আল-মুদ্দাসসির
المدثر
بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
-
১
يَٰٓأَيُّهَا ٱلۡمُدَّثِّرُ
হে বস্ত্রাচ্ছাদিত (নবী)!
-
২
قُمۡ فَأَنذِرۡ
ওঠ, এবং (মানুষকে) আল্লাহর শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করো।
-
৩
وَرَبَّكَ فَكَبِّرۡ
আর তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো।
-
৪
وَثِيَابَكَ فَطَهِّرۡ
আর তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র করো।
-
৫
وَٱلرُّجۡزَ فَٱهۡجُرۡ
আর অপবিত্রতা (শিরক) বর্জন করো।
-
৬
وَلَا تَمۡنُن تَسۡتَكۡثِرُ
আর অধিক নেক আমল দ্বারা স্বীয় রবের ওপর অনুগ্রহ প্রদর্শন করো না।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৭
وَلِرَبِّكَ فَٱصۡبِرۡ
আর তোমার রবের উদ্দেশ্যে ধৈর্যধারণ করো।
-
৮
فَإِذَا نُقِرَ فِي ٱلنَّاقُورِ
অতঃপর যখন (দ্বিতীয়বার) শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে,
-
৯
فَذَٰلِكَ يَوۡمَئِذٖ يَوۡمٌ عَسِيرٌ
আর সেদিন হবে কঠিন সংকটের দিন।
-
১০
عَلَى ٱلۡكَٰفِرِينَ غَيۡرُ يَسِيرٖ
যা কাফিরদের জন্য সহজ নয়।
-
১১
ذَرۡنِي وَمَنۡ خَلَقۡتُ وَحِيدٗا
(হে রাসূল!) আমাকে এবং আমি যাকে (তার মায়ের পেটে) একা সৃষ্টি করেছি, তাকে আমার ওপর ছেড়ে দাও।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
১২
وَجَعَلۡتُ لَهُۥ مَالٗا مَّمۡدُودٗا
আর আমি তাকে দিয়েছি অঢেল ধন-সম্পদ,
-
১৩
وَبَنِينَ شُهُودٗا
আর (তার আচার-অনুষ্ঠানে) উপস্থিত পুত্রগণ।
-
১৪
وَمَهَّدتُّ لَهُۥ تَمۡهِيدٗا
আর তার জন্য (জীবনের) সবকিছু সুপ্রস্তুত ও সহজ করে দিয়েছি।
-
১৫
ثُمَّ يَطۡمَعُ أَنۡ أَزِيدَ
এরপরও সে লোভ করে যে, আমি তাকে আরও বেশি দান করি।
-
১৬
كَلَّآۖ إِنَّهُۥ كَانَ لِأٓيَٰتِنَا عَنِيدٗا
কখনো নয়, নিশ্চয় সে ছিল আমার নিদর্শনাবলির ঘোর বিরুদ্ধাচারী।
-
১৭
سَأُرۡهِقُهُۥ صَعُودًا
আমি অচিরেই তাকে এক কঠিন আরোহনের (কষ্টকর শাস্তির) মুখোমুখি করব।
-
১৮
إِنَّهُۥ فَكَّرَ وَقَدَّرَ
নিশ্চয় সে চিন্তা ভাবনা করলো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো।
-
১৯
فَقُتِلَ كَيۡفَ قَدَّرَ
অতঃপর সে ধ্বংস হোক! কীভাবে সে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো?
-
২০
ثُمَّ قُتِلَ كَيۡفَ قَدَّرَ
তারপর সে ধ্বংস হোক! কীভাবে সে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো?
-
২১
ثُمَّ نَظَرَ
অতঃপর সে (কী বলবে তা ভেবে) তাকাল।
-
২২
ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ
তারপর সে (১) ভ্রূ-কুঞ্চিত করলো এবং মুখ বিকৃত করলো।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
২৩
ثُمَّ أَدۡبَرَ وَٱسۡتَكۡبَرَ
তারপর সে পিছনে ফিরলো এবং অহংকার করলো।
-
২৪
فَقَالَ إِنۡ هَٰذَآ إِلَّا سِحۡرٞ يُؤۡثَرُ
অতঃপর সে বলল, ‘এ তো কেবল এক যাদু, যা (পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে) বর্ণিত হয়ে আসছে।’
-
২৫
إِنۡ هَٰذَآ إِلَّا قَوۡلُ ٱلۡبَشَرِ
‘এটা তো মানুষের কথা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
-
২৬
سَأُصۡلِيهِ سَقَرَ
অচিরেই আমি তাকে ‘সাকার’-এ (জাহান্নামে) প্রবেশ করাব।
-
২৭
وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا سَقَرُ
আর (হে রাসূল!) কীসে তোমাকে জানাবে, ‘সাকার’ (জাহান্নাম) কী?
-
২৮
لَا تُبۡقِي وَلَا تَذَرُ
এটা (শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির অঙ্গ) অবশিষ্টও রাখবে না এবং ছেড়েও দেবে না।
-
২৯
لَوَّاحَةٞ لِّلۡبَشَرِ
সেটা চামড়াকে দগ্ধ করে কালো করে দিবে।
-
৩০
عَلَيۡهَا تِسۡعَةَ عَشَرَ
তার (সাক্বারের) ওপর (নিয়োজিত) রয়েছে, ঊনিশজন (প্রহরী ফিরিশতা)।
-
৩১
وَمَا جَعَلۡنَآ أَصۡحَٰبَ ٱلنَّارِ إِلَّا مَلَٰٓئِكَةٗۖ وَمَا جَعَلۡنَا عِدَّتَهُمۡ إِلَّا فِتۡنَةٗ لِّلَّذِينَ كَفَرُواْ لِيَسۡتَيۡقِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ وَيَزۡدَادَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِيمَٰنٗا وَلَا يَرۡتَابَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَ وَلِيَقُولَ ٱلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٞ وَٱلۡكَٰفِرُونَ مَاذَآ أَرَادَ ٱللَّهُ بِهَٰذَا مَثَلٗاۚ كَذَٰلِكَ يُضِلُّ ٱللَّهُ مَن يَشَآءُ وَيَهۡدِي مَن يَشَآءُۚ وَمَا يَعۡلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَۚ وَمَا هِيَ إِلَّا ذِكۡرَىٰ لِلۡبَشَرِ
আর আমি জাহান্নামের প্রহরী হিসেবে ফেরেশতাদেরই নিযুক্ত করেছি। আর তাদের (প্রহরীদের) সংখ্যা আমি কেবল কাফিরদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ নির্ধারণ করেছি, যাতে আহলে কিতাবরা নিশ্চিত বিশ্বাস লাভ করে, মুমিনদের ঈমান আরও বৃদ্ধি পায়, আহলে কিতাব ও মুমিনরা কোনো সন্দেহে না থাকে, আর যাদের অন্তরে রোগ রয়েছে এবং কাফিররা বলতে থাকে, ‘আল্লাহ এ উদাহরণ দ্বারা কী বোঝাতে চেয়েছেন?’ এভাবেই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। আর আপনার রবের বাহিনী সম্পর্কে তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না। আর এটি তো মানুষের জন্য উপদেশ ছাড়া আর কিছুই নয়।
-
৩২
كَلَّا وَٱلۡقَمَرِ
কখনোই নয়, চাঁদের শপথ!
-
৩৩
وَٱلَّيۡلِ إِذۡ أَدۡبَرَ
রাতের শপথ, যখন তা বিদায় নেয়,
-
৩৪
وَٱلصُّبۡحِ إِذَآ أَسۡفَرَ
প্রভাতের শপথ, যখন তা আলো ছড়ায়,
-
৩৫
إِنَّهَا لَإِحۡدَى ٱلۡكُبَرِ
নিশ্চয় জাহান্নামের আগুন মহাবিপদসমূহের অন্যতম।
-
৩৬
نَذِيرٗا لِّلۡبَشَرِ
মানুষের জন্য (তা হবে) ভয়-ভীতি প্রদর্শনকারী,
-
৩৭
لِمَن شَآءَ مِنكُمۡ أَن يَتَقَدَّمَ أَوۡ يَتَأَخَّرَ
তোমাদের মধ্যে যে (ঈমান ও নেক আমলের মাধ্যমে) সামনের দিকে অগ্রসর হতে চায় অথবা (কুফরী ও পাপাচারের মাধ্যমে) পিছিয়ে থাকতে চায় , তার জন্য।
-
৩৮
كُلُّ نَفۡسِۭ بِمَا كَسَبَتۡ رَهِينَةٌ
বস্তুত, প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ আমলের কাছেই দায়বদ্ধ।
-
৩৯
إِلَّآ أَصۡحَٰبَ ٱلۡيَمِينِ
কিন্তু ডান দিকের (মু’মিন) লোকেরা নয়,
-
৪০
فِي جَنَّٰتٖ يَتَسَآءَلُونَ
তারা থাকবে জান্নাতসমূহে। সেখানে তারা একে অপরকে জিজ্ঞেস করবে,
-
৪১
عَنِ ٱلۡمُجۡرِمِينَ
অপরাধীদের সম্পর্কে,
-
৪২
مَا سَلَكَكُمۡ فِي سَقَرَ
কিসে তোমাদেরকে ‘সাকার’-এ (জাহান্নামে) প্রবেশ করালো?
-
৪৩
قَالُواْ لَمۡ نَكُ مِنَ ٱلۡمُصَلِّينَ
তারা বলবে: ‘(দুনিয়ার জীবনে) আমরা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।’
-
৪৪
وَلَمۡ نَكُ نُطۡعِمُ ٱلۡمِسۡكِينَ
‘আর আমরা অভাবগ্রস্তকে খাবার দিতাম না।’
-
৪৫
وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ ٱلۡخَآئِضِينَ
‘আর আমরা (সত্যের বিরুদ্ধে) অনর্থক আলাপকারীদের সাথে মগ্ন থাকতাম।’
-
৪৬
وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوۡمِ ٱلدِّينِ
‘আর আমরা প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করতাম।’
-
৪৭
حَتَّىٰٓ أَتَىٰنَا ٱلۡيَقِينُ
‘অবশেষে (এ অবস্থায়ই) আমাদের কাছে মৃত্যু আগমন করলো।’
-
৪৮
فَمَا تَنفَعُهُمۡ شَفَٰعَةُ ٱلشَّٰفِعِينَ
ফলে (কিয়ামত দিবসে) সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকারে আসবে না।
-
৪৯
فَمَا لَهُمۡ عَنِ ٱلتَّذۡكِرَةِ مُعۡرِضِينَ
অতঃপর তাদের কী হয়েছে যে, তারা উপদেশ বাণী আল-কুরআন হতে বিমুখ রয়েছে?
-
৫০
كَأَنَّهُمۡ حُمُرٞ مُّسۡتَنفِرَةٞ
তারা (আল-কুরআন থেকে পলায়নে) যেন ভীত-সন্ত্রস্ত পলায়নকারী বন্য গাধা।
-
৫১
فَرَّتۡ مِن قَسۡوَرَةِۭ
যারা সিংহের ভয়ে পলায়ন করেছে।
-
৫২
بَلۡ يُرِيدُ كُلُّ ٱمۡرِيٕٖ مِّنۡهُمۡ أَن يُؤۡتَىٰ صُحُفٗا مُّنَشَّرَةٗ
বরং তাদের মধ্যকার প্রত্যেক (মুশরিক) ব্যক্তিই কামনা করে যে, তাকে উন্মুক্ত গ্রন্থ প্রদান করা হোক।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৫৩
كَلَّاۖ بَل لَّا يَخَافُونَ ٱلۡأٓخِرَةَ
কখনও নয়! বরং তারা আখিরাতকে ভয় করে না।
-
৫৪
كَلَّآ إِنَّهُۥ تَذۡكِرَةٞ
কখনো নয়! নিশ্চয় এ (আল-কুরআন) এক উপদেশবাণী।
-
৫৫
فَمَن شَآءَ ذَكَرَهُۥ
অতএব যার ইচ্ছা সে তা (আল-কুরআন) থেকে উপদেশ গ্রহণ করুক।
-
৫৬
وَمَا يَذۡكُرُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُۚ هُوَ أَهۡلُ ٱلتَّقۡوَىٰ وَأَهۡلُ ٱلۡمَغۡفِرَةِ
আর আল্লাহ ইচ্ছা না করলে তারা (এ আল-কুরআন থেকে) উপদেশ গ্রহণ করবে না। তিনিই একমাত্র সেই সত্তা, যাঁকে ভয় করা উচিত এবং তিনিই ক্ষমা করার অধিকারী।
অনুবাদ: রাওয়াদ ট্রান্সলেশন সেন্টার. উৎস: QuranEnc.com, সর্বশেষ মিলিয়ে দেখা: ২৬ অক্টোবর ২০২৬.
আরবি পাঠ: বাদশাহ ফাহাদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স. সূরার তথ্য: Tanzil.net (CC BY 3.0).
এটি কুরআনের অর্থের অনুবাদ। মানুষের যেকোনো কাজের মতো এতে ভুল থাকতে পারে।