ত্বা-হা
طه
بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
-
১
طه
ত্ব-হা।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
২
مَآ أَنزَلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡقُرۡءَانَ لِتَشۡقَىٰٓ
(হে রাসূল!) আমি তোমার প্রতি এ আলকুরআন এজন্য নাযিল করিনি যে, তুমি দুর্ভোগ পোহাবে।
-
৩
إِلَّا تَذۡكِرَةٗ لِّمَن يَخۡشَىٰ
বরং যে (আল্লাহকে) ভয় করে তার জন্য (এ কুরআন) উপদেশ স্বরূপ।
-
৪
تَنزِيلٗا مِّمَّنۡ خَلَقَ ٱلۡأَرۡضَ وَٱلسَّمَٰوَٰتِ ٱلۡعُلَى
যিনি জমিন ও সুউচ্চ আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন, তাঁর নিকট থেকে (এ আলকুরআন) অবতীর্ণ হয়েছে।
-
৫
ٱلرَّحۡمَٰنُ عَلَى ٱلۡعَرۡشِ ٱسۡتَوَىٰ
পরম করুণাময় (আল্লাহ) ‘আরশের ওপর উঠেছেন।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৬
لَهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَا وَمَا تَحۡتَ ٱلثَّرَىٰ
যা আছে আসমানসমূহে, জমিনে ও এ দু’য়ের মধ্যবর্তী স্থানে এবং যা আছে মাটির নিচে তা সব তাঁরই।
-
৭
وَإِن تَجۡهَرۡ بِٱلۡقَوۡلِ فَإِنَّهُۥ يَعۡلَمُ ٱلسِّرَّ وَأَخۡفَى
আর (হে রাসূল!) তুমি যদি উচ্চস্বরে কথা বল, তবুও (জেনে রাখো) তিনি গোপন ও আরও গোপন বিষয়ও জানেন।
-
৮
ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَۖ لَهُ ٱلۡأَسۡمَآءُ ٱلۡحُسۡنَىٰ
আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই; তাঁরই জন্যে রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ।
-
৯
وَهَلۡ أَتَىٰكَ حَدِيثُ مُوسَىٰٓ
আর (হে রাসূল!) তোমার কাছে কি মূসার (বৃত্তান্ত) সংবাদ পৌঁছেছে?
-
১০
إِذۡ رَءَا نَارٗا فَقَالَ لِأَهۡلِهِ ٱمۡكُثُوٓاْ إِنِّيٓ ءَانَسۡتُ نَارٗا لَّعَلِّيٓ ءَاتِيكُم مِّنۡهَا بِقَبَسٍ أَوۡ أَجِدُ عَلَى ٱلنَّارِ هُدٗى
যখন সে আগুন দেখলো, তখন সে নিজ পরিবারকে বললো: ‘তোমরা (এ জায়গায়) অপেক্ষা করো, আমি আগুন দেখতে পেয়েছি। আশা করি আমি তোমাদের জন্য তা থেকে কিছু জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসতে পারবো অথবা আগুনের নিকট পথনির্দেশ পাবো।’
-
১১
فَلَمَّآ أَتَىٰهَا نُودِيَ يَٰمُوسَىٰٓ
যখন সে আগুনের কাছে আসলো, তখন তাকে ডেকে বলা হলো: ‘হে মূসা।’
-
১২
إِنِّيٓ أَنَا۠ رَبُّكَ فَٱخۡلَعۡ نَعۡلَيۡكَ إِنَّكَ بِٱلۡوَادِ ٱلۡمُقَدَّسِ طُوٗى
নিশ্চয় আমিই তোমার রব। সুতরাং (সাক্ষাতের প্রস্তুতি স্বরূপ) তুমি তোমার জুতাজোড়া খুলে ফেলো। নিশ্চয় তুমি পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় রয়েছ।’
-
১৩
وَأَنَا ٱخۡتَرۡتُكَ فَٱسۡتَمِعۡ لِمَا يُوحَىٰٓ
‘আর আমি তোমাকে (রিসালাতের জন্যে) মনোনীত করেছি। সুতরাং তোমার কাছে যা ওহীরূপে পাঠানো হচ্ছে ,তা মনোযোগ দিয়ে শোন।’
-
১৪
إِنَّنِيٓ أَنَا ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَٱعۡبُدۡنِي وَأَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ لِذِكۡرِيٓ
‘নিশ্চয় আমিই আল্লাহ। আমি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। সুতরাং তুমি এককভাবে আমারই ইবাদাত করো এবং আমার স্মরণার্থে (পরিপূর্ণরূপে) সালাত কায়িম করো।’
-
১৫
إِنَّ ٱلسَّاعَةَ ءَاتِيَةٌ أَكَادُ أُخۡفِيهَا لِتُجۡزَىٰ كُلُّ نَفۡسِۭ بِمَا تَسۡعَىٰ
নিশ্চয়ই কিয়ামত আসবেই; আমি তা গোপনই রাখতে চাই, যাতে প্রতিটি মানুষকে তার (দুনিয়ার ভাল বা মন্দ) কর্মের প্রতিফল দেওয়া হয়।
-
১৬
فَلَا يَصُدَّنَّكَ عَنۡهَا مَن لَّا يُؤۡمِنُ بِهَا وَٱتَّبَعَ هَوَىٰهُ فَتَرۡدَىٰ
অতএব যে ব্যক্তি কিয়ামতের প্রতি ঈমান রাখে না এবং স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে কিছুতেই তার ওপর ঈমান আনা থেকে ফিরিয়ে না রাখে; অন্যথায় তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।
-
১৭
وَمَا تِلۡكَ بِيَمِينِكَ يَٰمُوسَىٰ
আর (আল্লাহ মূসাকে সম্বোধন করে বলেনঃ ) ‘হে মূসা, তোমার ডান হাতে ওটা কী?’
-
১৮
قَالَ هِيَ عَصَايَ أَتَوَكَّؤُاْ عَلَيۡهَا وَأَهُشُّ بِهَا عَلَىٰ غَنَمِي وَلِيَ فِيهَا مَـَٔارِبُ أُخۡرَىٰ
জবাবে সে (মূসা) বললো: ‘এটি আমার লাঠি; (চলার সময়) আমি এর ওপর ভর করি, এটি দিয়ে আমি আমার মেষপালের জন্য গাছের পাতা পাড়ি। এ ছাড়াও এটি আমার আরো অনেক কাজে লাগে।’
-
১৯
قَالَ أَلۡقِهَا يَٰمُوسَىٰ
আল্লাহ বললেন: ‘হে মূসা! তুমি ওটা নিক্ষেপ করো।’
-
২০
فَأَلۡقَىٰهَا فَإِذَا هِيَ حَيَّةٞ تَسۡعَىٰ
অতঃপর সে তা নিক্ষেপ করলো, অমনি তা সাপ হয়ে (ক্ষিপ্র বেগে) ছুটতে লাগলো।
-
২১
قَالَ خُذۡهَا وَلَا تَخَفۡۖ سَنُعِيدُهَا سِيرَتَهَا ٱلۡأُولَىٰ
তিনি বললেন: ‘ওটাকে ধর এবং ভয় করো না। আমি ওকে ওর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিবো।’
-
২২
وَٱضۡمُمۡ يَدَكَ إِلَىٰ جَنَاحِكَ تَخۡرُجۡ بَيۡضَآءَ مِنۡ غَيۡرِ سُوٓءٍ ءَايَةً أُخۡرَىٰ
আর তোমার হাতকে তোমার বগলের সঙ্গে মিলাও, তাতে তা কোনো দোষ ছাড়া শুভ্র উজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে আসবে, আরেকটি নিদর্শন হিসেবে।
-
২৩
لِنُرِيَكَ مِنۡ ءَايَٰتِنَا ٱلۡكُبۡرَى
(হে মূসা! আমি তোমাকে এ দু’টি আলামত দেখালাম) এটা এজন্য যে, আমি তোমাকে আমার বড় বড় নিদর্শনসমূহের কিছু দেখাব।
-
২৪
ٱذۡهَبۡ إِلَىٰ فِرۡعَوۡنَ إِنَّهُۥ طَغَىٰ
‘তুমি ফিরা‘ঊনের কাছে যাও। নিশ্চয় সে সীমালঙ্ঘন করেছে।’
-
২৫
قَالَ رَبِّ ٱشۡرَحۡ لِي صَدۡرِي
সে (মূসা) বললো: ‘হে আমার রব, আপনি আমার বুক প্রশস্ত করে দিন।’
-
২৬
وَيَسِّرۡ لِيٓ أَمۡرِي
এবং আমার কাজকে আমার জন্য সহজ করে দিন।
-
২৭
وَٱحۡلُلۡ عُقۡدَةٗ مِّن لِّسَانِي
আর আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
২৮
يَفۡقَهُواْ قَوۡلِي
যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।
-
২৯
وَٱجۡعَل لِّي وَزِيرٗا مِّنۡ أَهۡلِي
আর আমার পরিবার থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দিন।
-
৩০
هَٰرُونَ أَخِي
আমার ভাই হারূনকে।
-
৩১
ٱشۡدُدۡ بِهِۦٓ أَزۡرِي
তার দ্বারা আমার শক্তিকে সুদৃঢ় করুন।
-
৩২
وَأَشۡرِكۡهُ فِيٓ أَمۡرِي
এবং তাকে আমার (রিসালাতের) কাজে শরীক করুন।
-
৩৩
كَيۡ نُسَبِّحَكَ كَثِيرٗا
যাতে আমরা বেশি করে আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে পারি।
-
৩৪
وَنَذۡكُرَكَ كَثِيرًا
এবং অধিক পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি।
-
৩৫
إِنَّكَ كُنتَ بِنَا بَصِيرٗا
আপনিই তো আমাদের বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা।’
-
৩৬
قَالَ قَدۡ أُوتِيتَ سُؤۡلَكَ يَٰمُوسَىٰ
আল্লাহ বললেন: ‘হে মূসা, তুমি যা চেয়েছো তা তোমাকে দেয়া হলো।’
-
৩৭
وَلَقَدۡ مَنَنَّا عَلَيۡكَ مَرَّةً أُخۡرَىٰٓ
আর নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি আরও একবার অনুগ্রহ করেছি।
-
৩৮
إِذۡ أَوۡحَيۡنَآ إِلَىٰٓ أُمِّكَ مَا يُوحَىٰٓ
যখন আমি তোমার মাতাকে ওয়াহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছিলাম, যা জানানোর ছিলো।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৩৯
أَنِ ٱقۡذِفِيهِ فِي ٱلتَّابُوتِ فَٱقۡذِفِيهِ فِي ٱلۡيَمِّ فَلۡيُلۡقِهِ ٱلۡيَمُّ بِٱلسَّاحِلِ يَأۡخُذۡهُ عَدُوّٞ لِّي وَعَدُوّٞ لَّهُۥۚ وَأَلۡقَيۡتُ عَلَيۡكَ مَحَبَّةٗ مِّنِّي وَلِتُصۡنَعَ عَلَىٰ عَيۡنِيٓ
তুমি তাকে (মূসাকে) সিন্ধুকের মধ্যে রেখে দাও। তারপর তাকে সাগরে ভাসিয়ে দাও। যেন সাগর তাকে তীরে ঠেলে দেয়। ফলে তাকে আমার শত্রু ও তার শত্রু (ফিরা‘ঊন) উঠিয়ে নিবে। আর (হে মূসা) আমি আমার পক্ষ থেকে তোমার প্রতি ভালোবাসা ঢেলে দিয়েছিলাম(১), যাতে তুমি আমার চোখের সামনে(২) প্রতিপালিত হও।’
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৪০
إِذۡ تَمۡشِيٓ أُخۡتُكَ فَتَقُولُ هَلۡ أَدُلُّكُمۡ عَلَىٰ مَن يَكۡفُلُهُۥۖ فَرَجَعۡنَٰكَ إِلَىٰٓ أُمِّكَ كَيۡ تَقَرَّ عَيۡنُهَا وَلَا تَحۡزَنَۚ وَقَتَلۡتَ نَفۡسٗا فَنَجَّيۡنَٰكَ مِنَ ٱلۡغَمِّ وَفَتَنَّٰكَ فُتُونٗاۚ فَلَبِثۡتَ سِنِينَ فِيٓ أَهۡلِ مَدۡيَنَ ثُمَّ جِئۡتَ عَلَىٰ قَدَرٖ يَٰمُوسَىٰ
যখন তোমার বোন (সিন্দুকটি যেদিকে ভেসে যায়, সেদিকেই সাথে সাথে) চলছিল। অতঃপর সে গিয়ে (যারা তোমাকে উঠিয়ে নিয়েছে তাদেরকে) বললো: ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন একজনের সন্ধান দিব, যে এর দায়িত্বভার নিতে পারবে?’ অতঃপর আমি তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চোখ জুড়ায় এবং সে দুশ্চিন্তায় না থাকে। আর তুমি (ক্বিবতী সম্প্রদায়ের) এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে। তখন আমি তোমাকে দুশ্চিন্তা থেকে নাজাত দিলাম এবং তোমাকে আমি বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেছি। অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে অবস্থান করেছ। তারপর হে মূসা! (তোমার সাথে কথা বলার) নির্ধারিত সময়ে তুমি এসে উপস্থিত হয়েছ।
-
৪১
وَٱصۡطَنَعۡتُكَ لِنَفۡسِي
এবং আমি তোমাকে আমার নিজের (রিসালাত প্রদানের) জন্য প্রস্তুত করেছি।
-
৪২
ٱذۡهَبۡ أَنتَ وَأَخُوكَ بِـَٔايَٰتِي وَلَا تَنِيَا فِي ذِكۡرِي
(হে মূসা!) তুমি ও তোমার ভাই (হারূন) আমার (ক্ষমতা ও একত্ববাদের) আয়াতসমূহ নিয়ে (ফিরা‘ঊনের কাছে) যাও এবং আমাকে স্মরণ করার ক্ষেত্রে কোনোরূপ শৈথিল্য কর না।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৪৩
ٱذۡهَبَآ إِلَىٰ فِرۡعَوۡنَ إِنَّهُۥ طَغَىٰ
তোমরা দু’জন ফিরা‘ঊনের নিকট যাও; কেননা সে তো সীমালঙ্ঘন করেছে।
-
৪৪
فَقُولَا لَهُۥ قَوۡلٗا لَّيِّنٗا لَّعَلَّهُۥ يَتَذَكَّرُ أَوۡ يَخۡشَىٰ
তোমরা তার সাথে কোমল ভাষায় কথা বলবে। হয়তোবা সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা (আল্লাহকে) ভয় করবে।
-
৪৫
قَالَا رَبَّنَآ إِنَّنَا نَخَافُ أَن يَفۡرُطَ عَلَيۡنَآ أَوۡ أَن يَطۡغَىٰ
তারা দুজন বললো: ‘হে আমাদের রব! আমরা তো আশঙ্কা করছি যে, (তাকে পরিপূর্ণরূপে দা‘ওয়াত দেয়ার আগেই) সে আমাদের উপর (দ্রুত শাস্তি দিয়ে) বাড়াবাড়ি করবে অথবা (হত্যা, ইত্যাদির মাধ্যমে) সীমালঙ্ঘন করবে।’
-
৪৬
قَالَ لَا تَخَافَآۖ إِنَّنِي مَعَكُمَآ أَسۡمَعُ وَأَرَىٰ
আল্লাহ (তাদেরকে) বললেন: ‘তোমরা দুজন ভয় করো না। (সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে) আমি তো তোমাদের সাথেই আছি। আমি সবকিছু শুনছি ও দেখছি।’
-
৪৭
فَأۡتِيَاهُ فَقُولَآ إِنَّا رَسُولَا رَبِّكَ فَأَرۡسِلۡ مَعَنَا بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ وَلَا تُعَذِّبۡهُمۡۖ قَدۡ جِئۡنَٰكَ بِـَٔايَةٖ مِّن رَّبِّكَۖ وَٱلسَّلَٰمُ عَلَىٰ مَنِ ٱتَّبَعَ ٱلۡهُدَىٰٓ
সুতরাং তোমরা দু’জন তার (ফিরা‘ঊনের) কাছে যাও, অতঃপর বলো: ‘আমরা তোমার রবের দু’জন রাসূল। সুতরাং তুমি বানূ ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও এবং (ছেলেদেরকে হত্যা করে এবং মেয়েদেরকে বাঁচিয়ে রেখে) তাদেরকে নির্যাতন করো না। আমরা তোমার কাছে এসেছি তোমার রবের পক্ষ থেকে (আমাদের সত্যতার) প্রমাণ নিয়ে। আর তাদের প্রতি শান্তি, যারা হিদায়েতের পথ অনুসরণ করে ।’
-
৪৮
إِنَّا قَدۡ أُوحِيَ إِلَيۡنَآ أَنَّ ٱلۡعَذَابَ عَلَىٰ مَن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ
নিশ্চয় আমাদের নিকট (আল্লাহর পক্ষ থেকে) ওহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, (দুনিয়া ও আখিরাতের) শাস্তি তো তার জন্য, যে (আল্লাহর আয়াতসমূহের প্রতি) মিথ্যারোপ করে এবং (রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছে, তা থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়।
-
৪৯
قَالَ فَمَن رَّبُّكُمَا يَٰمُوسَىٰ
ফিরা‘ঊন বললো: ‘হে মূসা, তাহলে কে তোমাদের রব?’
-
৫০
قَالَ رَبُّنَا ٱلَّذِيٓ أَعۡطَىٰ كُلَّ شَيۡءٍ خَلۡقَهُۥ ثُمَّ هَدَىٰ
মূসা জবাবে বললো: ‘আমাদের রব তিনিই, যিনি সকল বস্তুকে তার (উপযুক্ত) আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর সবাইকে সঠিক পথ নির্দেশ করেছেন।’
-
৫১
قَالَ فَمَا بَالُ ٱلۡقُرُونِ ٱلۡأُولَىٰ
ফিরা‘ঊন বললো: ‘তাহলে পূর্বের জাতিগুলোর অবস্থা কী? (যারা কুফরীর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলো)।’
-
৫২
قَالَ عِلۡمُهَا عِندَ رَبِّي فِي كِتَٰبٖۖ لَّا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنسَى
মূসা বললো: ‘এর জ্ঞান আমার রবের নিকট (লাওহে মাহফূযে) একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। আমার রব (সেগুলো জানতে) কোন ভুল করেন না এবং ভুলেও যান না।’
-
৫৩
ٱلَّذِي جَعَلَ لَكُمُ ٱلۡأَرۡضَ مَهۡدٗا وَسَلَكَ لَكُمۡ فِيهَا سُبُلٗا وَأَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءٗ فَأَخۡرَجۡنَا بِهِۦٓ أَزۡوَٰجٗا مِّن نَّبَاتٖ شَتَّىٰ
‘যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা বানিয়েছেন এবং তাতে তোমাদের জন্য চলার (উপযুক্ত) পথ করে দিয়েছেন। উপরন্তু আসমান থেকে তিনি পানি বর্ষণ করেছেন , অতঃপর তা দিয়ে আমরা বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ জোড়ায় জোড়ায় উৎপন্ন করেছি।
-
৫৪
كُلُواْ وَٱرۡعَوۡاْ أَنۡعَٰمَكُمۡۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّأُوْلِي ٱلنُّهَىٰ
( তা থেকে) তোমরা নিজেরা খাও এবং তোমাদের গবাদি পশুদেরকে (তাতে) চরাও। অবশ্যই এতে বিবেকসম্পন্ন লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
-
৫৫
۞ مِنۡهَا خَلَقۡنَٰكُمۡ وَفِيهَا نُعِيدُكُمۡ وَمِنۡهَا نُخۡرِجُكُمۡ تَارَةً أُخۡرَىٰ
মাটি থেকেই আমি (আল্লাহ) তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, মাটিতেই আমি তোমাদেরকে ফিরিয়ে নিবো এবং মাটি থেকেই পুনরায় তোমাদেরকে (কিয়ামতের দিন পুনরুত্থানের জন্য) বের করে আনবো।
-
৫৬
وَلَقَدۡ أَرَيۡنَٰهُ ءَايَٰتِنَا كُلَّهَا فَكَذَّبَ وَأَبَىٰ
নিশ্চয়ই আমি ফিরা‘ঊনকে আমার সকল নিদর্শন দেখিয়েছিলাম; কিন্তু সে তা মিথ্যারোপ করেছে এবং (আমার প্রতি ঈমান আনতে) অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
-
৫৭
قَالَ أَجِئۡتَنَا لِتُخۡرِجَنَا مِنۡ أَرۡضِنَا بِسِحۡرِكَ يَٰمُوسَىٰ
সে বললো: ‘হে মূসা! তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছো যে, তোমার যাদুর দ্বারা তুমি আমাদেরকে আমাদের দেশ (মিশর) থেকে বের করে দিবে?’
-
৫৮
فَلَنَأۡتِيَنَّكَ بِسِحۡرٖ مِّثۡلِهِۦ فَٱجۡعَلۡ بَيۡنَنَا وَبَيۡنَكَ مَوۡعِدٗا لَّا نُخۡلِفُهُۥ نَحۡنُ وَلَآ أَنتَ مَكَانٗا سُوٗى
‘তাহলে আমরা অবশ্যই তোমার নিকট অনুরূপ যাদু নিয়ে আসবো। সুতরাং (যাদুবিদ্যার প্রতিযোগিতার জন্য) একটি মধ্যবর্তী স্থানে আমাদের ও তোমার মিলিত হওয়ার জন্য একটি সময় নির্ধারণ করো, যা আমরাও লঙ্ঘন করবো না, তুমিও করবে না।’
-
৫৯
قَالَ مَوۡعِدُكُمۡ يَوۡمُ ٱلزِّينَةِ وَأَن يُحۡشَرَ ٱلنَّاسُ ضُحٗى
মূসা বললেন: তোমাদের নির্ধারিত সময় হলো উৎসবের দিন এবং সে দিনে মানুষকে পূর্বাহ্নে (সকালে) একত্র করা হবে।
-
৬০
فَتَوَلَّىٰ فِرۡعَوۡنُ فَجَمَعَ كَيۡدَهُۥ ثُمَّ أَتَىٰ
অতঃপর ফিরা‘ঊন উঠে গেলো। তারপর সে তার কৌশল একত্র করলো, তারপর সে (নির্দিষ্ট স্থানে ও সময়ে প্রতিযোগিতার জন্য) আসলো।
-
৬১
قَالَ لَهُم مُّوسَىٰ وَيۡلَكُمۡ لَا تَفۡتَرُواْ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبٗا فَيُسۡحِتَكُم بِعَذَابٖۖ وَقَدۡ خَابَ مَنِ ٱفۡتَرَىٰ
মূসা তাদেরকে বললো: ‘তোমাদের দুর্ভাগ্য! তোমরা (যাদুর মাধ্যমে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে) আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করো না। তা করলে তিনি এক (কঠিন) শাস্তি দ্বারা তোমাদের মূলোৎপাটন করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি মিথ্যারোপ করে, সে-ই ব্যর্থ হয়।’
-
৬২
فَتَنَٰزَعُوٓاْ أَمۡرَهُم بَيۡنَهُمۡ وَأَسَرُّواْ ٱلنَّجۡوَىٰ
তখন তারা (যাদুকররা) নিজেদের মধ্যে তাদের কর্ম সম্বন্ধে বাক-বিতণ্ডা করলো এবং তারা গোপনে পরামর্শ করলো।
-
৬৩
قَالُوٓاْ إِنۡ هَٰذَٰنِ لَسَٰحِرَٰنِ يُرِيدَانِ أَن يُخۡرِجَاكُم مِّنۡ أَرۡضِكُم بِسِحۡرِهِمَا وَيَذۡهَبَا بِطَرِيقَتِكُمُ ٱلۡمُثۡلَىٰ
তারা (যাদুকর পরস্পর) বললো: ‘এ দু’জন অবশ্যই যাদুকর। তারা চায় তাদের যাদুর মাধ্যমে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ (মিশর) থেকে বের করে দিতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন পদ্ধতি ধ্বংস করে দিতে।’
-
৬৪
فَأَجۡمِعُواْ كَيۡدَكُمۡ ثُمَّ ٱئۡتُواْ صَفّٗاۚ وَقَدۡ أَفۡلَحَ ٱلۡيَوۡمَ مَنِ ٱسۡتَعۡلَىٰ
কাজেই তোমরা তোমাদের সকল কলাকৌশল একত্রিত করো। তারপর তোমরা সবাই সারিবদ্ধভাবে আসো।(১) আর আজ যে (প্রতিদ্বন্দ্বীর ওপর) বিজয়ী হবে, সে-ই সফল হবে।’
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৬৫
قَالُواْ يَٰمُوسَىٰٓ إِمَّآ أَن تُلۡقِيَ وَإِمَّآ أَن نَّكُونَ أَوَّلَ مَنۡ أَلۡقَىٰ
তারা বললো: হে মূসা, হয় তুমি (যাদু) নিক্ষেপ করো, না হয় আমরাই প্রথমে (যাদু) নিক্ষেপকারী হই।
-
৬৬
قَالَ بَلۡ أَلۡقُواْۖ فَإِذَا حِبَالُهُمۡ وَعِصِيُّهُمۡ يُخَيَّلُ إِلَيۡهِ مِن سِحۡرِهِمۡ أَنَّهَا تَسۡعَىٰ
তিনি বললেন: বরং তোমরাই (আগে) নিক্ষেপ করো। তারপর হঠাৎ তাদের রশি ও লাঠিগুলো তাদের জাদুর কারণে তাঁর কাছে এমন মনে হলো যেন সেগুলো ছুটে চলেছে।
-
৬৭
فَأَوۡجَسَ فِي نَفۡسِهِۦ خِيفَةٗ مُّوسَىٰ
তখন মূসা তার অন্তরে কিছুটা ভীতি অনুভব করলো।
-
৬৮
قُلۡنَا لَا تَخَفۡ إِنَّكَ أَنتَ ٱلۡأَعۡلَىٰ
আমি (আল্লাহ) বললাম: ‘তুমি ভয় পেয়ো না, নিশ্চয় তুমিই বিজয়ী হবে।’
-
৬৯
وَأَلۡقِ مَا فِي يَمِينِكَ تَلۡقَفۡ مَا صَنَعُوٓاْۖ إِنَّمَا صَنَعُواْ كَيۡدُ سَٰحِرٖۖ وَلَا يُفۡلِحُ ٱلسَّاحِرُ حَيۡثُ أَتَىٰ
‘আর তুমি নিজের ডান হাতে যা (যে লাঠি) আছে, তা নিক্ষেপ করো। ফলে তারা যা করেছে, এটা (সাপে রূপান্তরিত হয়ে) সেগুলো খেয়ে ফেলবে। তারা যা করেছে, তাতো কেবল যাদুকরের কৌশল। আর যাদুকর যেখানেই আসুক না কেনো, সে সফল হবে না।’
-
৭০
فَأُلۡقِيَ ٱلسَّحَرَةُ سُجَّدٗا قَالُوٓاْ ءَامَنَّا بِرَبِّ هَٰرُونَ وَمُوسَىٰ
অতঃপর যাদুকরেরা সাজদায় লুটিয়ে পড়ল। তারা বললো: ‘আমরা হারূন ও মূসার রবের প্রতি ঈমান আনলাম।’(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৭১
قَالَ ءَامَنتُمۡ لَهُۥ قَبۡلَ أَنۡ ءَاذَنَ لَكُمۡۖ إِنَّهُۥ لَكَبِيرُكُمُ ٱلَّذِي عَلَّمَكُمُ ٱلسِّحۡرَۖ فَلَأُقَطِّعَنَّ أَيۡدِيَكُمۡ وَأَرۡجُلَكُم مِّنۡ خِلَٰفٖ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمۡ فِي جُذُوعِ ٱلنَّخۡلِ وَلَتَعۡلَمُنَّ أَيُّنَآ أَشَدُّ عَذَابٗا وَأَبۡقَىٰ
ফিরা‘ঊন (যাদুকরদেরকে) বললো: ‘আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয় সে-ই (মূসাই) তোমাদের প্রধান, যে তোমাদেরকে যাদু শিখিয়েছে। সুতরাং আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলবো এবং আমি তোমাদেরকে খেজুর গাছের কাণ্ডে (মৃত্যু পর্যন্ত) শূলবিদ্ধ করবোই। আর তোমরা অবশ্যই জানতে পারবে, আমাদের মধ্যে কার শাস্তি বেশি কঠোর এবং বেশি স্থায়ী (আমি, না কি মূসার রবের?!)।’
-
৭২
قَالُواْ لَن نُّؤۡثِرَكَ عَلَىٰ مَا جَآءَنَا مِنَ ٱلۡبَيِّنَٰتِ وَٱلَّذِي فَطَرَنَاۖ فَٱقۡضِ مَآ أَنتَ قَاضٍۖ إِنَّمَا تَقۡضِي هَٰذِهِ ٱلۡحَيَوٰةَ ٱلدُّنۡيَآ
যাদুকররা (ফিরা‘ঊনকে) বললো: ‘আমাদের নিকট যে সকল স্পষ্ট নিদর্শন এসেছে এবং যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তার ওপর আমরা তোমাকে কিছুতেই প্রাধান্য দিবো না। সুতরাং তুমি যা ফয়সালা করতে চাও, তাই করো। তুমি তো শুধু এ দুনিয়ার জীবনের ওপর কর্তৃত্ব করতে পার।’
-
৭৩
إِنَّآ ءَامَنَّا بِرَبِّنَا لِيَغۡفِرَ لَنَا خَطَٰيَٰنَا وَمَآ أَكۡرَهۡتَنَا عَلَيۡهِ مِنَ ٱلسِّحۡرِۗ وَٱللَّهُ خَيۡرٞ وَأَبۡقَىٰٓ
‘নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছি, যাতে তিনি আমাদের অপরাধসমূহ এবং যে যাদু তুমি আমাদেরকে করতে বাধ্য করেছো, তা ক্ষমা করে দেন। আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী।’(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৭৪
إِنَّهُۥ مَن يَأۡتِ رَبَّهُۥ مُجۡرِمٗا فَإِنَّ لَهُۥ جَهَنَّمَ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحۡيَىٰ
নিশ্চয়ই (কিয়ামতের দিবসে) যে তার রবের নিকট অপরাধী অবস্থায় আসবে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম। সেখানে সে মরবেও না, বাঁচবেও না।
-
৭৫
وَمَن يَأۡتِهِۦ مُؤۡمِنٗا قَدۡ عَمِلَ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فَأُوْلَٰٓئِكَ لَهُمُ ٱلدَّرَجَٰتُ ٱلۡعُلَىٰ
আর যারা তাঁর নিকট আসবে মু’মিন অবস্থায়, সৎকর্ম করে, তাদের জন্যই রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা।
-
৭৬
جَنَّٰتُ عَدۡنٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَاۚ وَذَٰلِكَ جَزَآءُ مَن تَزَكَّىٰ
(সে সুউচ্চ মর্যাদা হলো) চিরস্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে প্রবাহিত হবে নদী, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। আর এটা হলো সেসব লোকদের প্রতিদান যারা (কুফরী ও গুনাহ থেকে) পবিত্র রয়েছে।
-
৭৭
وَلَقَدۡ أَوۡحَيۡنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنۡ أَسۡرِ بِعِبَادِي فَٱضۡرِبۡ لَهُمۡ طَرِيقٗا فِي ٱلۡبَحۡرِ يَبَسٗا لَّا تَخَٰفُ دَرَكٗا وَلَا تَخۡشَىٰ
আর অবশ্যই আমি মূসার প্রতি ওহী করেছিলাম যে, ‘তুমি আমার বান্দাদের নিয়ে রাত্রিতে বের হয়ে যাও। তারপর (লাঠি দিয়ে আঘাত করে) তাদের জন্য সমুদ্রের মধ্যে একটি শুকনো পথ তৈরি করো। তুমি (পেছন থেকে) ধরা পড়ার ভয় করবে না এবং (সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার) আশঙ্কাও করবে না।
-
৭৮
فَأَتۡبَعَهُمۡ فِرۡعَوۡنُ بِجُنُودِهِۦ فَغَشِيَهُم مِّنَ ٱلۡيَمِّ مَا غَشِيَهُمۡ
তারপর ফিরা‘ঊন তার সেনাবাহিনীসহ তাদের পিছু নিলো। অতঃপর সমুদ্র তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করলো।
-
৭৯
وَأَضَلَّ فِرۡعَوۡنُ قَوۡمَهُۥ وَمَا هَدَىٰ
আর ফিরআউন (কুফরীকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে) তার জাতিকে পথভ্রষ্ট করল; তাদেরকে হিদায়াতের পথ দেখাল না।
-
৮০
يَٰبَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ قَدۡ أَنجَيۡنَٰكُم مِّنۡ عَدُوِّكُمۡ وَوَٰعَدۡنَٰكُمۡ جَانِبَ ٱلطُّورِ ٱلۡأَيۡمَنَ وَنَزَّلۡنَا عَلَيۡكُمُ ٱلۡمَنَّ وَٱلسَّلۡوَىٰ
হে বানূ ইসরাঈল! আমিই তোমাদেরকে তোমাদের শত্রুর হাত থেকে নাজাত দিয়েছি। আর তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলাম তূর পাহাড়ের ডান পাশের(১) এবং আমি তোমাদের জন্য অবতরণ করেছিলাম ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’।(২)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৮১
كُلُواْ مِن طَيِّبَٰتِ مَا رَزَقۡنَٰكُمۡ وَلَا تَطۡغَوۡاْ فِيهِ فَيَحِلَّ عَلَيۡكُمۡ غَضَبِيۖ وَمَن يَحۡلِلۡ عَلَيۡهِ غَضَبِي فَقَدۡ هَوَىٰ
আমি তোমাদেরকে যে রিযক দান করেছি, তা থেকে পবিত্র বস্তুসমূহ খাও এবং এতে সীমালঙ্ঘন করো না। করলে তোমাদের ওপর আমার গজব পতিত হবে। আর যার ওপর আমার গজব পতিত হয়, সে (দুনিয়া ও আখিরাতে) অবশ্যই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
-
৮২
وَإِنِّي لَغَفَّارٞ لِّمَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا ثُمَّ ٱهۡتَدَىٰ
আর অবশ্যই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল, যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তারপর সৎপথে অবিচল থাকে।
-
৮৩
۞ وَمَآ أَعۡجَلَكَ عَن قَوۡمِكَ يَٰمُوسَىٰ
হে মূসা! তোমার সম্প্রদায়কে পিছনে ফেলে তোমাকে তাড়াহুড়া করতে বাধ্য করল কিসে?
-
৮৪
قَالَ هُمۡ أُوْلَآءِ عَلَىٰٓ أَثَرِي وَعَجِلۡتُ إِلَيۡكَ رَبِّ لِتَرۡضَىٰ
মূসা বললো: ‘এই তো তারা আমার পিছনেই আছে। হে আমার রব! আমি তাড়াহুড়া করে আপনার নিকট এসেছি, যাতে আপনি আমার ওপর সন্তুষ্ট হন।’
-
৮৫
قَالَ فَإِنَّا قَدۡ فَتَنَّا قَوۡمَكَ مِنۢ بَعۡدِكَ وَأَضَلَّهُمُ ٱلسَّامِرِيُّ
আল্লাহ বললেন: ‘তোমার চলে আসার পর আমি তো তোমার সম্প্রদায়কে (গো-বাছুর পূজার) পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছি। আর সামেরী তাদেরকে (পূজার জন্য আহ্বান করে) পথভ্রষ্ট করেছে।’
-
৮৬
فَرَجَعَ مُوسَىٰٓ إِلَىٰ قَوۡمِهِۦ غَضۡبَٰنَ أَسِفٗاۚ قَالَ يَٰقَوۡمِ أَلَمۡ يَعِدۡكُمۡ رَبُّكُمۡ وَعۡدًا حَسَنًاۚ أَفَطَالَ عَلَيۡكُمُ ٱلۡعَهۡدُ أَمۡ أَرَدتُّمۡ أَن يَحِلَّ عَلَيۡكُمۡ غَضَبٞ مِّن رَّبِّكُمۡ فَأَخۡلَفۡتُم مَّوۡعِدِي
অতঃপর (তাদের গো-বাছুর পূজার কারণে) মূসা রাগান্বিত ও মর্মাহত হয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেলো। সে বললো: ‘হে আমার জাতি! তোমাদের রব কি তোমাদেরকে এক উত্তম প্রতিশ্রুতি দেননি?(১) তোমাদের কাছে কি সেই প্রতিশ্রুতির সময় দীর্ঘ হয়ে গেছে? নাকি তোমরা চেয়েছো যে, তোমাদের ওপর তোমাদের রবের গজব পতিত হোক? তাই তোমরা আমার সাথে (আনুগত্যের ওপর অটল থাকার) কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে?’
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৮৭
قَالُواْ مَآ أَخۡلَفۡنَا مَوۡعِدَكَ بِمَلۡكِنَا وَلَٰكِنَّا حُمِّلۡنَآ أَوۡزَارٗا مِّن زِينَةِ ٱلۡقَوۡمِ فَقَذَفۡنَٰهَا فَكَذَٰلِكَ أَلۡقَى ٱلسَّامِرِيُّ
তারা জবাবে বললো: ‘আমরা তো স্বেচ্ছায় আপনার সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করিনি; বরং জাতির অলংকারের বোঝা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। তাই আমরা তা আগুনে নিক্ষেপ করেছি, অনুরূপভাবে সামেরীও নিক্ষেপ করেছে।’(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৮৮
فَأَخۡرَجَ لَهُمۡ عِجۡلٗا جَسَدٗا لَّهُۥ خُوَارٞ فَقَالُواْ هَٰذَآ إِلَٰهُكُمۡ وَإِلَٰهُ مُوسَىٰ فَنَسِيَ
অতঃপর সামিরী তাদের জন্য একটি বাছুরের অবয়ব (রূহবিহীন দেহ) বের করে আনল, যার ছিল হাম্বা ধ্বনি। তখন তারা বলল, ‘এটাই তোমাদের উপাস্য এবং মূসারও উপাস্য; কিন্তু সে (মূসা) তা ভুলে গেছে।
-
৮৯
أَفَلَا يَرَوۡنَ أَلَّا يَرۡجِعُ إِلَيۡهِمۡ قَوۡلٗا وَلَا يَمۡلِكُ لَهُمۡ ضَرّٗا وَلَا نَفۡعٗا
তারা কি দেখে না যে, এটা (গো-বাছুরটি) তাদের কোনো কথার জবাব দিতে পারে না, আর তাদের কোনো ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতাও রাখে না?
-
৯০
وَلَقَدۡ قَالَ لَهُمۡ هَٰرُونُ مِن قَبۡلُ يَٰقَوۡمِ إِنَّمَا فُتِنتُم بِهِۦۖ وَإِنَّ رَبَّكُمُ ٱلرَّحۡمَٰنُ فَٱتَّبِعُونِي وَأَطِيعُوٓاْ أَمۡرِي
আর মূসা তাদের নিকট ফিরে আসার আগেই হারূন তাদেরকে বলেছিল: ‘হে আমার সম্প্রদায়! এটা দ্বারা তো কেবল তোমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে। আর তোমাদের রব তো পরম করুণাময়। তাই তোমরা আমার অনুসরণ করো এবং আমার আদেশ মেনে চল।’
-
৯১
قَالُواْ لَن نَّبۡرَحَ عَلَيۡهِ عَٰكِفِينَ حَتَّىٰ يَرۡجِعَ إِلَيۡنَا مُوسَىٰ
তারা বলল: ‘আমরা এর পূজা করেই যাবো; যতক্ষণ না মূসা আমাদের কাছে ফিরে আসে।’
-
৯২
قَالَ يَٰهَٰرُونُ مَا مَنَعَكَ إِذۡ رَأَيۡتَهُمۡ ضَلُّوٓاْ
তিনি (ফিরে এসে) বললেন, ‘হে হারূন! যখন তুমি দেখলে তারা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, তখন কী তোমাকে বাধা দিয়েছিল?'
-
৯৩
أَلَّا تَتَّبِعَنِۖ أَفَعَصَيۡتَ أَمۡرِي
যে তুমি (তাদেরকে ছেড়ে) আমার কাছে আসলে না?(১)তবে কি তুমি আমার আদেশ অমান্য করলে?
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৯৪
قَالَ يَبۡنَؤُمَّ لَا تَأۡخُذۡ بِلِحۡيَتِي وَلَا بِرَأۡسِيٓۖ إِنِّي خَشِيتُ أَن تَقُولَ فَرَّقۡتَ بَيۡنَ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ وَلَمۡ تَرۡقُبۡ قَوۡلِي
সে (হারূন) বললো: ‘হে আমার সহোদর! আমার দাড়িও ধরো না, মাথার চুলও ধরো না। আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে, তুমি বলবে, তুমি বানূ ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছো এবং আমার কথা রক্ষা করোনি।’(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৯৫
قَالَ فَمَا خَطۡبُكَ يَٰسَٰمِرِيُّ
তিনি (মূসা) বললেন, ‘হে সামিরী! তোমার ব্যাপার কী?
-
৯৬
قَالَ بَصُرۡتُ بِمَا لَمۡ يَبۡصُرُواْ بِهِۦ فَقَبَضۡتُ قَبۡضَةٗ مِّنۡ أَثَرِ ٱلرَّسُولِ فَنَبَذۡتُهَا وَكَذَٰلِكَ سَوَّلَتۡ لِي نَفۡسِي
সে (সামিরীকে ) বললো: ‘আমি এমন কিছু দেখেছি, যা ওরা দেখেনি। তারপর আমি দূতের (জিবরীলের)(১) পায়ের চিহ্ন থেকে এক মুষ্টি মাটি নিয়েছিলাম। অতঃপর তা (গলানো স্বর্ণের ওপর) নিক্ষেপ করেছিলাম। আর আমার মন আমার জন্য এরূপ করাটা শোভন করেছিল।’
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৯৭
قَالَ فَٱذۡهَبۡ فَإِنَّ لَكَ فِي ٱلۡحَيَوٰةِ أَن تَقُولَ لَا مِسَاسَۖ وَإِنَّ لَكَ مَوۡعِدٗا لَّن تُخۡلَفَهُۥۖ وَٱنظُرۡ إِلَىٰٓ إِلَٰهِكَ ٱلَّذِي ظَلۡتَ عَلَيۡهِ عَاكِفٗاۖ لَّنُحَرِّقَنَّهُۥ ثُمَّ لَنَنسِفَنَّهُۥ فِي ٱلۡيَمِّ نَسۡفًا
মূসা (সামিরীকে) বললো: ‘তুমি এখান থেকে চলে যাও। তোমার শাস্তি হলো, জীবদ্দশায় তুমি বলতে থাকবে, ‘আমাকে স্পর্শ করো না।’ আর তোমার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় (কিয়ামতের দিন) রইলো যার কখনো ব্যতিক্রম হবে না। আর তুমি তোমার (গো-বাছুর) ইলাহের প্রতি চেয়ে দেখো, যার পূজায় তুমি রত ছিলে, আমরা তা অবশ্যই জ্বালিয়ে দিবো। তারপর বিক্ষিপ্ত করে তা সাগরে নিক্ষেপ করবোই।’
-
৯৮
إِنَّمَآ إِلَٰهُكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِي لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَۚ وَسِعَ كُلَّ شَيۡءٍ عِلۡمٗا
নিশ্চয়ই তোমাদের ইলাহ একমাত্র আল্লাহ। তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) উপাস্য নেই। তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে।
-
৯৯
كَذَٰلِكَ نَقُصُّ عَلَيۡكَ مِنۡ أَنۢبَآءِ مَا قَدۡ سَبَقَۚ وَقَدۡ ءَاتَيۡنَٰكَ مِن لَّدُنَّا ذِكۡرٗا
(হে রাসূল! তোমার) পূর্বে যা ঘটে গেছে তার কিছু সংবাদ এভাবেই আমি তোমার কাছে বর্ণনা করি। আর আমি তোমাকে আমার পক্ষ থেকে যিকর (আল-কুরআন) দান করেছি।
-
১০০
مَّنۡ أَعۡرَضَ عَنۡهُ فَإِنَّهُۥ يَحۡمِلُ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وِزۡرًا
যে (তোমার ওপর নাযিলকৃত) আল-কুরআন থেকে বিমুখ হবে, অবশ্যই সে কিয়ামতের দিন পাপের বোঝা বহন করবে।
-
১০১
خَٰلِدِينَ فِيهِۖ وَسَآءَ لَهُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ حِمۡلٗا
সেখানে (শাস্তির মধ্যে) তারা স্থায়ী হবে এবং কিয়ামতের দিন এটা তাদের জন্য বোঝা হিসেবে কতোই না মন্দ হবে!
-
১০২
يَوۡمَ يُنفَخُ فِي ٱلصُّورِۚ وَنَحۡشُرُ ٱلۡمُجۡرِمِينَ يَوۡمَئِذٖ زُرۡقٗا
যেদিন শিংগায় ফুঁক দেওয়া হবে, আর সেদিন আমি অপরাধীদেরকে দৃষ্টিহীন (নীল চোখবিশিষ্ট) অবস্থায় সমবেত করব।
-
১০৩
يَتَخَٰفَتُونَ بَيۡنَهُمۡ إِن لَّبِثۡتُمۡ إِلَّا عَشۡرٗا
তারা নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে বলাবলি করবে, ‘তোমরা তো মাত্র দশদিন অবস্থান করেছিলে।
-
১০৪
نَّحۡنُ أَعۡلَمُ بِمَا يَقُولُونَ إِذۡ يَقُولُ أَمۡثَلُهُمۡ طَرِيقَةً إِن لَّبِثۡتُمۡ إِلَّا يَوۡمٗا
তারা যা বলবে, সে বিষয়ে আমিই সর্বাধিক অবগত। যখন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুবিবেচক ব্যক্তি বলবে, ‘তোমরা তো মাত্র একদিনই অবস্থান করেছিলে।
-
১০৫
وَيَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡجِبَالِ فَقُلۡ يَنسِفُهَا رَبِّي نَسۡفٗا
আর (হে রাসূল!) তারা তোমাকে (কিয়ামতের দিনের) পাহাড় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো: ‘আমার রব এগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে (সেগুলোকে ধূলিকণার ন্যায়) ছিটিয়ে দিবেন।‘
-
১০৬
فَيَذَرُهَا قَاعٗا صَفۡصَفٗا
তারপর তিনি জমিনকে উদ্ভিদশূন্য সমতল করে দিবেন।
-
১০৭
لَّا تَرَىٰ فِيهَا عِوَجٗا وَلَآ أَمۡتٗا
তাতে তুমি কোনো বক্রতা ও উঁচু-নিচু দেখবে না।
-
১০৮
يَوۡمَئِذٖ يَتَّبِعُونَ ٱلدَّاعِيَ لَا عِوَجَ لَهُۥۖ وَخَشَعَتِ ٱلۡأَصۡوَاتُ لِلرَّحۡمَٰنِ فَلَا تَسۡمَعُ إِلَّا هَمۡسٗا
সেদিন তারা সেই আহ্বানকারীর অনুসরণ করবে, যার আহ্বান থেকে কেউ বিচ্যুত হতে পারবে না। আর পরম করুণাময়ের সামনে সব আওয়াজ স্তিমিত (নত) হয়ে যাবে; তখন তুমি ফিসফিস শব্দ ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাবে না।
-
১০৯
يَوۡمَئِذٖ لَّا تَنفَعُ ٱلشَّفَٰعَةُ إِلَّا مَنۡ أَذِنَ لَهُ ٱلرَّحۡمَٰنُ وَرَضِيَ لَهُۥ قَوۡلٗا
সেদিন পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দিবেন এবং যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হবেন, তার সুপারিশ ছাড়া কারো সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না।
-
১১০
يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡ وَلَا يُحِيطُونَ بِهِۦ عِلۡمٗا
তিনি তাদের আগের ও পরের সবকিছুই জানেন; কিন্তু তারা জ্ঞানের দ্বারা তাঁকে আয়ত্ত করতে পারবে না।
-
১১১
۞ وَعَنَتِ ٱلۡوُجُوهُ لِلۡحَيِّ ٱلۡقَيُّومِۖ وَقَدۡ خَابَ مَنۡ حَمَلَ ظُلۡمٗا
আর চিরঞ্জীব, চিরপ্রতিষ্ঠিত সত্তার সামনে সকলেই অবনত হবে। আর সে অবশ্যই ব্যর্থ হবে, যে যুলমের (পাপের) বোঝা করবে।
-
১১২
وَمَن يَعۡمَلۡ مِنَ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَهُوَ مُؤۡمِنٞ فَلَا يَخَافُ ظُلۡمٗا وَلَا هَضۡمٗا
এবং যে মু’মিন অবস্থায় ভালো কাজ করবে, তার কোনো অবিচারের বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না।
-
১১৩
وَكَذَٰلِكَ أَنزَلۡنَٰهُ قُرۡءَانًا عَرَبِيّٗا وَصَرَّفۡنَا فِيهِ مِنَ ٱلۡوَعِيدِ لَعَلَّهُمۡ يَتَّقُونَ أَوۡ يُحۡدِثُ لَهُمۡ ذِكۡرٗا
এভাবেই আমি এটিকে আরবি কুরআন হিসেবে নাযিল করেছি এবং এতে বিভিন্নভাবে শাস্তির সতর্কবাণী বর্ণনা করেছি, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে অথবা এই কুরআন তাদের অন্তরে উপদেশ গ্রহণের চেতনা জাগিয়ে তোলে।
-
১১৪
فَتَعَٰلَى ٱللَّهُ ٱلۡمَلِكُ ٱلۡحَقُّۗ وَلَا تَعۡجَلۡ بِٱلۡقُرۡءَانِ مِن قَبۡلِ أَن يُقۡضَىٰٓ إِلَيۡكَ وَحۡيُهُۥۖ وَقُل رَّبِّ زِدۡنِي عِلۡمٗا
অতএব মহান ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন আল্লাহ, তিনি সত্যিকার মালিক। আর (হে নবী!) তোমার প্রতি ওহী সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কুরআন (পাঠে) তাড়াহুড়া করো না। আর বলো, ‘হে আমার রব! আমাকে ইলম বৃদ্ধি করে দিন।’
-
১১৫
وَلَقَدۡ عَهِدۡنَآ إِلَىٰٓ ءَادَمَ مِن قَبۡلُ فَنَسِيَ وَلَمۡ نَجِدۡ لَهُۥ عَزۡمٗا
আর নিশ্চয়ই আমি এর আগে আদমকে (একটি নির্দিষ্ট গাছের ফল না খাওয়ার) নির্দেশ দিয়েছিলাম; তারপর সে তা ভুলে গিয়েছিল, আর আমি তার মধ্যে দৃঢ় সংকল্প পাইনি।
-
১১৬
وَإِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلَٰٓئِكَةِ ٱسۡجُدُواْ لِأٓدَمَ فَسَجَدُوٓاْ إِلَّآ إِبۡلِيسَ أَبَىٰ
আর (হে রাসূল! স্মরণ করো:) যখন আমি ফিরিশতাদের বললাম, ‘তোমরা আদমকে সাজদা করো’, তখন তারা সবাই সাজদা করল; কিন্তু ইবলীস অস্বীকার করল।
-
১১৭
فَقُلۡنَا يَٰٓـَٔادَمُ إِنَّ هَٰذَا عَدُوّٞ لَّكَ وَلِزَوۡجِكَ فَلَا يُخۡرِجَنَّكُمَا مِنَ ٱلۡجَنَّةِ فَتَشۡقَىٰٓ
অতঃপর আমি (আদমকে ডেকে) বললাম: ‘হে আদম, নিশ্চয় এ ইবলীস তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু। সুতরাং সে যেন (কুমন্ত্রণা দিয়ে) তোমাদের উভয়কে জান্নাত থেকে কিছুতেই বের করে না দেয়, তাহলে তোমরা দুর্ভোগ পোহাবে।’
-
১১৮
إِنَّ لَكَ أَلَّا تَجُوعَ فِيهَا وَلَا تَعۡرَىٰ
‘নিশ্চয় তোমার জন্য (জান্নাতে) এ ব্যবস্থা রয়েছে যে, ‘তুমি সেখানে ক্ষুধার্তও হবে না এবং নগ্নও হবে না।’
-
১১৯
وَأَنَّكَ لَا تَظۡمَؤُاْ فِيهَا وَلَا تَضۡحَىٰ
এবং সেখানে তুমি তৃষ্ণার্ত হবে না এবং রৌদ্রের তাপে কষ্টও পাবে না।
-
১২০
فَوَسۡوَسَ إِلَيۡهِ ٱلشَّيۡطَٰنُ قَالَ يَٰٓـَٔادَمُ هَلۡ أَدُلُّكَ عَلَىٰ شَجَرَةِ ٱلۡخُلۡدِ وَمُلۡكٖ لَّا يَبۡلَىٰ
অতঃপর শয়তান তাকে (আদমকে) কুমন্ত্রণা দিল এবং তাকে বললো: ‘হে আদম, আমি কি তোমাকে বলে দিব, অমর গাছ(১) এবং অক্ষয় রাজত্ব সম্পর্কে?’
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
১২১
فَأَكَلَا مِنۡهَا فَبَدَتۡ لَهُمَا سَوۡءَٰتُهُمَا وَطَفِقَا يَخۡصِفَانِ عَلَيۡهِمَا مِن وَرَقِ ٱلۡجَنَّةِۚ وَعَصَىٰٓ ءَادَمُ رَبَّهُۥ فَغَوَىٰ
অতঃপর তারা উভয়েই (আদম ও হাওয়া) সে গাছ থেকে ফল খেলো। ফলে তাদের উভয়ের লজ্জাস্থান তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়লো এবং তারা জান্নাতের গাছের পাতা ছিঁড়ে তা দিয়ে নিজেদেরকে আবৃত করতে লাগলো। এভাবে আদম তার রবের হুকুম অমান্য করলো; ফলে সে বিভ্রান্ত হলো।
-
১২২
ثُمَّ ٱجۡتَبَٰهُ رَبُّهُۥ فَتَابَ عَلَيۡهِ وَهَدَىٰ
এরপর তার রব তাকে (ক্ষমা ও অনুগ্রহ দানের জন্য অথবা নবী হিসেবে) মনোনীত করলেন। তিনি তার তাওবা কবুল করলেন এবং তাকে পথনির্দেশ করলেন।
-
১২৩
قَالَ ٱهۡبِطَا مِنۡهَا جَمِيعَۢاۖ بَعۡضُكُمۡ لِبَعۡضٍ عَدُوّٞۖ فَإِمَّا يَأۡتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدٗى فَمَنِ ٱتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشۡقَىٰ
আল্লাহ (আদম ও হাওয়াকে) বললেন: ‘তোমরা উভয়েই জান্নাত হতে এক সাথে (জমিনে) নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। অতঃপর যখন তোমাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে হিদায়াত আসবে, তখন যে আমার হিদায়াতের অনুসরণ করবে সে বিপথগামী হবে না এবং (আখিরাতে শাস্তির সম্মুখীন হয়ে) দুর্ভাগাও হবে না।
-
১২৪
وَمَنۡ أَعۡرَضَ عَن ذِكۡرِي فَإِنَّ لَهُۥ مَعِيشَةٗ ضَنكٗا وَنَحۡشُرُهُۥ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ أَعۡمَىٰ
আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, নিশ্চয় তার জন্য (দুনিয়া ও বরযখে) হবে এক সংকুচিত জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামত দিবসে উঠাবো অন্ধ অবস্থায়।’
-
১২৫
قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرۡتَنِيٓ أَعۡمَىٰ وَقَدۡ كُنتُ بَصِيرٗا
সে বলবে: ‘হে আমার রব, কেন আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালেন? অথচ আমি তো (দুনিয়াতে) দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন ছিলাম?’
-
১২৬
قَالَ كَذَٰلِكَ أَتَتۡكَ ءَايَٰتُنَا فَنَسِيتَهَاۖ وَكَذَٰلِكَ ٱلۡيَوۡمَ تُنسَىٰ
প্রত্যুত্তরে আল্লাহ বলবেন: ‘এমনিভাবেই (দুনিয়াতে) তোমার নিকট আমার নিদর্শনাবলি এসেছিল; কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে এবং সেভাবে আজ তোমাকেও (জাহান্নামে) বিস্মৃত করে রাখা হবে।’
-
১২৭
وَكَذَٰلِكَ نَجۡزِي مَنۡ أَسۡرَفَ وَلَمۡ يُؤۡمِنۢ بِـَٔايَٰتِ رَبِّهِۦۚ وَلَعَذَابُ ٱلۡأٓخِرَةِ أَشَدُّ وَأَبۡقَىٰٓ
আর এভাবেই আমি (দুনিয়াতেই ) প্রতিফল দান করি তাকে, যে বাড়াবাড়ি করে এবং তার রবের নিদর্শনাবলিতে ঈমান আনে না। আর আখিরাতের শাস্তি তো অবশ্যই কঠোরতর ও অধিকতর স্থায়ী।
-
১২৮
أَفَلَمۡ يَهۡدِ لَهُمۡ كَمۡ أَهۡلَكۡنَا قَبۡلَهُم مِّنَ ٱلۡقُرُونِ يَمۡشُونَ فِي مَسَٰكِنِهِمۡۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّأُوْلِي ٱلنُّهَىٰ
আচ্ছ, এটি কি তাদেরকে সৎপথ দেখালো না যে, আমি তাদের পূর্বে কতো মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদের বাসভূমিতে তারা বিচরণ করে থাকে? নিশ্চয় এর মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য নিদর্শন।
-
১২৯
وَلَوۡلَا كَلِمَةٞ سَبَقَتۡ مِن رَّبِّكَ لَكَانَ لِزَامٗا وَأَجَلٞ مُّسَمّٗى
আর যদি তোমার রবের পক্ষ থেকে (প্রমাণ দাঁড় করানো ছাড়া কাউকে শাস্তি না দেওয়ার) পূর্ব সিদ্ধান্ত ও একটি কাল নির্ধারিত হয়ে না থাকতো, তবে আশু শাস্তি অবশ্যম্ভাবী হতো।
-
১৩০
فَٱصۡبِرۡ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّكَ قَبۡلَ طُلُوعِ ٱلشَّمۡسِ وَقَبۡلَ غُرُوبِهَاۖ وَمِنۡ ءَانَآيِٕ ٱلَّيۡلِ فَسَبِّحۡ وَأَطۡرَافَ ٱلنَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرۡضَىٰ
সুতরাং (হে রাসূল!) এরা যা বলে তার ওপর ধৈর্য ধর এবং তাসবীহ পাঠ কর তোমার রবের প্রশংসা জানিয়ে, সূর্যোদয়ের পূর্বে (ফজরের সালাতে), সূর্যাস্তের পূর্বে (আসরের সালাতে), রাতের কিছু অংশে (‘ইশার সালাতে) এবং দিনের প্রান্তসমূহে (যোহর ও মাগরিবের সালাতে), যাতে তুমি সন্তুষ্ট হতে পারো।
-
১৩১
وَلَا تَمُدَّنَّ عَيۡنَيۡكَ إِلَىٰ مَا مَتَّعۡنَا بِهِۦٓ أَزۡوَٰجٗا مِّنۡهُمۡ زَهۡرَةَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا لِنَفۡتِنَهُمۡ فِيهِۚ وَرِزۡقُ رَبِّكَ خَيۡرٞ وَأَبۡقَىٰ
আর (হে রাসূল!) তুমি কখনো প্রসারিত করো না তোমার দু’চোখ সে সবের প্রতি, যা আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণিকে দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য উপভোগের উপকরণ হিসেবে দিয়েছি। যাতে আমি সে বিষয়ে তাদেরকে পরীক্ষা করে নিতে পারি। আর তোমার রবের প্রদত্ত রিযক সর্বোৎকৃষ্ট ও অধিকতর স্থায়ী।
-
১৩২
وَأۡمُرۡ أَهۡلَكَ بِٱلصَّلَوٰةِ وَٱصۡطَبِرۡ عَلَيۡهَاۖ لَا نَسۡـَٔلُكَ رِزۡقٗاۖ نَّحۡنُ نَرۡزُقُكَۗ وَٱلۡعَٰقِبَةُ لِلتَّقۡوَىٰ
আর (হে রাসূল! তুমি) তোমার পরিবার-পরিজনকে সালাত আদায়ের আদেশ দাও এবং নিজেও তার ওপর অবিচল থাক। আমি তোমার কাছে (তোমার নিজের জন্য অথবা অন্য কারো জন্য) কোনো রিযক চাই না। আমিই তোমাকে রিযক দেই। আর (দুনিয়া ও আখিরাতের) উত্তম পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য।
-
১৩৩
وَقَالُواْ لَوۡلَا يَأۡتِينَا بِـَٔايَةٖ مِّن رَّبِّهِۦٓۚ أَوَلَمۡ تَأۡتِهِم بَيِّنَةُ مَا فِي ٱلصُّحُفِ ٱلۡأُولَىٰ
আর তারা বলে: ‘সে (মুহাম্মাদ) তার রবের কাছ থেকে আমাদের নিকট (তাঁর সত্যতা ও রাসূল হওয়া প্রমাণস্বরূপ) কোনো নিদর্শন নিয়ে আসে না কেনো?’ পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে যে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, তা কি তাদের কাছে আসেনি?
-
১৩৪
وَلَوۡ أَنَّآ أَهۡلَكۡنَٰهُم بِعَذَابٖ مِّن قَبۡلِهِۦ لَقَالُواْ رَبَّنَا لَوۡلَآ أَرۡسَلۡتَ إِلَيۡنَا رَسُولٗا فَنَتَّبِعَ ءَايَٰتِكَ مِن قَبۡلِ أَن نَّذِلَّ وَنَخۡزَىٰ
আর যদি আমি তাদেরকে ইতঃপূর্বে (রাসূল ও কিতাব পাঠানোর আগেই) কোনো শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করতাম, তবে অবশ্যই তারা বলতো: ‘হে আমাদের রব! আপনি আমাদের কাছে কোনো রাসূল পাঠালেন না কেনো? তাহলে তো আমরা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হওয়ার পূর্বে, আপনার নিদর্শনাবলি অনুসরণ করতাম।’
-
১৩৫
قُلۡ كُلّٞ مُّتَرَبِّصٞ فَتَرَبَّصُواْۖ فَسَتَعۡلَمُونَ مَنۡ أَصۡحَٰبُ ٱلصِّرَٰطِ ٱلسَّوِيِّ وَمَنِ ٱهۡتَدَىٰ
(হে রাসূল! তুমি এ মিথ্যারোপকারীদেরকে) বলো: ‘প্রত্যেকেই (আল্লাহর ফায়সালার জন্য) প্রতীক্ষা করছে। অতএব তোমরাও প্রতীক্ষায় থাকো। শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে কারা সঠিক পথের ওপর রয়েছে এবং কারা হিদায়াতপ্রাপ্ত।’
অনুবাদ: রাওয়াদ ট্রান্সলেশন সেন্টার. উৎস: QuranEnc.com, সর্বশেষ মিলিয়ে দেখা: ২৬ অক্টোবর ২০২৬.
আরবি পাঠ: বাদশাহ ফাহাদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স. সূরার তথ্য: Tanzil.net (CC BY 3.0).
এটি কুরআনের অর্থের অনুবাদ। মানুষের যেকোনো কাজের মতো এতে ভুল থাকতে পারে।