّذِينَ كَفَرُواْ مِن مَّشۡهَدِ يَوۡمٍ عَظِيمٍ
অতঃপর (‘ঈসার ব্যাপারটি নিয়ে) তাদের মধ্যে দলগুলো বিভক্ত হয়ে গেল(১); অতএব, দুর্ভাগা হোক সেই কাফেরদের, যখন তারা এক মহান দিনের দৃশ্যের মুখোমুখি হবে।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৩৮
أَسۡمِعۡ بِهِمۡ وَأَبۡصِرۡ يَوۡمَ يَأۡتُونَنَا لَٰكِنِ ٱلظَّٰلِمُونَ ٱلۡيَوۡمَ فِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٖ
যেদিন তারা আমার কাছে আসবে, সেদিন তারা কতই না স্পষ্টভাবে শুনতে পাবে এবং দেখতে পাবে! কিন্তু যালিমরা আজ স্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে রয়েছে।
-
৩৯
وَأَنذِرۡهُمۡ يَوۡمَ ٱلۡحَسۡرَةِ إِذۡ قُضِيَ ٱلۡأَمۡرُ وَهُمۡ فِي غَفۡلَةٖ وَهُمۡ لَا يُؤۡمِنُونَ
আর (হে রাসূল! তুমি) মানুষদেরকে সতর্ক করে দাও পরিতাপ দিবস সম্পর্কে, যখন সব বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে; অথচ তারা (দুনিয়ার জীবনে সে ব্যাপারে) রয়েছে উদাসীনতায় বিভোর এবং তারা ঈমান আনছে না।
-
৪০
إِنَّا نَحۡنُ نَرِثُ ٱلۡأَرۡضَ وَمَنۡ عَلَيۡهَا وَإِلَيۡنَا يُرۡجَعُونَ
নিশ্চয় আমি জমিন ও এর ওপরে যারা আছে, তাদের সবাইর চূড়ান্ত মালিক হবো এবং আমারই নিকট তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
-
৪১
وَٱذۡكُرۡ فِي ٱلۡكِتَٰبِ إِبۡرَٰهِيمَۚ إِنَّهُۥ كَانَ صِدِّيقٗا نَّبِيًّا
আর (হে রাসূল!) কিতাবে ইবরাহীমের কথা উল্লেখ করো; নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন পরম সত্যবাদী নবী।
-
৪২
إِذۡ قَالَ لِأَبِيهِ يَٰٓأَبَتِ لِمَ تَعۡبُدُ مَا لَا يَسۡمَعُ وَلَا يُبۡصِرُ وَلَا يُغۡنِي عَنكَ شَيۡـٔٗا
যখন সে তার বাবা (আযর)কে বলল, হে বাবা! তুমি কেন এমন কিছুকে ইবাদাত করছ যা শোনে না, দেখে না এবং যা তোমার কোনো উপকারও করতে পারে না?
-
৪৩
يَٰٓأَبَتِ إِنِّي قَدۡ جَآءَنِي مِنَ ٱلۡعِلۡمِ مَا لَمۡ يَأۡتِكَ فَٱتَّبِعۡنِيٓ أَهۡدِكَ صِرَٰطٗا سَوِيّٗا
‘হে আমার পিতা! আমার কাছে (অহীর মাধ্যমে) এমন জ্ঞান এসেছে, যা তোমার কাছে আসেনি। সুতরাং তুমি আমার অনুসরণ করো, তাহলে আমি তোমাকে সঠিক পথ দেখাবো।’
-
৪৪
يَٰٓأَبَتِ لَا تَعۡبُدِ ٱلشَّيۡطَٰنَۖ إِنَّ ٱلشَّيۡطَٰنَ كَانَ لِلرَّحۡمَٰنِ عَصِيّٗا
‘হে আমার পিতা! তুমি শয়তানের ইবাদাত করো না। নিশ্চয় শয়তান হলো পরম করুণাময়ের অবাধ্য।’
-
৪৫
يَٰٓأَبَتِ إِنِّيٓ أَخَافُ أَن يَمَسَّكَ عَذَابٞ مِّنَ ٱلرَّحۡمَٰنِ فَتَكُونَ لِلشَّيۡطَٰنِ وَلِيّٗا
‘হে আমার পিতা! আমি আশংকা করছি যে, পরম করুণাময়ের (পক্ষ থেকে) তোমাকে শাস্তি স্পর্শ করবে (যদি কুফরীর ওপর মারা যাও), ফলে তুমি শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাবে।’
-
৪৬
قَالَ أَرَاغِبٌ أَنتَ عَنۡ ءَالِهَتِي يَٰٓإِبۡرَٰهِيمُۖ لَئِن لَّمۡ تَنتَهِ لَأَرۡجُمَنَّكَۖ وَٱهۡجُرۡنِي مَلِيّٗا
সে (আযর তার ছেলেকে) বললো: ‘হে ইবরাহীম! তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে বিমুখ? যদি তুমি (আমার মূর্তিগুলোকে গালি দেয়া থেকে) বিরত না হও, তবে অবশ্যই আমি তোমাকে পাথর মেরে হত্যা করব। আর তুমি চিরতরে আমাকে ছেড়ে চলে যাও।’
-
৪৭
قَالَ سَلَٰمٌ عَلَيۡكَۖ سَأَسۡتَغۡفِرُ لَكَ رَبِّيٓۖ إِنَّهُۥ كَانَ بِي حَفِيّٗا
(ইবরাহীম তার পিতাকে) বললো: ‘তোমার প্রতি সালাম। আমি আমার রবের কাছে তোমার জন্য ক্ষমা (ও হিদায়াত) চাইব।(১) নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল।’
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৪৮
وَأَعۡتَزِلُكُمۡ وَمَا تَدۡعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَأَدۡعُواْ رَبِّي عَسَىٰٓ أَلَّآ أَكُونَ بِدُعَآءِ رَبِّي شَقِيّٗا
আর আমি তোমাদের থেকে এবং আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকো তাদের থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করছি। আর আমি আমার রবকে ডাকব। আশা করি, আমার রবকে ডেকে আমি দুর্ভাগা হব না।
-
৪৯
فَلَمَّا ٱعۡتَزَلَهُمۡ وَمَا يَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَهَبۡنَا لَهُۥٓ إِسۡحَٰقَ وَيَعۡقُوبَۖ وَكُلّٗا جَعَلۡنَا نَبِيّٗا
অতঃপর, যখন সে তাদের এবং তারা আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদাত করত তা থেকে নিজেকে আলাদা করল, আমরা তাকে (পরিবার ত্যাগ করার প্রতিদানস্বরূপ) ইসহাক ও ইয়াকুবকে দান করলাম এবং আমরা প্রত্যেককে নবী বানালাম।
-
৫০
وَوَهَبۡنَا لَهُم مِّن رَّحۡمَتِنَا وَجَعَلۡنَا لَهُمۡ لِسَانَ صِدۡقٍ عَلِيّٗا
আর আমি তাদেরকে (নবুওয়াতের পাশাপাশি) আমার অনুগ্রহ দান করলাম। আর আমি (আমার বান্দাদের মুখে মুখে) তাদের সুনাম সুখ্যাতিকে সমুচ্চ করলাম।
-
৫১
وَٱذۡكُرۡ فِي ٱلۡكِتَٰبِ مُوسَىٰٓۚ إِنَّهُۥ كَانَ مُخۡلَصٗا وَكَانَ رَسُولٗا نَّبِيّٗا
আর (হে রাসূল!) কিতাবে মূসাকে স্মরণ কর; নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন বিশেষভাবে মনোনীত এবং তিনি ছিলেন একজন রাসূল ও নবী।
-
৫২
وَنَٰدَيۡنَٰهُ مِن جَانِبِ ٱلطُّورِ ٱلۡأَيۡمَنِ وَقَرَّبۡنَٰهُ نَجِيّٗا
আমি তাকে তূর পাহাড়ের ডান দিক থেকে ডেকেছিলাম এবং অন্তরঙ্গ আলাপের উদ্দেশ্যে তাকে নৈকট্য দান করেছিলাম।
-
৫৩
وَوَهَبۡنَا لَهُۥ مِن رَّحۡمَتِنَآ أَخَاهُ هَٰرُونَ نَبِيّٗا
আর আমি স্বীয় অনুগ্রহে তার জন্য তার ভাই হারূনকে নবীরূপে দান করলাম।
-
৫৪
وَٱذۡكُرۡ فِي ٱلۡكِتَٰبِ إِسۡمَٰعِيلَۚ إِنَّهُۥ كَانَ صَادِقَ ٱلۡوَعۡدِ وَكَانَ رَسُولٗا نَّبِيّٗا
আর (হে রাসূল!) এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা স্মরণ করুন। নিশ্চয় তিনি ছিলেন অঙ্গীকার রক্ষায় সত্যনিষ্ঠ এবং তিনি ছিলেন একজন রাসূল ও নবী।
-
৫৫
وَكَانَ يَأۡمُرُ أَهۡلَهُۥ بِٱلصَّلَوٰةِ وَٱلزَّكَوٰةِ وَكَانَ عِندَ رَبِّهِۦ مَرۡضِيّٗا
আর সে তার পরিবার পরিজনকে সালাত কায়িম ও যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতো এবং সে ছিল তার রবের সন্তোষভাজন।
-
৫৬
وَٱذۡكُرۡ فِي ٱلۡكِتَٰبِ إِدۡرِيسَۚ إِنَّهُۥ كَانَ صِدِّيقٗا نَّبِيّٗا
আর (হে রাসূল! তুমি) স্মরণ করো এই কিতাবে (আল কুরআনে) ইদরীসকে। সে ছিলো পরম সত্যনিষ্ঠ নবী।
-
৫৭
وَرَفَعۡنَٰهُ مَكَانًا عَلِيًّا
আর আমি তাকে (নবুওয়াত দিয়ে) উচ্চ মর্যাদায় সমুন্নত করেছিলাম।
-
৫৮
أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ أَنۡعَمَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِم مِّنَ ٱلنَّبِيِّـۧنَ مِن ذُرِّيَّةِ ءَادَمَ وَمِمَّنۡ حَمَلۡنَا مَعَ نُوحٖ وَمِن ذُرِّيَّةِ إِبۡرَٰهِيمَ وَإِسۡرَٰٓءِيلَ وَمِمَّنۡ هَدَيۡنَا وَٱجۡتَبَيۡنَآۚ إِذَا تُتۡلَىٰ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتُ ٱلرَّحۡمَٰنِ خَرُّواْۤ سُجَّدٗاۤ وَبُكِيّٗا۩
বস্তুত, এরাই ঐসব নবী-রাসূল, আদম সন্তানের মধ্য থেকে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং যাদের আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম। আর ইবরাহীম ও ইসরা‘ঈলের বংশোদ্ভূত এবং যাদেরকে আমি (ইসলামের প্রতি) পথপ্রদর্শন করেছিলাম ও (নবী হিসেবে) মনোনীত করেছিলাম। যখন তাদের কাছে পরম করুণাময়ের আয়াতসমূহ পাঠ করা হতো, তারা (আল্লাহর ভয়ে) কাঁদতে কাঁদতে সাজদায় লুটিয়ে পড়তো।
-
৫৯
۞ فَخَلَفَ مِنۢ بَعۡدِهِمۡ خَلۡفٌ أَضَاعُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَٱتَّبَعُواْ ٱلشَّهَوَٰتِۖ فَسَوۡفَ يَلۡقَوۡنَ غَيًّا
তাদের (এসব মনোনীত নবীদের) পরে আসলো এমন এক অসৎ বংশধর যারা সালাত বিনষ্ট করলো এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করলো। সুতরাং শীঘ্রই তারা জাহান্নামে অনিষ্ট ও ব্যর্থতার সাক্ষাৎ পাবে।
-
৬০
إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا فَأُوْلَٰٓئِكَ يَدۡخُلُونَ ٱلۡجَنَّةَ وَلَا يُظۡلَمُونَ شَيۡـٔٗا
তবে তারা নয়, যারা (ত্রুটি ও অপকর্ম থেকে) তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে। তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি কোনো যুলম করা হবে না।
-
৬১
جَنَّٰتِ عَدۡنٍ ٱلَّتِي وَعَدَ ٱلرَّحۡمَٰنُ عِبَادَهُۥ بِٱلۡغَيۡبِۚ إِنَّهُۥ كَانَ وَعۡدُهُۥ مَأۡتِيّٗا
চিরস্থায়ী জান্নাতে, যার প্রতিশ্রুতি পরম করুণাময় তাঁর বান্দাদের গায়িবের মাধ্যমে দিয়েছেন। নিশ্চয় তাঁর প্রতিশ্রুতি অবশ্যম্ভাবী।
-
৬২
لَّا يَسۡمَعُونَ فِيهَا لَغۡوًا إِلَّا سَلَٰمٗاۖ وَلَهُمۡ رِزۡقُهُمۡ فِيهَا بُكۡرَةٗ وَعَشِيّٗا
তারা সেখানে ‘সালাম’ (শান্তি) ছাড়া কোনো অর্থহীন ও অশ্লীল কথা শুনবে না এবং সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় তাদের জন্য থাকবে তাদের রিযক।
-
৬৩
تِلۡكَ ٱلۡجَنَّةُ ٱلَّتِي نُورِثُ مِنۡ عِبَادِنَا مَن كَانَ تَقِيّٗا
সেই জান্নাত, আমি যার উত্তরাধিকারী বানাব আমার বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে, যারা মুত্তাকী।
-
৬৪
وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمۡرِ رَبِّكَۖ لَهُۥ مَا بَيۡنَ أَيۡدِينَا وَمَا خَلۡفَنَا وَمَا بَيۡنَ ذَٰلِكَۚ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيّٗا
(হে জিবরীল! মুহাম্মাদকে বলে দাও:) ‘আর আমরা আপনার রবের নির্দেশ ছাড়া (জমিনে) অবতরণ করি না। আমাদের সামনে (আখিরাতে) যা কিছু আছে, আর যা আছে আমাদের পিছনে (দুনিয়াতে) এবং যা রয়েছে এতদুভয়ের মধ্যে, সব তাঁরই মালিকানাধীন। আর (হে রাসূল!) তোমার রব ভুলে যান না।
-
৬৫
رَّبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَا فَٱعۡبُدۡهُ وَٱصۡطَبِرۡ لِعِبَٰدَتِهِۦۚ هَلۡ تَعۡلَمُ لَهُۥ سَمِيّٗا
আসমানসমূহ, জমিন ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে, এর প্রতিটি জিনিসেরই তিনি রব। সুতরাং তুমি তাঁর ইবাদাত করো এবং তাঁরই ইবাদাতে অটল থাকো। তুমি কি (ইবাদাতের ক্ষেত্রে) তাঁর সমগুণ সম্পন্ন কাউকে জানো?
-
৬৬
وَيَقُولُ ٱلۡإِنسَٰنُ أَءِذَا مَا مِتُّ لَسَوۡفَ أُخۡرَجُ حَيًّا
আর (পুনরুত্থান অস্বীকারকারী) মানুষ বলে, ‘আমি মারা গেলে, সত্যিই কি আমাকে জীবিত অবস্থায় (কবর থেকে) বের করে আনা হবে?
-
৬৭
أَوَلَا يَذۡكُرُ ٱلۡإِنسَٰنُ أَنَّا خَلَقۡنَٰهُ مِن قَبۡلُ وَلَمۡ يَكُ شَيۡـٔٗا
মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে এর আগে সৃষ্টি করেছি, অথচ সে কিছুই ছিল না?
-
৬৮
فَوَرَبِّكَ لَنَحۡشُرَنَّهُمۡ وَٱلشَّيَٰطِينَ ثُمَّ لَنُحۡضِرَنَّهُمۡ حَوۡلَ جَهَنَّمَ جِثِيّٗا
অতএব (হে রাসূল!) তোমার রবের শপথ ! আমি অবশ্যই তাদেরকে ও শয়তানদেরকে (কবর থেকে হাশরের ময়দানে) সমবেত করবোই, অতঃপর জাহান্নামের চারপাশে লাঞ্ছিত ও নতজানু অবস্থায় তাদেরকে হাজির করবোই।
-
৬৯
ثُمَّ لَنَنزِعَنَّ مِن كُلِّ شِيعَةٍ أَيُّهُمۡ أَشَدُّ عَلَى ٱلرَّحۡمَٰنِ عِتِيّٗا
তারপর আমি প্রত্যেক (পথভ্রষ্ট) দল থেকে, পরম করুণাময়ের প্রতি সর্বাধিক অবাধ্যকে টেনে বের করবোই।
-
৭০
ثُمَّ لَنَحۡنُ أَعۡلَمُ بِٱلَّذِينَ هُمۡ أَوۡلَىٰ بِهَا صِلِيّٗا
উপরন্তু আমিই সর্বাধিক ভালো জানি তাদের সম্পর্কে, যারা জাহান্নামে প্রবেশের এবং দগ্ধীভূত হওয়ার অধিক উপযুক্ত।
-
৭১
وَإِن مِّنكُمۡ إِلَّا وَارِدُهَاۚ كَانَ عَلَىٰ رَبِّكَ حَتۡمٗا مَّقۡضِيّٗا
আর (হে মানুষ!) তোমাদের প্রত্যেককেই তা (জাহান্নামের ওপর স্থাপিত পুলসিরাত) অতিক্রম করতে হবে। এটি তোমার রবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
-
৭২
ثُمَّ نُنَجِّي ٱلَّذِينَ ٱتَّقَواْ وَّنَذَرُ ٱلظَّٰلِمِينَ فِيهَا جِثِيّٗا
তারপর আমি যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, তাদেরকে রক্ষা করব; আর যালিমদেরকে সেখানে হাঁটু গেড়ে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দেব।
-
৭৩
وَإِذَا تُتۡلَىٰ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتُنَا بَيِّنَٰتٖ قَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ لِلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَيُّ ٱلۡفَرِيقَيۡنِ خَيۡرٞ مَّقَامٗا وَأَحۡسَنُ نَدِيّٗا
আর যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন যারা কুফরি করেছে তারা মুমিনদের বলে, ‘দুই দলের মধ্যে কার অবস্থান উত্তম এবং কার সভাস্থল অধিক সুন্দর?
-
৭৪
وَكَمۡ أَهۡلَكۡنَا قَبۡلَهُم مِّن قَرۡنٍ هُمۡ أَحۡسَنُ أَثَٰثٗا وَرِءۡيٗا
আর তাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি, যারা ধন-সম্পদ ও বাহ্যিক জাঁকজমকে তাদের চেয়ে অধিক উত্তম ছিল।
-
৭৫
قُلۡ مَن كَانَ فِي ٱلضَّلَٰلَةِ فَلۡيَمۡدُدۡ لَهُ ٱلرَّحۡمَٰنُ مَدًّاۚ حَتَّىٰٓ إِذَا رَأَوۡاْ مَا يُوعَدُونَ إِمَّا ٱلۡعَذَابَ وَإِمَّا ٱلسَّاعَةَ فَسَيَعۡلَمُونَ مَنۡ هُوَ شَرّٞ مَّكَانٗا وَأَضۡعَفُ جُندٗا
(হে রাসূল! তুমি তাদেরকে) বলে দাও: ‘যে পথভ্রষ্টতায় রয়েছে, তাকে পরম করুণাময় প্রচুর অবকাশ দিবেন; যতক্ষণ না যে বিষয়ে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তা তারা প্রত্যক্ষ করবে, চাই তা শাস্তি হোক অথবা কিয়ামত। তখন তারা জানতে পারবে কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট ও দলবলে দুর্বল।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৭৬
وَيَزِيدُ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ٱهۡتَدَوۡاْ هُدٗىۗ وَٱلۡبَٰقِيَٰتُ ٱلصَّٰلِحَٰتُ خَيۡرٌ عِندَ رَبِّكَ ثَوَابٗا وَخَيۡرٞ مَّرَدًّا
আর যারা হিদায়াতের পথে চলে, আল্লাহ তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দিবেন। আর স্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার রবের কাছে পুরস্কার প্রাপ্তির দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং পরিণতি হিসেবেও অতি উত্তম।
-
৭৭
أَفَرَءَيۡتَ ٱلَّذِي كَفَرَ بِـَٔايَٰتِنَا وَقَالَ لَأُوتَيَنَّ مَالٗا وَوَلَدًا
(হে রাসূল!) তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছ, যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে এবং বলে: ‘(আমি মরে গেলে আমাকে পুনরুত্থান করা হলেও) আমাকে অবশ্যই প্রচুর ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবে?’
-
৭৮
أَطَّلَعَ ٱلۡغَيۡبَ أَمِ ٱتَّخَذَ عِندَ ٱلرَّحۡمَٰنِ عَهۡدٗا
সে কি গায়িব সম্পর্কে অবহিত হয়েছে, নাকি পরম করুণাময়ের কাছ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে?(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৭৯
كَلَّاۚ سَنَكۡتُبُ مَا يَقُولُ وَنَمُدُّ لَهُۥ مِنَ ٱلۡعَذَابِ مَدّٗا
ব্যাপারটি কখনোই সে রকম নয় (যা তারা ধারণা করছে), সে যা বলে আমি তা লিখে রাখব এবং তার শাস্তির মাত্রা বাড়াতেই থাকব।
-
৮০
وَنَرِثُهُۥ مَا يَقُولُ وَيَأۡتِينَا فَرۡدٗا
আর সে যে বিষয়ে কথা বলে, তা আমার অধিকারে থাকবে(১) এবং (কিয়ামতের দিন) আমার কাছে সে একাকী আসবে।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৮১
وَٱتَّخَذُواْ مِن دُونِ ٱللَّهِ ءَالِهَةٗ لِّيَكُونُواْ لَهُمۡ عِزّٗا
আর তারা (মুশরিকরা) আল্লাহ ছাড়া নিজেদের জন্যে বহু ‘ইলাহ’ গ্রহণ করেছে, যাতে ওরা তাদের সাহায্যকারী হতে পারে।
-
৮২
كَلَّاۚ سَيَكۡفُرُونَ بِعِبَادَتِهِمۡ وَيَكُونُونَ عَلَيۡهِمۡ ضِدًّا
ব্যাপারটি কখনোই সে রকম নয় (যা তারা ধারণা করছে), এরা (ভ্রান্ত মা‘বূদরা) তাদের ইবাদাতের কথা অস্বীকার করবে এবং তাদের বিরোধী শত্রু হয়ে যাবে।
-
৮৩
أَلَمۡ تَرَ أَنَّآ أَرۡسَلۡنَا ٱلشَّيَٰطِينَ عَلَى ٱلۡكَٰفِرِينَ تَؤُزُّهُمۡ أَزّٗا
(হে রাসূল!) তুমি কি লক্ষ্য করনি যে, আমি কাফিরদের জন্য শয়তানদেরকে ছেড়ে দিয়েছি; ওরা তাদেরকে (গুনাহের কাজে এবং আল্লাহর দ্বীন থেকে সরিয়ে নেয়ার কাজে) বিশেষভাবে প্ররোচিত করে।
-
৮৪
فَلَا تَعۡجَلۡ عَلَيۡهِمۡۖ إِنَّمَا نَعُدُّ لَهُمۡ عَدّٗا
সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তাদের (ধ্বংসের) ব্যাপারে তাড়াহুড়া করো না; আমি তো কেবল তাদের জন্য নির্ধারিত কাল গণনা করছি।
-
৮৫
يَوۡمَ نَحۡشُرُ ٱلۡمُتَّقِينَ إِلَى ٱلرَّحۡمَٰنِ وَفۡدٗا
যেদিন আমি পরম করুণাময়ের নিকট মুত্তাকীদেরকে সম্মানিত মেহমানরূপে সমবেত করবো।
-
৮৬
وَنَسُوقُ ٱلۡمُجۡرِمِينَ إِلَىٰ جَهَنَّمَ وِرۡدٗا
আর অপরাধীদেরকে (কাফিরদেরকে) তৃষ্ণার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবো।
-
৮৭
لَّا يَمۡلِكُونَ ٱلشَّفَٰعَةَ إِلَّا مَنِ ٱتَّخَذَ عِندَ ٱلرَّحۡمَٰنِ عَهۡدٗا
যারা পরম করুণাময়ের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছে, তারা ছাড়া অন্য কেউ সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখবে না।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৮৮
وَقَالُواْ ٱتَّخَذَ ٱلرَّحۡمَٰنُ وَلَدٗا
আর তারা (ইয়াহূদী, খ্রিষ্টান ও কিছু মুশরিকরা) বলে: ‘পরম করুণাময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।’
-
৮৯
لَّقَدۡ جِئۡتُمۡ شَيۡـًٔا إِدّٗا
অবশ্যই তোমরা এক জঘন্য বিষয়ের অবতারণা করেছ।
-
৯০
تَكَادُ ٱلسَّمَٰوَٰتُ يَتَفَطَّرۡنَ مِنۡهُ وَتَنشَقُّ ٱلۡأَرۡضُ وَتَخِرُّ ٱلۡجِبَالُ هَدًّا
এতে (এ জঘন্যতম কথার কারণে) আসমানসমূহ ফেটে পড়ার, জমিন বিদীর্ণ হওয়ার এবং পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হবে।
-
৯১
أَن دَعَوۡاْ لِلرَّحۡمَٰنِ وَلَدٗا
কারণ তারা পরম করুণাময়ের সন্তান আছে বলে দাবি করে।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৯২
وَمَا يَنۢبَغِي لِلرَّحۡمَٰنِ أَن يَتَّخِذَ وَلَدًا
অথচ সন্তান গ্রহণ করা পরম করুণাময়ের জন্য শোভনীয় নয়।
-
৯৩
إِن كُلُّ مَن فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ إِلَّآ ءَاتِي ٱلرَّحۡمَٰنِ عَبۡدٗا
আসমানসমূহ ও জমিনে এমন কেউ নেই, যে বান্দা হিসেবে পরম করুণাময়ের কাছে উপস্থিত হবে না।
-
৯৪
لَّقَدۡ أَحۡصَىٰهُمۡ وَعَدَّهُمۡ عَدّٗا
তিনি তাদের সংখ্যা জানেন এবং তাদেরকে যথাযথভাবে গণনা করে রেখেছেন।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৯৫
وَكُلُّهُمۡ ءَاتِيهِ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ فَرۡدًا
আর তাদের সবাই কিয়ামতের দিন একাকী অবস্থায় তাঁর নিকট আসবে (উপস্থিত হবে)।
-
৯৬
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ سَيَجۡعَلُ لَهُمُ ٱلرَّحۡمَٰنُ وُدّٗا
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, পরম করুণাময় অবশ্যই (বান্দাদের হৃদয়ে) তাদের জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করবেন।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৯৭
فَإِنَّمَا يَسَّرۡنَٰهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ ٱلۡمُتَّقِينَ وَتُنذِرَ بِهِۦ قَوۡمٗا لُّدّٗا
আর (হে রাসূল!) আমি তো তোমার ভাষায় আলকুরআনকে সহজ করে দিয়েছি, যাতে তুমি এর দ্বারা মুত্তাকীদেরকে (জান্নাতের) সুসংবাদ দিতে পারো এবং কলহপ্রিয় জাতিকে তদ্বারা (জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শন করে) সতর্ক করতে পারো।
-
৯৮
وَكَمۡ أَهۡلَكۡنَا قَبۡلَهُم مِّن قَرۡنٍ هَلۡ تُحِسُّ مِنۡهُم مِّنۡ أَحَدٍ أَوۡ تَسۡمَعُ لَهُمۡ رِكۡزَۢا
আর আমি তাদের পূর্বে কত সম্প্রদায়কেই তো ধ্বংস করে দিয়েছি! তুমি কি তাদের কারো অস্তিত্ব অনুভব করতে পার, কিংবা শুনতে পাও তাদের কোনো ক্ষীণ আওয়াজ?
অনুবাদ: রাওয়াদ ট্রান্সলেশন সেন্টার. উৎস: QuranEnc.com, সর্বশেষ মিলিয়ে দেখা: ২৬ অক্টোবর ২০২৬.
আরবি পাঠ: বাদশাহ ফাহাদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স. সূরার তথ্য: Tanzil.net (CC BY 3.0).
এটি কুরআনের অর্থের অনুবাদ। মানুষের যেকোনো কাজের মতো এতে ভুল থাকতে পারে।