ইউনুস
يونس
بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
-
১
الٓرۚ تِلۡكَ ءَايَٰتُ ٱلۡكِتَٰبِ ٱلۡحَكِيمِ
আলিফ-লাম-রা।(১) এগুলো সুদৃঢ় (সুস্পষ্ট) কিতাবের আয়াত।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
২
أَكَانَ لِلنَّاسِ عَجَبًا أَنۡ أَوۡحَيۡنَآ إِلَىٰ رَجُلٖ مِّنۡهُمۡ أَنۡ أَنذِرِ ٱلنَّاسَ وَبَشِّرِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَنَّ لَهُمۡ قَدَمَ صِدۡقٍ عِندَ رَبِّهِمۡۗ قَالَ ٱلۡكَٰفِرُونَ إِنَّ هَٰذَا لَسَٰحِرٞ مُّبِينٌ
এটা কি মানুষের জন্য আশ্চর্যের বিষয় যে, আমি তাদের মধ্য থেকেই একজনের কাছে অহী প্রেরণ করেছি এ মর্মে যে, ‘তুমি মানুষকে (আল্লাহর শাস্তি থেকে) সতর্ক করো এবং মু’মিনদেরকে এ সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য তাদের রবের কাছে রয়েছে উঁচু মর্যাদা।’ (এর পরিপ্রেক্ষিতে) কাফিররা বলতে লাগলো: ‘এ তো এক সুস্পষ্ট যাদুকর!’
-
৩
إِنَّ رَبَّكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٖ ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰ عَلَى ٱلۡعَرۡشِۖ يُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَۖ مَا مِن شَفِيعٍ إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ إِذۡنِهِۦۚ ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمۡ فَٱعۡبُدُوهُۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
‘নিশ্চয় তোমাদের রব হলেন সেই আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি ‘আরশের ওপর উঠেছেন। তিনি সব বিষয় একাই সিদ্ধান্ত নেন ও পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ব্যতীত কোন সুপারিশকারী সুপারিশ করতে পারে না। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব। সুতরাং তোমরা (একনিষ্ঠভাবে) তাঁরই ইবাদত করো। (তাঁর একত্ববাদের ওপর এতো দলিল-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও) তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
-
৪
إِلَيۡهِ مَرۡجِعُكُمۡ جَمِيعٗاۖ وَعۡدَ ٱللَّهِ حَقًّاۚ إِنَّهُۥ يَبۡدَؤُاْ ٱلۡخَلۡقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ لِيَجۡزِيَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ بِٱلۡقِسۡطِۚ وَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ لَهُمۡ شَرَابٞ مِّنۡ حَمِيمٖ وَعَذَابٌ أَلِيمُۢ بِمَا كَانُواْ يَكۡفُرُونَ
(কিয়ামতের দিন) তাঁরই কাছে তোমাদের সকলকে ফিরে যেতে হবে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। তিনিই (পূর্বের নমুনা ব্যতীত) সৃষ্টিকে প্রথম অস্তিত্বে আনেন, মৃত্যুর পর তিনি আবার তাকে সৃষ্টি করবেন, যাতে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদেরকে ইনসাফপূর্ণ প্রতিদান দিতে পারেন। আর যারা কুফরি করেছে তাদের জন্য রয়েছে, অত্যন্ত গরম পানীয় (যা তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিঁড়ে ফেলবে)। উপরন্তু (আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের সাথে) কুফরি করার কারণে তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
-
৫
هُوَ ٱلَّذِي جَعَلَ ٱلشَّمۡسَ ضِيَآءٗ وَٱلۡقَمَرَ نُورٗا وَقَدَّرَهُۥ مَنَازِلَ لِتَعۡلَمُواْ عَدَدَ ٱلسِّنِينَ وَٱلۡحِسَابَۚ مَا خَلَقَ ٱللَّهُ ذَٰلِكَ إِلَّا بِٱلۡحَقِّۚ يُفَصِّلُ ٱلۡأٓيَٰتِ لِقَوۡمٖ يَعۡلَمُونَ
তিনিই সূর্যকে করেছেন দীপ্তিমান ও চাঁদকে আলোকময় এবং তার জন্য মনযিল(১) নির্দিষ্ট করেছেন, যাতে তোমরা (চন্দ্র ও সূর্যের মাধ্যমে) বছর গণনা ও সময়ের হিসাব জানতে পারো। আল্লাহ এগুলোকে (অনর্থকভাবে নয়; বরং) উদ্দেশ্যমূলকভাবেই সৃষ্টি করেছেন। তিনি জ্ঞানীদের জন্যে এসব নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করেন।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৬
إِنَّ فِي ٱخۡتِلَٰفِ ٱلَّيۡلِ وَٱلنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ ٱللَّهُ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ لَأٓيَٰتٖ لِّقَوۡمٖ يَتَّقُونَ
নিশ্চয় দিন ও রাতের আবর্তনে(১) এবং আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তাতে নিদর্শন রয়েছে, আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্যকারী মুত্তাকী সম্প্রদায়ের জন্য।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৭
إِنَّ ٱلَّذِينَ لَا يَرۡجُونَ لِقَآءَنَا وَرَضُواْ بِٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا وَٱطۡمَأَنُّواْ بِهَا وَٱلَّذِينَ هُمۡ عَنۡ ءَايَٰتِنَا غَٰفِلُونَ
নিশ্চয় যারা আমার সাক্ষাতের আশা করে না, (আখিরাতের স্থায়ী জীবনের পরিবর্তে) দুনিয়ার জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট হয়েছে এবং তাতেই পরিতৃপ্ত হয়েছে, আর যারা আমার নিদর্শনাবলী সম্পর্কে গাফিল।
-
৮
أُوْلَٰٓئِكَ مَأۡوَىٰهُمُ ٱلنَّارُ بِمَا كَانُواْ يَكۡسِبُونَ
তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের আবাসস্থল হবে জাহান্নাম।
-
৯
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ يَهۡدِيهِمۡ رَبُّهُم بِإِيمَٰنِهِمۡۖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهِمُ ٱلۡأَنۡهَٰرُ فِي جَنَّٰتِ ٱلنَّعِيمِ
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের রব তাদের ঈমান আনার কারণে তাদেরকে উত্তম আমলের পথ দেখান, (যা তাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে পৌঁছিয়ে দেয়)। উপরন্তু আল্লাহ তাদেরকে (কিয়ামতের দিন) নিয়ামতে ভরপুর স্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যেখানে তাদের তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে, নদ-নদী-ঝর্ণাধারা।
-
১০
دَعۡوَىٰهُمۡ فِيهَا سُبۡحَٰنَكَ ٱللَّهُمَّ وَتَحِيَّتُهُمۡ فِيهَا سَلَٰمٞۚ وَءَاخِرُ دَعۡوَىٰهُمۡ أَنِ ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ
সেখানে (জান্নাতে) তাদের দু‘আ হবে: ‘সুবহানাকাল্লাহুম্মা’ (হে আল্লাহ! আপনি মহান, পবিত্র।) এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে: ‘সালাম’ (শান্তি ও নিরাপত্তা হোক!) আর তাদের দু‘আর পরিসমাপ্তি হবে: ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল ‘আলামীন’ (সকল প্রশংসা বিশ্বজাহানের রব আল্লাহর জন্য)।
-
১১
۞ وَلَوۡ يُعَجِّلُ ٱللَّهُ لِلنَّاسِ ٱلشَّرَّ ٱسۡتِعۡجَالَهُم بِٱلۡخَيۡرِ لَقُضِيَ إِلَيۡهِمۡ أَجَلُهُمۡۖ فَنَذَرُ ٱلَّذِينَ لَا يَرۡجُونَ لِقَآءَنَا فِي طُغۡيَٰنِهِمۡ يَعۡمَهُونَ
আর (ভেবে দেখো,) আল্লাহ যদি মানুষের (রাগের সময় কৃত) অকল্যাণের দু‘আ দ্রুত কবুল করেন, যেভাবে তিনি তাদের কল্যাণের দু‘আ দ্রুত কবুল করেন, তবে অবশ্যই তাদের ধ্বংসের সময় এসে যেত।(১) কাজেই যারা আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না, তাদেরকে আমি তাদের অবাধ্যতায় উদভ্রান্তের মত ঘুরে বেড়ানোর জন্যে ছেড়ে দেই।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
১২
وَإِذَا مَسَّ ٱلۡإِنسَٰنَ ٱلضُّرُّ دَعَانَا لِجَنۢبِهِۦٓ أَوۡ قَاعِدًا أَوۡ قَآئِمٗا فَلَمَّا كَشَفۡنَا عَنۡهُ ضُرَّهُۥ مَرَّ كَأَن لَّمۡ يَدۡعُنَآ إِلَىٰ ضُرّٖ مَّسَّهُۥۚ كَذَٰلِكَ زُيِّنَ لِلۡمُسۡرِفِينَ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ
আর মানুষকে যখন দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন সে শুয়ে, বসে বা দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকতে থাকে। অতঃপর আমি যখন (প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে) তার দুঃখ-দুর্দশা দূর করি, তখন সে এমনভাবে চলতে থাকে, যেন তাকে স্পর্শ করা দুঃখ-দুর্দশার প্রতি আমাকে ডাকেইনি। এভাবে সীমালঙ্ঘনকারীদের কর্মসমূহ তাদের কাছে শোভনীয় করে দেওয়া হয়েছে।
-
১৩
وَلَقَدۡ أَهۡلَكۡنَا ٱلۡقُرُونَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَمَّا ظَلَمُواْ وَجَآءَتۡهُمۡ رُسُلُهُم بِٱلۡبَيِّنَٰتِ وَمَا كَانُواْ لِيُؤۡمِنُواْۚ كَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلۡمُجۡرِمِينَ
আর (হে মুশরিকরা!) অবশ্যই আমি তোমাদের আগে বহু জাতিকে ধ্বংস করেছি, যখন তারা যুলম করেছিল। আর তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ এসেছিল; কিন্তু তারা ঈমান আনার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এভাবে আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে প্রতিফল দিয়ে থাকি।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
১৪
ثُمَّ جَعَلۡنَٰكُمۡ خَلَٰٓئِفَ فِي ٱلۡأَرۡضِ مِنۢ بَعۡدِهِمۡ لِنَنظُرَ كَيۡفَ تَعۡمَلُونَ
তারপর আমি তোমাদেরকে পৃথিবীতে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছি, তোমরা কীরূপ কাজ করো তা দেখার জন্যে।
-
১৫
وَإِذَا تُتۡلَىٰ عَلَيۡهِمۡ ءَايَاتُنَا بَيِّنَٰتٖ قَالَ ٱلَّذِينَ لَا يَرۡجُونَ لِقَآءَنَا ٱئۡتِ بِقُرۡءَانٍ غَيۡرِ هَٰذَآ أَوۡ بَدِّلۡهُۚ قُلۡ مَا يَكُونُ لِيٓ أَنۡ أُبَدِّلَهُۥ مِن تِلۡقَآيِٕ نَفۡسِيٓۖ إِنۡ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَىٰٓ إِلَيَّۖ إِنِّيٓ أَخَافُ إِنۡ عَصَيۡتُ رَبِّي عَذَابَ يَوۡمٍ عَظِيمٖ
আর যখন আমার (একত্ববাদ প্রমাণকারী) সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তাদের কাছে পাঠ করা হয়, তখন তাদের মধ্যে যারা আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না, তারা বলে: ‘(হে মুহাম্মাদ! তুমি) এটির পরিবর্তে অন্য এক কুরআন নিয়ে আসো(১) অথবা এর মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন করো।' (হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে বলো: ‘নিজে থেকে এটা পরিবর্তন ও রূপান্তর করা আমার কাজ নয়। আমার প্রতি যা অহী নাযিল হয়, আমি শুধু তারই অনুসরণ করি। আমি আমার রবের অবাধ্যতা করলে, অবশ্যই (কিয়ামতের) মহা দিনের শাস্তির আশঙ্কা করি।’
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
১৬
قُل لَّوۡ شَآءَ ٱللَّهُ مَا تَلَوۡتُهُۥ عَلَيۡكُمۡ وَلَآ أَدۡرَىٰكُم بِهِۦۖ فَقَدۡ لَبِثۡتُ فِيكُمۡ عُمُرٗا مِّن قَبۡلِهِۦٓۚ أَفَلَا تَعۡقِلُونَ
(হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে বলো: ‘আল্লাহ যদি চাইতেন, আমিও তোমাদের কাছে এটা তিলাওয়াত করতাম না এবং তিনিও তোমাদেরকে এ বিষয়ে জানাতেন না। আমি তো এর আগে তোমাদের মধ্যে জীবনের দীর্ঘকাল অবস্থান করেছি।(১) তবুও কি তোমরা বুঝতে পার না?’(২)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
১৭
فَمَنۡ أَظۡلَمُ مِمَّنِ ٱفۡتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًا أَوۡ كَذَّبَ بِـَٔايَٰتِهِۦٓۚ إِنَّهُۥ لَا يُفۡلِحُ ٱلۡمُجۡرِمُونَ
অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রটায় বা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে! নিশ্চয় (সীমারেখা অতিক্রমকারী) অপরাধীরা সফলকাম হবে না।
-
১৮
وَيَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمۡ وَلَا يَنفَعُهُمۡ وَيَقُولُونَ هَٰٓؤُلَآءِ شُفَعَٰٓؤُنَا عِندَ ٱللَّهِۚ قُلۡ أَتُنَبِّـُٔونَ ٱللَّهَ بِمَا لَا يَعۡلَمُ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَلَا فِي ٱلۡأَرۡضِۚ سُبۡحَٰنَهُۥ وَتَعَٰلَىٰ عَمَّا يُشۡرِكُونَ
আর তারা (মুশরিকরা) আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ‘ইবাদত করছে, যা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। উপরন্তু তারা বলে: ‘এগুলো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী।‘ (হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে বলো: ‘তোমরা কি (সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত) আল্লাহকে আসমানসমূহ ও জমিনের এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছো, যা তিনি জানেন না? তিনি মহান, পবিত্র এবং তারা যাকে (তাঁর সাথে মিথ্যা) শরীক করে, তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।
-
১৯
وَمَا كَانَ ٱلنَّاسُ إِلَّآ أُمَّةٗ وَٰحِدَةٗ فَٱخۡتَلَفُواْۚ وَلَوۡلَا كَلِمَةٞ سَبَقَتۡ مِن رَّبِّكَ لَقُضِيَ بَيۡنَهُمۡ فِيمَا فِيهِ يَخۡتَلِفُونَ
আর সকল মানুষ একই উম্মত (একত্ববাদী মু’মিন) ছিল। অতঃপর তারা (বিভিন্ন বিষয়ে ) মতানৈক্য সৃষ্টি করে।(১) আর তোমার রবের পূর্ব থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না থাকলে তারা যে বিষয়ে মতানৈক্য ঘটায়, তার মীমাংসা তো (দুনিয়াতেই) হয়েই যেত।(২)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
২০
وَيَقُولُونَ لَوۡلَآ أُنزِلَ عَلَيۡهِ ءَايَةٞ مِّن رَّبِّهِۦۖ فَقُلۡ إِنَّمَا ٱلۡغَيۡبُ لِلَّهِ فَٱنتَظِرُوٓاْ إِنِّي مَعَكُم مِّنَ ٱلۡمُنتَظِرِينَ
আর তারা (মুশরিকরা) বলে: ‘মুহাম্মাদের ওপর কেন তার রবের পক্ষ থেকে (তার সত্যতা প্রমাণকারী) নিদর্শন নাযিল হয় না?’ (হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে বলো: ‘গায়িবের জ্ঞান তো শুধু আল্লাহরই আছে। কাজেই তোমরা (প্রস্তাবিত নিদর্শনসমূহের) অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি।’
-
২১
وَإِذَآ أَذَقۡنَا ٱلنَّاسَ رَحۡمَةٗ مِّنۢ بَعۡدِ ضَرَّآءَ مَسَّتۡهُمۡ إِذَا لَهُم مَّكۡرٞ فِيٓ ءَايَاتِنَاۚ قُلِ ٱللَّهُ أَسۡرَعُ مَكۡرًاۚ إِنَّ رُسُلَنَا يَكۡتُبُونَ مَا تَمۡكُرُونَ
আর (মানুষের স্বভাব হলো) দুঃখ-দুর্দশা তাদেরকে স্পর্শ করার পর যখন আমি মানুষকে (বৃষ্টি ও সজীবতার মাধ্যমে আমার) রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই, তারা তখনই আমার আয়াতসমূহের বিরুদ্ধে কূটকৌশল করে। (হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে বলো: ‘কৌশল অবলম্বনে আল্লাহ আরো বেশি দ্রুততর।‘ নিশ্চয় তোমরা যে কূটকৌশল করো, তা আমার (সংরক্ষণকারী) ফিরিশতারা লিখে রাখে।
-
২২
هُوَ ٱلَّذِي يُسَيِّرُكُمۡ فِي ٱلۡبَرِّ وَٱلۡبَحۡرِۖ حَتَّىٰٓ إِذَا كُنتُمۡ فِي ٱلۡفُلۡكِ وَجَرَيۡنَ بِهِم بِرِيحٖ طَيِّبَةٖ وَفَرِحُواْ بِهَا جَآءَتۡهَا رِيحٌ عَاصِفٞ وَجَآءَهُمُ ٱلۡمَوۡجُ مِن كُلِّ مَكَانٖ وَظَنُّوٓاْ أَنَّهُمۡ أُحِيطَ بِهِمۡ دَعَوُاْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ لَئِنۡ أَنجَيۡتَنَا مِنۡ هَٰذِهِۦ لَنَكُونَنَّ مِنَ ٱلشَّٰكِرِينَ
একমাত্র আল্লাহই তোমাদেরকে জলে-স্থলে (পদযুগলে, পশুর পিঠে এবং নৌকা বা জাহাজে ) ভ্রমণ করান। এমনকি তোমরা যখন নৌযানে আরোহণ করো এবং সেগুলো তোমাদের নিয়ে অনুকূল আবহাওয়ায় (সাগরে) চলতে থাকলে, আরোহীরা আনন্দিত হয়। তারপর যখন ঝড়-বাতাস বইতে শুরু করে এবং চারদিক থেকে সাগরের উত্তাল তরঙ্গমালা ধেয়ে আসে, আর তারা নিশ্চিত ধারণা করে যে, এবার তারা ঘেরাও হয়ে পড়েছে (এবং তারা ধ্বংস হবে), তখন নিজেদের আনুগত্যকে একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্ধারণ করে একমাত্র তাঁকেই ডাকতে থাকে এবং বলে: ‘আপনি যদি আমাদের এ থেকে উদ্ধার করেন, তবে অবশ্যই আমরা কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হবো।’
-
২৩
فَلَمَّآ أَنجَىٰهُمۡ إِذَا هُمۡ يَبۡغُونَ فِي ٱلۡأَرۡضِ بِغَيۡرِ ٱلۡحَقِّۗ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنَّمَا بَغۡيُكُمۡ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمۖ مَّتَٰعَ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ ثُمَّ إِلَيۡنَا مَرۡجِعُكُمۡ فَنُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ
অতঃপর তিনি যখন (দু‘আ কবুল করে) তাদেরকে বিপদমুক্ত করেন তখন তারা (কুফরি, গুনাহ ও পাপে নিমজ্জিত হয়ে) জমিনে অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন করতে থাকে। হে মানুষ! তোমাদের সীমালঙ্ঘন কেবল তোমাদের নিজেদের ওপরই বর্তাবে।(১) এর মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনের সুখ ভোগ করে নাও, পরে (কিয়ামতের দিন) আমারই কাছে তোমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল। তখন আমি তোমাদেরকে তোমাদের আমলসমূহ জানিয়ে দিবো।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
২৪
إِنَّمَا مَثَلُ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا كَمَآءٍ أَنزَلۡنَٰهُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ فَٱخۡتَلَطَ بِهِۦ نَبَاتُ ٱلۡأَرۡضِ مِمَّا يَأۡكُلُ ٱلنَّاسُ وَٱلۡأَنۡعَٰمُ حَتَّىٰٓ إِذَآ أَخَذَتِ ٱلۡأَرۡضُ زُخۡرُفَهَا وَٱزَّيَّنَتۡ وَظَنَّ أَهۡلُهَآ أَنَّهُمۡ قَٰدِرُونَ عَلَيۡهَآ أَتَىٰهَآ أَمۡرُنَا لَيۡلًا أَوۡ نَهَارٗا فَجَعَلۡنَٰهَا حَصِيدٗا كَأَن لَّمۡ تَغۡنَ بِٱلۡأَمۡسِۚ كَذَٰلِكَ نُفَصِّلُ ٱلۡأٓيَٰتِ لِقَوۡمٖ يَتَفَكَّرُونَ
(আসলে) দুনিয়ার জীবনের (আনন্দ-উল্লাস দ্রুত নিঃশেষ হওয়ার) উদাহরণ তো এরূপ যেমন আমি আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করি, যা দ্বারা ভূমিজ উদ্ভিদ ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে উদ্গত হয়, যা থেকে মানুষ ও জীব-জন্তু খেয়ে থাকে। তারপর যখন জমিন তার সজীবতা ধারণ করে রকমারি উদ্ভিদে সুশোভিত ও নয়নাভিরাম হলো, তখন তার মালিকরা মনে করে যে, সেটা তাদের আয়ত্ত(১), তখন দিনে বা রাতে আমার (ধ্বংসের) নির্দেশ এসে পড়ে। তারপর আমি তা এমনভাবে নির্মূল করে দেই, যেন গতকালও সেটার অস্তিত্ব ছিল না। এভাবে আমি (দুনিয়ার অবস্থা ও তা দ্রুত শেষ হওয়া সংক্রান্ত) আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা চিন্তা-ভাবনা করে।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
২৫
وَٱللَّهُ يَدۡعُوٓاْ إِلَىٰ دَارِ ٱلسَّلَٰمِ وَيَهۡدِي مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٖ
আর আল্লাহ (মানুষকে) শান্তির আবাস জান্নাতের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছে, সরল পথে পরিচালিত করেন।
-
২৬
۞ لِّلَّذِينَ أَحۡسَنُواْ ٱلۡحُسۡنَىٰ وَزِيَادَةٞۖ وَلَا يَرۡهَقُ وُجُوهَهُمۡ قَتَرٞ وَلَا ذِلَّةٌۚ أُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلۡجَنَّةِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ
যারা ইহসানের সাথে আমল করে তাদের জন্য আছে জান্নাত এবং আরো বেশি (আল্লাহর দর্শন)। (কিয়ামতের দিনে) কোনো কলঙ্ক-কালিমা এবং লাঞ্ছনা ও অবমাননা তাদের মুখমণ্ডলকে আচ্ছন্ন করবে না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
-
২৭
وَٱلَّذِينَ كَسَبُواْ ٱلسَّيِّـَٔاتِ جَزَآءُ سَيِّئَةِۭ بِمِثۡلِهَا وَتَرۡهَقُهُمۡ ذِلَّةٞۖ مَّا لَهُم مِّنَ ٱللَّهِ مِنۡ عَاصِمٖۖ كَأَنَّمَآ أُغۡشِيَتۡ وُجُوهُهُمۡ قِطَعٗا مِّنَ ٱلَّيۡلِ مُظۡلِمًاۚ أُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ
আর যারা মন্দ কাজ উপার্জন করেছে, একটি মন্দের প্রতিদান হবে তারই সমান; আর লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। আল্লাহ থেকে তাদের রক্ষা করার মতো কোনো রক্ষাকারী কেউ থাকবে না। তাদের মুখমণ্ডল এমনভাবে আচ্ছাদিত হবে, যেন অন্ধকার রাতের টুকরো দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তারাই জাহান্নামের অধিবাসী; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।
-
২৮
وَيَوۡمَ نَحۡشُرُهُمۡ جَمِيعٗا ثُمَّ نَقُولُ لِلَّذِينَ أَشۡرَكُواْ مَكَانَكُمۡ أَنتُمۡ وَشُرَكَآؤُكُمۡۚ فَزَيَّلۡنَا بَيۡنَهُمۡۖ وَقَالَ شُرَكَآؤُهُم مَّا كُنتُمۡ إِيَّانَا تَعۡبُدُونَ
আর (হে রাসূল!) তুমি স্মরণ করো, যেদিন (কিয়ামতের দিন) আমি সকল সৃষ্টিকে একত্র করবো, অতঃপর মুশরিকদেরকে বলবো: ‘তোমরা এবং তোমরা যাদেরকে (আমার সাথে) শরীক করেছিলে, তারা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করো।’ অতঃপর আমি তাদেরকে (‘ইবাদতকারী ও তাদের ভ্রান্ত মা’বূদদেরকে) পরস্পর থেকে পৃথক করে দিবো আর তারা যাদেরকে (যে সব মা‘বূদদেরকে) শরীক করেছিল তারা (সম্পর্কচ্ছেদ করে) বলবে: ‘তোমরা তো (দুনিয়াতে) আমাদের ‘ইবাদাত করতে না।’
-
২৯
فَكَفَىٰ بِٱللَّهِ شَهِيدَۢا بَيۡنَنَا وَبَيۡنَكُمۡ إِن كُنَّا عَنۡ عِبَادَتِكُمۡ لَغَٰفِلِينَ
সুতরাং আল্লাহই আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট। নিশ্চয় তোমরা যে আমাদের ‘ইবাদাত করতে, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ গাফিল ছিলাম।’
-
৩০
هُنَالِكَ تَبۡلُواْ كُلُّ نَفۡسٖ مَّآ أَسۡلَفَتۡۚ وَرُدُّوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ مَوۡلَىٰهُمُ ٱلۡحَقِّۖ وَضَلَّ عَنۡهُم مَّا كَانُواْ يَفۡتَرُونَ
সেখানেই তারা প্রত্যেকে তাদের (দুনিয়ার জীবনের) নিজ নিজ কৃতকর্ম পরীক্ষা করে নিবে এবং তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে এবং তখন তারা যে মূর্তিগুলোর সুপারিশের অমূলক দাবি করতো, তা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।
-
৩১
قُلۡ مَن يَرۡزُقُكُم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِ أَمَّن يَمۡلِكُ ٱلسَّمۡعَ وَٱلۡأَبۡصَٰرَ وَمَن يُخۡرِجُ ٱلۡحَيَّ مِنَ ٱلۡمَيِّتِ وَيُخۡرِجُ ٱلۡمَيِّتَ مِنَ ٱلۡحَيِّ وَمَن يُدَبِّرُ ٱلۡأَمۡرَۚ فَسَيَقُولُونَ ٱللَّهُۚ فَقُلۡ أَفَلَا تَتَّقُونَ
(হে রাসূল! আল্লাহর সাথে শিরককারীদেরকে) বলে দাও:, ‘কে তোমাদেরকে আসমান (থেকে বৃষ্টি বর্ষণের মাধ্যমে) এবং জমিন থেকে (উদ্ভিদ উৎপন্ন করে) রিযক দেয়? অথবা শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি কার কর্তৃত্বে আছে? কে জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন? এবং কে মৃতকে জীবিত হতে বের করেন? আর কে (আসমান ও জমিন এবং এতদুভয়ের মাঝের) সব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন?’ তখন তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ’। সুতরাং তুমি তাদেরকে বলে দাও: ‘তোমরা কি এ ব্যাপারটি জেনেও (আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে) তাঁকে ভয় করবে না?’
-
৩২
فَذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمُ ٱلۡحَقُّۖ فَمَاذَا بَعۡدَ ٱلۡحَقِّ إِلَّا ٱلضَّلَٰلُۖ فَأَنَّىٰ تُصۡرَفُونَ
অতএব, (হে মানুষ! যিনি এসব করেন) তিনিই আল্লাহ, তোমাদের সত্য রব। সত্য জানার পরে তা ত্যাগ করা, বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী থাকে? কাজেই (এ সুস্পষ্ট সত্য থেকে) তোমাদেরকে কোথায় ফেরানো হচ্ছে?
-
৩৩
كَذَٰلِكَ حَقَّتۡ كَلِمَتُ رَبِّكَ عَلَى ٱلَّذِينَ فَسَقُوٓاْ أَنَّهُمۡ لَا يُؤۡمِنُونَ
(হে নবী! দেখো) এমনিভাবে তোমার রবের বাণী সত্য বলে সাব্যস্ত হয়েছে তাদের ওপর, যারা অবাধ্য হয়েছে, যে তারা কখনো ঈমান আনবে না।
-
৩৪
قُلۡ هَلۡ مِن شُرَكَآئِكُم مَّن يَبۡدَؤُاْ ٱلۡخَلۡقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥۚ قُلِ ٱللَّهُ يَبۡدَؤُاْ ٱلۡخَلۡقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥۖ فَأَنَّىٰ تُؤۡفَكُونَ
(হে রাসূল! তুমি মুশরিকদেরকে) বলো: ‘তোমাদের শরীকদের কেউ কি আছে, যে (পূর্ব নমুনা ছাড়া) প্রথম সৃষ্টি করে, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি ঘটায়?’(১) বলো: ‘আল্লাহই (পূর্ব নমুনা ছাড়া) প্রথম সৃষ্টি করেন, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করেন।’ অতএব তোমাদেরকে (সত্য থেকে) কোথায় ফিরানো হচ্ছে?
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৩৫
قُلۡ هَلۡ مِن شُرَكَآئِكُم مَّن يَهۡدِيٓ إِلَى ٱلۡحَقِّۚ قُلِ ٱللَّهُ يَهۡدِي لِلۡحَقِّۗ أَفَمَن يَهۡدِيٓ إِلَى ٱلۡحَقِّ أَحَقُّ أَن يُتَّبَعَ أَمَّن لَّا يَهِدِّيٓ إِلَّآ أَن يُهۡدَىٰۖ فَمَا لَكُمۡ كَيۡفَ تَحۡكُمُونَ
(হে রাসূল! মুশরিকদেরকে) বলে দাও: ‘তোমাদের শরীকদের কেউ কি আছে, যে সত্যের পথ দেখায়? বলো: ‘আল্লাহই সত্যের পথ দেখান। অতএব, যিনি সত্যের পথ দেখান, তিনিই কি আনুগত্যের অধিকতর হকদার, নাকি সে (উপাস্য), যাকে পথ দেখানো ছাড়া পথই খুঁজে পায় না? সুতরাং তোমাদের কী হলো? তোমরা কেমন বিচার করছো?(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৩৬
وَمَا يَتَّبِعُ أَكۡثَرُهُمۡ إِلَّا ظَنًّاۚ إِنَّ ٱلظَّنَّ لَا يُغۡنِي مِنَ ٱلۡحَقِّ شَيۡـًٔاۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمُۢ بِمَا يَفۡعَلُونَ
আর তাদের (মুশরিকদের) অধিকাংশ কেবল ধারণার অনুসরণ করে। নিশ্চয় সত্যের বিপরীতে ধারণা কোনো কাজে আসে না। তারা যা করে, সে বিষয়ে নিশ্চয় আল্লাহ সম্যক অবগত।
-
৩৭
وَمَا كَانَ هَٰذَا ٱلۡقُرۡءَانُ أَن يُفۡتَرَىٰ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَلَٰكِن تَصۡدِيقَ ٱلَّذِي بَيۡنَ يَدَيۡهِ وَتَفۡصِيلَ ٱلۡكِتَٰبِ لَا رَيۡبَ فِيهِ مِن رَّبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ
আর এ আল-কুরআন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর রচনা হওয়া সম্ভব নয়। বরং এটি পূর্বের নাযিলকৃত কিতাবগুলোর সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর (সংক্ষিপ্ত বিধানের) বিস্তারিত বর্ণনাকারী। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটা সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত।
-
৩৮
أَمۡ يَقُولُونَ ٱفۡتَرَىٰهُۖ قُلۡ فَأۡتُواْ بِسُورَةٖ مِّثۡلِهِۦ وَٱدۡعُواْ مَنِ ٱسۡتَطَعۡتُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ
নাকি তারা বলতে চায় যে, ‘সে (মুহাম্মাদ) এ কুরআন বানিয়েছে? (হে রাসূল! তাদেরকে) বলো: ‘(আমি মানুষ হয়ে এ কুরআন রচনা করতে পারলে) তবে তোমরাও তার মতো একটি সূরা (বানিয়ে) নিয়ে আসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো (এ কাজে সহযোগিতার জন্য) ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’
-
৩৯
بَلۡ كَذَّبُواْ بِمَا لَمۡ يُحِيطُواْ بِعِلۡمِهِۦ وَلَمَّا يَأۡتِهِمۡ تَأۡوِيلُهُۥۚ كَذَٰلِكَ كَذَّبَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِمۡۖ فَٱنظُرۡ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلظَّٰلِمِينَ
বরং তারা সেই বিষয়কেই মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, যার জ্ঞান তারা সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ত করতে পারেনি(১) এবং তার প্রকৃত পরিণতি এখনও তাদের কাছে আসেনি। এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। সুতরাং দেখো, জালিমদের পরিণতি কেমন হয়েছিল।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৪০
وَمِنۡهُم مَّن يُؤۡمِنُ بِهِۦ وَمِنۡهُم مَّن لَّا يُؤۡمِنُ بِهِۦۚ وَرَبُّكَ أَعۡلَمُ بِٱلۡمُفۡسِدِينَ
আর তাদের (মুশরিকদের) মধ্যে কেউ কেউ (মৃত্যুর পূর্বে) কুরআনের প্রতি ঈমান আনবে এবং কেউ কেউ (মৃত্যু পর্যন্ত) তাতে ঈমান আনবে না। আর তোমার রব ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের(১) ব্যাপারে অধিক জ্ঞাত।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৪১
وَإِن كَذَّبُوكَ فَقُل لِّي عَمَلِي وَلَكُمۡ عَمَلُكُمۡۖ أَنتُم بَرِيٓـُٔونَ مِمَّآ أَعۡمَلُ وَأَنَا۠ بَرِيٓءٞ مِّمَّا تَعۡمَلُونَ
আর (হে রাসূল!) তারা যদি তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে তুমি তাদেরকে বলো: ‘আমার কর্ম আমার, আর তোমাদের কর্ম তোমাদের। আমি যা আমল করি, তোমরা তা থেকে দায়মুক্ত এবং তোমরা যা আমল কর, আমি তা থেকে দায়মুক্ত।’
-
৪২
وَمِنۡهُم مَّن يَسۡتَمِعُونَ إِلَيۡكَۚ أَفَأَنتَ تُسۡمِعُ ٱلصُّمَّ وَلَوۡ كَانُواْ لَا يَعۡقِلُونَ
আর তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে, যারা (আনুগত্যের উদ্দেশ্য ছাড়া) তোমার তিলাওয়াত শোনে। তবে তুমি কি বধিরদেরকে শুনাতে পারবে, যদিও তারা বুঝে না?
-
৪৩
وَمِنۡهُم مَّن يَنظُرُ إِلَيۡكَۚ أَفَأَنتَ تَهۡدِي ٱلۡعُمۡيَ وَلَوۡ كَانُواْ لَا يُبۡصِرُونَ
আর তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা তোমার দিকে (বাহ্যিক দৃষ্টিতে) তাকিয়ে থাকে, তবে তুমি কি অন্ধদেরকে পথ দেখাতে পারবে, যদিও তারা দেখে না?(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৪৪
إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَظۡلِمُ ٱلنَّاسَ شَيۡـٔٗا وَلَٰكِنَّ ٱلنَّاسَ أَنفُسَهُمۡ يَظۡلِمُونَ
নিশ্চয় আল্লাহ মানষের প্রতি কোনো যুলম করেন না; বরং মানুষই (নিজেদেরকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করে) নিজেদের প্রতি যুলম করে থাকে।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৪৫
وَيَوۡمَ يَحۡشُرُهُمۡ كَأَن لَّمۡ يَلۡبَثُوٓاْ إِلَّا سَاعَةٗ مِّنَ ٱلنَّهَارِ يَتَعَارَفُونَ بَيۡنَهُمۡۚ قَدۡ خَسِرَ ٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِلِقَآءِ ٱللَّهِ وَمَا كَانُواْ مُهۡتَدِينَ
আর যেদিন (কিয়ামতের দিন) তিনি তাদেরকে একত্র করবেন, (সেদিন তাদের মনে হবে দুনিয়াতে) যেন তারা দিবসের মুহূর্তকালমাত্র অবস্থান করেছে। তারা একে অপরকে চিনতে পারবে। তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা আল্লাহর সাক্ষাৎ অস্বীকার করেছে। আর তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না।
-
৪৬
وَإِمَّا نُرِيَنَّكَ بَعۡضَ ٱلَّذِي نَعِدُهُمۡ أَوۡ نَتَوَفَّيَنَّكَ فَإِلَيۡنَا مَرۡجِعُهُمۡ ثُمَّ ٱللَّهُ شَهِيدٌ عَلَىٰ مَا يَفۡعَلُونَ
আর (হে রাসূল!) আমি তাদেরকে যে (শাস্তির) প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার কিছু যদি তোমাকে (তোমার মৃত্যুর পূর্বেই) দেখিয়ে দেই, অথবা (এর পূর্বেই যদি) তোমাকে মৃত্যু দেই, তবে (উভয় অবস্থায়ই কিয়ামতের দিন) তাদেরকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। অতঃপর আল্লাহই তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সাক্ষী।
-
৪৭
وَلِكُلِّ أُمَّةٖ رَّسُولٞۖ فَإِذَا جَآءَ رَسُولُهُمۡ قُضِيَ بَيۡنَهُم بِٱلۡقِسۡطِ وَهُمۡ لَا يُظۡلَمُونَ
আর (পূর্ববর্তী) প্রত্যেক উম্মতের জন্যই ছিলো রাসূল। অতঃপর যখন তাদের রাসূল (অহী নিয়ে) আসে,(১) তখন তাদের মধ্যে ন্যায়ভিত্তিক মীমাংসা করা হয়(২) এবং তাদের প্রতি সামান্যটুকুও যুলম করা হয় না।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৪৮
وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا ٱلۡوَعۡدُ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ
আর তারা (কাফিররা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে) বলে: ‘(তোমরা আমাদের সাথে যে শাস্তির ওয়াদা করেছিলে বলো) ‘কখন এর প্রতিশ্রুতি কার্যকর হবে; যদি তোমরা সত্যবাদী হও?
-
৪৯
قُل لَّآ أَمۡلِكُ لِنَفۡسِي ضَرّٗا وَلَا نَفۡعًا إِلَّا مَا شَآءَ ٱللَّهُۗ لِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌۚ إِذَا جَآءَ أَجَلُهُمۡ فَلَا يَسۡتَـٔۡخِرُونَ سَاعَةٗ وَلَا يَسۡتَقۡدِمُونَ
(হে রাসূল!) বলো: ‘আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন, তা ছাড়া আমি নিজের কোন ক্ষতি বা উপকারের অধিকার রাখি না।’ প্রত্যেক উম্মতের জন্যে (আল্লাহর ওয়াদাকৃত শাস্তির) নির্দিষ্ট একটি সময় রয়েছে। যখন তাদের (শাস্তির) সময় আসবে, তখন এক মুহূর্তও পিছাতে পারে না এবং আগাতেও পারে না।
-
৫০
قُلۡ أَرَءَيۡتُمۡ إِنۡ أَتَىٰكُمۡ عَذَابُهُۥ بَيَٰتًا أَوۡ نَهَارٗا مَّاذَا يَسۡتَعۡجِلُ مِنۡهُ ٱلۡمُجۡرِمُونَ
বলো, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি তাঁর আযাব তোমাদের ওপর রাতের বেলা, (যখন তোমরা ঘুমিয়ে থাকো,) অথবা দিনের বেলা, (যখন তোমরা উদাসীন থাকো,) এসে পড়ে, তবে অপরাধীরা এর (শাস্তি বা সুসংবাদ হতে) কোনটি তাড়াহুড়া করে চাইছে?
-
৫১
أَثُمَّ إِذَا مَا وَقَعَ ءَامَنتُم بِهِۦٓۚ ءَآلۡـَٰٔنَ وَقَدۡ كُنتُم بِهِۦ تَسۡتَعۡجِلُونَ
তবে কি যখন প্রতিশ্রুত শাস্তি নেমে আসবে, তখনই তোমরা তাতে ঈমান আনবে? (তখন বলা হবে,) এখন ঈমান আনছ?(১) অথচ এর আগেই তো তোমরা এটিকেই তাড়াতাড়ি পেতে চেয়েছিলে!
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৫২
ثُمَّ قِيلَ لِلَّذِينَ ظَلَمُواْ ذُوقُواْ عَذَابَ ٱلۡخُلۡدِ هَلۡ تُجۡزَوۡنَ إِلَّا بِمَا كُنتُمۡ تَكۡسِبُونَ
অতঃপর যালিমদেরকে বলা হবে, ‘চিরস্থায়ী শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো। তোমরা যা অর্জন করতে, তারই প্রতিফল ছাড়া আর কী তোমাদেরকে দেওয়া হচ্ছে?’
-
৫৩
۞ وَيَسۡتَنۢبِـُٔونَكَ أَحَقٌّ هُوَۖ قُلۡ إِي وَرَبِّيٓ إِنَّهُۥ لَحَقّٞۖ وَمَآ أَنتُم بِمُعۡجِزِينَ
তারা (মুশরিকরা) তোমাকে জিজ্ঞেস করে, (আমাদেরকে যে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে,) তা কি সত্যিই সত্য? (তাদেরকে) বলো, হ্যাঁ, আমার রবের কসম! তা অবশ্যই সত্য; আর তোমরা (আল্লাহকে) অক্ষম করতে পারবে না।
-
৫৪
وَلَوۡ أَنَّ لِكُلِّ نَفۡسٖ ظَلَمَتۡ مَا فِي ٱلۡأَرۡضِ لَٱفۡتَدَتۡ بِهِۦۗ وَأَسَرُّواْ ٱلنَّدَامَةَ لَمَّا رَأَوُاْ ٱلۡعَذَابَۖ وَقُضِيَ بَيۡنَهُم بِٱلۡقِسۡطِ وَهُمۡ لَا يُظۡلَمُونَ
আর যদি (কিয়ামতের দিন শাস্তির সম্মুখীন) প্রত্যেক যুলমকারী (শিরককারী) ব্যক্তি জমিনে যা রয়েছে, তার সবকিছুর মালিক হয়ে যায়, তবে (আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য) সে তা মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দিবে এবং যখন তারা শাস্তি দেখবে, তখন তারা (কুফরি করার) লজ্জা গোপন করার চেষ্টা করবে। আর তাদের মধ্যে ন্যায়ভিত্তিক ফয়সালা করা হবে এবং তাদেরকে যুলম করা হবে না।
-
৫৫
أَلَآ إِنَّ لِلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۗ أَلَآ إِنَّ وَعۡدَ ٱللَّهِ حَقّٞ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَهُمۡ لَا يَعۡلَمُونَ
জেনে রেখো, নিশ্চয় আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে, তা সবই আল্লাহর। জেনে রেখো, নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য; কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।
-
৫৬
هُوَ يُحۡيِۦ وَيُمِيتُ وَإِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ
তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান এবং তাঁর কাছেই (কিয়ামতের দিন) তোমাদের ফিরে যেতে হবে।
-
৫৭
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ قَدۡ جَآءَتۡكُم مَّوۡعِظَةٞ مِّن رَّبِّكُمۡ وَشِفَآءٞ لِّمَا فِي ٱلصُّدُورِ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٞ لِّلۡمُؤۡمِنِينَ
হে মানুষ! নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এক উপদেশ এসেছে, যা অন্তরসমূহে যা কিছু (সন্দেহ ও সংশয়) আছে তার আরোগ্য, আর তা মুমিনদের জন্য পথনির্দেশ ও রহমত।
-
৫৮
قُلۡ بِفَضۡلِ ٱللَّهِ وَبِرَحۡمَتِهِۦ فَبِذَٰلِكَ فَلۡيَفۡرَحُواْ هُوَ خَيۡرٞ مِّمَّا يَجۡمَعُونَ
(হে রাসূল!) তুমি বলো, ‘এটি (আল-কুরআন) আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমতেই (প্রেরিত হয়েছে)। অতএব, এ নিয়েই তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত। তারা যা সঞ্চয় করে, তার চেয়ে এটি উত্তম।’
-
৫৯
قُلۡ أَرَءَيۡتُم مَّآ أَنزَلَ ٱللَّهُ لَكُم مِّن رِّزۡقٖ فَجَعَلۡتُم مِّنۡهُ حَرَامٗا وَحَلَٰلٗا قُلۡ ءَآللَّهُ أَذِنَ لَكُمۡۖ أَمۡ عَلَى ٱللَّهِ تَفۡتَرُونَ
(হে রাসূল! তুমি এ মুশরিকদেরকে) বলো: ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আল্লাহ তোমাদের জন্য যে রিযক দিয়েছেন, তারপর তোমরা (নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো) তার কিছু হালাল ও কিছু হারাম করেছ।’ বলো: ‘আল্লাহ কি তোমাদেরকে এটার অনুমতি দিয়েছেন, নাকি আল্লাহর ওপর তোমরা মিথ্যা রটনা করছ?’
-
৬০
وَمَا ظَنُّ ٱلَّذِينَ يَفۡتَرُونَ عَلَى ٱللَّهِ ٱلۡكَذِبَ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَذُو فَضۡلٍ عَلَى ٱلنَّاسِ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَهُمۡ لَا يَشۡكُرُونَ
আর যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটাচ্ছে, কিয়ামতের দিন (তাদের পরিণতি) সম্পর্কে তাদের কী ধারণা?(১) নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল;(২) কিন্তু তাদের অধিকাংশই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৬১
وَمَا تَكُونُ فِي شَأۡنٖ وَمَا تَتۡلُواْ مِنۡهُ مِن قُرۡءَانٖ وَلَا تَعۡمَلُونَ مِنۡ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيۡكُمۡ شُهُودًا إِذۡ تُفِيضُونَ فِيهِۚ وَمَا يَعۡزُبُ عَن رَّبِّكَ مِن مِّثۡقَالِ ذَرَّةٖ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَلَا فِي ٱلسَّمَآءِ وَلَآ أَصۡغَرَ مِن ذَٰلِكَ وَلَآ أَكۡبَرَ إِلَّا فِي كِتَٰبٖ مُّبِينٍ
আর (হে রাসূল!) তুমি যে অবস্থাতেই থাকো না কেন, আর আল্লাহর পক্ষ হতে আল-কুরআন থেকে যা কিছু তিলাওয়াত করো না কেন এবং (হে মানুষ !) তোমরা যে আমলই করো না কেন, আমি তোমাদের ওপর (যাবতীয় কাজে) সাক্ষী থাকি, যখন তোমরা তাতে নিমগ্ন হও। আর আসমানসমূহ ও জমিনের অণু পরিমাণও তোমার রবের দৃষ্টির বাইরে নয় এবং তার চেয়ে ক্ষুদ্রতর বা বৃহত্তর কিছুই নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে (সংরক্ষিত) নেই।
-
৬২
أَلَآ إِنَّ أَوۡلِيَآءَ ٱللَّهِ لَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ
জেনে রেখো, নিশ্চয় আল্লাহর বন্ধুদের (কিয়ামতের ভয়াবহতা নিয়ে) কোনো ভয় নেই, আর তারা (দুনিয়ার কোন সুবিধা হারিয়ে) চিন্তিতও হবে না।
-
৬৩
ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَكَانُواْ يَتَّقُونَ
(এই ওলিরাই হলেন তারা,) যারা ঈমান এনেছেন এবং সর্বদা তাকওয়া অবলম্বন করতেন।
-
৬৪
لَهُمُ ٱلۡبُشۡرَىٰ فِي ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا وَفِي ٱلۡأٓخِرَةِۚ لَا تَبۡدِيلَ لِكَلِمَٰتِ ٱللَّهِۚ ذَٰلِكَ هُوَ ٱلۡفَوۡزُ ٱلۡعَظِيمُ
তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে দুনিয়ার জীবনে এবং আখিরাতেও। আল্লাহর বাণীসমূহে কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই মহাসাফল্য।
-
৬৫
وَلَا يَحۡزُنكَ قَوۡلُهُمۡۘ إِنَّ ٱلۡعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًاۚ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ
আর (হে রাসূল!) তাদের কথা (উপহাস ও সমালোচনা) যেনো তোমাকে দুঃখ না দেয়। নিশ্চয় সকল মর্যাদা আল্লাহর। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৬৬
أَلَآ إِنَّ لِلَّهِ مَن فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَن فِي ٱلۡأَرۡضِۗ وَمَا يَتَّبِعُ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ شُرَكَآءَۚ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَإِنۡ هُمۡ إِلَّا يَخۡرُصُونَ
জেনে রেখো, নিশ্চয় আসমানসমূহে যারা আছে এবং জমিনে যারা আছে, তারা সবাই আল্লাহরই এবং যারা (মুশরিকরা) আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে তাঁর শরীক বানিয়ে ডাকে, তারা মূলত কার অনুসরণ করছে? বস্তুত তারা তো কেবল ধারণার অনুসরণ করে। আসলেই তারা (শরীকদেরকে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করে) শুধু মিথ্যা কথাই বলে।
-
৬৭
هُوَ ٱلَّذِي جَعَلَ لَكُمُ ٱلَّيۡلَ لِتَسۡكُنُواْ فِيهِ وَٱلنَّهَارَ مُبۡصِرًاۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّقَوۡمٖ يَسۡمَعُونَ
তিনিই সে সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য রাতকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাতে বিশ্রাম নিতে পারো এবং দিনকে করেছেন আলোকময়। নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শনাবলি এমন সম্প্রদায়ের জন্যে, যারা কথা শোনে (ও গ্রহণ করে)।
-
৬৮
قَالُواْ ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ وَلَدٗاۗ سُبۡحَٰنَهُۥۖ هُوَ ٱلۡغَنِيُّۖ لَهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۚ إِنۡ عِندَكُم مِّن سُلۡطَٰنِۭ بِهَٰذَآۚ أَتَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعۡلَمُونَ
তারা (মুশরিকদের একদল) বলে: ‘আল্লাহ (ফিরিশতাদেরকে মেয়ে হিসেবে) সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি (এমন জঘন্য কথা থেকে) পবিত্র মহান! তিনি অভাবমুক্ত! যা কিছু আছে আসমানসমূহে ও যা কিছু আছে জমিনে, তা (সবকিছুর মালিকানা) তাঁরই। তোমাদের কাছে এ ব্যাপারে (আল্লাহ সন্তান গ্রহণের প্রসঙ্গে) কোনো প্রমাণ নেই। তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে (দলিলবিহীন) এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না?
-
৬৯
قُلۡ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَفۡتَرُونَ عَلَى ٱللَّهِ ٱلۡكَذِبَ لَا يُفۡلِحُونَ
(হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে বলো: ‘যারা আল্লাহর প্রসঙ্গে (সন্তান গ্রহণকে সম্পৃক্ত করে) মিথ্যা রটনা করবে, তারা সফলকাম হবে না।‘
-
৭০
مَتَٰعٞ فِي ٱلدُّنۡيَا ثُمَّ إِلَيۡنَا مَرۡجِعُهُمۡ ثُمَّ نُذِيقُهُمُ ٱلۡعَذَابَ ٱلشَّدِيدَ بِمَا كَانُواْ يَكۡفُرُونَ
দুনিয়াতে তাদের জন্য রয়েছে, কিছু ভোগসামগ্রী। অতঃপর (কিয়ামতের দিন) আমার কাছেই তাদেরকে ফিরে আসতে হবে। তারপর তাদের কুফরির কারণে তাদেরকে কঠোর শাস্তি আস্বাদন করাবো।
-
৭১
۞ وَٱتۡلُ عَلَيۡهِمۡ نَبَأَ نُوحٍ إِذۡ قَالَ لِقَوۡمِهِۦ يَٰقَوۡمِ إِن كَانَ كَبُرَ عَلَيۡكُم مَّقَامِي وَتَذۡكِيرِي بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ فَعَلَى ٱللَّهِ تَوَكَّلۡتُ فَأَجۡمِعُوٓاْ أَمۡرَكُمۡ وَشُرَكَآءَكُمۡ ثُمَّ لَا يَكُنۡ أَمۡرُكُمۡ عَلَيۡكُمۡ غُمَّةٗ ثُمَّ ٱقۡضُوٓاْ إِلَيَّ وَلَا تُنظِرُونِ
আর (হে রাসূল! তুমি) তাদেরকে (এ অস্বীকারকারী মুশরিকদেরকে) নূহের সংবাদ তিলাওয়াত করে শুনাও, যখন সে তার জাতিকে বলেছিল: ‘হে আমার জাতি! (তোমাদের মাঝে ) আমার অবস্থান এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে আমার উপদেশ দান যদি তোমাদের কাছে দুঃসহ মনে হয়,(১) তবে আমি আল্লাহর ওপরই তাওয়াক্কুল করলাম। সুতরাং তোমরা তোমাদের কর্তব্য স্থির করে নাও এবং (প্রয়োজনে) তোমাদের শরীকদেরও ডেকে নাও। তারপর তোমাদের ষড়যন্ত্রটুকু যেন অস্পষ্ট ও গোপনীয় না হয়। এরপর আমার (হত্যার) ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করো এবং আমাকে অবকাশ দিও না।’
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৭২
فَإِن تَوَلَّيۡتُمۡ فَمَا سَأَلۡتُكُم مِّنۡ أَجۡرٍۖ إِنۡ أَجۡرِيَ إِلَّا عَلَى ٱللَّهِۖ وَأُمِرۡتُ أَنۡ أَكُونَ مِنَ ٱلۡمُسۡلِمِينَ
অতঃপর তোমরা যদি (আমার দাওয়াত থেকে) মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে (তোমরা তো জানোই) আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো কেবল আল্লাহর কাছেই। আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্যই আদিষ্ট হয়েছি ।’
-
৭৩
فَكَذَّبُوهُ فَنَجَّيۡنَٰهُ وَمَن مَّعَهُۥ فِي ٱلۡفُلۡكِ وَجَعَلۡنَٰهُمۡ خَلَٰٓئِفَ وَأَغۡرَقۡنَا ٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَاۖ فَٱنظُرۡ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلۡمُنذَرِينَ
অবশেষে তারা (তার সম্প্রদায়) তাকে মিথ্যাবাদী বললো। তাই আমি তাকে ও তার সাথে থাকা মু’মিনদেরকে নৌকায় চড়িয়ে উদ্ধার করলাম এবং তাদেরকে পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত বানালাম। আর ডুবিয়ে দিলাম তাদেরকে, যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিল। অতএব (হে রাসূল! তুমি) দেখো, কেমন ছিল তাদের পরিণতি, যাদেরকে (ঈমান না আনার পরিণতি সম্পর্কে) সতর্ক করা হয়েছে।
-
৭৪
ثُمَّ بَعَثۡنَا مِنۢ بَعۡدِهِۦ رُسُلًا إِلَىٰ قَوۡمِهِمۡ فَجَآءُوهُم بِٱلۡبَيِّنَٰتِ فَمَا كَانُواْ لِيُؤۡمِنُواْ بِمَا كَذَّبُواْ بِهِۦ مِن قَبۡلُۚ كَذَٰلِكَ نَطۡبَعُ عَلَىٰ قُلُوبِ ٱلۡمُعۡتَدِينَ
অতঃপর আমরা তার (নূহের) পরে অনেক রাসূলকে তাদের জাতির কাছে পাঠিয়েছি এবং তারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারা (কাফিররা) আগে যা মিথ্যারোপ করেছিল, তাতে ঈমান আনার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এমনিভাবে আমি সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তরে মোহর মেরে দেই।
-
৭৫
ثُمَّ بَعَثۡنَا مِنۢ بَعۡدِهِم مُّوسَىٰ وَهَٰرُونَ إِلَىٰ فِرۡعَوۡنَ وَمَلَإِيْهِۦ بِـَٔايَٰتِنَا فَٱسۡتَكۡبَرُواْ وَكَانُواْ قَوۡمٗا مُّجۡرِمِينَ
অতঃপর তাদের (এ রাসূলগণের প্রস্থানের কিছুকাল) পরে আমি মূসা ও হারূনকে ফির‘আউন ও তার সভাসদদের কাছে আমার আয়াতসমূহ দিয়ে পাঠিয়েছি। কিন্তু তারা (তাদের আনীত বিধানের প্রতি ঈমান আনার ব্যাপারে) অহংকার করেছে। আর তারা ছিল অপরাধী জাতি।
-
৭৬
فَلَمَّا جَآءَهُمُ ٱلۡحَقُّ مِنۡ عِندِنَا قَالُوٓاْ إِنَّ هَٰذَا لَسِحۡرٞ مُّبِينٞ
অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে সত্য এলো, তারা বললো: ‘নিশ্চয় এটি সুস্পষ্ট যাদু।’
-
৭৭
قَالَ مُوسَىٰٓ أَتَقُولُونَ لِلۡحَقِّ لَمَّا جَآءَكُمۡۖ أَسِحۡرٌ هَٰذَا وَلَا يُفۡلِحُ ٱلسَّٰحِرُونَ
মূসা (বিস্ময় ও প্রতিবাদ প্রকাশ করে তাদেরকে) বললেন: তোমাদের কাছে সত্য আসার পর কি তোমরা তাকে জাদু বলছ?! এটা কি যাদু? আর যাদুকররা তো কখনো সফলকাম হয় না।
-
৭৮
قَالُوٓاْ أَجِئۡتَنَا لِتَلۡفِتَنَا عَمَّا وَجَدۡنَا عَلَيۡهِ ءَابَآءَنَا وَتَكُونَ لَكُمَا ٱلۡكِبۡرِيَآءُ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَمَا نَحۡنُ لَكُمَا بِمُؤۡمِنِينَ
তারা মূসাকে বলল, ‘তুমি কি আমাদের কাছে এসেছ, যাতে আমাদেরকে সেই পথ থেকে ফিরিয়ে দাও, যার ওপর আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি এবং যাতে এ দেশে তোমাদের দু'জনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়? আর আমরা তো তোমাদের প্রতি ঈমান আনয়নকারী নই।’
-
৭৯
وَقَالَ فِرۡعَوۡنُ ٱئۡتُونِي بِكُلِّ سَٰحِرٍ عَلِيمٖ
এবং ফির‘আউন (তার সম্প্রদায়কে) বললো: ‘তোমরা প্রত্যেক বিজ্ঞ যাদুকরদেরকে আমার কাছে নিয়ে আসো।’
-
৮০
فَلَمَّا جَآءَ ٱلسَّحَرَةُ قَالَ لَهُم مُّوسَىٰٓ أَلۡقُواْ مَآ أَنتُم مُّلۡقُونَ
অতঃপর যখন যাদুকররা (ফির‘আউনের নিকট) এলো, মূসা তাদেরকে বললো: ‘(হে যাদুকররা!) তোমরা যা নিক্ষেপ করতে চাও, তা নিক্ষেপ করো।’
-
৮১
فَلَمَّآ أَلۡقَوۡاْ قَالَ مُوسَىٰ مَا جِئۡتُم بِهِ ٱلسِّحۡرُۖ إِنَّ ٱللَّهَ سَيُبۡطِلُهُۥٓ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُصۡلِحُ عَمَلَ ٱلۡمُفۡسِدِينَ
অতঃপর যখন তারা (তাদের যাদুর রশি ও লাঠি) নিক্ষেপ করল, তখন মূসা তাদেরকে বললো: ‘তোমরা যা আনলে, তা মূলত যাদু। নিশ্চয় আল্লাহ সেগুলোকে অসার করে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের আমল পরিশুদ্ধ করেন না।’
-
৮২
وَيُحِقُّ ٱللَّهُ ٱلۡحَقَّ بِكَلِمَٰتِهِۦ وَلَوۡ كَرِهَ ٱلۡمُجۡرِمُونَ
আর আল্লাহ তাঁর বাণীসমূহের মাধ্যমে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন, যদিও অপরাধীরা, তা অপছন্দ করে।
-
৮৩
فَمَآ ءَامَنَ لِمُوسَىٰٓ إِلَّا ذُرِّيَّةٞ مِّن قَوۡمِهِۦ عَلَىٰ خَوۡفٖ مِّن فِرۡعَوۡنَ وَمَلَإِيْهِمۡ أَن يَفۡتِنَهُمۡۚ وَإِنَّ فِرۡعَوۡنَ لَعَالٖ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَإِنَّهُۥ لَمِنَ ٱلۡمُسۡرِفِينَ
কিন্তু ফির’আউন এবং তার পরিষদবর্গ নির্যাতন করবে এ আশঙ্কায় মূসার সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র একটি (যুবকের) দল ছাড়া আর কেউ তার প্রতি ঈমান আনেনি। আর নিশ্চয় ফির‘আউন ছিল (মিসরের) জমিনে পরাক্রমশীল এবং নিশ্চয় সে সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
-
৮৪
وَقَالَ مُوسَىٰ يَٰقَوۡمِ إِن كُنتُمۡ ءَامَنتُم بِٱللَّهِ فَعَلَيۡهِ تَوَكَّلُوٓاْ إِن كُنتُم مُّسۡلِمِينَ
আর মূসা বললো: ‘হে আমার সম্প্রদায়! যদি তোমরা (সত্যিকারার্থে) আল্লাহর ওপর ঈমান এনে থাকো, তবে তোমরা তাঁরই ওপর তাওয়াক্কুল করো; যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাকো।’
-
৮৫
فَقَالُواْ عَلَى ٱللَّهِ تَوَكَّلۡنَا رَبَّنَا لَا تَجۡعَلۡنَا فِتۡنَةٗ لِّلۡقَوۡمِ ٱلظَّٰلِمِينَ
তখন তারা (মূসার উপদেশের উত্তরে) বললো: ‘আমরা আল্লাহর ওপরই তাওয়াক্কুল করলাম। হে আমাদের রব, তুমি আমাদেরকে যালিম সম্প্রদায়ের নির্যাতনের পাত্র বানাবেন না।’
-
৮৬
وَنَجِّنَا بِرَحۡمَتِكَ مِنَ ٱلۡقَوۡمِ ٱلۡكَٰفِرِينَ
‘আর আমাদেরকে আপনার অনুগ্রহে কাফির সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করুন।’
-
৮৭
وَأَوۡحَيۡنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰ وَأَخِيهِ أَن تَبَوَّءَا لِقَوۡمِكُمَا بِمِصۡرَ بُيُوتٗا وَٱجۡعَلُواْ بُيُوتَكُمۡ قِبۡلَةٗ وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَۗ وَبَشِّرِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ
আর আমি মূসা ও তার ভাইয়ের (হারূনের) কাছে ওহী পাঠালাম যে, ‘তোমরা তোমাদের জাতির জন্য মিসরে গৃহ তৈরি করো এবং তোমাদের গৃহগুলোকে কিবলা (‘ইবাদাতের স্থান) বানাও।(১) আর সালাত কায়িম করো এবং মু’মিনদেরকে সুসংবাদ দাও।’
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৮৮
وَقَالَ مُوسَىٰ رَبَّنَآ إِنَّكَ ءَاتَيۡتَ فِرۡعَوۡنَ وَمَلَأَهُۥ زِينَةٗ وَأَمۡوَٰلٗا فِي ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا رَبَّنَا لِيُضِلُّواْ عَن سَبِيلِكَۖ رَبَّنَا ٱطۡمِسۡ عَلَىٰٓ أَمۡوَٰلِهِمۡ وَٱشۡدُدۡ عَلَىٰ قُلُوبِهِمۡ فَلَا يُؤۡمِنُواْ حَتَّىٰ يَرَوُاْ ٱلۡعَذَابَ ٱلۡأَلِيمَ
আর মূসা বললেন: হে আমাদের রব! আপনি তো ফির‘আউন ও তার পরিষদবর্গকে দুনিয়ার জীবনে শোভা-সজ্জা ও ধন-সম্পদ দান করেছেন। হে আমাদের রব! যেন তারা (এর দ্বারা মানুষকে) আপনার পথ থেকে বিভ্রান্ত করে। হে আমাদের রব! তাদের ধন-সম্পদ নিশ্চিহ্ন করে দিন এবং তাদের হৃদয়কে কঠোর করে দিন, ফলে তারা ঈমান আনবে না, যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।
-
৮৯
قَالَ قَدۡ أُجِيبَت دَّعۡوَتُكُمَا فَٱسۡتَقِيمَا وَلَا تَتَّبِعَآنِّ سَبِيلَ ٱلَّذِينَ لَا يَعۡلَمُونَ
আল্লাহ বললেন: ‘(হে মূসা ও হারূন!) তোমাদের উভয়ের দু‘আ কবুল করা হয়েছে। সুতরাং তোমরা (নিজেদের ধর্মের ওপর) অটল থাকো এবং যারা জানে না, তোমরা তাদের পথ অনুসরণ করো না।’
-
৯০
۞ وَجَٰوَزۡنَا بِبَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ ٱلۡبَحۡرَ فَأَتۡبَعَهُمۡ فِرۡعَوۡنُ وَجُنُودُهُۥ بَغۡيٗا وَعَدۡوًاۖ حَتَّىٰٓ إِذَآ أَدۡرَكَهُ ٱلۡغَرَقُ قَالَ ءَامَنتُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا ٱلَّذِيٓ ءَامَنَتۡ بِهِۦ بَنُوٓاْ إِسۡرَٰٓءِيلَ وَأَنَا۠ مِنَ ٱلۡمُسۡلِمِينَ
আর আমি বানূ ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করিয়ে নিলাম। আর ফির‘আউন ও তার সৈন্যবাহিনী ঔদ্ধত্য সহকারে ও সীমালঙ্ঘনকারী হয়ে তাদের পিছু নিল। অবশেষে যখন সে ডুবে যেতে লাগল, তখন সে বলল: ‘আমি ঈমান আনলাম যে, নিশ্চয় তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, যার প্রতি বানূ ইসরাঈল ঈমান এনেছে। আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হলাম।’
-
৯১
ءَآلۡـَٰٔنَ وَقَدۡ عَصَيۡتَ قَبۡلُ وَكُنتَ مِنَ ٱلۡمُفۡسِدِينَ
‘(তুমি জীবন থেকে নিরাশ হয়ে) এখন ঈমান এনেছো? অথচ (শাস্তি নাযিল হওয়ার) পূর্বে তুমি (আল্লাহর সাথে কুফরি এবং তাঁর পথে বাধা সৃষ্টি করার মাধ্যমে) নাফরমানি করেছো। আর তুমি ছিলে, অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’
-
৯২
فَٱلۡيَوۡمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُونَ لِمَنۡ خَلۡفَكَ ءَايَةٗۚ وَإِنَّ كَثِيرٗا مِّنَ ٱلنَّاسِ عَنۡ ءَايَٰتِنَا لَغَٰفِلُونَ
‘সুতরাং (হে ফির‘আউন!) আজ আমি তোমার দেহটি রক্ষা করব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক।(১) আর নিশ্চয় অনেক মানুষ আমার নিদর্শনসমূহের ব্যাপারে গাফিল।’
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৯৩
وَلَقَدۡ بَوَّأۡنَا بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ مُبَوَّأَ صِدۡقٖ وَرَزَقۡنَٰهُم مِّنَ ٱلطَّيِّبَٰتِ فَمَا ٱخۡتَلَفُواْ حَتَّىٰ جَآءَهُمُ ٱلۡعِلۡمُۚ إِنَّ رَبَّكَ يَقۡضِي بَيۡنَهُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ فِيمَا كَانُواْ فِيهِ يَخۡتَلِفُونَ
আর অবশ্যই আমি বানূ ইসরাঈলকে উৎকৃষ্ট আবাসভূমিতে বসবাস করতে দিলাম এবং তাদেরকে উত্তম রিযক দিলাম। অতঃপর তাদের কাছে জ্ঞান (আল-কুরআন) আসলে তারা (নিজেদের ধর্মকে নিয়ে) বিভেদ সৃষ্টি করল। নিশ্চয় তোমার রব কিয়ামতের দিন সে (দ্বন্দ্বপূর্ণ) বিষয়ে ফয়সালা করবেন, যা নিয়ে তারা মতবিরোধ করতো।
-
৯৪
فَإِن كُنتَ فِي شَكّٖ مِّمَّآ أَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ فَسۡـَٔلِ ٱلَّذِينَ يَقۡرَءُونَ ٱلۡكِتَٰبَ مِن قَبۡلِكَۚ لَقَدۡ جَآءَكَ ٱلۡحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡمُمۡتَرِينَ
সুতরাং (হে রাসূল!) আমি তোমার নিকট যা নাযিল করেছি, তা নিয়ে যদি তুমি সন্দেহে থাকো, তবে যারা তোমার আগের কিতাব পাঠ করে তাদেরকে (মু’মিন ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানদেরকে) জিজ্ঞাসা করো।(১) অবশ্যই তোমার নিকট তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য এসেছে। সুতরাং তুমি সন্দেহ পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৯৫
وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ فَتَكُونَ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ
আর তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে। তাহলে তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৯৬
إِنَّ ٱلَّذِينَ حَقَّتۡ عَلَيۡهِمۡ كَلِمَتُ رَبِّكَ لَا يُؤۡمِنُونَ
(হে রাসূল! পাপের উপর অটল থাকার কারণে) যাদের ব্যাপারে তোমার রবের বাণী বাস্তবায়িত হয়ে গেছে, তারা ঈমান আনবে না।
-
৯৭
وَلَوۡ جَآءَتۡهُمۡ كُلُّ ءَايَةٍ حَتَّىٰ يَرَوُاْ ٱلۡعَذَابَ ٱلۡأَلِيمَ
যদিও তাদের নিকট (শরীয়ত ও দুনিয়ার) সকল নিদর্শনও এসে উপস্থিত হয়; যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে(১)।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৯৮
فَلَوۡلَا كَانَتۡ قَرۡيَةٌ ءَامَنَتۡ فَنَفَعَهَآ إِيمَٰنُهَآ إِلَّا قَوۡمَ يُونُسَ لَمَّآ ءَامَنُواْ كَشَفۡنَا عَنۡهُمۡ عَذَابَ ٱلۡخِزۡيِ فِي ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا وَمَتَّعۡنَٰهُمۡ إِلَىٰ حِينٖ
অতঃপর কোনো জনপদের অধিবাসীরা কেন এমন হলো না যে, তারা ঈমান আনতো এবং তাদের ঈমান তাদের উপকারে আসতো? তবে ইউনুসের সম্প্রদায় ছাড়া, তারা যখন ঈমান আনল, তখন আমি তাদের থেকে দুনিয়ার জীবনের লাঞ্ছনাকর শাস্তি সরিয়ে দিলাম এবং আমি তাদেরকে একটি সময় পর্যন্ত ভোগ-বিলাস করতে দিলাম।
-
৯৯
وَلَوۡ شَآءَ رَبُّكَ لَأٓمَنَ مَن فِي ٱلۡأَرۡضِ كُلُّهُمۡ جَمِيعًاۚ أَفَأَنتَ تُكۡرِهُ ٱلنَّاسَ حَتَّىٰ يَكُونُواْ مُؤۡمِنِينَ
(হে রাসূল!) আর যদি তোমার রব চাইতেন, তবে জমিনের সকলেই ঈমান আনতো। (তিনি যেহেতু তা চাননি) তাহলে তুমি কি মানুষকে মু’মিন হওয়ার জন্যে বাধ্য করবে?
-
১০০
وَمَا كَانَ لِنَفۡسٍ أَن تُؤۡمِنَ إِلَّا بِإِذۡنِ ٱللَّهِۚ وَيَجۡعَلُ ٱلرِّجۡسَ عَلَى ٱلَّذِينَ لَا يَعۡقِلُونَ
আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারও পক্ষে ঈমান আনা সম্ভব নয়। আর যারা (আল্লাহর আদেশ-নিষেধ ও প্রমাণাদি) বুঝতে চায় না, তিনি তাদের ওপর তাঁর শাস্তি ও লাঞ্ছনা অবধারিত করেন।
-
১০১
قُلِ ٱنظُرُواْ مَاذَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ وَمَا تُغۡنِي ٱلۡأٓيَٰتُ وَٱلنُّذُرُ عَن قَوۡمٖ لَّا يُؤۡمِنُونَ
(হে রাসূল!) বলো: ‘আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে, সেগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখো। আর (কুফরির ওপর গোঁয়ার্তুমির কারণে) যারা ঈমান আনে না, নিদর্শনাবলি ও ভীতি প্রদর্শন এমন সম্প্রদায়ের কোনো কাজে আসে না।’
-
১০২
فَهَلۡ يَنتَظِرُونَ إِلَّا مِثۡلَ أَيَّامِ ٱلَّذِينَ خَلَوۡاْ مِن قَبۡلِهِمۡۚ قُلۡ فَٱنتَظِرُوٓاْ إِنِّي مَعَكُم مِّنَ ٱلۡمُنتَظِرِينَ
তবে কি তারা কেবল তাদের আগের (মিথ্যারোপকারী) লোকদের সাথে যা ঘটেছিল সেটার (সে ভয়াবহ দিনগুলোরই) অপেক্ষা করছে? (হে রাসূল! তুমি তাদেরকে) বলো: ‘তবে তোমরা (আল্লাহর শাস্তির) অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে (আমার রবের ওয়াদার) অপেক্ষা করছি।’
-
১০৩
ثُمَّ نُنَجِّي رُسُلَنَا وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْۚ كَذَٰلِكَ حَقًّا عَلَيۡنَا نُنجِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ
তারপর আমি (তাদের ওপর শাস্তি অবতীর্ণ করি আর) আমার রাসূলগণকে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে উদ্ধার করি। এভাবে মু’মিনদেরকে উদ্ধার করা আমার দায়িত্ব।
-
১০৪
قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِن كُنتُمۡ فِي شَكّٖ مِّن دِينِي فَلَآ أَعۡبُدُ ٱلَّذِينَ تَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَلَٰكِنۡ أَعۡبُدُ ٱللَّهَ ٱلَّذِي يَتَوَفَّىٰكُمۡۖ وَأُمِرۡتُ أَنۡ أَكُونَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ
(হে রাসূল!) বলো: ‘হে মানুষ, তোমরা যদি আমার দীনের (ইসলামের) ব্যাপারে সন্দেহে থাকো, তবে (জেনে রাখো) আল্লাহ ছাড়া তোমরা যার ‘ইবাদত করো, আমি তার ‘ইবাদাত করি না; বরং আমি ‘ইবাদাত করি সেই আল্লাহর, যিনি তোমাদের মৃত্যু দেন। আর আমি মু’মিনদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি।’
-
১০৫
وَأَنۡ أَقِمۡ وَجۡهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفٗا وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡمُشۡرِكِينَ
আর আমাকে আরো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ‘তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখো এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।’
-
১০৬
وَلَا تَدۡعُ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَۖ فَإِن فَعَلۡتَ فَإِنَّكَ إِذٗا مِّنَ ٱلظَّٰلِمِينَ
‘আর (হে রাসূল!) তুমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকবে না, যারা তোমার কোন উপকার করতে পারে না এবং তোমার ক্ষতিও করতে পারে না। অতএব তুমি যদি সেগুলোর ‘ইবাদাত করো, তাহলে নিশ্চয় তুমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’
-
১০৭
وَإِن يَمۡسَسۡكَ ٱللَّهُ بِضُرّٖ فَلَا كَاشِفَ لَهُۥٓ إِلَّا هُوَۖ وَإِن يُرِدۡكَ بِخَيۡرٖ فَلَا رَآدَّ لِفَضۡلِهِۦۚ يُصِيبُ بِهِۦ مَن يَشَآءُ مِنۡ عِبَادِهِۦۚ وَهُوَ ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ
‘আর (হে রাসূল!) আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো ক্ষতির স্পর্শ করান, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহের কোনো প্রতিরোধকারী নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তাকে তা দেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।‘
-
১০৮
قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ قَدۡ جَآءَكُمُ ٱلۡحَقُّ مِن رَّبِّكُمۡۖ فَمَنِ ٱهۡتَدَىٰ فَإِنَّمَا يَهۡتَدِي لِنَفۡسِهِۦۖ وَمَن ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيۡهَاۖ وَمَآ أَنَا۠ عَلَيۡكُم بِوَكِيلٖ
(হে রাসূল! তুমি) বলো: ‘হে মানুষ! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সত্য (আল-কুরআন) এসেছে। সুতরাং যে হিদায়াত গ্রহণ করবে, সে নিজের জন্যই হিদায়াত গ্রহণ করবে। আর যে পথভ্রষ্ট হবে, সে নিজের ক্ষতির জন্য পথভ্রষ্ট হবে। আর আমি তোমাদের অভিভাবক (সংরক্ষক) নই।’
-
১০৯
وَٱتَّبِعۡ مَا يُوحَىٰٓ إِلَيۡكَ وَٱصۡبِرۡ حَتَّىٰ يَحۡكُمَ ٱللَّهُۚ وَهُوَ خَيۡرُ ٱلۡحَٰكِمِينَ
আর (হে রাসূল!) তোমার নিকট যে ওহী নাযিল করা হয়েছে, তুমি তার অনুসরণ করো এবং ধৈর্য ধারণ করো; যতক্ষণ না আল্লাহ ফয়সালা করেন। আর তিনিই সর্বোত্তম ফয়সালা প্রদানকারী।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
অনুবাদ: রাওয়াদ ট্রান্সলেশন সেন্টার. উৎস: QuranEnc.com, সর্বশেষ মিলিয়ে দেখা: ২৬ অক্টোবর ২০২৬.
আরবি পাঠ: বাদশাহ ফাহাদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স. সূরার তথ্য: Tanzil.net (CC BY 3.0).
এটি কুরআনের অর্থের অনুবাদ। মানুষের যেকোনো কাজের মতো এতে ভুল থাকতে পারে।