মূল অংশে যান

আন-নামল

النمل

সূরা ২৭ মাক্কী ৯৩ আয়াত

بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

  1. ১

    طسٓۚ تِلۡكَ ءَايَٰتُ ٱلۡقُرۡءَانِ وَكِتَابٖ مُّبِينٍ

    ত্বা-সীন; এগুলো আল-কুরআন ও সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।

  2. ২

    هُدٗى وَبُشۡرَىٰ لِلۡمُؤۡمِنِينَ

    মু’মিনদের জন্য হিদায়াত ও সুসংবাদ।

  3. ৩

    ٱلَّذِينَ يُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَهُم بِٱلۡأٓخِرَةِ هُمۡ يُوقِنُونَ

    যারা সালাত কায়িম করে এবং যাকাত দেয়। আর তারাই আখিরাতের প্রতি নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে।

  4. ৪

    إِنَّ ٱلَّذِينَ لَا يُؤۡمِنُونَ بِٱلۡأٓخِرَةِ زَيَّنَّا لَهُمۡ أَعۡمَٰلَهُمۡ فَهُمۡ يَعۡمَهُونَ

    নিশ্চয় যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, আমি তাদের জন্য তাদের আমলসমূহকে সুশোভিত করে দিয়েছি। ফলে তারা (নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাঝে) বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়।

  5. ৫

    أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ لَهُمۡ سُوٓءُ ٱلۡعَذَابِ وَهُمۡ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ هُمُ ٱلۡأَخۡسَرُونَ

    এরাই তারা, যাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি; আর আখিরাতে তারাই হবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত।

  6. ৬

    وَإِنَّكَ لَتُلَقَّى ٱلۡقُرۡءَانَ مِن لَّدُنۡ حَكِيمٍ عَلِيمٍ

    আর (হে রাসূল!) নিশ্চয় তুমি প্রজ্ঞাময় মহাজ্ঞানী (আল্লাহ) এর পক্ষ থেকে আল কুরআন প্রাপ্ত।

  7. ৭

    إِذۡ قَالَ مُوسَىٰ لِأَهۡلِهِۦٓ إِنِّيٓ ءَانَسۡتُ نَارٗا سَـَٔاتِيكُم مِّنۡهَا بِخَبَرٍ أَوۡ ءَاتِيكُم بِشِهَابٖ قَبَسٖ لَّعَلَّكُمۡ تَصۡطَلُونَ

    যখন মূসা তাঁর পরিবারকে বললেন, ‘নিশ্চয় আমি এক আগুন দেখেছি; আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্য কোনো সংবাদ নিয়ে আসব, অথবা একটি জ্বলন্ত অঙ্গার নিয়ে আসব, যাতে তোমরা উষ্ণতা লাভ করতে পারো।’

  8. ৮

    فَلَمَّا جَآءَهَا نُودِيَ أَنۢ بُورِكَ مَن فِي ٱلنَّارِ وَمَنۡ حَوۡلَهَا وَسُبۡحَٰنَ ٱللَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ

    অতঃপর যখন তিনি সেখানে পৌঁছালেন, তখন আহ্বান করা হলো: ‘আগুনে যে আছে এবং এর আশপাশে যারা আছে,(১) তারা বরকতময়; আর সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ মহাপবিত্র।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  9. ৯

    يَٰمُوسَىٰٓ إِنَّهُۥٓ أَنَا ٱللَّهُ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ

    হে মূসা! নিশ্চয় আমিই আল্লাহ, পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

  10. ১০

    وَأَلۡقِ عَصَاكَۚ فَلَمَّا رَءَاهَا تَهۡتَزُّ كَأَنَّهَا جَآنّٞ وَلَّىٰ مُدۡبِرٗا وَلَمۡ يُعَقِّبۡۚ يَٰمُوسَىٰ لَا تَخَفۡ إِنِّي لَا يَخَافُ لَدَيَّ ٱلۡمُرۡسَلُونَ

    আর তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো।’ অতঃপর যখন তিনি সেটিকে সাপের মতো কিলবিল করতে দেখলেন, তখন তিনি পেছন ফিরে পালালেন এবং ফিরে তাকালেন না। (তখন বলা হলো,) ‘হে মূসা! ভয় করো না; নিশ্চয় আমার নিকট রাসূলগণ ভীত হয় না।’

  11. ১১

    إِلَّا مَن ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسۡنَۢا بَعۡدَ سُوٓءٖ فَإِنِّي غَفُورٞ رَّحِيمٞ

    ‘তবে যে (নিজের ওপর) যলুম করে, তারপর অসৎকাজের পরিবর্তে সৎকাজ করে, তবে (সে জেনে রাখুক) অবশ্যই আমি (তাদের প্রতি) অধিক ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

  12. ১২

    وَأَدۡخِلۡ يَدَكَ فِي جَيۡبِكَ تَخۡرُجۡ بَيۡضَآءَ مِنۡ غَيۡرِ سُوٓءٖۖ فِي تِسۡعِ ءَايَٰتٍ إِلَىٰ فِرۡعَوۡنَ وَقَوۡمِهِۦٓۚ إِنَّهُمۡ كَانُواْ قَوۡمٗا فَٰسِقِينَ

    ‘আর তুমি তোমার হাত (জামার গলার ফাঁকা দিয়ে) বগলে প্রবেশ করাও, তা কোন দোষ বা অনিষ্ট ব্যতীত (বরফের মতো) ধবধবে সাদা হয়ে বের হয়ে আসবে (যা কোন শ্বেত রোগ নয়), এগুলো ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায়ের কাছে আনীত নয়টি নিদর্শনের(১) অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয় তারা ছিল ফাসিক (আল্লাহর অস্বীকারকারী) সম্প্রদায়।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  13. ১৩

    فَلَمَّا جَآءَتۡهُمۡ ءَايَٰتُنَا مُبۡصِرَةٗ قَالُواْ هَٰذَا سِحۡرٞ مُّبِينٞ

    তারপর যখন আমার নিদর্শনগুলো দৃশ্যমান হয়ে তাদের কাছে আসলো, তখন তারা (ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায়) বললো: ‘এটা তো সুস্পষ্ট যাদু।’

  14. ১৪

    وَجَحَدُواْ بِهَا وَٱسۡتَيۡقَنَتۡهَآ أَنفُسُهُمۡ ظُلۡمٗا وَعُلُوّٗاۚ فَٱنظُرۡ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلۡمُفۡسِدِينَ

    আর তারা যলুম ও দাম্ভিকতার সাথে নিদর্শনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করলো; যদিও তাদের অন্তর তা (সত্য বলে) নিশ্চিত বিশ্বাস করেছিল। অতএব দেখো, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।

  15. ১৫

    وَلَقَدۡ ءَاتَيۡنَا دَاوُۥدَ وَسُلَيۡمَٰنَ عِلۡمٗاۖ وَقَالَا ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ ٱلَّذِي فَضَّلَنَا عَلَىٰ كَثِيرٖ مِّنۡ عِبَادِهِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ

    আর অবশ্যই আমি দাঊদ ও সুলাইমানকে জ্ঞান দান করেছি এবং তারা উভয়ে (আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায়ার্থে) বললো: ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই, যিনি তাঁর অনেক মু’মিন বান্দাদের ওপর আমাদেরকে মর্যাদা দান করেছেন।’(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  16. ১৬

    وَوَرِثَ سُلَيۡمَٰنُ دَاوُۥدَۖ وَقَالَ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ عُلِّمۡنَا مَنطِقَ ٱلطَّيۡرِ وَأُوتِينَا مِن كُلِّ شَيۡءٍۖ إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ ٱلۡفَضۡلُ ٱلۡمُبِينُ

    আর সুলাইমান দাঊদের উত্তরাধিকারী(১) হলো এবং সে বললো: ‘হে মানুষ, আমাদেরকে পাখির ভাষা শেখানো হয়েছে এবং আমাদেরকে সকল কিছু দেয়া হয়েছে। নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  17. ১৭

    وَحُشِرَ لِسُلَيۡمَٰنَ جُنُودُهُۥ مِنَ ٱلۡجِنِّ وَٱلۡإِنسِ وَٱلطَّيۡرِ فَهُمۡ يُوزَعُونَ

    আর সুলাইমানের জন্য তার সেনাবাহিনী থেকে জিন, মানুষ ও পাখিদের সমবেত করা হলো। তারপর তাদেরকে (সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত করতে) বিভিন্ন দলে বিন্যস্ত করা হলো।

  18. ১৮

    حَتَّىٰٓ إِذَآ أَتَوۡاْ عَلَىٰ وَادِ ٱلنَّمۡلِ قَالَتۡ نَمۡلَةٞ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّمۡلُ ٱدۡخُلُواْ مَسَٰكِنَكُمۡ لَا يَحۡطِمَنَّكُمۡ سُلَيۡمَٰنُ وَجُنُودُهُۥ وَهُمۡ لَا يَشۡعُرُونَ

    অবশেষে যখন তারা পিঁপড়ার উপত্যকায় পৌঁছাল,(১) তখন এক পিঁপড়া বলল, ‘হে পিঁপড়ারা! তোমরা নিজেদের বাসায় প্রবেশ করো, যেন সুলাইমান ও তার সৈন্যবাহিনী অজান্তেই তোমাদের পিষে না ফেলে।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  19. ১৯

    فَتَبَسَّمَ ضَاحِكٗا مِّن قَوۡلِهَا وَقَالَ رَبِّ أَوۡزِعۡنِيٓ أَنۡ أَشۡكُرَ نِعۡمَتَكَ ٱلَّتِيٓ أَنۡعَمۡتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَٰلِدَيَّ وَأَنۡ أَعۡمَلَ صَٰلِحٗا تَرۡضَىٰهُ وَأَدۡخِلۡنِي بِرَحۡمَتِكَ فِي عِبَادِكَ ٱلصَّٰلِحِينَ

    অতঃপর সুলাইমান তার কথায় মুচকি হাসলো এবং (তার রবকে ডেকে) বললো: ‘হে আমার রব, তুমি আমার প্রতি ও আমার পিতামাতার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছো তার জন্য আমাকে তোমার শুকরিয়া আদায় করার তাওফীক দাও। আর আমি যাতে এমন সৎকাজ করতে পারি যা তুমি পছন্দ করো। আর তোমার অনুগ্রহে তুমি আমাকে তোমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করো।’

  20. ২০

    وَتَفَقَّدَ ٱلطَّيۡرَ فَقَالَ مَالِيَ لَآ أَرَى ٱلۡهُدۡهُدَ أَمۡ كَانَ مِنَ ٱلۡغَآئِبِينَ

    আর সুলাইমান পাখিদের খোঁজ-খবর খবর নিলো। তারপর (হুদহুদকে দেখতে না পেয়ে) সে বললো: ‘কী ব্যাপার, আমি হুদহুদকে দেখছি না; নাকি সে অনুপস্থিতদের অন্তর্ভুক্ত?’

  21. ২১

    لَأُعَذِّبَنَّهُۥ عَذَابٗا شَدِيدًا أَوۡ لَأَاْذۡبَحَنَّهُۥٓ أَوۡ لَيَأۡتِيَنِّي بِسُلۡطَٰنٖ مُّبِينٖ

    (তার অনুপস্থিতির ব্যাপারটি সুস্পষ্ট হলে সুলাইমান বললো:) ‘অবশ্যই আমি তাকে কঠিন শাস্তি দিবো অথবা তাকে যবহ করবো অথবা সে আমার কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসবে।’

  22. ২২

    فَمَكَثَ غَيۡرَ بَعِيدٖ فَقَالَ أَحَطتُ بِمَا لَمۡ تُحِطۡ بِهِۦ وَجِئۡتُكَ مِن سَبَإِۭ بِنَبَإٖ يَقِينٍ

    কিছুক্ষণ পরেই হুদহুদ উপস্থিত হয়ে (সুলাইমানকে) বললো: ‘আমি এমন কিছু জানতে পেরেছি, যা আপনি জানতে পারেননি। আমি সাবা (রাজ্য) থেকে আপনার জন্য নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি।’

  23. ২৩

    إِنِّي وَجَدتُّ ٱمۡرَأَةٗ تَمۡلِكُهُمۡ وَأُوتِيَتۡ مِن كُلِّ شَيۡءٖ وَلَهَا عَرۡشٌ عَظِيمٞ

    ‘আমি এক নারীকে দেখতে পেলাম, সে তাদের ওপর রাজত্ব করছে। তাকে (শক্তি ও ক্ষমতার) সব কিছু দেওয়া হয়েছে। আর তার আছে এক বিশাল সিংহাসন।’

  24. ২৪

    وَجَدتُّهَا وَقَوۡمَهَا يَسۡجُدُونَ لِلشَّمۡسِ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَزَيَّنَ لَهُمُ ٱلشَّيۡطَٰنُ أَعۡمَٰلَهُمۡ فَصَدَّهُمۡ عَنِ ٱلسَّبِيلِ فَهُمۡ لَا يَهۡتَدُونَ

    ‘আমি তাকে ও তার জাতিকে দেখতে পেলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সাজদা করছে। আর শয়তান তাদের (শিরক ও গুনাহের) কার্যাবলীকে তাদের জন্য সৌন্দর্যমণ্ডিত করে দিয়েছে এবং তাদেরকে সৎপথ থেকে নিবৃত করেছে, ফলে তারা হিদায়াত পায় না।’

  25. ২৫

    أَلَّاۤ يَسۡجُدُواْۤ لِلَّهِ ٱلَّذِي يُخۡرِجُ ٱلۡخَبۡءَ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَيَعۡلَمُ مَا تُخۡفُونَ وَمَا تُعۡلِنُونَ

    (শয়তান তাদেরকে সৎ পথ থেকে ফিরিয়ে রেখেছে) যাতে তারা আল্লাহকে সাজদা না করে, যিনি আসমান ও জমিনের লুকায়িত বস্তুকে বের করেন। আর তোমরা যা গোপন করো এবং তোমরা যা প্রকাশ করো তিনি সবই জানেন।

  26. ২৬

    ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ ٱلۡعَرۡشِ ٱلۡعَظِيمِ۩

    আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই। তিনি মহান আরশের রব।

  27. ২৭

    ۞ قَالَ سَنَنظُرُ أَصَدَقۡتَ أَمۡ كُنتَ مِنَ ٱلۡكَٰذِبِينَ

    সুলাইমান (হুদহুদকে) বললো: ‘আমি দেখবো, তুমি কি সত্য বলেছো, নাকি তুমি মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।’

  28. ২৮

    ٱذۡهَب بِّكِتَٰبِي هَٰذَا فَأَلۡقِهۡ إِلَيۡهِمۡ ثُمَّ تَوَلَّ عَنۡهُمۡ فَٱنظُرۡ مَاذَا يَرۡجِعُونَ

    তুমি এই আমার পত্রটি নিয়ে যাও, তারপর তা তাদের কাছে নিক্ষেপ কর (পৌঁছে দাও)। এরপর তাদের থেকে সরে দাঁড়াও এবং লক্ষ্য করো, তারা কী জবাব দেয়।

  29. ২৯

    قَالَتۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلۡمَلَؤُاْ إِنِّيٓ أُلۡقِيَ إِلَيَّ كِتَٰبٞ كَرِيمٌ

    সে (রানি) বলল, ‘হে সভাসদগণ! আমার কাছে এক সম্মানিত পত্র নিক্ষিপ্ত (প্রেরিত) হয়েছে।’

  30. ৩০

    إِنَّهُۥ مِن سُلَيۡمَٰنَ وَإِنَّهُۥ بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

    ‘নিশ্চয় এটা সুলাইমানের পক্ষ থেকে। আর নিশ্চয় এটা (শুরু করা হয়েছে) পরম করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে।’

  31. ৩১

    أَلَّا تَعۡلُواْ عَلَيَّ وَأۡتُونِي مُسۡلِمِينَ

    আমার বিরুদ্ধে উদ্ধত হয়ো না; আর আমার নিকট আনুগত্যশীল (মুসলিম) হয়ে উপস্থিত হও।

  32. ৩২

    قَالَتۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلۡمَلَؤُاْ أَفۡتُونِي فِيٓ أَمۡرِي مَا كُنتُ قَاطِعَةً أَمۡرًا حَتَّىٰ تَشۡهَدُونِ

    সে (রানি) বলল, হে পরিষদবর্গ! আমার এ বিষয়ে তোমরা মতামত দাও; তোমাদের উপস্থিতি (ও পরামর্শ) ছাড়া আমি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না।

  33. ৩৩

    قَالُواْ نَحۡنُ أُوْلُواْ قُوَّةٖ وَأُوْلُواْ بَأۡسٖ شَدِيدٖ وَٱلۡأَمۡرُ إِلَيۡكِ فَٱنظُرِي مَاذَا تَأۡمُرِينَ

    তারা (পরিষদবর্গ) বললো: ‘আমরা শক্তিশালী ও কঠোর যোদ্ধা। আর সিদ্ধান্ত আপনার কাছেই। অতএব চিন্তা করে দেখুন, আপনি কী নির্দেশ দিবেন।’

  34. ৩৪

    قَالَتۡ إِنَّ ٱلۡمُلُوكَ إِذَا دَخَلُواْ قَرۡيَةً أَفۡسَدُوهَا وَجَعَلُوٓاْ أَعِزَّةَ أَهۡلِهَآ أَذِلَّةٗۚ وَكَذَٰلِكَ يَفۡعَلُونَ

    সে (রানি) বললো: ‘নিশ্চয় রাজা-বাদশাহরা যখন কোনো জনপদে প্রবেশ করে তখন (হত্যা, ছিনতাই ও লুটের মাধ্যমে) সেই জনপদকে বিপর্যস্ত করে এবং সেখানকার সম্মানিত অধিবাসীদেরকে অপদস্থ করে। আর তা-ই তারা করবে।’

  35. ৩৫

    وَإِنِّي مُرۡسِلَةٌ إِلَيۡهِم بِهَدِيَّةٖ فَنَاظِرَةُۢ بِمَ يَرۡجِعُ ٱلۡمُرۡسَلُونَ

    ‘বরং আমি তাদের কাছে উপঢৌকন পাঠাচ্ছি, তারপর দেখি (আমার) দূতেরা কী (সংবাদ) নিয়ে ফিরে আসে।’

  36. ৩৬

    فَلَمَّا جَآءَ سُلَيۡمَٰنَ قَالَ أَتُمِدُّونَنِ بِمَالٖ فَمَآ ءَاتَىٰنِۦَ ٱللَّهُ خَيۡرٞ مِّمَّآ ءَاتَىٰكُمۚ بَلۡ أَنتُم بِهَدِيَّتِكُمۡ تَفۡرَحُونَ

    অতঃপর দূত যখন সুলাইমানের কাছে আসলো, তখন সুলাইমান (তাদেরকে) বললো: ‘তোমরা কি আমাকে সম্পদ দ্বারা সাহায্য করতে চাচ্ছো? সুতরাং আল্লাহ আমাকে যা (যে নবুওয়্যাত, ক্ষমতা ও সম্পদ) দিয়েছেন, তা তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তা থেকে উত্তম; (এসব উপঢৌকনে আমার কোন কাজ নেই) বরং তোমরা তোমাদের উপঢৌকন নিয়ে খুশি হও।’

  37. ৩৭

    ٱرۡجِعۡ إِلَيۡهِمۡ فَلَنَأۡتِيَنَّهُم بِجُنُودٖ لَّا قِبَلَ لَهُم بِهَا وَلَنُخۡرِجَنَّهُم مِّنۡهَآ أَذِلَّةٗ وَهُمۡ صَٰغِرُونَ

    ‘তোমরা তাদের কাছে ফিরে যাও। তারপর আমি অবশ্যই তাদের কাছে এমন সৈন্যবাহিনী নিয়ে আসবো যাদের মোকাবেলা করার শক্তি তাদের নেই। আর (তারা আত্মসমর্পণ না করলে) আমি অবশ্যই তাদেরকে সেখান থেকে লাঞ্ছিত অবস্থায় বের করে দিবো, এবং (পরিণামে) তারা হবে অপদস্থ।’

  38. ৩৮

    قَالَ يَٰٓأَيُّهَا ٱلۡمَلَؤُاْ أَيُّكُمۡ يَأۡتِينِي بِعَرۡشِهَا قَبۡلَ أَن يَأۡتُونِي مُسۡلِمِينَ

    সুলাইমান বললো: ‘হে পরিষদবর্গ, তারা আমার কাছে আত্মসমর্পণ করে আসার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কে তার (রানির) সিংহাসন আমার কাছে নিয়ে আসতে পারবে?’

  39. ৩৯

    قَالَ عِفۡرِيتٞ مِّنَ ٱلۡجِنِّ أَنَا۠ ءَاتِيكَ بِهِۦ قَبۡلَ أَن تَقُومَ مِن مَّقَامِكَۖ وَإِنِّي عَلَيۡهِ لَقَوِيٌّ أَمِينٞ

    এক শক্তিশালী জিন উত্তরে বললো: ‘আপনি আপনার স্থান থেকে উঠার পূর্বেই আমি তা এনে দিবো। আমি নিশ্চয়ই এই ব্যাপারে শক্তিমান, বিশ্বস্ত।’

  40. ৪০

    قَالَ ٱلَّذِي عِندَهُۥ عِلۡمٞ مِّنَ ٱلۡكِتَٰبِ أَنَا۠ ءَاتِيكَ بِهِۦ قَبۡلَ أَن يَرۡتَدَّ إِلَيۡكَ طَرۡفُكَۚ فَلَمَّا رَءَاهُ مُسۡتَقِرًّا عِندَهُۥ قَالَ هَٰذَا مِن فَضۡلِ رَبِّي لِيَبۡلُوَنِيٓ ءَأَشۡكُرُ أَمۡ أَكۡفُرُۖ وَمَن شَكَرَ فَإِنَّمَا يَشۡكُرُ لِنَفۡسِهِۦۖ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ رَبِّي غَنِيّٞ كَرِيمٞ

    যার কাছে আল্লাহর কিতাবের এক বিশেষ জ্ঞান ছিল সে বললো: ‘আমি চোখের পলক পড়ার পূর্বেই সিংহাসনটি আপনার কাছে নিয়ে আসবো।’ অতঃপর যখন সুলাইমান তার সামনে (রানির সিংহাসনটি) স্থির দেখতে পেলো, তখন সে (আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে) বললো: ‘এটি আমার রবের অনুগ্রহ, যাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করেন যে, আমি কি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, না কি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আর যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে তো তার নিজের কল্যাণেই তা করে, আর যে কেউ অকৃতজ্ঞ হবে, তবে নিশ্চয় আমার রব অভাবমুক্ত, অধিক দাতা।’

  41. ৪১

    قَالَ نَكِّرُواْ لَهَا عَرۡشَهَا نَنظُرۡ أَتَهۡتَدِيٓ أَمۡ تَكُونُ مِنَ ٱلَّذِينَ لَا يَهۡتَدُونَ

    সুলাইমান বললো: ‘তোমরা তার সিংহাসনটির আকার-আকৃতি একটু পরিবর্তন করে দাও। দেখবো সে তার সিংহাসনটি চিনতে পারে, নাকি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে, যারা সঠিক পথের দিশা পায় না।’(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  42. ৪২

    فَلَمَّا جَآءَتۡ قِيلَ أَهَٰكَذَا عَرۡشُكِۖ قَالَتۡ كَأَنَّهُۥ هُوَۚ وَأُوتِينَا ٱلۡعِلۡمَ مِن قَبۡلِهَا وَكُنَّا مُسۡلِمِينَ

    অতঃপর যখন সে (রানি) আসলো, তখন তাকে বলা হলো: ‘এরূপই কি তোমার সিংহাসন?’ সে বললো: ‘এটি যেন সেটিই।’ আর (সুলাইমান) বললো: ‘আমাদেরকে ইতঃপূর্বেই (নবুওয়্যাতের) সঠিক জ্ঞান দান করা হয়েছিল এবং আমরা (আল্লাহর নিকট) আত্মসমর্পণ করেছিলাম।’(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  43. ৪৩

    وَصَدَّهَا مَا كَانَت تَّعۡبُدُ مِن دُونِ ٱللَّهِۖ إِنَّهَا كَانَتۡ مِن قَوۡمٖ كَٰفِرِينَ

    আর সে আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত করত, তা-ই তাকে (সঠিক পথে আসা থেকে) বাধা দিয়েছিল। নিশ্চয়ই সে ছিল এক কাফির সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।

  44. ৪৪

    قِيلَ لَهَا ٱدۡخُلِي ٱلصَّرۡحَۖ فَلَمَّا رَأَتۡهُ حَسِبَتۡهُ لُجَّةٗ وَكَشَفَتۡ عَن سَاقَيۡهَاۚ قَالَ إِنَّهُۥ صَرۡحٞ مُّمَرَّدٞ مِّن قَوَارِيرَۗ قَالَتۡ رَبِّ إِنِّي ظَلَمۡتُ نَفۡسِي وَأَسۡلَمۡتُ مَعَ سُلَيۡمَٰنَ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ

    (অতঃপর) তাকে (রানিকে) বলা হল: ‘তুমি প্রাসাদটিতে প্রবেশ করো।’ অতঃপর যখন সে তা দেখলো, সে তাকে এক গভীর জলাশয় ধারণা করলো এবং তার পায়ের গোছাদ্বয় খুলে ফেললো। সুলাইমান বললো: ‘এটি আসলে স্বচ্ছ কাঁচ-নির্মিত প্রাসাদ।’ সে বললো: ‘হে আমার রব, নিশ্চয় আমি (এতো দিন তোমার সাথে অন্যের পূজা করে) আমার নিজের প্রতি যলুম করেছি। আমি এখন সুলাইমানের সাথে সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করলাম।’

  45. ৪৫

    وَلَقَدۡ أَرۡسَلۡنَآ إِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمۡ صَٰلِحًا أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ فَإِذَا هُمۡ فَرِيقَانِ يَخۡتَصِمُونَ

    আর অবশ্যই আমি সামূদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই সালিহকে (এ মর্মে) পাঠিয়েছিলাম যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো। অতঃপর তারা দু’দলে বিভক্ত হয়ে বিতর্ক করছিল।

  46. ৪৬

    قَالَ يَٰقَوۡمِ لِمَ تَسۡتَعۡجِلُونَ بِٱلسَّيِّئَةِ قَبۡلَ ٱلۡحَسَنَةِۖ لَوۡلَا تَسۡتَغۡفِرُونَ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُونَ

    সালিহ (তাদের) বলল: ‘হে আমার জাতি, তোমরা কল্যাণের (রহমতের) পূর্বে কেনো অকল্যাণকে (শাস্তিকে) ত্বরান্বিত করতে চাইছো? কেন তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছো না, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হতে পারো ?’

  47. ৪৭

    قَالُواْ ٱطَّيَّرۡنَا بِكَ وَبِمَن مَّعَكَۚ قَالَ طَٰٓئِرُكُمۡ عِندَ ٱللَّهِۖ بَلۡ أَنتُمۡ قَوۡمٞ تُفۡتَنُونَ

    তারা বলল: ‘তোমার এবং তোমার সঙ্গীদের কারণে আমরা অশুভ লক্ষণ দেখছি।’ তিনি বললেন: ‘তোমাদের অশুভ লক্ষণ তো আল্লাহর কাছেই রয়েছে; বরং তোমরা এক পরীক্ষাগ্রস্ত সম্প্রদায়।’

  48. ৪৮

    وَكَانَ فِي ٱلۡمَدِينَةِ تِسۡعَةُ رَهۡطٖ يُفۡسِدُونَ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَلَا يُصۡلِحُونَ

    আর সেই (হিজর) শহরে ছিল নয়জন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, যারা (কুফরী ও গুনাহর মাধমে) জমিনে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করতো এবং সংস্কার-সংশোধনমূলক কিছু করতো না।

  49. ৪৯

    قَالُواْ تَقَاسَمُواْ بِٱللَّهِ لَنُبَيِّتَنَّهُۥ وَأَهۡلَهُۥ ثُمَّ لَنَقُولَنَّ لِوَلِيِّهِۦ مَا شَهِدۡنَا مَهۡلِكَ أَهۡلِهِۦ وَإِنَّا لَصَٰدِقُونَ

    তারা পরস্পর আল্লাহর কসম করে বলল: ‘আমরা অবশ্যই রাতের বেলায় তার (সালিহের) উপর ও তার পরিবারের উপর আক্রমণ করব, তারপর তার অভিভাবককে অবশ্যই বলব: ‘আমরা তার পরিবারের ধ্বংসের সময় উপস্থিত ছিলাম না এবং নিশ্চয়ই আমরা সত্যবাদী।’

  50. ৫০

    وَمَكَرُواْ مَكۡرٗا وَمَكَرۡنَا مَكۡرٗا وَهُمۡ لَا يَشۡعُرُونَ

    আর তারা (সালিহ ও তার মু’মিন অনুসারীদেরকে হত্যার) এক চক্রান্ত করলো এবং আমিও (কাফিরদেরকে ধ্বংস করার) কৌশল অবলম্বন করলাম; অথচ তারা উপলদ্ধিও করতে পারলো না।

  51. ৫১

    فَٱنظُرۡ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ مَكۡرِهِمۡ أَنَّا دَمَّرۡنَٰهُمۡ وَقَوۡمَهُمۡ أَجۡمَعِينَ

    অতএব দেখো, তাদের চক্রান্তের পরিণাম কীরূপ হয়েছিল। আমি তাদেরকে ও তাদের জাতির সকলকে (শাস্তির মাধ্যমে) মূলোৎপাটন করে দিয়েছি।

  52. ৫২

    فَتِلۡكَ بُيُوتُهُمۡ خَاوِيَةَۢ بِمَا ظَلَمُوٓاْۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَةٗ لِّقَوۡمٖ يَعۡلَمُونَ

    সুতরাং (ছাদসমেত ধসে পড়া) ঐগুলো তাদের বাড়িঘর, যা তাদের যুলমের কারণে বিরান হয়ে আছে। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে সে জাতির জন্য যারা জ্ঞান রাখে।

  53. ৫৩

    وَأَنجَيۡنَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَكَانُواْ يَتَّقُونَ

    আর আমি মু’মিনদের মুক্তি দিলাম এবং তারা ছিল আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয়কারী।

  54. ৫৪

    وَلُوطًا إِذۡ قَالَ لِقَوۡمِهِۦٓ أَتَأۡتُونَ ٱلۡفَٰحِشَةَ وَأَنتُمۡ تُبۡصِرُونَ

    আর (হে রাসূল!) স্মরণ করো লূতের কথা, যখন সে তার জাতিকে বলেছিল, ‘তোমরা জেনে-শুনে প্রকাশ্যে কেন অশ্লীল কাজ (সমকামিতা) করছো?’

  55. ৫৫

    أَئِنَّكُمۡ لَتَأۡتُونَ ٱلرِّجَالَ شَهۡوَةٗ مِّن دُونِ ٱلنِّسَآءِۚ بَلۡ أَنتُمۡ قَوۡمٞ تَجۡهَلُونَ

    ‘তোমরা কি যৌনতৃপ্তি নিবারণের জন্য নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের কাছেই আসবে? বরং তোমরা এক মূর্খ জাতি।’

  56. ৫৬

    ۞ فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوۡمِهِۦٓ إِلَّآ أَن قَالُوٓاْ أَخۡرِجُوٓاْ ءَالَ لُوطٖ مِّن قَرۡيَتِكُمۡۖ إِنَّهُمۡ أُنَاسٞ يَتَطَهَّرُونَ

    তখন তার জাতির একমাত্র জবাব এই ছিল যে, ‘লূতের পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। নিশ্চয় এরা এমন লোক, যারা (নাপাক ও অশ্লীল কাজ থেকে) পবিত্র থাকতে চায়।’

  57. ৫৭

    فَأَنجَيۡنَٰهُ وَأَهۡلَهُۥٓ إِلَّا ٱمۡرَأَتَهُۥ قَدَّرۡنَٰهَا مِنَ ٱلۡغَٰبِرِينَ

    অতএব আমি তাকে ও তার পরিবারকে মুক্তি দিলাম; তবে তার স্ত্রীকে ছাড়া। আমি তাকে ধ্বংসপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম।

  58. ৫৮

    وَأَمۡطَرۡنَا عَلَيۡهِم مَّطَرٗاۖ فَسَآءَ مَطَرُ ٱلۡمُنذَرِينَ

    আর আমি তাদের ওপর মুষলধারে পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। (শাস্তির) ভয়-ভীতি প্রদর্শিতদের জন্য কতইনা নিকৃষ্ট ছিল এই বৃষ্টি!

  59. ৫৯

    قُلِ ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ وَسَلَٰمٌ عَلَىٰ عِبَادِهِ ٱلَّذِينَ ٱصۡطَفَىٰٓۗ ءَآللَّهُ خَيۡرٌ أَمَّا يُشۡرِكُونَ

    (হে রাসূল! তুমি আল্লাহর প্রশংসা করে) বলো: ‘সকল প্রশংসা আল্লাহরই। আর শান্তি তাঁর বান্দাদের প্রতি যাদের তিনি মনোনীত করেছেন। আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, না কি যাদের এরা শরীক করে তারা’?

  60. ৬০

    أَمَّنۡ خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ وَأَنزَلَ لَكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءٗ فَأَنۢبَتۡنَا بِهِۦ حَدَآئِقَ ذَاتَ بَهۡجَةٖ مَّا كَانَ لَكُمۡ أَن تُنۢبِتُواْ شَجَرَهَآۗ أَءِلَٰهٞ مَّعَ ٱللَّهِۚ بَلۡ هُمۡ قَوۡمٞ يَعۡدِلُونَ

    নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ), যিনি আসমানসমূহ ও জমিনকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য তিনি আসমান থেকে (বৃষ্টির) পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর তা দ্বারা আমি মনোরম বাগান সৃষ্টি করি। এ বাগানগুলোর বৃক্ষাদি উৎপন্ন করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তারা এমন একজাতি যারা শিরক করে।

  61. ৬১

    أَمَّن جَعَلَ ٱلۡأَرۡضَ قَرَارٗا وَجَعَلَ خِلَٰلَهَآ أَنۡهَٰرٗا وَجَعَلَ لَهَا رَوَٰسِيَ وَجَعَلَ بَيۡنَ ٱلۡبَحۡرَيۡنِ حَاجِزًاۗ أَءِلَٰهٞ مَّعَ ٱللَّهِۚ بَلۡ أَكۡثَرُهُمۡ لَا يَعۡلَمُونَ

    নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ), যিনি জমিনকে আবাসযোগ্য করেছেন এবং তার মধ্যে প্রবাহিত করেছেন নদী-নালা। আর তাতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা এবং (লবণাক্ত ও সুমিষ্ট পানির) দুই সাগরের মধ্যখানে সৃষ্টি করেছেন অন্তরায়। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।

  62. ৬২

    أَمَّن يُجِيبُ ٱلۡمُضۡطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكۡشِفُ ٱلسُّوٓءَ وَيَجۡعَلُكُمۡ خُلَفَآءَ ٱلۡأَرۡضِۗ أَءِلَٰهٞ مَّعَ ٱللَّهِۚ قَلِيلٗا مَّا تَذَكَّرُونَ

    নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ), যিনি নিরুপায় ব্যক্তির ডাকে সাড়া দেন, যখন সে (বিপদের পড়ে) তাঁকে ডাকে এবং তিনি বিপদ দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে জমিনের প্রতিনিধি বানান। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? তোমরা কমই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো।

  63. ৬৩

    أَمَّن يَهۡدِيكُمۡ فِي ظُلُمَٰتِ ٱلۡبَرِّ وَٱلۡبَحۡرِ وَمَن يُرۡسِلُ ٱلرِّيَٰحَ بُشۡرَۢا بَيۡنَ يَدَيۡ رَحۡمَتِهِۦٓۗ أَءِلَٰهٞ مَّعَ ٱللَّهِۚ تَعَٰلَى ٱللَّهُ عَمَّا يُشۡرِكُونَ

    নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ), যিনি তোমাদেরকে (তারকা ও নিদর্শনাবলির মাধ্যমে) স্থলে ও সমুদ্রের (গভীর) অন্ধকারে পথ দেখান এবং যিনি স্বীয় রহমতের (বৃষ্টি নাযিল হওয়ার) প্রাক্কালে সুসংবাদবাহী বাতাস প্রেরণ করেন। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোন ইলাহ আছে? তারা যা কিছু শরীক করে আল্লাহ তা থেকে ঊর্ধ্বে (পূত ও পবিত্র)।

  64. ৬৪

    أَمَّن يَبۡدَؤُاْ ٱلۡخَلۡقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ وَمَن يَرۡزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِۗ أَءِلَٰهٞ مَّعَ ٱللَّهِۚ قُلۡ هَاتُواْ بُرۡهَٰنَكُمۡ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ

    নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ), যিনি (মাতৃগর্ভে) সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তিনি মৃত্যুর পর তাকে আবারো জীবিত করবেন এবং যিনি তোমাদেরকে আসমান ও জমিন থেকে রিযক দান করেন। আল্লাহর সাথে কি কোনো ইলাহ আছে? (হে রাসূল! তুমি এ মুশরিকদেরকে) বলো: ‘তোমাদের প্রমাণ নিয়ে এসো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’

  65. ৬৫

    قُل لَّا يَعۡلَمُ مَن فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ ٱلۡغَيۡبَ إِلَّا ٱللَّهُۚ وَمَا يَشۡعُرُونَ أَيَّانَ يُبۡعَثُونَ

    (হে রাসূল!) বলো: ‘আল্লাহ ছাড়া আসমানসমূহে ও জমিনে যারা আছে তারা কেউ গায়িব জানে না। আর (প্রতিদানের জন্য কবর থেকে) কখন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে, তাও তারা অনুভব করতে পারে না।’

  66. ৬৬

    بَلِ ٱدَّٰرَكَ عِلۡمُهُمۡ فِي ٱلۡأٓخِرَةِۚ بَلۡ هُمۡ فِي شَكّٖ مِّنۡهَاۖ بَلۡ هُم مِّنۡهَا عَمُونَ

    বরং আখিরাত সম্পর্কে তাদের জ্ঞান নিঃশেষ হয়ে গেছে; মূলত তারা এ বিষয়ে সন্দেহে আছে; বরং তারা (তাদের দূরদৃষ্টি) এ ব্যাপারে (সম্পূর্ণ) অন্ধ।

  67. ৬৭

    وَقَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ أَءِذَا كُنَّا تُرَٰبٗا وَءَابَآؤُنَآ أَئِنَّا لَمُخۡرَجُونَ

    আর কাফিররা বলে: ‘আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষরা যখন মাটি হয়ে যাবো, তখনোও কি আমাদেরকে পুনরায় (জীবিত করে) বের করা করা হবে?’

  68. ৬৮

    لَقَدۡ وُعِدۡنَا هَٰذَا نَحۡنُ وَءَابَآؤُنَا مِن قَبۡلُ إِنۡ هَٰذَآ إِلَّآ أَسَٰطِيرُ ٱلۡأَوَّلِينَ

    ইতঃপূর্বে আমাদেরকে ও আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে (পুনরুত্থানের) এ বিষয়ে ওয়াদা দেয়া হয়েছিল(১), ‘এটি প্রাচীন লোকদের উপকথা ছাড়া কিছুই নয়।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  69. ৬৯

    قُلۡ سِيرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَٱنظُرُواْ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلۡمُجۡرِمِينَ

    (হে রাসূল! পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদেরকে) বলুন, ‘তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো, তারপর দেখো, অপরাধীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।’

  70. ৭০

    وَلَا تَحۡزَنۡ عَلَيۡهِمۡ وَلَا تَكُن فِي ضَيۡقٖ مِّمَّا يَمۡكُرُونَ

    আর (হে রাসূল! মুশরিকদের মুখ ফিরিয়ে নেয়ার দরুন) তাদের জন্য দুঃখ করো না এবং তারা যে ষড়যন্ত্র করে, তাতে মনক্ষুণ্ন হয়ো না।

  71. ৭১

    وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا ٱلۡوَعۡدُ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ

    আর তারা বলে, ‘এই প্রতিশ্রুতি কবে (বাস্তবায়িত হবে বলো), যদি তোমরা সত্যবাদী হও?’

  72. ৭২

    قُلۡ عَسَىٰٓ أَن يَكُونَ رَدِفَ لَكُم بَعۡضُ ٱلَّذِي تَسۡتَعۡجِلُونَ

    (হে রাসূল! তুমি তাদেরকে) বলো: ‘আশা করা যায়, তোমরা (শাস্তি নাযিলের) যে বিষয় দ্রুত কামনা করছো, তা অতি নিকটে।’

  73. ৭৩

    وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو فَضۡلٍ عَلَى ٱلنَّاسِ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَهُمۡ لَا يَشۡكُرُونَ

    আর নিশ্চয় তোমার রব, মানুষের প্রতি অতি অনুগ্রহশীল(১); কিন্তু তাদের অধিকাংশই (এ নি‘আমতের) কৃতজ্ঞতা আদায় করে না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  74. ৭৪

    وَإِنَّ رَبَّكَ لَيَعۡلَمُ مَا تُكِنُّ صُدُورُهُمۡ وَمَا يُعۡلِنُونَ

    আর তোমার রব অবশ্যই জানেন তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে।

  75. ৭৫

    وَمَا مِنۡ غَآئِبَةٖ فِي ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِ إِلَّا فِي كِتَٰبٖ مُّبِينٍ

    আর আসমান ও জমিনে এমন কোনো অদৃশ্য বিষয় নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে (লাওহে মাহফূযে) লিপিবদ্ধ নেই।

  76. ৭৬

    إِنَّ هَٰذَا ٱلۡقُرۡءَانَ يَقُصُّ عَلَىٰ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ أَكۡثَرَ ٱلَّذِي هُمۡ فِيهِ يَخۡتَلِفُونَ

    বানূ ইসরাঈল যে সব বিষয়ে মতভেদ করত, নিশ্চয় এ আল কুরআন তাদের কাছে তার অধিকাংশই বর্ণনা করে।

  77. ৭৭

    وَإِنَّهُۥ لَهُدٗى وَرَحۡمَةٞ لِّلۡمُؤۡمِنِينَ

    আর নিশ্চয় এটি মু’মিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।

  78. ৭৮

    إِنَّ رَبَّكَ يَقۡضِي بَيۡنَهُم بِحُكۡمِهِۦۚ وَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡعَلِيمُ

    নিশ্চয় তোমার রব (কিয়ামতের দিন) নিজের ন্যায়বিচার-প্রজ্ঞা দ্বারা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিবেন। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ।

  79. ৭৯

    فَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِۖ إِنَّكَ عَلَى ٱلۡحَقِّ ٱلۡمُبِينِ

    অতএব (হে রাসূল! তুমি সকল ব্যাপারে) আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করো; কারণ তুমি সুস্পষ্ট সত্যের ওপর অধিষ্ঠিত আছো।

  80. ৮০

    إِنَّكَ لَا تُسۡمِعُ ٱلۡمَوۡتَىٰ وَلَا تُسۡمِعُ ٱلصُّمَّ ٱلدُّعَآءَ إِذَا وَلَّوۡاْ مُدۡبِرِينَ

    (হে রাসূল!) তুমি মৃতদের শুনাতে পারো না, আর বধিরদেরও আহ্বান শুনাতে পারো না, যখন তারা পিঠ ফিরিয়ে চলে যায়।

  81. ৮১

    وَمَآ أَنتَ بِهَٰدِي ٱلۡعُمۡيِ عَن ضَلَٰلَتِهِمۡۖ إِن تُسۡمِعُ إِلَّا مَن يُؤۡمِنُ بِـَٔايَٰتِنَا فَهُم مُّسۡلِمُونَ

    আর তুমি (সত্য দেখার ব্যাপারে) অন্ধদেরকে তাদের ভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াতকারী নও। তুমি কেবল তাদেরকেই (হিদায়াতের ডাক) শোনাতে পারবে, যারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে, আর তারাই আত্মসমর্পণকারী।

  82. ৮২

    ۞ وَإِذَا وَقَعَ ٱلۡقَوۡلُ عَلَيۡهِمۡ أَخۡرَجۡنَا لَهُمۡ دَآبَّةٗ مِّنَ ٱلۡأَرۡضِ تُكَلِّمُهُمۡ أَنَّ ٱلنَّاسَ كَانُواْ بِـَٔايَٰتِنَا لَا يُوقِنُونَ

    আর যখন (কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে) তাদের ওপর ঘোষিত শাস্তি আসবে, তখন আমি জমিন থেকে একটি জন্তু (দাব্বাতুল আরদ) (১) বের করব, যে তাদের সাথে কথা বলবে। কারণ মানুষ আমার আয়াতসমূহে সুদৃঢ় বিশ্বাস রাখতো না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  83. ৮৩

    وَيَوۡمَ نَحۡشُرُ مِن كُلِّ أُمَّةٖ فَوۡجٗا مِّمَّن يُكَذِّبُ بِـَٔايَٰتِنَا فَهُمۡ يُوزَعُونَ

    আর (হে রাসূল!) স্মরণ করো সেদিনের কথা, যেদিন আমি দলে দলে সমবেত করবো, প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একেকটি দলকে, যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করতো। অতঃপর তাদেরকে (হিসাবের দিকে) হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

  84. ৮৪

    حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءُو قَالَ أَكَذَّبۡتُم بِـَٔايَٰتِي وَلَمۡ تُحِيطُواْ بِهَا عِلۡمًا أَمَّاذَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ

    অবশেষে যখন তারা (আল্লাহর কাছে) উপস্থিত হবে, তখন তিনি বলবেন: ‘তোমরা কি আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলে, অথচ সেগুলোকে যথার্থভাবে বুঝে উঠতে পারনি? নাকি (এসবের ব্যাপারে) তোমরা কী করছিলে- (বিশ্বাস না অবিশ্বাস)?’(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  85. ৮৫

    وَوَقَعَ ٱلۡقَوۡلُ عَلَيۡهِم بِمَا ظَلَمُواْ فَهُمۡ لَا يَنطِقُونَ

    আর যুলমের কারণে তাদের ওপর ঘোষিত শাস্তি পতিত হবে, ফলে তারা (নিজেদের অক্ষমতা ও বাতিলের কারণে) কিছুই বলতে পারবে না।

  86. ৮৬

    أَلَمۡ يَرَوۡاْ أَنَّا جَعَلۡنَا ٱلَّيۡلَ لِيَسۡكُنُواْ فِيهِ وَٱلنَّهَارَ مُبۡصِرًاۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّقَوۡمٖ يُؤۡمِنُونَ

    তারা (এ পুনরুত্থান অস্বীকারকারীরা) কি দেখে না যে, আমি রাতকে সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং (তাদের কাজের প্রতি মনোনিবেশ করতে) দিনকে করেছি আলোকিত? নিশ্চয় এতে নিদর্শনাবলি রয়েছে সেই জাতির জন্য যারা ঈমান এনেছে।

  87. ৮৭

    وَيَوۡمَ يُنفَخُ فِي ٱلصُّورِ فَفَزِعَ مَن فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَن فِي ٱلۡأَرۡضِ إِلَّا مَن شَآءَ ٱللَّهُۚ وَكُلٌّ أَتَوۡهُ دَٰخِرِينَ

    আর যেদিন শিঙ্গায় (প্রথম বার) ফুঁক দেয়া হবে, সেদিন আসমানসমূহ ও জমিনে যারা আছে সবাই ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে; তবে আল্লাহ যাদেরকে চাইবেন তারা ছাড়া। আর সেদিন সবাই তাঁর কাছে হীন-অনুগত অবস্থায় উপস্থিত হবে।

  88. ৮৮

    وَتَرَى ٱلۡجِبَالَ تَحۡسَبُهَا جَامِدَةٗ وَهِيَ تَمُرُّ مَرَّ ٱلسَّحَابِۚ صُنۡعَ ٱللَّهِ ٱلَّذِيٓ أَتۡقَنَ كُلَّ شَيۡءٍۚ إِنَّهُۥ خَبِيرُۢ بِمَا تَفۡعَلُونَ

    আর তুমি পাহাড়গুলোকে দেখবে, তুমি সেগুলোকে স্থির মনে করবে, অথচ সেগুলো মেঘের মতো চলমান। এটি আল্লাহর নিপুণ সৃষ্টি, যিনি সবকিছুকে সুদৃঢ়ভাবে নির্মাণ করেছেন। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, সে বিষয়ে তিনি সম্যক অবহিত।

  89. ৮৯

    مَن جَآءَ بِٱلۡحَسَنَةِ فَلَهُۥ خَيۡرٞ مِّنۡهَا وَهُم مِّن فَزَعٖ يَوۡمَئِذٍ ءَامِنُونَ

    (কিয়ামতের দিন) যে ব্যক্তি (ঈমান ও) সৎকাজ নিয়ে আসবে, তার জন্য থাকবে, তা থেকে উত্তম প্রতিদান (জান্নাত) এবং তারা সেদিনের ভীতিকর অবস্থা থেকে নিরাপদ থাকবে।

  90. ৯০

    وَمَن جَآءَ بِٱلسَّيِّئَةِ فَكُبَّتۡ وُجُوهُهُمۡ فِي ٱلنَّارِ هَلۡ تُجۡزَوۡنَ إِلَّا مَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ

    আর যারা মন্দ কাজ নিয়ে আসবে, তাদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (তাদেরকে বলা হবে:) ‘তোমরা কি তোমাদের কর্মেরই প্রতিফল ব্যতীত অন্য কিছু পাচ্ছ?’

  91. ৯১

    إِنَّمَآ أُمِرۡتُ أَنۡ أَعۡبُدَ رَبَّ هَٰذِهِ ٱلۡبَلۡدَةِ ٱلَّذِي حَرَّمَهَا وَلَهُۥ كُلُّ شَيۡءٖۖ وَأُمِرۡتُ أَنۡ أَكُونَ مِنَ ٱلۡمُسۡلِمِينَ

    (হে রাসূল! তুমি বলে দাও:) আমাকে কেবল এই নগরের রবের ইবাদত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যিনি একে সম্মানিত ও নিরাপদ করেছেন।(১) আর সবকিছুর মালিকানা কেবল তাঁরই। আমাকে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমি যেন মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  92. ৯২

    وَأَنۡ أَتۡلُوَاْ ٱلۡقُرۡءَانَۖ فَمَنِ ٱهۡتَدَىٰ فَإِنَّمَا يَهۡتَدِي لِنَفۡسِهِۦۖ وَمَن ضَلَّ فَقُلۡ إِنَّمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلۡمُنذِرِينَ

    ‘আর (আমাকে আরো আদেশ করা হয়েছে) আমি যেন আল কুরআন তিলাওয়াত করি। অতঃপর যে হিদায়াত লাভ করলো, সে নিজের জন্যই হিদায়াত লাভ করলো। আর যে পথভ্রষ্ট হলো তাকে তুমি বলো: ‘আমি তো (আল্লাহর শাস্তি থেকে) একজন সতর্ককারী মাত্র।’

  93. ৯৩

    وَقُلِ ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ سَيُرِيكُمۡ ءَايَٰتِهِۦ فَتَعۡرِفُونَهَاۚ وَمَا رَبُّكَ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُونَ

    আর (হে রাসূল! তুমি আল্লাহর নি‘আমতের শুকরিয়া আদায় করে) বলো: ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর; অচিরেই তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ(১) দেখাবেন, তখন তোমরা তা চিনতে পারবে। আর তোমরা যা আমল করো, সে ব্যাপারে তোমাদের রব গাফিল নন।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

অনুবাদ: রাওয়াদ ট্রান্সলেশন সেন্টার. উৎস: QuranEnc.com, সর্বশেষ মিলিয়ে দেখা: ২৬ অক্টোবর ২০২৬.

আরবি পাঠ: বাদশাহ ফাহাদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স. সূরার তথ্য: Tanzil.net (CC BY 3.0).

এটি কুরআনের অর্থের অনুবাদ। মানুষের যেকোনো কাজের মতো এতে ভুল থাকতে পারে।