আল-ইনসান
الانسان
بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
-
১
هَلۡ أَتَىٰ عَلَى ٱلۡإِنسَٰنِ حِينٞ مِّنَ ٱلدَّهۡرِ لَمۡ يَكُن شَيۡـٔٗا مَّذۡكُورًا
মানুষের উপর কি এমন এক সুদীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়নি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?
-
২
إِنَّا خَلَقۡنَا ٱلۡإِنسَٰنَ مِن نُّطۡفَةٍ أَمۡشَاجٖ نَّبۡتَلِيهِ فَجَعَلۡنَٰهُ سَمِيعَۢا بَصِيرًا
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি (পুরুষ ও নারীর) মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, আমি তাকে পরীক্ষা করব(১), ফলে আমি তাকে বানিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৩
إِنَّا هَدَيۡنَٰهُ ٱلسَّبِيلَ إِمَّا شَاكِرٗا وَإِمَّا كَفُورًا
অবশ্যই আমি তাকে (রাসূলগণের মাধ্যমে) হিদায়াতের পথ প্রদর্শন করেছি, হয় সে (সে পথ অনুসরণ করে) কৃতজ্ঞ হবে অথবা (সে পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে) অকৃতজ্ঞ হবে।
-
৪
إِنَّآ أَعۡتَدۡنَا لِلۡكَٰفِرِينَ سَلَٰسِلَاْ وَأَغۡلَٰلٗا وَسَعِيرًا
নিশ্চয় আমি কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি শেকল, বেড়ি ও প্রজ্বলিত আগুন।
-
৫
إِنَّ ٱلۡأَبۡرَارَ يَشۡرَبُونَ مِن كَأۡسٖ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُورًا
নিশ্চয় সৎকর্মশীলরা জান্নাতে এমন পানপাত্র থেকে (পবিত্র শরাব) পান করবে যাতে মিশ্রণ করা হবে (সুগন্ধ) কাফূর (কর্পূর)।
-
৬
عَيۡنٗا يَشۡرَبُ بِهَا عِبَادُ ٱللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفۡجِيرٗا
এমন এক ঝর্ণা যা থেকে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে, তারা এটিকে যথেচ্ছা প্রবাহিত করবে।
-
৭
يُوفُونَ بِٱلنَّذۡرِ وَيَخَافُونَ يَوۡمٗا كَانَ شَرُّهُۥ مُسۡتَطِيرٗا
তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেদিনকে ভয় করে, যার অকল্যাণ হবে অনেক বিস্তীর্ণ।
-
৮
وَيُطۡعِمُونَ ٱلطَّعَامَ عَلَىٰ حُبِّهِۦ مِسۡكِينٗا وَيَتِيمٗا وَأَسِيرًا
তারা খাদ্যের প্রতি (নিজেদের প্রয়োজন ও) আসক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসকীন, ইয়াতীম ও বন্দীকে খাদ্য দান করে।
-
৯
إِنَّمَا نُطۡعِمُكُمۡ لِوَجۡهِ ٱللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنكُمۡ جَزَآءٗ وَلَا شُكُورًا
তারা বলে: ‘আমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদেরকে খাদ্য দান করি। আমরা তোমাদের থেকে কোন প্রতিদান চাই না এবং কোন কৃতজ্ঞতাও না।
-
১০
إِنَّا نَخَافُ مِن رَّبِّنَا يَوۡمًا عَبُوسٗا قَمۡطَرِيرٗا
(তারা বলে:) আমরা আমাদের রবের পক্ষ থেকে এক ভয়ংকর ভীতিপ্রদ দিবসের ভয় করি।
-
১১
فَوَقَىٰهُمُ ٱللَّهُ شَرَّ ذَٰلِكَ ٱلۡيَوۡمِ وَلَقَّىٰهُمۡ نَضۡرَةٗ وَسُرُورٗا
ফলে আল্লাহ তাদেরকে সেই দিবসের অকল্যাণ থেকে রক্ষা করলেন এবং তাদের প্রদান করলেন উজ্জ্বলতা ও উৎফুল্লতা।
-
১২
وَجَزَىٰهُم بِمَا صَبَرُواْ جَنَّةٗ وَحَرِيرٗا
আর তারা যে ধৈর্যধারণ করেছিল তার পরিণামে তিনি তাদেরকে পুরস্কারস্বরূপ প্রদান করবেন জান্নাত ও রেশমি বস্ত্র।
-
১৩
مُّتَّكِـِٔينَ فِيهَا عَلَى ٱلۡأَرَآئِكِۖ لَا يَرَوۡنَ فِيهَا شَمۡسٗا وَلَا زَمۡهَرِيرٗا
তারা সেখানে সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে থাকবে। তারা সেখানে না দেখবে অতিশয় গরম, আর না অত্যধিক ঠাণ্ডা।
-
১৪
وَدَانِيَةً عَلَيۡهِمۡ ظِلَٰلُهَا وَذُلِّلَتۡ قُطُوفُهَا تَذۡلِيلٗا
তাদের ওপর (জান্নাতের) গাছের ছায়া ঝুঁকে থাকবে এবং তার ফলমূলের থোকাসমূহ তাদের সম্পূর্ণ আয়ত্তাধীন করা হবে।
-
১৫
وَيُطَافُ عَلَيۡهِم بِـَٔانِيَةٖ مِّن فِضَّةٖ وَأَكۡوَابٖ كَانَتۡ قَوَارِيرَا۠
আর তাদের চারপাশে ঘুরে ঘুরে রৌপ্যের পাত্র ও স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ পানপাত্রে (পানীয়) পরিবেশন করা হবে।
-
১৬
قَوَارِيرَاْ مِن فِضَّةٖ قَدَّرُوهَا تَقۡدِيرٗا
রূপার ন্যায় স্বচ্ছ স্ফটিক পাত্র; যা পরিবেশনকারীরা (পানকারীদের চাহিদা অনুযায়ী) পরিমাপ করে পূর্ণ করবে।
-
১৭
وَيُسۡقَوۡنَ فِيهَا كَأۡسٗا كَانَ مِزَاجُهَا زَنجَبِيلًا
সেখানে তাদেরকে এমন এক পানপাত্র পান করানো হবে, যার মিশ্রণ হবে আদা।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
১৮
عَيۡنٗا فِيهَا تُسَمَّىٰ سَلۡسَبِيلٗا
জান্নাতের এক ঝর্ণা যার নাম হবে, সালসাবীল।
-
১৯
۞ وَيَطُوفُ عَلَيۡهِمۡ وِلۡدَٰنٞ مُّخَلَّدُونَ إِذَا رَأَيۡتَهُمۡ حَسِبۡتَهُمۡ لُؤۡلُؤٗا مَّنثُورٗا
আর তাদের চারপাশে ঘুরাফেরা করবে চিরকিশোরেরা; তুমি তাদেরকে দেখলে মনে করবে, তারা যেন কতিপয় বিক্ষিপ্ত মুক্তা।
-
২০
وَإِذَا رَأَيۡتَ ثَمَّ رَأَيۡتَ نَعِيمٗا وَمُلۡكٗا كَبِيرًا
আর তুমি যখন সেখানে দেখবে, তখন দেখতে পাবে নি‘আমতরাজি ও বিশাল সাম্রাজ্য।
-
২১
عَٰلِيَهُمۡ ثِيَابُ سُندُسٍ خُضۡرٞ وَإِسۡتَبۡرَقٞۖ وَحُلُّوٓاْ أَسَاوِرَ مِن فِضَّةٖ وَسَقَىٰهُمۡ رَبُّهُمۡ شَرَابٗا طَهُورًا
তাদের পরনের কাপড় হবে অতি সূক্ষ্ম সবুজ রেশমের পোশাক এবং মোটা রেশমের পোশাক। আর তাদেরকে পরিধান করানো হবে রূপার চুড়ি এবং তাদের রব তাদেরকে পান করাবেন পবিত্র পানীয়।
-
২২
إِنَّ هَٰذَا كَانَ لَكُمۡ جَزَآءٗ وَكَانَ سَعۡيُكُم مَّشۡكُورًا
(তাদেরকে বলা হবেঃ) ‘নিশ্চয় এটি তোমাদের পুরস্কার। আর তোমাদের প্রচেষ্টা (আমলসমূহ) ছিল প্রশংসাযোগ্য।’
-
২৩
إِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡقُرۡءَانَ تَنزِيلٗا
হে রাসূল! নিশ্চয় আমি তোমার প্রতি পর্যায়ক্রমে আল-কুরআন নাযিল করেছি।
-
২৪
فَٱصۡبِرۡ لِحُكۡمِ رَبِّكَ وَلَا تُطِعۡ مِنۡهُمۡ ءَاثِمًا أَوۡ كَفُورٗا
কাজেই তোমার রবের হুকুমের জন্য ধৈর্যধারণ করো এবং তাদের মধ্য থেকে কোন পাপিষ্ঠ বা অকৃতজ্ঞ কাফিরের আনুগত্য করো না।
-
২৫
وَٱذۡكُرِ ٱسۡمَ رَبِّكَ بُكۡرَةٗ وَأَصِيلٗا
আর সকাল-সন্ধ্যায় তোমার রবের নাম স্মরণ করো,
-
২৬
وَمِنَ ٱلَّيۡلِ فَٱسۡجُدۡ لَهُۥ وَسَبِّحۡهُ لَيۡلٗا طَوِيلًا
আর রাতের একাংশে (মাগরিব ও ‘ইশা) তার উদ্দেশ্যে সাজদাবনত হও এবং দীর্ঘ রাত ধরে তাঁর তাসবীহ পাঠ করো। (১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
২৭
إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ يُحِبُّونَ ٱلۡعَاجِلَةَ وَيَذَرُونَ وَرَآءَهُمۡ يَوۡمٗا ثَقِيلٗا
নিশ্চয় এরা দুনিয়ার জীবনকে ভালোবাসে আর তাদের সামনের এক কঠিন দিনকে উপেক্ষা করে চলে।
-
২৮
نَّحۡنُ خَلَقۡنَٰهُمۡ وَشَدَدۡنَآ أَسۡرَهُمۡۖ وَإِذَا شِئۡنَا بَدَّلۡنَآ أَمۡثَٰلَهُمۡ تَبۡدِيلًا
আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং তাদের জোড়াগুলো আমিই শক্ত করে দিয়েছি। আর আমি চাইলে (তাদেরকে ধ্বংস করে) তাদের পরিবর্তে অনুরূপ জাতি সৃষ্টি করতে পারি।
-
২৯
إِنَّ هَٰذِهِۦ تَذۡكِرَةٞۖ فَمَن شَآءَ ٱتَّخَذَ إِلَىٰ رَبِّهِۦ سَبِيلٗا
নিশ্চয় এটি (এ সূরাটি) উপদেশ; অতএব যে চায় সে তার রবের পথ অবলম্বন করুক।
-
৩০
وَمَا تَشَآءُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمٗا
আর আল্লাহ না চাইলে তোমরা ইচ্ছা করতে সক্ষম হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান।
-
৩১
يُدۡخِلُ مَن يَشَآءُ فِي رَحۡمَتِهِۦۚ وَٱلظَّٰلِمِينَ أَعَدَّ لَهُمۡ عَذَابًا أَلِيمَۢا
তিনি যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতে প্রবেশ করাবেন(১) এবং যালিমদের জন্য তিনি প্রস্তুত রেখেছেন (জাহান্নামের) যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
অনুবাদ: রাওয়াদ ট্রান্সলেশন সেন্টার. উৎস: QuranEnc.com, সর্বশেষ মিলিয়ে দেখা: ২৬ অক্টোবর ২০২৬.
আরবি পাঠ: বাদশাহ ফাহাদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স. সূরার তথ্য: Tanzil.net (CC BY 3.0).
এটি কুরআনের অর্থের অনুবাদ। মানুষের যেকোনো কাজের মতো এতে ভুল থাকতে পারে।