আল-ফুরকান
الفرقان
بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
-
১
تَبَارَكَ ٱلَّذِي نَزَّلَ ٱلۡفُرۡقَانَ عَلَىٰ عَبۡدِهِۦ لِيَكُونَ لِلۡعَٰلَمِينَ نَذِيرًا
বরকতময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ‘ফুরকান (আল-কুরআন)’ নাযিল করেছেন, যাতে তিনি সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন।
-
২
ٱلَّذِي لَهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَلَمۡ يَتَّخِذۡ وَلَدٗا وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ شَرِيكٞ فِي ٱلۡمُلۡكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَيۡءٖ فَقَدَّرَهُۥ تَقۡدِيرٗا
তিনি ঐ সত্ত্বা যার অধিকারে রয়েছে আসমানসমূহ ও জমিনের মালিকানা। আর তিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং সার্বভৌমত্বে তাঁর কোনো শরীক নেই। তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তা যথাযোগ্য অনুপাতে নির্ধারণ করেছেন।
-
৩
وَٱتَّخَذُواْ مِن دُونِهِۦٓ ءَالِهَةٗ لَّا يَخۡلُقُونَ شَيۡـٔٗا وَهُمۡ يُخۡلَقُونَ وَلَا يَمۡلِكُونَ لِأَنفُسِهِمۡ ضَرّٗا وَلَا نَفۡعٗا وَلَا يَمۡلِكُونَ مَوۡتٗا وَلَا حَيَوٰةٗ وَلَا نُشُورٗا
আর তারা (অবিশ্বাসীরা) আল্লাহ ছাড়া অনেক ইলাহ গ্রহণ করেছে, যারা কোনো কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না; বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট। তারা নিজেদের কোন অকল্যাণ ও কল্যাণ করার ক্ষমতা রাখে না এবং তারা মৃত্যু, জীবন ও পুনরুত্থান করতেও সক্ষম হয় না।
-
৪
وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ إِنۡ هَٰذَآ إِلَّآ إِفۡكٌ ٱفۡتَرَىٰهُ وَأَعَانَهُۥ عَلَيۡهِ قَوۡمٌ ءَاخَرُونَۖ فَقَدۡ جَآءُو ظُلۡمٗا وَزُورٗا
আর কাফিররা বলে, এটা তো মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়, যা সে নিজে রচনা করেছে এবং এতে তাকে অন্য কিছু লোক সাহায্য করেছে। সুতরাং তারা তো জুলুম ও মিথ্যা অপবাদ নিয়ে এসেছে।
-
৫
وَقَالُوٓاْ أَسَٰطِيرُ ٱلۡأَوَّلِينَ ٱكۡتَتَبَهَا فَهِيَ تُمۡلَىٰ عَلَيۡهِ بُكۡرَةٗ وَأَصِيلٗا
তারা আরও বলে: ‘এটি প্রাচীনকালের উপকথা, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; তারপর এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় তার কাছে পাঠ করা হয়।’
-
৬
قُلۡ أَنزَلَهُ ٱلَّذِي يَعۡلَمُ ٱلسِّرَّ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ إِنَّهُۥ كَانَ غَفُورٗا رَّحِيمٗا
(হে রাসূল! তুমি এ অস্বীকারকারীদেরকে) বলো: ‘যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের রহস্য জানেন, তিনিই এটি নাযিল করেছেন। নিশ্চয় তিনি (তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি) অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
-
৭
وَقَالُواْ مَالِ هَٰذَا ٱلرَّسُولِ يَأۡكُلُ ٱلطَّعَامَ وَيَمۡشِي فِي ٱلۡأَسۡوَاقِ لَوۡلَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مَلَكٞ فَيَكُونَ مَعَهُۥ نَذِيرًا
আর তারা বলে: ‘এ রাসূলের কী হলো, সে (অন্য মানুষের মতো) আহার করে এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করে। তার কাছে একজন ফিরিশতা পাঠানো হল না কেনো, যে তাঁর সাথে সতর্ককারী হতো?’
-
৮
أَوۡ يُلۡقَىٰٓ إِلَيۡهِ كَنزٌ أَوۡ تَكُونُ لَهُۥ جَنَّةٞ يَأۡكُلُ مِنۡهَاۚ وَقَالَ ٱلظَّٰلِمُونَ إِن تَتَّبِعُونَ إِلَّا رَجُلٗا مَّسۡحُورًا
অথবা তাকে (আকাশ থেকে) ধনভাণ্ডার ঢেলে দেয়া হয় না কেনো অথবা তার জন্য একটি বাগান হয় না কেনো, যা থেকে সে খেতে পারে?’ যালিমরা বলে, ‘তোমরা শুধু এক যাদুগ্রস্ত লোকের অনুসরণ করছো।’
-
৯
ٱنظُرۡ كَيۡفَ ضَرَبُواْ لَكَ ٱلۡأَمۡثَٰلَ فَضَلُّواْ فَلَا يَسۡتَطِيعُونَ سَبِيلٗا
(হে রাসূল!) দেখ, তারা তোমার জন্য কীভাবে নানা উপমা পেশ করে! ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে; তাই তারা কোনো পথ খুঁজে পায় না।
-
১০
تَبَارَكَ ٱلَّذِيٓ إِن شَآءَ جَعَلَ لَكَ خَيۡرٗا مِّن ذَٰلِكَ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ وَيَجۡعَل لَّكَ قُصُورَۢا
তিনি বরকতময় আল্লাহ, যিনি ইচ্ছা করলে (দুনিয়াতেই) তোমার জন্য করে দিতে পারেন তার (তাদের প্রস্তাবিত বস্তুসমূহের) চেয়েও উত্তম বস্তু, উদ্যানসমূহ, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়। আর (শুধু তাই-ই নয়), তিনি তোমাকে প্রাসাদসমূহও দিতে পারেন।
-
১১
بَلۡ كَذَّبُواْ بِٱلسَّاعَةِۖ وَأَعۡتَدۡنَا لِمَن كَذَّبَ بِٱلسَّاعَةِ سَعِيرًا
বরং তারা কিয়ামতকে অস্বীকার করেছে। আর কিয়ামতকে যে অস্বীকার করে তার জন্য আমি প্রস্তুত রেখেছি জ্বলন্ত আগুন।
-
১২
إِذَا رَأَتۡهُم مِّن مَّكَانِۭ بَعِيدٖ سَمِعُواْ لَهَا تَغَيُّظٗا وَزَفِيرٗا
দূর হতে আগুন যখন তাদেরকে দেখবে তখন তারা তার ক্রদ্ধ গর্জন ও প্রচণ্ড চিৎকার শুনতে পাবে।
-
১৩
وَإِذَآ أُلۡقُواْ مِنۡهَا مَكَانٗا ضَيِّقٗا مُّقَرَّنِينَ دَعَوۡاْ هُنَالِكَ ثُبُورٗا
আর যখন হাতগুলো তাদের ঘাড়ের সাথে শিকল দিয়ে বেঁধে তাদেরকে জাহান্নামের সংকীর্ণ জায়গায় নিক্ষেপ করা হবে, সেখানে তারা (আক্ষেপে ও আতঙ্কে) নিজেদের ধ্বংস কামনা করবে।
-
১৪
لَّا تَدۡعُواْ ٱلۡيَوۡمَ ثُبُورٗا وَٰحِدٗا وَٱدۡعُواْ ثُبُورٗا كَثِيرٗا
(কাফিরদেরকে বলা হবে), আজ তোমরা একবার ধ্বংসকে ডেকো না; বরং বহুবার ধ্বংসকে ডাকো।’(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
১৫
قُلۡ أَذَٰلِكَ خَيۡرٌ أَمۡ جَنَّةُ ٱلۡخُلۡدِ ٱلَّتِي وُعِدَ ٱلۡمُتَّقُونَۚ كَانَتۡ لَهُمۡ جَزَآءٗ وَمَصِيرٗا
(হে রাসূল! তুমি তাদেরকে) বলো: ‘এটা (উল্লিখিত শাস্তি) কি উত্তম, না চিরস্থায়ী জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি মুত্তাকীদের দেওয়া হয়েছে? সেটাই তাদের জন্য প্রতিদান এবং চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তনস্থল।’
-
১৬
لَّهُمۡ فِيهَا مَا يَشَآءُونَ خَٰلِدِينَۚ كَانَ عَلَىٰ رَبِّكَ وَعۡدٗا مَّسۡـُٔولٗا
তাদের জন্য সেখানে যা ইচ্ছা, তাই থাকবে, চিরস্থায়ীভাবে; এটি তোমার রবের কাছে নিশ্চিত প্রতিশ্রুত এবং আল্লাহর কাছে চাওয়া।
-
১৭
وَيَوۡمَ يَحۡشُرُهُمۡ وَمَا يَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ فَيَقُولُ ءَأَنتُمۡ أَضۡلَلۡتُمۡ عِبَادِي هَٰٓؤُلَآءِ أَمۡ هُمۡ ضَلُّواْ ٱلسَّبِيلَ
আর সেদিন তিনি তাদেরকে এবং আল্লাহ ছাড়া তাদের অন্যান্য মা’বূদদেরকে একত্র করবেন, তারপর বলবেন: ‘তোমরা কি আমার এই বান্দাদেরকে (নিজেদের ইবাদাতের আদেশ করে) পথভ্রষ্ট করেছো, নাকি তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছে?’
-
১৮
قَالُواْ سُبۡحَٰنَكَ مَا كَانَ يَنۢبَغِي لَنَآ أَن نَّتَّخِذَ مِن دُونِكَ مِنۡ أَوۡلِيَآءَ وَلَٰكِن مَّتَّعۡتَهُمۡ وَءَابَآءَهُمۡ حَتَّىٰ نَسُواْ ٱلذِّكۡرَ وَكَانُواْ قَوۡمَۢا بُورٗا
তারা (মা’বূদরা) বলবে: ‘আপনি পবিত্র মহান! আপনি ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করা আমাদের উচিত নয়; বরং আপনি তাদেরকে ও তাদের পিতৃপুরুষদেরকে (দুনিয়ার) ভোগ-বিলাসের সুযোগ দিয়েছেন। অবশেষে তারা আপনার স্মরণকে ভুলে গিয়েছিলো এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত সম্প্রদায়ে পরিণত হয়েছিলো।
-
১৯
فَقَدۡ كَذَّبُوكُم بِمَا تَقُولُونَ فَمَا تَسۡتَطِيعُونَ صَرۡفٗا وَلَا نَصۡرٗاۚ وَمَن يَظۡلِم مِّنكُمۡ نُذِقۡهُ عَذَابٗا كَبِيرٗا
অতঃপর (আল্লাহ বলবেন: হে মুশরিকরা!) তোমরা যা দাবি করো, তারা তা অস্বীকার করেছে।(১) অতএব তোমরা শাস্তি ফেরাতে পারবে না এবং নিজেদের কোনো সাহায্যও করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে যে যুলম (শিরক) করবে তাকে আমি মহা শাস্তি আস্বাদন করাবো।’
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
২০
وَمَآ أَرۡسَلۡنَا قَبۡلَكَ مِنَ ٱلۡمُرۡسَلِينَ إِلَّآ إِنَّهُمۡ لَيَأۡكُلُونَ ٱلطَّعَامَ وَيَمۡشُونَ فِي ٱلۡأَسۡوَاقِۗ وَجَعَلۡنَا بَعۡضَكُمۡ لِبَعۡضٖ فِتۡنَةً أَتَصۡبِرُونَۗ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيرٗا
আর (হে রাসূল!) তোমার পূর্বে যত নবী-রাসূলই আমি পাঠিয়েছি, তারা (অন্যান্য মানুষের মতোই) সবাই আহার করত এবং হাট-বাজারে চলাফেরা করত। আর (হে মানুষ!) আমি তোমাদের একজনকে অপরজনের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ বানিয়েছি। তোমরা কি (পরীক্ষিত বিষয়ে) ধৈর্যধারণ করবে না? আর তোমার রব সর্বদ্রষ্টা।
-
২১
۞ وَقَالَ ٱلَّذِينَ لَا يَرۡجُونَ لِقَآءَنَا لَوۡلَآ أُنزِلَ عَلَيۡنَا ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ أَوۡ نَرَىٰ رَبَّنَاۗ لَقَدِ ٱسۡتَكۡبَرُواْ فِيٓ أَنفُسِهِمۡ وَعَتَوۡ عُتُوّٗا كَبِيرٗا
যারা আমার সাক্ষাৎ প্রত্যাশা করে না, তারা বলে: ‘আমাদের নিকট ফিরিশতা নাযিল হয় না কেন? অথবা আমরা আমাদের রবকে দেখতে পাই না কেন’? অবশ্যই তারা তো তাদের অন্তরে অহংকার পোষণ করেছে এবং তারা গুরুতর সীমালঙ্ঘন করেছে।
-
২২
يَوۡمَ يَرَوۡنَ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةَ لَا بُشۡرَىٰ يَوۡمَئِذٖ لِّلۡمُجۡرِمِينَ وَيَقُولُونَ حِجۡرٗا مَّحۡجُورٗا
যেদিন(১) তারা (সত্যি সত্যি) ফিরিশতাদেরকে দেখতে পাবে, সেদিন অপরাধীদের জন্য (তাঁদের নিকট) কোনো সুসংবাদ থাকবে না। আর তারা (ফিরিশতারা কাফিরদেরকে) বলবে: ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে যে কোন সুসংবাদ আজ তোমাদের জন্য একেবারেই নিষিদ্ধ।’(২)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
২৩
وَقَدِمۡنَآ إِلَىٰ مَا عَمِلُواْ مِنۡ عَمَلٖ فَجَعَلۡنَٰهُ هَبَآءٗ مَّنثُورًا
আর তারা যে কাজই করেছে, আমি সেদিকে অগ্রসর হয়ে সেগুলোকে (ইচ্ছা করেই) বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দিবো।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
২৪
أَصۡحَٰبُ ٱلۡجَنَّةِ يَوۡمَئِذٍ خَيۡرٞ مُّسۡتَقَرّٗا وَأَحۡسَنُ مَقِيلٗا
সেদিন জান্নাতবাসীদের বাসস্থান হবে উত্তম এবং বিশ্রামস্থল হবে উৎকৃষ্ট।
-
২৫
وَيَوۡمَ تَشَقَّقُ ٱلسَّمَآءُ بِٱلۡغَمَٰمِ وَنُزِّلَ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ تَنزِيلًا
আর (সেদিনের কথা স্মরণ করো) যে দিন মেঘমালাসহ আকাশ ভেঙ্গে পড়বে এবং ফিরিশতাদেরকে (হাশরের ময়দানে) দলে দলে নাযিল করা হবে।
-
২৬
ٱلۡمُلۡكُ يَوۡمَئِذٍ ٱلۡحَقُّ لِلرَّحۡمَٰنِۚ وَكَانَ يَوۡمًا عَلَى ٱلۡكَٰفِرِينَ عَسِيرٗا
সেদিন চূড়ান্ত সার্বভৌমত্ব হবে পরম করুণাময়ের (আল্লাহর)। আর সেদিনটি কাফিরদের জন্য বড়ই কঠিন হবে।
-
২৭
وَيَوۡمَ يَعَضُّ ٱلظَّالِمُ عَلَىٰ يَدَيۡهِ يَقُولُ يَٰلَيۡتَنِي ٱتَّخَذۡتُ مَعَ ٱلرَّسُولِ سَبِيلٗا
আর সেদিন যালিম নিজের হাত দু’টো কামড়াতে কামড়াতে বলবে: ‘হায়, আমি যদি রাসূলের সাথে কোনো পথ অবলম্বন করতাম!’(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
২৮
يَٰوَيۡلَتَىٰ لَيۡتَنِي لَمۡ أَتَّخِذۡ فُلَانًا خَلِيلٗا
‘হায় আমার দুর্ভোগ! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম।’
-
২৯
لَّقَدۡ أَضَلَّنِي عَنِ ٱلذِّكۡرِ بَعۡدَ إِذۡ جَآءَنِيۗ وَكَانَ ٱلشَّيۡطَٰنُ لِلۡإِنسَٰنِ خَذُولٗا
‘অবশ্যই সে তো আমাকে উপদেশবাণী (আল-কুরআন) থেকে পথভ্রষ্ট করেছে, তা আমার কাছে আসার পর। আর শয়তান তো মানুষের জন্য চরম প্রতারক।’
-
৩০
وَقَالَ ٱلرَّسُولُ يَٰرَبِّ إِنَّ قَوۡمِي ٱتَّخَذُواْ هَٰذَا ٱلۡقُرۡءَانَ مَهۡجُورٗا
আর রাসূল (তার জাতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে) বলবে: ‘হে আমার রব! নিশ্চয় আমার জাতি এই আল কুরআনকে পরিত্যাগ করেছে।’
-
৩১
وَكَذَٰلِكَ جَعَلۡنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوّٗا مِّنَ ٱلۡمُجۡرِمِينَۗ وَكَفَىٰ بِرَبِّكَ هَادِيٗا وَنَصِيرٗا
আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য (তার সম্প্রদায়ের) অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু বানিয়েছি। আর পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে তোমার রবই যথেষ্ট।
-
৩২
وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ لَوۡلَا نُزِّلَ عَلَيۡهِ ٱلۡقُرۡءَانُ جُمۡلَةٗ وَٰحِدَةٗۚ كَذَٰلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِۦ فُؤَادَكَۖ وَرَتَّلۡنَٰهُ تَرۡتِيلٗا
আর কাফিররা বলে: ‘(আচ্ছা) তাঁর (রাসূলের) ওপর পুরো আল কুরআন একসাথে কেনো নাযিল করা হলো না?’ (হে রাসূল! আমি আল কুরআনকে একের পর এক বিক্ষিপ্তভাবে নাযিল করেছি) এটা এজন্য যে, আমি এর মাধ্যমে যেন তোমার হৃদয়কে সুদৃঢ় করতে পারি। আর (সহজভাবে বুঝা ও মুখস্থ করার সুবিধার্থে) আমি তা ধীরে ধীরে তিলাওয়াতের মাধ্যমে নাযিল করেছি ।
-
৩৩
وَلَا يَأۡتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئۡنَٰكَ بِٱلۡحَقِّ وَأَحۡسَنَ تَفۡسِيرًا
আর তারা (মুশরিকরা) তোমার কাছে (যেকোনো সময়ে) যেকোনো বিষয় নিয়েই আসুক না কেন, আমি এর সঠিক সমাধান ও (তার চেয়ে) সুন্দর ব্যাখ্যা তোমার কাছে নিয়ে এসেছি।
-
৩৪
ٱلَّذِينَ يُحۡشَرُونَ عَلَىٰ وُجُوهِهِمۡ إِلَىٰ جَهَنَّمَ أُوْلَٰٓئِكَ شَرّٞ مَّكَانٗا وَأَضَلُّ سَبِيلٗا
যাদেরকে মুখের ওপর ভর দেয়া অবস্থায় জাহান্নামের দিকে একত্র করা হবে, এরা মর্যাদায় অধিক নিকৃষ্ট এবং সত্য পথের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি পথভ্রষ্ট।
-
৩৫
وَلَقَدۡ ءَاتَيۡنَا مُوسَى ٱلۡكِتَٰبَ وَجَعَلۡنَا مَعَهُۥٓ أَخَاهُ هَٰرُونَ وَزِيرٗا
আর আমি তো মূসাকে কিতাব (তাওরাত) দিয়েছিলাম এবং তার সাথে তার ভাই হারূনকে (রাসূল করে) সাহায্যকারী বানিয়েছিলাম।
-
৩৬
فَقُلۡنَا ٱذۡهَبَآ إِلَى ٱلۡقَوۡمِ ٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَا فَدَمَّرۡنَٰهُمۡ تَدۡمِيرٗا
অতঃপর আমি বলেছিলাম: তোমরা দুজন সেই জাতির (ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়ের) নিকট যাও, যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে। অতঃপর (তারা তাদের দুজনকে অস্বীকার করলে) আমি তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।
-
৩৭
وَقَوۡمَ نُوحٖ لَّمَّا كَذَّبُواْ ٱلرُّسُلَ أَغۡرَقۡنَٰهُمۡ وَجَعَلۡنَٰهُمۡ لِلنَّاسِ ءَايَةٗۖ وَأَعۡتَدۡنَا لِلظَّٰلِمِينَ عَذَابًا أَلِيمٗا
আর (আমি অনুরূপভাবে) নূহের সম্প্রদায়কেও (ধ্বংস করেছি), যখন তারা রাসূলদেরকে(১) অস্বীকার করলো, আমি তাদেরকে (প্লাবনের পানিতে) ডুবিয়ে দিলাম এবং তাদেরকে (ধ্বংস করে) মানুষের জন্য নিদর্শন বানিয়ে দিলাম। আর আমি যালিমদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি (জাহান্নামে) যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৩৮
وَعَادٗا وَثَمُودَاْ وَأَصۡحَٰبَ ٱلرَّسِّ وَقُرُونَۢا بَيۡنَ ذَٰلِكَ كَثِيرٗا
আর আমি ধ্বংস করেছি (হূদের জাতি) ‘আদ, (সালিহের জাতি) সামূদ, ‘রাস’(১) এর অধিবাসীদেরকে এবং তাদের মধ্যবর্তী কালের বহু প্রজন্মকেও (ধ্বংস করেছি)।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৩৯
وَكُلّٗا ضَرَبۡنَا لَهُ ٱلۡأَمۡثَٰلَۖ وَكُلّٗا تَبَّرۡنَا تَتۡبِيرٗا
আর আমি তাদের প্রত্যেকের জন্য (পূর্ববর্তী জাতিদের ধ্বংস ও তার কারণ বর্ণনা করে) দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছি এবং তাদের প্রত্যেককেই আমি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছি।
-
৪০
وَلَقَدۡ أَتَوۡاْ عَلَى ٱلۡقَرۡيَةِ ٱلَّتِيٓ أُمۡطِرَتۡ مَطَرَ ٱلسَّوۡءِۚ أَفَلَمۡ يَكُونُواْ يَرَوۡنَهَاۚ بَلۡ كَانُواْ لَا يَرۡجُونَ نُشُورٗا
আর অবশ্যই তারা সে জনপদ (১) দিয়ে অতিক্রম করেছে, যাতে অকল্যাণের (শাস্তিস্বরূপ পাথরের) বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছিল। তবে কি তারা তা দেখেনি? বরং তারা পুনরুত্থানের প্রত্যাশা করতো না।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৪১
وَإِذَا رَأَوۡكَ إِن يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَٰذَا ٱلَّذِي بَعَثَ ٱللَّهُ رَسُولًا
আর (হে রাসূল!) তারা যখন তোমাকে দেখে, তখন তারা তোমাকে ঠাট্টা-বিদ্রুপের পাত্র হিসেবেই গ্রহণ করে, (তারা অস্বীকার ও ঠাট্টাচ্ছলে বলে:) ‘এ-ই কি সেই লোক, যাকে আল্লাহ রাসূল করে পাঠিয়েছেন’?
-
৪২
إِن كَادَ لَيُضِلُّنَا عَنۡ ءَالِهَتِنَا لَوۡلَآ أَن صَبَرۡنَا عَلَيۡهَاۚ وَسَوۡفَ يَعۡلَمُونَ حِينَ يَرَوۡنَ ٱلۡعَذَابَ مَنۡ أَضَلُّ سَبِيلًا
‘সে তো আমাদেরকে আমাদের দেবতাদের থেকে দূরে সরিয়ে দিত, যদি আমরা সেগুলোর ইবাদাতে ধৈর্য না ধরতাম।’(১) আর যখন তারা শাস্তি দেখবে, তখন অবশ্যই জানতে পারবে, কে অধিক পথভ্রষ্ট।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৪৩
أَرَءَيۡتَ مَنِ ٱتَّخَذَ إِلَٰهَهُۥ هَوَىٰهُ أَفَأَنتَ تَكُونُ عَلَيۡهِ وَكِيلًا
(হে রাসূল!) তুমি কি তাকে দেখনি, যে তার প্রবৃত্তিকে নিজের ইলাহরূপে গ্রহণ করেছে? তবুও কি তুমি তার যিম্মাদার হবে?
-
৪৪
أَمۡ تَحۡسَبُ أَنَّ أَكۡثَرَهُمۡ يَسۡمَعُونَ أَوۡ يَعۡقِلُونَۚ إِنۡ هُمۡ إِلَّا كَٱلۡأَنۡعَٰمِ بَلۡ هُمۡ أَضَلُّ سَبِيلًا
(হে রাসূল!) তুমি কি মনে করো যে, তাদের অধিকাংশ লোক ( আল-কুরআনের কথা) শোনে অথবা (দলীল-প্রমাণ) বুঝে? তারা (শোনা, বুঝা ও অনুধাবনের ক্ষেত্রে) কেবল পশুদের মতো; বরং তারা আরো অধিক পথভ্রষ্ট।
-
৪৫
أَلَمۡ تَرَ إِلَىٰ رَبِّكَ كَيۡفَ مَدَّ ٱلظِّلَّ وَلَوۡ شَآءَ لَجَعَلَهُۥ سَاكِنٗا ثُمَّ جَعَلۡنَا ٱلشَّمۡسَ عَلَيۡهِ دَلِيلٗا
(হে রাসূল!) তুমি কি তোমার রবের (সৃষ্টি কৌশলের) প্রতি লক্ষ্য করোনি, কীভাবে তিনি ছায়াকে দীর্ঘ করেছেন, আর তিনি যদি চাইতেন, তাহলে এটিকে অবশ্যই স্থির করে দিতে পারতেন। অতঃপর আমি সূর্যকে ছায়ার নির্ণায়ক বানিয়েছি।
-
৪৬
ثُمَّ قَبَضۡنَٰهُ إِلَيۡنَا قَبۡضٗا يَسِيرٗا
তারপর আমি এটাকে (ছায়াকে) ধীরে ধীরে আমার দিকে গুটিয়ে আনি।
-
৪৭
وَهُوَ ٱلَّذِي جَعَلَ لَكُمُ ٱلَّيۡلَ لِبَاسٗا وَٱلنَّوۡمَ سُبَاتٗا وَجَعَلَ ٱلنَّهَارَ نُشُورٗا
আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে (পোশাকের ন্যায়) আবরণ ও নিদ্রাকে আরামদায়ক করেছেন এবং দিনকে বানিয়েছেন কর্মসময়।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৪৮
وَهُوَ ٱلَّذِيٓ أَرۡسَلَ ٱلرِّيَٰحَ بُشۡرَۢا بَيۡنَ يَدَيۡ رَحۡمَتِهِۦۚ وَأَنزَلۡنَا مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءٗ طَهُورٗا
আর তিনিই তাঁর রহমতের (বৃষ্টি নাযিল হওয়ার) প্রাক্কালে সুসংবাদস্বরূপ বায়ু প্রেরণ করেন এবং আমি আকাশ থেকে পবিত্র (বৃষ্টির) পানি বর্ষণ করি।
-
৪৯
لِّنُحۡـِۧيَ بِهِۦ بَلۡدَةٗ مَّيۡتٗا وَنُسۡقِيَهُۥ مِمَّا خَلَقۡنَآ أَنۡعَٰمٗا وَأَنَاسِيَّ كَثِيرٗا
যাতে তা দ্বারা আমি মৃত ভূ-খণ্ডকে (রকমারি উদ্ভিদ জন্ম দিয়ে সবুজ শ্যামল করে) জীবিত করি এবং আমি যে সকল জীবজন্তু ও মানুষ সৃষ্টি করেছি, তার মধ্য থেকে অনেককে তা পান করাতে পারি ।
-
৫০
وَلَقَدۡ صَرَّفۡنَٰهُ بَيۡنَهُمۡ لِيَذَّكَّرُواْ فَأَبَىٰٓ أَكۡثَرُ ٱلنَّاسِ إِلَّا كُفُورٗا
আর অবশ্যই আমি এটিকে তাদের মধ্যে নানাভাবে বর্ণনা করেছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কেবল অকৃতজ্ঞতাই করেছে।
-
৫১
وَلَوۡ شِئۡنَا لَبَعَثۡنَا فِي كُلِّ قَرۡيَةٖ نَّذِيرٗا
আর আমি ইচ্ছা করলে প্রতিটি জনপদে একজন করে সতর্ককারী (রাসূল) পাঠাতাম।
-
৫২
فَلَا تُطِعِ ٱلۡكَٰفِرِينَ وَجَٰهِدۡهُم بِهِۦ جِهَادٗا كَبِيرٗا
সুতরাং তুমি কাফিরদের আনুগত্য করো না এবং তুমি আল কুরআনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রাম চালিয়ে যাও।
-
৫৩
۞ وَهُوَ ٱلَّذِي مَرَجَ ٱلۡبَحۡرَيۡنِ هَٰذَا عَذۡبٞ فُرَاتٞ وَهَٰذَا مِلۡحٌ أُجَاجٞ وَجَعَلَ بَيۡنَهُمَا بَرۡزَخٗا وَحِجۡرٗا مَّحۡجُورٗا
আর তিনিই (সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির ) দুটি সাগরকে একসাথে প্রবাহিত করেছেন। একটি সুপেয় সুস্বাদু, অপরটি লবণাক্ত ক্ষারবিশিষ্ট এবং তিনি এতদুভয়ের মাঝখানে একটি অন্তরায় (অদৃশ্য প্রাচীর) ও একটি অনতিক্রম্য সীমানা স্থাপন করেছেন।
-
৫৪
وَهُوَ ٱلَّذِي خَلَقَ مِنَ ٱلۡمَآءِ بَشَرٗا فَجَعَلَهُۥ نَسَبٗا وَصِهۡرٗاۗ وَكَانَ رَبُّكَ قَدِيرٗا
আর তিনিই পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি তাকে বংশগত ও বৈবাহিক সম্পর্কযুক্ত করেছেন। আর তোমার রব হলো মহা ক্ষমতাবান।
-
৫৫
وَيَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُهُمۡ وَلَا يَضُرُّهُمۡۗ وَكَانَ ٱلۡكَافِرُ عَلَىٰ رَبِّهِۦ ظَهِيرٗا
আর তারা আল্লাহকে ছেড়ে এমন কিছুর ইবাদত করে, যা তাদের কোনো উপকারও করতে পারে না, ক্ষতিও করতে পারে না। আর কাফির তার রবের বিরুদ্ধে সহায়তাকারী হয়ে থাকে।
-
৫৬
وَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ إِلَّا مُبَشِّرٗا وَنَذِيرٗا
আর (হে রাসূল!) আমি তো তোমাকে শুধুমাত্র সুংসবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপেই প্রেরণ করেছি।
-
৫৭
قُلۡ مَآ أَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ مِنۡ أَجۡرٍ إِلَّا مَن شَآءَ أَن يَتَّخِذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ سَبِيلٗا
বল, (হে রাসূল!) আমি তোমাদের কাছে (আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়া) এর বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক চাই না। তবে (তোমাদের মধ্যে ব্যয় করে) যে তার রবের (সন্তুষ্টির) পথে এগোতে চায়, সে যেন তা করে।
-
৫৮
وَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱلۡحَيِّ ٱلَّذِي لَا يَمُوتُ وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِهِۦۚ وَكَفَىٰ بِهِۦ بِذُنُوبِ عِبَادِهِۦ خَبِيرًا
আর (হে রাসূল!) তুমি তাওয়াক্কুল করো এমন চিরঞ্জীব সত্তার ওপর যিনি মরবেন না। তাঁর প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করো। তাঁর বান্দাদের সকল গুনাহ সম্পর্কে খবর রাখার ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট।
-
৫৯
ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ وَمَا بَيۡنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٖ ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰ عَلَى ٱلۡعَرۡشِۖ ٱلرَّحۡمَٰنُ فَسۡـَٔلۡ بِهِۦ خَبِيرٗا
যিনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি আরশে ওঠেছেন। তিনিই ‘রহমান’ পরম করুণাময়। সুতরাং (হে রাসূল!) তাঁর সম্পর্কে যে সম্যক অবহিত, তুমি তাকেই জিজ্ঞাসা করো।
-
৬০
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ٱسۡجُدُواْۤ لِلرَّحۡمَٰنِ قَالُواْ وَمَا ٱلرَّحۡمَٰنُ أَنَسۡجُدُ لِمَا تَأۡمُرُنَا وَزَادَهُمۡ نُفُورٗا۩
আর যখন তাদেরকে (কাফিরদেরকে) বলা হয়, তোমরা ‘রহমান’ কে সাজদা করো, তখন তারা বলে, রহমান আবার কে? তুমি আমাদেরকে (কাউকে সাজদা করার) আদেশ করলেই কি আমরা (তাকে) সাজদা করবো? আর তাদেরকে সাজদার আদেশ করা মূলত তাদের (আল্লাহর ওপর ঈমান আনা থেকে) দূরত্ব ও পলায়নপরতাই বৃদ্ধি করে।
-
৬১
تَبَارَكَ ٱلَّذِي جَعَلَ فِي ٱلسَّمَآءِ بُرُوجٗا وَجَعَلَ فِيهَا سِرَٰجٗا وَقَمَرٗا مُّنِيرٗا
বরকতময় সেই আল্লাহ, যিনি আকাশে নক্ষত্রের পথসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং সেখানে একটি সূর্য ও উজ্জ্বল চাঁদ স্থাপন করেছেন।
-
৬২
وَهُوَ ٱلَّذِي جَعَلَ ٱلَّيۡلَ وَٱلنَّهَارَ خِلۡفَةٗ لِّمَنۡ أَرَادَ أَن يَذَّكَّرَ أَوۡ أَرَادَ شُكُورٗا
আর তিনিই সেই আল্লাহ, যিনি রাত ও দিনকে পরস্পরের বিপরীতে সৃষ্টি করেছেন, যাতে যে কেউ উপদেশ গ্রহণ করতে চায় বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চায়, তা করতে পারে।
-
৬৩
وَعِبَادُ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلَّذِينَ يَمۡشُونَ عَلَى ٱلۡأَرۡضِ هَوۡنٗا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ ٱلۡجَٰهِلُونَ قَالُواْ سَلَٰمٗا
আর রাহমানের প্রকৃত বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে। আর অজ্ঞ লোকেরা যখন তাদেরকে (অশালীন ভাষায়) সম্বোধন করে তখন তারা (সমপর্যায়ের মোকাবেলা না করে) বলে ‘সালাম’।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৬৪
وَٱلَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمۡ سُجَّدٗا وَقِيَٰمٗا
আর যারা তাদের রবের জন্য সাজদারত ও দণ্ডায়মান হয়ে রাত্রি যাপন করে।
-
৬৫
وَٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا ٱصۡرِفۡ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَۖ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا
আর যারা বলে: ‘হে আমাদের রব! আপনি আমাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তি সরিয়ে দিন। নিশ্চয় এর শাস্তি(কাফিরের জন্য) স্থায়ী ও অবিচ্ছিন্ন।’
-
৬৬
إِنَّهَا سَآءَتۡ مُسۡتَقَرّٗا وَمُقَامٗا
‘নিশ্চয় তা অবস্থানস্থল ও আবাসস্থল হিসেবে অত্যন্ত নিকৃষ্ট।’
-
৬৭
وَٱلَّذِينَ إِذَآ أَنفَقُواْ لَمۡ يُسۡرِفُواْ وَلَمۡ يَقۡتُرُواْ وَكَانَ بَيۡنَ ذَٰلِكَ قَوَامٗا
আর তারা যখন নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না; বরং মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে।
-
৬৮
وَٱلَّذِينَ لَا يَدۡعُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ وَلَا يَقۡتُلُونَ ٱلنَّفۡسَ ٱلَّتِي حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلۡحَقِّ وَلَا يَزۡنُونَۚ وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٰلِكَ يَلۡقَ أَثَامٗا
আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে না এবং যারা আল্লাহ যে নাফসকে হত্যা করা হারাম করেছেন যথার্থ কারণ(১) ছাড়া তাকে হত্যা করে না। উপরন্তু তারা ব্যভিচার করে না। আর যে তা (এ সকল বড় অপরাধ) করবে, সে (অবশ্যই কিয়ামত দিবসে) শাস্তিপ্রাপ্ত হবে।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৬৯
يُضَٰعَفۡ لَهُ ٱلۡعَذَابُ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وَيَخۡلُدۡ فِيهِۦ مُهَانًا
কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে অপমানিত অবস্থায় স্থায়ী হবে।
-
৭০
إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلٗا صَٰلِحٗا فَأُوْلَٰٓئِكَ يُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَيِّـَٔاتِهِمۡ حَسَنَٰتٖۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورٗا رَّحِيمٗا
তবে যে (আল্লাহর নিকট পাপকর্ম করার পর) তাওবা করে, তাঁর প্রতি ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপকর্মগুলোকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন। আল্লাহ (তাওবাকারী বান্দাদের প্রতি) অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
-
৭১
وَمَن تَابَ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا فَإِنَّهُۥ يَتُوبُ إِلَى ٱللَّهِ مَتَابٗا
আর যে (আল্লাহর নিকট) তাওবা করে এবং সৎকাজ করে, নিশ্চয় সে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে।
-
৭২
وَٱلَّذِينَ لَا يَشۡهَدُونَ ٱلزُّورَ وَإِذَا مَرُّواْ بِٱللَّغۡوِ مَرُّواْ كِرَامٗا
আর যারা মিথ্যার সাক্ষ্য হয় না(১) এবং যখন তারা অনর্থক কথা-কর্মের পাশ দিয়ে চলে তখন (তা পরিহার করে) সসম্মানে চলে যায়।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৭৩
وَٱلَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُواْ بِـَٔايَٰتِ رَبِّهِمۡ لَمۡ يَخِرُّواْ عَلَيۡهَا صُمّٗا وَعُمۡيَانٗا
আর যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ স্মরণ করিয়ে দিলে অন্ধ ও বধিরদের মত পড়ে থাকে না।
-
৭৪
وَٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبۡ لَنَا مِنۡ أَزۡوَٰجِنَا وَذُرِّيَّٰتِنَا قُرَّةَ أَعۡيُنٖ وَٱجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِينَ إِمَامًا
আর যারা বলে: ‘হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন, যারা (তাকওয়া ও সত্যের ওপর অটল থাকার কারণে) আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন।’
-
৭৫
أُوْلَٰٓئِكَ يُجۡزَوۡنَ ٱلۡغُرۡفَةَ بِمَا صَبَرُواْ وَيُلَقَّوۡنَ فِيهَا تَحِيَّةٗ وَسَلَٰمًا
তারাই (এ সকল বৈশিষ্ট্যের অধিকারীরাই), যাদেরকে (জান্নাতে) সুউচ্চ কক্ষ প্রতিদান হিসাবে দেয়া হবে, যেহেতু তারা সবর করেছিল সেজন্য। আর তাদের সেখানে অভ্যর্থনা করা হবে, অভিবাদন ও সালাম দ্বারা।
-
৭৬
خَٰلِدِينَ فِيهَاۚ حَسُنَتۡ مُسۡتَقَرّٗا وَمُقَامٗا
সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। অবস্থানস্থল ও আবাসস্থল হিসেবে তা কতই না উৎকৃষ্ট!
-
৭৭
قُلۡ مَا يَعۡبَؤُاْ بِكُمۡ رَبِّي لَوۡلَا دُعَآؤُكُمۡۖ فَقَدۡ كَذَّبۡتُمۡ فَسَوۡفَ يَكُونُ لِزَامَۢا
(হে রাসূল! তুমি কুফরীর উপর হঠধর্মী কাফিরদেরকে) বলো: ‘যদি তোমরা (আমার রবকে) না-ই ডাক, তাহলে আমার রব তোমাদের কোনো পরোয়া করেন না। তারপর তোমরা (রাসূলকে) অস্বীকার করেছো। তাই অচিরেই শাস্তি অপরিহার্য হবে ।
অনুবাদ: রাওয়াদ ট্রান্সলেশন সেন্টার. উৎস: QuranEnc.com, সর্বশেষ মিলিয়ে দেখা: ২৬ অক্টোবর ২০২৬.
আরবি পাঠ: বাদশাহ ফাহাদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স. সূরার তথ্য: Tanzil.net (CC BY 3.0).
এটি কুরআনের অর্থের অনুবাদ। মানুষের যেকোনো কাজের মতো এতে ভুল থাকতে পারে।