আল-আম্বিয়া
الأنبياء
بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
-
১
ٱقۡتَرَبَ لِلنَّاسِ حِسَابُهُمۡ وَهُمۡ فِي غَفۡلَةٖ مُّعۡرِضُونَ
মানুষের হিসাব-নিকাশের সময় (কিয়ামত) আসন্ন; অথচ তারা উদাসীনতায় (আখিরাত হতে) মুখ ফিরিয়ে রেখেছে।
-
২
مَا يَأۡتِيهِم مِّن ذِكۡرٖ مِّن رَّبِّهِم مُّحۡدَثٍ إِلَّا ٱسۡتَمَعُوهُ وَهُمۡ يَلۡعَبُونَ
যখনই তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের নিকট (আল-কুরআনের) কোনো নতুন উপদেশ আসে, তখন তারা তা কৌতুক ভরে (তামাশার ছলে) শ্রবণ করে।
-
৩
لَاهِيَةٗ قُلُوبُهُمۡۗ وَأَسَرُّواْ ٱلنَّجۡوَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ هَلۡ هَٰذَآ إِلَّا بَشَرٞ مِّثۡلُكُمۡۖ أَفَتَأۡتُونَ ٱلسِّحۡرَ وَأَنتُمۡ تُبۡصِرُونَ
(তারা তা শুনে অথচ;) তাদের অন্তর থাকে অমনোযোগী এবং যালিমরা গোপনে পরামর্শ করে, ‘এ তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ। এরপরও কি তোমরা দেখে শুনে যাদুর কবলে পড়বে?’
-
৪
قَالَ رَبِّي يَعۡلَمُ ٱلۡقَوۡلَ فِي ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِۖ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ
সে (রাসূলুল্লাহ) বললো: ‘আমার রব আসমানসমূহ ও জমিনের সমস্ত কথাই জানেন এবং তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’
-
৫
بَلۡ قَالُوٓاْ أَضۡغَٰثُ أَحۡلَٰمِۭ بَلِ ٱفۡتَرَىٰهُ بَلۡ هُوَ شَاعِرٞ فَلۡيَأۡتِنَا بِـَٔايَةٖ كَمَآ أُرۡسِلَ ٱلۡأَوَّلُونَ
বরং তারা (কাফিররা) বলে: ‘এগুলো(১) অলীক কল্পনা, হয় সে এটি মন থেকে বানিয়েছে, নয়তো সে একজন কবি। অতএব সে আমাদের কাছে এমন নিদর্শন নিয়ে আসুক, যেরূপ নিদর্শনসহ প্রেরিত হয়েছিল পূর্ববর্তীগণ।’
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৬
مَآ ءَامَنَتۡ قَبۡلَهُم مِّن قَرۡيَةٍ أَهۡلَكۡنَٰهَآۖ أَفَهُمۡ يُؤۡمِنُونَ
তাদের পূর্বে যে জনপদই (তাদের প্রস্তাবকৃত নিদর্শন নাযিলের পরেও) ঈমান আনেনি, তাদেরকে আমি ধ্বংস করেছি। তবে কি এরা ঈমান আনবে?
-
৭
وَمَآ أَرۡسَلۡنَا قَبۡلَكَ إِلَّا رِجَالٗا نُّوحِيٓ إِلَيۡهِمۡۖ فَسۡـَٔلُوٓاْ أَهۡلَ ٱلذِّكۡرِ إِن كُنتُمۡ لَا تَعۡلَمُونَ
আর (হে রাসূল!) আমি তোমার পূর্বে শুধু পুরুষ মানুষদের নিকটই ওহী পাঠিয়েছি। সুতরাং তোমরা (পূর্বেকার কিতাবধারী) জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা করো, যদি তোমরা না জানো।
-
৮
وَمَا جَعَلۡنَٰهُمۡ جَسَدٗا لَّا يَأۡكُلُونَ ٱلطَّعَامَ وَمَا كَانُواْ خَٰلِدِينَ
আর আমি তাদেরকে (প্রেরিত রাসূলদেরকে) এমন দেহবিশিষ্ট করিনি যে, তারা খাদ্য গ্রহণ করত না, আর তারা (দুনিয়াতে) চিরস্থায়ীও ছিল না।
-
৯
ثُمَّ صَدَقۡنَٰهُمُ ٱلۡوَعۡدَ فَأَنجَيۡنَٰهُمۡ وَمَن نَّشَآءُ وَأَهۡلَكۡنَا ٱلۡمُسۡرِفِينَ
অতঃপর আমি রাসূলদের সাথে কৃত (সাহায্য ও বিজয়ের) ওয়াদা পূর্ণ করলাম। আর আমি তাদেরকে ও যাদেরকে ইচ্ছে রক্ষা করলাম এবং সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে ধ্বংস করে দিলাম।
-
১০
لَقَدۡ أَنزَلۡنَآ إِلَيۡكُمۡ كِتَٰبٗا فِيهِ ذِكۡرُكُمۡۚ أَفَلَا تَعۡقِلُونَ
নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি এমন এক কিতাব (আল কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে তোমাদের জন্য সম্মান ও গৌরব রয়েছে।(১) তবুও কি তোমরা বুঝবে না?
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
১১
وَكَمۡ قَصَمۡنَا مِن قَرۡيَةٖ كَانَتۡ ظَالِمَةٗ وَأَنشَأۡنَا بَعۡدَهَا قَوۡمًا ءَاخَرِينَ
আর আমি কত জনপদকে ধ্বংস করেছি, যারা ছিলো যালিম এবং তাদের পরবর্তীতে সেখানে অন্য জাতিকে সৃষ্টি করেছি।
-
১২
فَلَمَّآ أَحَسُّواْ بَأۡسَنَآ إِذَا هُم مِّنۡهَا يَرۡكُضُونَ
অতঃপর তারা যখন আমার শাস্তি দেখল, তখনই তারা (ধ্বংস থেকে বাঁচার জন্য) জনপদ ছেড়ে পালাতে লাগলো।
-
১৩
لَا تَرۡكُضُواْ وَٱرۡجِعُوٓاْ إِلَىٰ مَآ أُتۡرِفۡتُمۡ فِيهِ وَمَسَٰكِنِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تُسۡـَٔلُونَ
(তাদেরকে তিরস্কারের সুরে বলা হলো) ‘পলায়ন করো না; বরং তোমরা যে আনন্দ-ফুর্তি আস্বাদনে মত্ত ছিলে তাতে এবং নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরে যাও। সম্ভবত তোমাদেরকে (তোমাদের দুনিয়া সম্পর্কে) আজ কিছু জিজ্ঞাসা করা হবে।’
-
১৪
قَالُواْ يَٰوَيۡلَنَآ إِنَّا كُنَّا ظَٰلِمِينَ
তারা বললো: ‘হায় আমাদের দুর্ভোগ! আমরা তো (আল্লাহর সাথে কুফরী করার কারণে) আসলেই যালিম ছিলাম।’
-
১৫
فَمَا زَالَت تِّلۡكَ دَعۡوَىٰهُمۡ حَتَّىٰ جَعَلۡنَٰهُمۡ حَصِيدًا خَٰمِدِينَ
অতঃপর তাদের এই বিলাপ(১) চলতে থাকে যতক্ষণ না আমি তাদেরকে কেটে ফেলা শস্য ও নিভে যাওয়া আগুন সদৃশ (সমূলে ধ্বংস) করে দিলাম।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
১৬
وَمَا خَلَقۡنَا ٱلسَّمَآءَ وَٱلۡأَرۡضَ وَمَا بَيۡنَهُمَا لَٰعِبِينَ
আর আসমানসমূহ, জমিন ও এতদুভয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে, তার কোনো কিছুই আমি খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
১৭
لَوۡ أَرَدۡنَآ أَن نَّتَّخِذَ لَهۡوٗا لَّٱتَّخَذۡنَٰهُ مِن لَّدُنَّآ إِن كُنَّا فَٰعِلِينَ
আমি যদি খেলার উপকরণ(১) গ্রহণ করতে চাইতাম, তবে আমার কাছে যা আছে, তা দিয়েই করতাম; কিন্তু আমি তা করিনি।(২)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
১৮
بَلۡ نَقۡذِفُ بِٱلۡحَقِّ عَلَى ٱلۡبَٰطِلِ فَيَدۡمَغُهُۥ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٞۚ وَلَكُمُ ٱلۡوَيۡلُ مِمَّا تَصِفُونَ
বরং আমি (রাসূলের নিকট ওয়াহী করা) সত্যকে দিয়ে (কাফিরদের বাতিলের) মিথ্যার ওপর আঘাত হানি; ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং নিমিষেই তা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। আর তোমরা (আল্লাহকে যে গুণে গুণান্বিত করে) যা কিছু বলছো, (১) তার জন্য তোমাদের রয়েছে দুর্ভোগ।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
১৯
وَلَهُۥ مَن فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ وَمَنۡ عِندَهُۥ لَا يَسۡتَكۡبِرُونَ عَنۡ عِبَادَتِهِۦ وَلَا يَسۡتَحۡسِرُونَ
আর আসমানসমূহে ও জমিনে যারা আছে, তারা সবাই তাঁর; আর তাঁর কাছে যারা (যেসব ফিরিশতারা) আছে তারা অহংকারবশত তাঁর ইবাদাত হতে বিমুখ হয় না এবং ক্লান্তিও বোধ করে না।
-
২০
يُسَبِّحُونَ ٱلَّيۡلَ وَٱلنَّهَارَ لَا يَفۡتُرُونَ
তারা দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে, তারা শিথিলতা দেখায় না (এবং বিরক্তও হয় না )।
-
২১
أَمِ ٱتَّخَذُوٓاْ ءَالِهَةٗ مِّنَ ٱلۡأَرۡضِ هُمۡ يُنشِرُونَ
তারা (মুশরিকরা) কি পৃথিবী থেকে এমন উপাস্য গ্রহণ করেছে, যারা মৃতদের জীবিত করতে পারে?
-
২২
لَوۡ كَانَ فِيهِمَآ ءَالِهَةٌ إِلَّا ٱللَّهُ لَفَسَدَتَاۚ فَسُبۡحَٰنَ ٱللَّهِ رَبِّ ٱلۡعَرۡشِ عَمَّا يَصِفُونَ
যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া বহু ইলাহ থাকতো, তবে (তাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণে) উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেতো। সুতরাং তারা যা বলে, আরশের রব আল্লাহ তা থেকে পূত-পবিত্র।
-
২৩
لَا يُسۡـَٔلُ عَمَّا يَفۡعَلُ وَهُمۡ يُسۡـَٔلُونَ
তিনি যা করেন, সে ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না; বরং তাদেরকেই (তাদের আমল সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করা হবে।
-
২৪
أَمِ ٱتَّخَذُواْ مِن دُونِهِۦٓ ءَالِهَةٗۖ قُلۡ هَاتُواْ بُرۡهَٰنَكُمۡۖ هَٰذَا ذِكۡرُ مَن مَّعِيَ وَذِكۡرُ مَن قَبۡلِيۚ بَلۡ أَكۡثَرُهُمۡ لَا يَعۡلَمُونَ ٱلۡحَقَّۖ فَهُم مُّعۡرِضُونَ
তারা কি আল্লাহকে ছাড়া অনেক ইলাহ গ্রহণ করেছে? (হে রাসূল! তুমি মুশরিকদেরকে) বলো: ‘তোমরা তোমাদের প্রমাণ নিয়ে আসো। আমার সাথে যারা আছে, এটি তাদের জন্য উপদেশ এবং আমার পূর্বে যারা ছিল, তাদের জন্যও এটাই ছিল উপদেশ।’ কিন্তু তাদের অধিকাংশই প্রকৃত সত্যকে জানে না; ফলে তারা (সত্য গ্রহণ থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়।
-
২৫
وَمَآ أَرۡسَلۡنَا مِن قَبۡلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِيٓ إِلَيۡهِ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَٱعۡبُدُونِ
আর (হে রাসূল!) আমি তোমার পূর্বে এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার প্রতি আমি এই মর্মে ওয়াহী নাযিল করিনি যে, ‘আমি (আল্লাহ) ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদাত কর।’
-
২৬
وَقَالُواْ ٱتَّخَذَ ٱلرَّحۡمَٰنُ وَلَدٗاۗ سُبۡحَٰنَهُۥۚ بَلۡ عِبَادٞ مُّكۡرَمُونَ
আর মুশরিকরা বলে: ‘পরম করুণাময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ (পক্ষান্তরে তাদের মিথ্যা উক্তি থেকে) তিনি পূত-পবিত্র। বরং তারা (ফিরিশতাগণ) সম্মানিত বান্দা।
-
২৭
لَا يَسۡبِقُونَهُۥ بِٱلۡقَوۡلِ وَهُم بِأَمۡرِهِۦ يَعۡمَلُونَ
তারা তাঁর আগ বাড়িয়ে কোনো কথা বলে না, আর তারা তাঁর নির্দেশেই কাজ করে।
-
২৮
يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡ وَلَا يَشۡفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ٱرۡتَضَىٰ وَهُم مِّنۡ خَشۡيَتِهِۦ مُشۡفِقُونَ
তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, সবই তিনি (আল্লাহ) জানেন। আর তারা (ফিরিশতারা) শুধু তাদের জন্যই সুপারিশ করে, যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট। আর তারা তাঁর ভয়ে সর্বদা ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে।
-
২৯
۞ وَمَن يَقُلۡ مِنۡهُمۡ إِنِّيٓ إِلَٰهٞ مِّن دُونِهِۦ فَذَٰلِكَ نَجۡزِيهِ جَهَنَّمَۚ كَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلظَّٰلِمِينَ
আর তাদের (ফিরিশতাদের) মধ্যে কেউ যদি বলে: ‘আল্লাহ নয়, আমিও একজন ইলাহ’, তাকেই আমি প্রতিদান হিসেবে জাহান্নাম দিবো। এভাবেই আমি যালিমদের (শাস্তির) প্রতিদান দিয়ে থাকি।
-
৩০
أَوَلَمۡ يَرَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ أَنَّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ كَانَتَا رَتۡقٗا فَفَتَقۡنَٰهُمَاۖ وَجَعَلۡنَا مِنَ ٱلۡمَآءِ كُلَّ شَيۡءٍ حَيٍّۚ أَفَلَا يُؤۡمِنُونَ
যারা কুফরী করে, তারা কি ভেবে দেখে না যে, আসমানসমূহ ও জমিন (প্রথমেই) একটির সাথে অন্যটি লাগানো ছিলো, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম। আর আমি সকল প্রাণবান জিনিসকে পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি তারা (এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে) ঈমান আনবে না?
-
৩১
وَجَعَلۡنَا فِي ٱلۡأَرۡضِ رَوَٰسِيَ أَن تَمِيدَ بِهِمۡ وَجَعَلۡنَا فِيهَا فِجَاجٗا سُبُلٗا لَّعَلَّهُمۡ يَهۡتَدُونَ
আর আমি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছি, যাতে তা তাদেরকে নিয়ে দুলে না ওঠে; এবং তাতে প্রশস্ত পথসমূহ তৈরি করেছি, যাতে তারা (চলাচলের) পথপ্রাপ্ত হয়।
-
৩২
وَجَعَلۡنَا ٱلسَّمَآءَ سَقۡفٗا مَّحۡفُوظٗاۖ وَهُمۡ عَنۡ ءَايَٰتِهَا مُعۡرِضُونَ
আর আমি আসমানকে করেছি (খুঁটিবিহীন) সুরক্ষিত ছাদ; কিন্তু তারা তার নিদর্শনাবলি হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
-
৩৩
وَهُوَ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلَّيۡلَ وَٱلنَّهَارَ وَٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَۖ كُلّٞ فِي فَلَكٖ يَسۡبَحُونَ
আর একমাত্র আল্লাহই রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে।
-
৩৪
وَمَا جَعَلۡنَا لِبَشَرٖ مِّن قَبۡلِكَ ٱلۡخُلۡدَۖ أَفَإِيْن مِّتَّ فَهُمُ ٱلۡخَٰلِدُونَ
আর তোমার পূর্বে কোনো মানুষকে আমি স্থায়ী জীবন দান করিনি। সুতরাং তোমার মৃত্যু হলে, তারা কি (এ দুনিয়াতে) অনন্ত জীবনসম্পন্ন হয়ে (বেচে) থাকবে?
-
৩৫
كُلُّ نَفۡسٖ ذَآئِقَةُ ٱلۡمَوۡتِۗ وَنَبۡلُوكُم بِٱلشَّرِّ وَٱلۡخَيۡرِ فِتۡنَةٗۖ وَإِلَيۡنَا تُرۡجَعُونَ
প্রত্যেক প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর আমি তোমাদেরকে ভালো-মন্দের মাধ্যমে পরীক্ষা করি। অতঃপর তোমরা আমারই কাছে ফিরে আসবে।
-
৩৬
وَإِذَا رَءَاكَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ إِن يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَٰذَا ٱلَّذِي يَذۡكُرُ ءَالِهَتَكُمۡ وَهُم بِذِكۡرِ ٱلرَّحۡمَٰنِ هُمۡ كَٰفِرُونَ
আর (হে রাসূল!) কাফিররা যখনই তোমাকে দেখে, তখন তারা তোমাকে কেবল উপহাসের পাত্র হিসেবে গ্রহণ করে। তারা বলে: ‘এ-ই কি সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের দেবতাদের সমালোচনা করে?’ অথচ তারাই (আল-কুরআনকে অস্বীকার করে) ‘রহমান’-এর স্মরণকে অস্বীকার (কুফরী) করে।
-
৩৭
خُلِقَ ٱلۡإِنسَٰنُ مِنۡ عَجَلٖۚ سَأُوْرِيكُمۡ ءَايَٰتِي فَلَا تَسۡتَعۡجِلُونِ
মানুষকে তাড়াহুড়া প্রবণ করে সৃষ্টি করা হয়েছে। অচিরেই আমি তোমাদেরকে আমার নিদর্শনাবলি দেখাব। সুতরাং তোমরা (আমার শাস্তি নেমে আসার জন্যে) তাড়াহুড়া করো না।
-
৩৮
وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا ٱلۡوَعۡدُ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ
আর তারা বলে: ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে বল, ‘এ প্রতিশ্রুতি (পুনরুত্থান দিবসের আগমন) কখন পূর্ণ হবে?’
-
৩৯
لَوۡ يَعۡلَمُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ حِينَ لَا يَكُفُّونَ عَن وُجُوهِهِمُ ٱلنَّارَ وَلَا عَن ظُهُورِهِمۡ وَلَا هُمۡ يُنصَرُونَ
হায়! কাফিররা যদি সে সময়ের কথা জানতো, যখন তারা তাদের সামনে ও পেছন থেকে (জাহান্নামের) আগুন প্রতিরোধ করতে পারবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না (তাহলে তারা দ্রুত শাস্তি কামনা করত না);
-
৪০
بَلۡ تَأۡتِيهِم بَغۡتَةٗ فَتَبۡهَتُهُمۡ فَلَا يَسۡتَطِيعُونَ رَدَّهَا وَلَا هُمۡ يُنظَرُونَ
বরং (সে শাস্তি) আকস্মিকভাবে তাদের ওপর এসে পড়বে এবং তা তাদেরকে হতভম্ব করে দিবে। ফলে তারা তা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে না এবং তাদেরকে (তাওবার জন্য) অবকাশও দেয়া হবে না।
-
৪১
وَلَقَدِ ٱسۡتُهۡزِئَ بِرُسُلٖ مِّن قَبۡلِكَ فَحَاقَ بِٱلَّذِينَ سَخِرُواْ مِنۡهُم مَّا كَانُواْ بِهِۦ يَسۡتَهۡزِءُونَ
আর (হে মুহাম্মাদ!) তোমার পূর্বেও বহু রাসূলকে বিদ্রুপ করা হয়েছিল। অতঃপর যারা তাদের নিয়ে বিদ্রুপ করেছিল, তারা যে বিষয় নিয়ে বিদ্রুপ করত, শেষ পর্যন্ত সেটিই তাদের ওপর আপতিত হয়েছিল।
-
৪২
قُلۡ مَن يَكۡلَؤُكُم بِٱلَّيۡلِ وَٱلنَّهَارِ مِنَ ٱلرَّحۡمَٰنِۚ بَلۡ هُمۡ عَن ذِكۡرِ رَبِّهِم مُّعۡرِضُونَ
বলুন, কে তোমাদেরকে রাতে ও দিনে পরম করুণাময়ের (পক্ষ থেকে আসা বিপদ) থেকে রক্ষা করতে পারে?’ বরং তারা তাদের রবের স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
-
৪৩
أَمۡ لَهُمۡ ءَالِهَةٞ تَمۡنَعُهُم مِّن دُونِنَاۚ لَا يَسۡتَطِيعُونَ نَصۡرَ أَنفُسِهِمۡ وَلَا هُم مِّنَّا يُصۡحَبُونَ
তাদের কি এমন উপাস্য আছে, যারা আমার পরিবর্তে তাদেরকে রক্ষা করতে পারে? তারা তো নিজেদেরকেই সাহায্য করতে সক্ষম নয়, আর আমার পক্ষ থেকেও তারা কোনো সহায়তা পাবে না।
-
৪৪
بَلۡ مَتَّعۡنَا هَٰٓؤُلَآءِ وَءَابَآءَهُمۡ حَتَّىٰ طَالَ عَلَيۡهِمُ ٱلۡعُمُرُۗ أَفَلَا يَرَوۡنَ أَنَّا نَأۡتِي ٱلۡأَرۡضَ نَنقُصُهَا مِنۡ أَطۡرَافِهَآۚ أَفَهُمُ ٱلۡغَٰلِبُونَ
বরং আমিই তাদেরকে ও তাদের পূর্বপুরুষদেরকে উপভোগ করতে দিয়েছিলাম; ফলে তাদের আয়ুষ্কাল দীর্ঘ হয়েছিল দীর্ঘ। তারা কি দেখে না যে, আমি পৃথিবীতে প্রবেশ করি এবং তার প্রান্ত থেকে প্রান্ত পর্যন্ত ধ্বংস করি(১), তবু কি তারা বিজয়ী হবে?
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৪৫
قُلۡ إِنَّمَآ أُنذِرُكُم بِٱلۡوَحۡيِۚ وَلَا يَسۡمَعُ ٱلصُّمُّ ٱلدُّعَآءَ إِذَا مَا يُنذَرُونَ
(হে রাসূল!) বলো, আমি তো কেবল আমার প্রতি প্রেরিত ওয়াহীর মাধ্যমে তোমাদেরকে (আল্লাহর শাস্তি সম্পর্কে) সতর্ক করি। কিন্তু বধিররা যখন তাদের সতর্ক করা হয়, সে আহ্বান শোনে না।
-
৪৬
وَلَئِن مَّسَّتۡهُمۡ نَفۡحَةٞ مِّنۡ عَذَابِ رَبِّكَ لَيَقُولُنَّ يَٰوَيۡلَنَآ إِنَّا كُنَّا ظَٰلِمِينَ
আর তোমার রবের শাস্তির সামান্য কিছুও যদি তাদেরকে স্পর্শ করে, তবে তারা অবশ্যই বলে উঠবে: ‘হায় দুর্ভোগ আমাদের! আমরা তো অবশ্যই যালিম ছিলাম।’
-
৪৭
وَنَضَعُ ٱلۡمَوَٰزِينَ ٱلۡقِسۡطَ لِيَوۡمِ ٱلۡقِيَٰمَةِ فَلَا تُظۡلَمُ نَفۡسٞ شَيۡـٔٗاۖ وَإِن كَانَ مِثۡقَالَ حَبَّةٖ مِّنۡ خَرۡدَلٍ أَتَيۡنَا بِهَاۗ وَكَفَىٰ بِنَا حَٰسِبِينَ
আর কিয়ামতের দিন আমি ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করবো। সুতরাং কারো প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। কারো আমল যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়, তবুও আমি তা উপস্থিত করবো। আর হিসাব গ্রহণকারীরূপে আমিই যথেষ্ট।
-
৪৮
وَلَقَدۡ ءَاتَيۡنَا مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ ٱلۡفُرۡقَانَ وَضِيَآءٗ وَذِكۡرٗا لِّلۡمُتَّقِينَ
আর নিশ্চয়ই আমি মূসা ও হারূনকে দিয়েছিলাম ফুরকান (অর্থাৎ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী কিতাব), যা ছিল মুত্তাকীদের জন্য আলো ও উপদেশ।
-
৪৯
ٱلَّذِينَ يَخۡشَوۡنَ رَبَّهُم بِٱلۡغَيۡبِ وَهُم مِّنَ ٱلسَّاعَةِ مُشۡفِقُونَ
যারা না দেখেও তাদের রবকে ভয় করে এবং তারা কিয়ামত সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে।
-
৫০
وَهَٰذَا ذِكۡرٞ مُّبَارَكٌ أَنزَلۡنَٰهُۚ أَفَأَنتُمۡ لَهُۥ مُنكِرُونَ
আর এটা (আল-কুরআন) বরকতময় উপদেশ, যা আমি নাযিল করেছি। তবুও কি তোমরা তা অস্বীকার করবে?
-
৫১
۞ وَلَقَدۡ ءَاتَيۡنَآ إِبۡرَٰهِيمَ رُشۡدَهُۥ مِن قَبۡلُ وَكُنَّا بِهِۦ عَٰلِمِينَ
আর আমি তো ইতঃপূর্বে ইবরাহীমকে সঠিক পথের জ্ঞান দিয়েছিলাম এবং আমি তার সম্পর্কে ছিলাম সম্যক অবগত।
-
৫২
إِذۡ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوۡمِهِۦ مَا هَٰذِهِ ٱلتَّمَاثِيلُ ٱلَّتِيٓ أَنتُمۡ لَهَا عَٰكِفُونَ
যখন সে (ইব্রাহীম ) তার পিতা (আযর) ও তার জাতিকে বললো: ‘যেগুলোর পূজায় তোমরা রত রয়েছ, এ মূর্তিগুলো আসলে কী?’
-
৫৩
قَالُواْ وَجَدۡنَآ ءَابَآءَنَا لَهَا عَٰبِدِينَ
তারা বললো: ‘আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এদের পূজা করতে দেখেছি।’
-
৫৪
قَالَ لَقَدۡ كُنتُمۡ أَنتُمۡ وَءَابَآؤُكُمۡ فِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٖ
সে বললো: ‘তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা সবাই স্পষ্ট পথভ্রষ্টায় রয়েছ।’
-
৫৫
قَالُوٓاْ أَجِئۡتَنَا بِٱلۡحَقِّ أَمۡ أَنتَ مِنَ ٱللَّٰعِبِينَ
তারা বললো: ‘তুমি কি আমাদের নিকট সত্য নিয়ে এসেছো, নাকি তুমি তামাশাকারী?’
-
৫৬
قَالَ بَل رَّبُّكُمۡ رَبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ ٱلَّذِي فَطَرَهُنَّ وَأَنَا۠ عَلَىٰ ذَٰلِكُم مِّنَ ٱلشَّٰهِدِينَ
সে বললো: ‘না; বরং তোমাদের রব তো আসমানসমূহ ও জমিনের রব; যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন। আর এ বিষয়ে আমি অন্যতম সাক্ষী।’
-
৫৭
وَتَٱللَّهِ لَأَكِيدَنَّ أَصۡنَٰمَكُم بَعۡدَ أَن تُوَلُّواْ مُدۡبِرِينَ
(সে মনে মনে আরো বললো:) ‘ আল্লাহর শপথ! তোমরা (ঈদের দিকে) চলে যাওয়ার পর আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর (ধ্বংসের ) ব্যাপারে অবশ্যই কৌশল অবলম্বন করব।’
-
৫৮
فَجَعَلَهُمۡ جُذَٰذًا إِلَّا كَبِيرٗا لَّهُمۡ لَعَلَّهُمۡ إِلَيۡهِ يَرۡجِعُونَ
অতঃপর সে বড়টিকে বাদ রেখে তাদের মূর্তিগুলোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল , যাতে তারা তার দিকে ফিরে আসে।(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৫৯
قَالُواْ مَن فَعَلَ هَٰذَا بِـَٔالِهَتِنَآ إِنَّهُۥ لَمِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ
তারা (ফিরে এসে মূর্তিগুলোকে ভাঙ্গা দেখে) বললো: ‘আমাদের দেব-দেবীগুলোর সাথে কে এমনটি করলো? নিশ্চয় সে যালিমদের অন্তর্ভুক্ত।’
-
৬০
قَالُواْ سَمِعۡنَا فَتٗى يَذۡكُرُهُمۡ يُقَالُ لَهُۥٓ إِبۡرَٰهِيمُ
লোকেরা বললো: ‘আমরা শুনেছি, ‘এক যুবক এই মূর্তিগুলোর সমালোচনা করে। তাকে বলা হয়, ইবরাহীম।’
-
৬১
قَالُواْ فَأۡتُواْ بِهِۦ عَلَىٰٓ أَعۡيُنِ ٱلنَّاسِ لَعَلَّهُمۡ يَشۡهَدُونَ
তারা (নেতৃস্থানীয়রা) বললো: ‘তাহলে তাকে লোকজনের সামনে ধরে নিয়ে এসো, যাতে তারা তার কর্মকাণ্ডের স্বীকারোক্তির ওপর সাক্ষী হতে পারে।’
-
৬২
قَالُوٓاْ ءَأَنتَ فَعَلۡتَ هَٰذَا بِـَٔالِهَتِنَا يَٰٓإِبۡرَٰهِيمُ
তারা জিজ্ঞাসা করলো: ‘হে ইবরাহীম, তুমিই কি আমাদের দেবদেবীগুলোর সাথে এরূপ করেছ?’
-
৬৩
قَالَ بَلۡ فَعَلَهُۥ كَبِيرُهُمۡ هَٰذَا فَسۡـَٔلُوهُمۡ إِن كَانُواْ يَنطِقُونَ
ইবরাহীম (মূর্তিগুলোর অক্ষমতা প্রকাশ করে) বললো: ‘বরং তাদের এ বড়টিই এ কাজ করেছে। তাই এদেরকেই জিজ্ঞাসা করো, যদি এরা কথা বলতে পারে।’
-
৬৪
فَرَجَعُوٓاْ إِلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ فَقَالُوٓاْ إِنَّكُمۡ أَنتُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ
তখন তারা (চিন্তা-ভাবনা করতে করতে) নিজেদের দিকে ফিরে গেল এবং একে অন্যকে বলতে লাগল, ‘তোমরাই তো যালিম।’(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৬৫
ثُمَّ نُكِسُواْ عَلَىٰ رُءُوسِهِمۡ لَقَدۡ عَلِمۡتَ مَا هَٰٓؤُلَآءِ يَنطِقُونَ
তারপর তারা আবার ধৃষ্টতা এবং অস্বীকারে ফিরে গেল। তারা বলল: ‘নিশ্চয়ই, তুমি জানো যে, এরা কথা বলতে পারে না।’(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৬৬
قَالَ أَفَتَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكُمۡ شَيۡـٔٗا وَلَا يَضُرُّكُمۡ
ইবরাহীম বললো: ‘তাহলে কি তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর ইবাদাত করো, যা তোমাদের কোনো উপকার করতে পারে না এবং কোনো ক্ষতিও করতে পারে না?’
-
৬৭
أُفّٖ لَّكُمۡ وَلِمَا تَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِۚ أَفَلَا تَعۡقِلُونَ
‘ধিক তোমাদেরকে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যেসব মূর্তির ইবাদাত করো তাদেরকেও! ‘তবুও কি তোমরা বুঝো না?’
-
৬৮
قَالُواْ حَرِّقُوهُ وَٱنصُرُوٓاْ ءَالِهَتَكُمۡ إِن كُنتُمۡ فَٰعِلِينَ
তারা বললো: ‘তাকে (ইবরাহীমকে) আগুনে পুড়িয়ে দাও এবং তোমাদের দেবদেবীদেরকে সাহায্য কর, যদি তোমরা কিছু করতে চাও।’
-
৬৯
قُلۡنَا يَٰنَارُ كُونِي بَرۡدٗا وَسَلَٰمًا عَلَىٰٓ إِبۡرَٰهِيمَ
আমি (আল্লাহ) বললাম: ‘হে আগুন! তুমি ইবরাহীমের জন্য শীতল ও শান্তিময় হয়ে যাও।’
-
৭০
وَأَرَادُواْ بِهِۦ كَيۡدٗا فَجَعَلۡنَٰهُمُ ٱلۡأَخۡسَرِينَ
আর তারা তার বিরুদ্ধে (আগুনে জ্বালানোর) চক্রান্ত করেছিল; কিন্তু আমি তাদেরকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে দিলাম।
-
৭১
وَنَجَّيۡنَٰهُ وَلُوطًا إِلَى ٱلۡأَرۡضِ ٱلَّتِي بَٰرَكۡنَا فِيهَا لِلۡعَٰلَمِينَ
আর আমি তাকে (ইরবাহীমকে) ও লূতকে (অবিশ্বাসীদের কবল থেকে) উদ্ধার করে সে দেশে (সিরিয়ায়) নিয়ে গেলাম, যেখানে আমি বিশ্ববাসীর জন্য বরকত ও কল্যাণ রেখেছি।
-
৭২
وَوَهَبۡنَا لَهُۥٓ إِسۡحَٰقَ وَيَعۡقُوبَ نَافِلَةٗۖ وَكُلّٗا جَعَلۡنَا صَٰلِحِينَ
আর আমি তাকে (তার রবের কাছে দু‘আর বদৌলতে) দান করেছিলাম ইসহাককে এবং বাড়তি হিসেবে ইয়াকূবকে দান করলাম। আর তাদের প্রত্যেককেই আমি সৎকর্মশীল করেছিলাম।
-
৭৩
وَجَعَلۡنَٰهُمۡ أَئِمَّةٗ يَهۡدُونَ بِأَمۡرِنَا وَأَوۡحَيۡنَآ إِلَيۡهِمۡ فِعۡلَ ٱلۡخَيۡرَٰتِ وَإِقَامَ ٱلصَّلَوٰةِ وَإِيتَآءَ ٱلزَّكَوٰةِۖ وَكَانُواْ لَنَا عَٰبِدِينَ
আর আমি তাদেরকে নেতা বানিয়েছিলাম, তারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে সঠিক পথ দেখাতো। আমি তাদের প্রতি এ মর্মে অহী প্রেরণ করেছিলাম যে, তোমরা কল্যাণকর কাজ করো, সালাত কায়িম কর এবং যাকাত প্রদান কর। আর তারা আমারই ইবাদাত করতো।
-
৭৪
وَلُوطًا ءَاتَيۡنَٰهُ حُكۡمٗا وَعِلۡمٗا وَنَجَّيۡنَٰهُ مِنَ ٱلۡقَرۡيَةِ ٱلَّتِي كَانَت تَّعۡمَلُ ٱلۡخَبَٰٓئِثَۚ إِنَّهُمۡ كَانُواْ قَوۡمَ سَوۡءٖ فَٰسِقِينَ
আর লূতকে আমি প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলাম। আমি তাকে এমন এক জনপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম, যার অধিবাসীরা (সমকামিতার ন্যায়) নিকৃষ্টতম কাজে লিপ্ত ছিলো। তারা ছিলো এক মন্দ ও পাপাচারী জাতি।
-
৭৫
وَأَدۡخَلۡنَٰهُ فِي رَحۡمَتِنَآۖ إِنَّهُۥ مِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ
আর আমি তাকে আমার রহমতের মধ্যে শামিল করে নিয়েছিলাম। সে ছিলো সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।
-
৭৬
وَنُوحًا إِذۡ نَادَىٰ مِن قَبۡلُ فَٱسۡتَجَبۡنَا لَهُۥ فَنَجَّيۡنَٰهُ وَأَهۡلَهُۥ مِنَ ٱلۡكَرۡبِ ٱلۡعَظِيمِ
আর (হে রাসূল! তুমি) স্মরণ করো নূহের কথা, ইতঃপূর্বে যখন সে আমাকে ডেকেছিল, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম। অতঃপর তাকে ও তার পরিবারবর্গকে আমি মহাবিপদ (মহাপ্লাবন) থেকে উদ্ধার করেছিলাম।
-
৭৭
وَنَصَرۡنَٰهُ مِنَ ٱلۡقَوۡمِ ٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَآۚ إِنَّهُمۡ كَانُواْ قَوۡمَ سَوۡءٖ فَأَغۡرَقۡنَٰهُمۡ أَجۡمَعِينَ
আর আমি তাকে সেই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছিলাম, যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিলো। বস্তুত তারা ছিল এক নিকৃষ্ট জাতি। তাই আমি তাদের সকলকেই পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস করেছি।
-
৭৮
وَدَاوُۥدَ وَسُلَيۡمَٰنَ إِذۡ يَحۡكُمَانِ فِي ٱلۡحَرۡثِ إِذۡ نَفَشَتۡ فِيهِ غَنَمُ ٱلۡقَوۡمِ وَكُنَّا لِحُكۡمِهِمۡ شَٰهِدِينَ
আর (হে রাসূল! তুমি) স্মরণ করো দাঊদ ও সুলায়মানের কথা, যখন তারা শস্যক্ষেত সম্পর্কে বিচার করছিল, যাতে রাতের বেলায় কোনো জাতির মেষ ঢুকে পড়েছিল। আর আমি তাদের বিচার কাজের সাক্ষী ছিলাম।
-
৭৯
فَفَهَّمۡنَٰهَا سُلَيۡمَٰنَۚ وَكُلًّا ءَاتَيۡنَا حُكۡمٗا وَعِلۡمٗاۚ وَسَخَّرۡنَا مَعَ دَاوُۥدَ ٱلۡجِبَالَ يُسَبِّحۡنَ وَٱلطَّيۡرَۚ وَكُنَّا فَٰعِلِينَ
অতঃপর আমি এ বিষয়ের মীমাংসা (দাঊদকে না বুঝিয়ে) সুলায়মানকে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম। আর আমি তাদের প্রত্যেককেই দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান। আর আমি পর্বতমালা ও পাখিদেরকে দাঊদের অধীন করে দিয়েছিলাম, তারা দাঊদের সাথে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করত। আর এসব কিছু আমিই করছিলাম।
-
৮০
وَعَلَّمۡنَٰهُ صَنۡعَةَ لَبُوسٖ لَّكُمۡ لِتُحۡصِنَكُم مِّنۢ بَأۡسِكُمۡۖ فَهَلۡ أَنتُمۡ شَٰكِرُونَ
আমি তাকে তোমাদের জন্য বর্ম (যুদ্ধের পোশাক) তৈরির কৌশল শিখিয়েছিলাম, যাতে তা তোমাদেরকে তোমাদের পারস্পরিক যুদ্ধের আঘাত থেকে রক্ষা করে। সুতরাং, তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে?
-
৮১
وَلِسُلَيۡمَٰنَ ٱلرِّيحَ عَاصِفَةٗ تَجۡرِي بِأَمۡرِهِۦٓ إِلَى ٱلۡأَرۡضِ ٱلَّتِي بَٰرَكۡنَا فِيهَاۚ وَكُنَّا بِكُلِّ شَيۡءٍ عَٰلِمِينَ
আর আমি সুলায়মানের জন্য অনুগত করে দিয়েছিলাম প্রবল হাওয়াকে, যা তার নির্দেশে প্রবাহিত হতো সেই দেশের (সিরিয়ার) দিকে, যেখানে আমি প্রচুর বরকত রেখেছি। আর আমি প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কেই অবগত ছিলাম।
-
৮২
وَمِنَ ٱلشَّيَٰطِينِ مَن يَغُوصُونَ لَهُۥ وَيَعۡمَلُونَ عَمَلٗا دُونَ ذَٰلِكَۖ وَكُنَّا لَهُمۡ حَٰفِظِينَ
আর শয়তানদের মধ্যে কতক তার জন্য ডুবুরীর কাজ করত, এছাড়া অন্যান্য কাজও করতো। আর আমিই তাদের জন্য হিফাযতকারী ছিলাম।
-
৮৩
۞ وَأَيُّوبَ إِذۡ نَادَىٰ رَبَّهُۥٓ أَنِّي مَسَّنِيَ ٱلضُّرُّ وَأَنتَ أَرۡحَمُ ٱلرَّٰحِمِينَ
আর (হে রাসূল! তুমি) স্মরণ করো আইউবের কথা, যখন (তার ওপর বিপদ নেমে আসলে) সে তার রবকে ডেকে বলেছিল: ‘(হে আমার রব!) আমি রোগাক্রান্ত (এবং পরিবারহারা) হয়ে গেছি। আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
-
৮৪
فَٱسۡتَجَبۡنَا لَهُۥ فَكَشَفۡنَا مَا بِهِۦ مِن ضُرّٖۖ وَءَاتَيۡنَٰهُ أَهۡلَهُۥ وَمِثۡلَهُم مَّعَهُمۡ رَحۡمَةٗ مِّنۡ عِندِنَا وَذِكۡرَىٰ لِلۡعَٰبِدِينَ
তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম। আর তার যত অসুখ (দুঃখ-কষ্ট) ছিল তা দূর করে দিলাম এবং তাকে তার পরিবার-পরিজন ফিরিয়ে দিলাম। আর তাদের সাথে তাদের অনুরূপ আরো দিলাম, আমার পক্ষ থেকে রহমত এবং ইবাদাতকারীদের জন্য উপদেশস্বরূপ।
-
৮৫
وَإِسۡمَٰعِيلَ وَإِدۡرِيسَ وَذَا ٱلۡكِفۡلِۖ كُلّٞ مِّنَ ٱلصَّٰبِرِينَ
আর (হে রাসূল! তুমি) স্মরণ করো ইসমাঈল, ইদরীস ও যুল্ কিফল এর কথা, তাদের প্রত্যেকেই (দায়িত্ব পালনে ও বিপদ-আপদে) ধৈর্যশীল ছিল।
-
৮৬
وَأَدۡخَلۡنَٰهُمۡ فِي رَحۡمَتِنَآۖ إِنَّهُم مِّنَ ٱلصَّٰلِحِينَ
আর আমি তাদেরকে আমার রহমতে শামিল করেছিলাম। তারা ছিলো সৎকর্মপরায়ণ।
-
৮৭
وَذَا ٱلنُّونِ إِذ ذَّهَبَ مُغَٰضِبٗا فَظَنَّ أَن لَّن نَّقۡدِرَ عَلَيۡهِ فَنَادَىٰ فِي ٱلظُّلُمَٰتِ أَن لَّآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنتَ سُبۡحَٰنَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ
আর (হে রাসূল!) স্মরণ করো যুন-নূন (মাছওয়ালা ইউনুস) এর কথা, যখন সে (তার সম্প্রদায়ের অবিরত গুনাহে লিপ্ত হওয়ার দরুন) রাগান্বিত অবস্থায় চলে গিয়েছিলো এবং সে মনে করেছিলো যে, আমি তাকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করবো না। তারপর সে অন্ধকার(১) থেকে ডেকে বলেছিলো, ‘(হে আমার রব!) আপনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র মহান। নিশ্চয় আমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছি।’
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৮৮
فَٱسۡتَجَبۡنَا لَهُۥ وَنَجَّيۡنَٰهُ مِنَ ٱلۡغَمِّۚ وَكَذَٰلِكَ نُـۨجِي ٱلۡمُؤۡمِنِينَ
অতঃপর আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং দুশ্চিন্তা থেকে তাকে উদ্ধার করেছিলাম। আর এভাবেই আমি মু’মিনদেরকে (বিপদ থেকে) উদ্ধার করে থাকি।
-
৮৯
وَزَكَرِيَّآ إِذۡ نَادَىٰ رَبَّهُۥ رَبِّ لَا تَذَرۡنِي فَرۡدٗا وَأَنتَ خَيۡرُ ٱلۡوَٰرِثِينَ
আর (হে রাসূল! তুমি) স্মরণ করো যাকারিয়্যার কথা, যখন সে তার রবকে ডেকে বলেছিলো, ‘হে আমার রব! আমাকে একা (নিঃসন্তান) রেখো না, তুমি তো সর্বোত্তম উত্তরাধিকারী।’(১)
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৯০
فَٱسۡتَجَبۡنَا لَهُۥ وَوَهَبۡنَا لَهُۥ يَحۡيَىٰ وَأَصۡلَحۡنَا لَهُۥ زَوۡجَهُۥٓۚ إِنَّهُمۡ كَانُواْ يُسَٰرِعُونَ فِي ٱلۡخَيۡرَٰتِ وَيَدۡعُونَنَا رَغَبٗا وَرَهَبٗاۖ وَكَانُواْ لَنَا خَٰشِعِينَ
অতঃপর আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং তাকে দান করেছিলাম পুত্র ইয়াহইয়াকে। আর তার জন্য তার স্ত্রীকে (গর্ভধারণের) উপযোগী করেছিলাম। তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত। আর তারা আমাকে আগ্রহ ও ভীতি সহকারে ডাকত। আর তারা ছিল আমার নিকট একান্ত বিনয়ী।
-
৯১
وَٱلَّتِيٓ أَحۡصَنَتۡ فَرۡجَهَا فَنَفَخۡنَا فِيهَا مِن رُّوحِنَا وَجَعَلۡنَٰهَا وَٱبۡنَهَآ ءَايَةٗ لِّلۡعَٰلَمِينَ
আর (হে রাসূল! তুমি আরো) স্মরণ করো সে নারীর (মারইয়ামের) কথা, যে নিজ সতীত্ব রক্ষা করেছিলো। অতঃপর আমি (জিবরীলের মাধ্যমে) তার মধ্যে আমার ‘রূহ’ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং তাকে ও তার পুত্র (`ঈসা) কে বিশ্ববাসীর জন্য করেছিলাম (আল্লাহর অসীম ক্ষমতার) এক নিদর্শন।
-
৯২
إِنَّ هَٰذِهِۦٓ أُمَّتُكُمۡ أُمَّةٗ وَٰحِدَةٗ وَأَنَا۠ رَبُّكُمۡ فَٱعۡبُدُونِ
(হে মানুষ!) নিশ্চয় তোমাদের এ জাতি তো একই জাতি। আর আমিই তোমাদের রব। অতএব তোমরা আমার ইবাদাত করো।
-
৯৩
وَتَقَطَّعُوٓاْ أَمۡرَهُم بَيۡنَهُمۡۖ كُلٌّ إِلَيۡنَا رَٰجِعُونَ
কিন্তু তারা নিজেদের কার্যকলাপে পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে।(১) সকলেই (কিয়ামতের দিন) আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করবে।
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
৯৪
فَمَن يَعۡمَلۡ مِنَ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَهُوَ مُؤۡمِنٞ فَلَا كُفۡرَانَ لِسَعۡيِهِۦ وَإِنَّا لَهُۥ كَٰتِبُونَ
সুতরাং যে মু’মিন অবস্থায় সৎকাজ করে, তার প্রচেষ্টাকে অস্বীকার করা হবে না। আমি তো তা লিখে রাখি।
-
৯৫
وَحَرَٰمٌ عَلَىٰ قَرۡيَةٍ أَهۡلَكۡنَٰهَآ أَنَّهُمۡ لَا يَرۡجِعُونَ
আর আমি যে জনপদকে (কুফরীর দরুন) ধ্বংস করেছি, তার সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে, তার অধিবাসীবৃন্দ আর (পৃথিবীতে) ফিরে আসবে না।
-
৯৬
حَتَّىٰٓ إِذَا فُتِحَتۡ يَأۡجُوجُ وَمَأۡجُوجُ وَهُم مِّن كُلِّ حَدَبٖ يَنسِلُونَ
অবশেষে যখন ইয়া’জূজ ও মা’জূজকে (দেয়াল খুলে আবদ্ধ অবস্থা থেকে) মুক্তি দেয়া হবে, তখন তারা জমিনের প্রতিটি উঁচু ভূমি হতে দ্রুত বেরিয়ে আসবে।
-
৯৭
وَٱقۡتَرَبَ ٱلۡوَعۡدُ ٱلۡحَقُّ فَإِذَا هِيَ شَٰخِصَةٌ أَبۡصَٰرُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ يَٰوَيۡلَنَا قَدۡ كُنَّا فِي غَفۡلَةٖ مِّنۡ هَٰذَا بَلۡ كُنَّا ظَٰلِمِينَ
আর সত্য প্রতিশ্রুত (কিয়ামত) নিকটবর্তী হলে হঠাৎই কাফিরদের দৃষ্টিগুলো স্থির হয়ে যাবে। (তারা বলবে,) ‘হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! আমরা তো এ ব্যাপারে ছিলাম সম্পূর্ণ গাফিল; বরং আমরা ছিলাম জালিম।’
-
৯৮
إِنَّكُمۡ وَمَا تَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ أَنتُمۡ لَهَا وَٰرِدُونَ
(হে মুশরিকরা!) নিশ্চয় তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের পূজা করো, সেগুলো তো জাহান্নামের জ্বালানী। তোমরা (এবং তোমাদের মা‘বূদরা) সেখানে প্রবেশ করবে।
-
৯৯
لَوۡ كَانَ هَٰٓؤُلَآءِ ءَالِهَةٗ مَّا وَرَدُوهَاۖ وَكُلّٞ فِيهَا خَٰلِدُونَ
যদি এরা সত্যিই উপাস্য হতো, তবে তারা সেখানে (জাহান্নামে) প্রবেশ করত না। আর তারা সবাই তাতে চিরস্থায়ী থাকবে।
-
১০০
لَهُمۡ فِيهَا زَفِيرٞ وَهُمۡ فِيهَا لَا يَسۡمَعُونَ
সেখানে (যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কারণে) থাকবে তাদের চিৎকার-আর্তনাদ, আর সেখানে (কঠিন বিভীষিকা ও ভয়াবহতার কারণে কোন আওয়াজই) তারা শুনতে পাবে না।
-
১০১
إِنَّ ٱلَّذِينَ سَبَقَتۡ لَهُم مِّنَّا ٱلۡحُسۡنَىٰٓ أُوْلَٰٓئِكَ عَنۡهَا مُبۡعَدُونَ
নিশ্চয় আমার পক্ষ থেকে যাদের জন্য পূর্বেই কল্যাণ নির্ধারিত রয়েছে, তাদেরকে তা (জাহান্নাম) থেকে দূরে রাখা হবে।
-
১০২
لَا يَسۡمَعُونَ حَسِيسَهَاۖ وَهُمۡ فِي مَا ٱشۡتَهَتۡ أَنفُسُهُمۡ خَٰلِدُونَ
( এত দূরে যে) তারা জাহান্নামের ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাবে না। সেখানে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত ভোগবিলাসে চিরকাল থাকবে।
-
১০৩
لَا يَحۡزُنُهُمُ ٱلۡفَزَعُ ٱلۡأَكۡبَرُ وَتَتَلَقَّىٰهُمُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ هَٰذَا يَوۡمُكُمُ ٱلَّذِي كُنتُمۡ تُوعَدُونَ
মহাভীতি(১) তাদেরকে পেরেশান করবে না। আর ফিরিশতারা তাদেরকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলবে: ‘এটাই তোমাদের সেই দিন, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিলো।’
টীকা আসছে…
টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা
-
১০৪
يَوۡمَ نَطۡوِي ٱلسَّمَآءَ كَطَيِّ ٱلسِّجِلِّ لِلۡكُتُبِۚ كَمَا بَدَأۡنَآ أَوَّلَ خَلۡقٖ نُّعِيدُهُۥۚ وَعۡدًا عَلَيۡنَآۚ إِنَّا كُنَّا فَٰعِلِينَ
সে দিন আমি আসমানসমূহকে গুটিয়ে নিব, যেভাবে গুটিয়ে রাখা হয় লিখিত দলিল পত্রাদি। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবেই পুনরায় সৃষ্টি করব। এটা আমার কৃত প্রতিশ্রুতি (যার বরখেলাফ হবে না)। নিশ্চয় আমি তা পালন করবই।
-
১০৫
وَلَقَدۡ كَتَبۡنَا فِي ٱلزَّبُورِ مِنۢ بَعۡدِ ٱلذِّكۡرِ أَنَّ ٱلۡأَرۡضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ ٱلصَّٰلِحُونَ
“আর আমি ‘যিকর’ (লাওহে মাহফূজ)-এর পর ‘যাবূর’-এ (আসমানী কিতাবসমূহে) লিখে দিয়েছি যে, আমার নেককার বান্দাগণই জমিনের উত্তরাধিকারী হবে।’
-
১০৬
إِنَّ فِي هَٰذَا لَبَلَٰغٗا لِّقَوۡمٍ عَٰبِدِينَ
নিশ্চয় এতে ইবাদাতকারী সম্প্রদায়ের জন্য উপদেশ বাণী রয়েছে।
-
১০৭
وَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ إِلَّا رَحۡمَةٗ لِّلۡعَٰلَمِينَ
আর (হে রাসূল!) আমি তোমাকে বিশ্ববাসীর জন্য কেবল রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।
-
১০৮
قُلۡ إِنَّمَا يُوحَىٰٓ إِلَيَّ أَنَّمَآ إِلَٰهُكُمۡ إِلَٰهٞ وَٰحِدٞۖ فَهَلۡ أَنتُم مُّسۡلِمُونَ
(হে রাসুল! তুমি তাদেরকে) বলো: ‘আমার প্রতি ওয়াহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ একক ইলাহ। সুতরাং তোমরা কি আত্মসমর্পণকারী হবে?’
-
১০৯
فَإِن تَوَلَّوۡاْ فَقُلۡ ءَاذَنتُكُمۡ عَلَىٰ سَوَآءٖۖ وَإِنۡ أَدۡرِيٓ أَقَرِيبٌ أَم بَعِيدٞ مَّا تُوعَدُونَ
আর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তুমি বলে দাও: ‘আমি যথাযথভাবে তোমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি। আর আমি জানি না, তোমাদেরকে যে বিষয়ের (শাস্তির) প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তা কি নিকটবর্তী না দূরবর্তী?’
-
১১০
إِنَّهُۥ يَعۡلَمُ ٱلۡجَهۡرَ مِنَ ٱلۡقَوۡلِ وَيَعۡلَمُ مَا تَكۡتُمُونَ
নিশ্চয়ই তিনি প্রকাশ্য কথা সম্পর্কেও জানেন এবং তোমরা যা গোপন কর, তাও জানেন।
-
১১১
وَإِنۡ أَدۡرِي لَعَلَّهُۥ فِتۡنَةٞ لَّكُمۡ وَمَتَٰعٌ إِلَىٰ حِينٖ
আর আমি জানি না, হয়তো তা (শাস্তি দিতে বিলম্ব করা) তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা এবং কিছু কালের জন্য উপভোগের সুযোগ।
-
১১২
قَٰلَ رَبِّ ٱحۡكُم بِٱلۡحَقِّۗ وَرَبُّنَا ٱلرَّحۡمَٰنُ ٱلۡمُسۡتَعَانُ عَلَىٰ مَا تَصِفُونَ
রাসূল (তার রবকে ডেকে) বলেছিল: ‘হে আমার রব! আপনি (আমাদের ও আমাদের জাতির মাঝে) ন্যায়সঙ্গতভাবে ফয়সালা করে দিন।’ আর (হে মানুষ!) আমাদের রব তো পরম করুণাময়। তোমরা যা বলছ, সে বিষয়ে তিনিই একমাত্র সহায়স্থল।
অনুবাদ: রাওয়াদ ট্রান্সলেশন সেন্টার. উৎস: QuranEnc.com, সর্বশেষ মিলিয়ে দেখা: ২৬ অক্টোবর ২০২৬.
আরবি পাঠ: বাদশাহ ফাহাদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স. সূরার তথ্য: Tanzil.net (CC BY 3.0).
এটি কুরআনের অর্থের অনুবাদ। মানুষের যেকোনো কাজের মতো এতে ভুল থাকতে পারে।