মূল অংশে যান

আল-বাকারা

البقرة

সূরা ২ মাদানী ২৮৬ আয়াত

بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

  1. ১

    الٓمٓ

    আলিফ-লাম-মীম।(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  2. ২

    ذَٰلِكَ ٱلۡكِتَٰبُ لَا رَيۡبَۛ فِيهِۛ هُدٗى لِّلۡمُتَّقِينَ

    এই সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; মুত্তাক্বীদের জন্য হিদায়াত।

  3. ৩

    ٱلَّذِينَ يُؤۡمِنُونَ بِٱلۡغَيۡبِ وَيُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَمِمَّا رَزَقۡنَٰهُمۡ يُنفِقُونَ

    যারা গায়েবের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়িম করে এবং আমরা তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।

  4. ৪

    وَٱلَّذِينَ يُؤۡمِنُونَ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡكَ وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبۡلِكَ وَبِٱلۡأٓخِرَةِ هُمۡ يُوقِنُونَ

    আর যারা তোমার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা নাযিল করা হয়েছে, তার প্রতি ঈমান আনে। আর আখিরাতের প্রতি তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে।

  5. ৫

    أُوْلَٰٓئِكَ عَلَىٰ هُدٗى مِّن رَّبِّهِمۡۖ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ

    তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম।

  6. ৬

    إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ سَوَآءٌ عَلَيۡهِمۡ ءَأَنذَرۡتَهُمۡ أَمۡ لَمۡ تُنذِرۡهُمۡ لَا يُؤۡمِنُونَ

    নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে, তুমি তাদেরকে সতর্ক কর বা না কর, উভয়ই তাদের জন্য সমান; তারা ঈমান আনবে না।

  7. ৭

    خَتَمَ ٱللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمۡ وَعَلَىٰ سَمۡعِهِمۡۖ وَعَلَىٰٓ أَبۡصَٰرِهِمۡ غِشَٰوَةٞۖ وَلَهُمۡ عَذَابٌ عَظِيمٞ

    আল্লাহ তাদের অন্তরে ও তাদের কানে মোহর এঁটে দিয়েছেন, আর তাদের চোখের ওপর রয়েছে আবরণ। আর তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।

  8. ৮

    وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَبِٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ وَمَا هُم بِمُؤۡمِنِينَ

    আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক রয়েছে, যারা বলে, ‘ আমরা আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের প্রতি ঈমান এনেছি’; অথচ তারা মু’মিন নয়।

  9. ৯

    يُخَٰدِعُونَ ٱللَّهَ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَمَا يَخۡدَعُونَ إِلَّآ أَنفُسَهُمۡ وَمَا يَشۡعُرُونَ

    তারা আল্লাহ এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে ধোঁকা দিচ্ছে, বস্তুত তারা নিজেদেরকে ব্যতীত কাউকে ধোঁকা দিচ্ছে না; অথচ তারা তা বুঝে না।

  10. ১০

    فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٞ فَزَادَهُمُ ٱللَّهُ مَرَضٗاۖ وَلَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمُۢ بِمَا كَانُواْ يَكۡذِبُونَ

    তাদের অন্তরসমূহে রয়েছে (সন্দেহ ও কপটতার) ব্যাধি। আল্লাহ তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যা বলত।

  11. ১১

    وَإِذَا قِيلَ لَهُمۡ لَا تُفۡسِدُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ قَالُوٓاْ إِنَّمَا نَحۡنُ مُصۡلِحُونَ

    আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না’, তখন তারা বলে, ‘আমরা তো শুধু সংশোধনকারী’।

  12. ১২

    أَلَآ إِنَّهُمۡ هُمُ ٱلۡمُفۡسِدُونَ وَلَٰكِن لَّا يَشۡعُرُونَ

    সাবধান! তারাই প্রকৃত ফাসাদ সৃষ্টিকারী; কিন্তু তারা তা অনুধাবন করে না।

  13. ১৩

    وَإِذَا قِيلَ لَهُمۡ ءَامِنُواْ كَمَآ ءَامَنَ ٱلنَّاسُ قَالُوٓاْ أَنُؤۡمِنُ كَمَآ ءَامَنَ ٱلسُّفَهَآءُۗ أَلَآ إِنَّهُمۡ هُمُ ٱلسُّفَهَآءُ وَلَٰكِن لَّا يَعۡلَمُونَ

    আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা ঈমান আনো, যেমন লোকেরা (সাহাবীগণ) ঈমান এনেছে’, তখন তারা বলে, ‘আমরা কি ঈমান আনব, যেমন নির্বোধেরা ঈমান এনেছে?’ সাবধান! নিশ্চয় তারাই নির্বোধ; কিন্তু তারা তা জানে না।

  14. ১৪

    وَإِذَا لَقُواْ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ قَالُوٓاْ ءَامَنَّا وَإِذَا خَلَوۡاْ إِلَىٰ شَيَٰطِينِهِمۡ قَالُوٓاْ إِنَّا مَعَكُمۡ إِنَّمَا نَحۡنُ مُسۡتَهۡزِءُونَ

    আর যখন তারা মু’মিনদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি।’ আর যখন তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে মিলিত হয়, তখন বলে, ‘নিশ্চয় আমরা তোমাদের সাথেই আছি। আমরা তো কেবল উপহাসকারী।’

  15. ১৫

    ٱللَّهُ يَسۡتَهۡزِئُ بِهِمۡ وَيَمُدُّهُمۡ فِي طُغۡيَٰنِهِمۡ يَعۡمَهُونَ

    আল্লাহও (তাঁর মর্যাদার উপযোগী পন্থায়) তাদের সাথে উপহাস করেন(১) এবং তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় ঘুরে বেড়ানোর অবকাশ দেন।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  16. ১৬

    أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ ٱشۡتَرَوُاْ ٱلضَّلَٰلَةَ بِٱلۡهُدَىٰ فَمَا رَبِحَت تِّجَٰرَتُهُمۡ وَمَا كَانُواْ مُهۡتَدِينَ

    এরাই তারা, যারা হিদায়াতের বিনিময়ে পথভ্রষ্টতা ক্রয় করেছে। তাই তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি এবং তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত নয়।

  17. ১৭

    مَثَلُهُمۡ كَمَثَلِ ٱلَّذِي ٱسۡتَوۡقَدَ نَارٗا فَلَمَّآ أَضَآءَتۡ مَا حَوۡلَهُۥ ذَهَبَ ٱللَّهُ بِنُورِهِمۡ وَتَرَكَهُمۡ فِي ظُلُمَٰتٖ لَّا يُبۡصِرُونَ

    তাদের উপমা হলো ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে আগুন জ্বালালো। তারপর আগুন যখন তার চারপাশ আলোকিত করল, তখন আল্লাহ তাদের জ্যোতি কেড়ে নিলেন এবং তাদেরকে ছেড়ে দিলেন এমন অন্ধকারে যে, তারা কিছুই দেখতে পায় না।

  18. ১৮

    صُمُّۢ بُكۡمٌ عُمۡيٞ فَهُمۡ لَا يَرۡجِعُونَ

    তারা বধির, বোবা ও অন্ধ। ফলে তারা আর হিদায়াতে ফিরে আসবে না।

  19. ১৯

    أَوۡ كَصَيِّبٖ مِّنَ ٱلسَّمَآءِ فِيهِ ظُلُمَٰتٞ وَرَعۡدٞ وَبَرۡقٞ يَجۡعَلُونَ أَصَٰبِعَهُمۡ فِيٓ ءَاذَانِهِم مِّنَ ٱلصَّوَٰعِقِ حَذَرَ ٱلۡمَوۡتِۚ وَٱللَّهُ مُحِيطُۢ بِٱلۡكَٰفِرِينَ

    অথবা (তাদের উপমা হচ্ছে) আকাশ থেকে নেমে আসা মুষলধারে বৃষ্টির ন্যায়; যাতে রয়েছে অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎ চমক। বজ্রধ্বনিতে মৃত্যুভয়ে তারা তাদের কানে আঙুল ঢুকিয়ে রাখে। আর আল্লাহ কাফিরদেরকে সর্বদিক থেকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।

  20. ২০

    يَكَادُ ٱلۡبَرۡقُ يَخۡطَفُ أَبۡصَٰرَهُمۡۖ كُلَّمَآ أَضَآءَ لَهُم مَّشَوۡاْ فِيهِ وَإِذَآ أَظۡلَمَ عَلَيۡهِمۡ قَامُواْۚ وَلَوۡ شَآءَ ٱللَّهُ لَذَهَبَ بِسَمۡعِهِمۡ وَأَبۡصَٰرِهِمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ

    বিদ্যুৎ চমক তাদের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেওয়ার উপক্রম করে। যখনই তা তাদের সামনে আলো উদ্ভাসিত করে, তখন তারা তাতে চলতে থাকে। আর যখন তাদের ওপর অন্ধকার নেমে আসে, তখন তারা থমকে দাঁড়ায়। আল্লাহ ইচ্ছে করলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি নিয়ে নিতে পারেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।

  21. ২১

    يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱعۡبُدُواْ رَبَّكُمُ ٱلَّذِي خَلَقَكُمۡ وَٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ

    হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের ‘ইবাদাত করো, যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাক্বওয়া অর্জন করতে পারো।

  22. ২২

    ٱلَّذِي جَعَلَ لَكُمُ ٱلۡأَرۡضَ فِرَٰشٗا وَٱلسَّمَآءَ بِنَآءٗ وَأَنزَلَ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مَآءٗ فَأَخۡرَجَ بِهِۦ مِنَ ٱلثَّمَرَٰتِ رِزۡقٗا لَّكُمۡۖ فَلَا تَجۡعَلُواْ لِلَّهِ أَندَادٗا وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ

    যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা এবং আসমানকে ছাদ বানিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন। অতঃপর তা দ্বারা তোমাদের জীবিকাস্বরূপ বিভিন্ন ফলমূল উৎপাদন করেছেন। অতএব, জেনে-বুঝে আল্লাহর জন্য কোনো সমকক্ষ নির্ধারণ করো না।

  23. ২৩

    وَإِن كُنتُمۡ فِي رَيۡبٖ مِّمَّا نَزَّلۡنَا عَلَىٰ عَبۡدِنَا فَأۡتُواْ بِسُورَةٖ مِّن مِّثۡلِهِۦ وَٱدۡعُواْ شُهَدَآءَكُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ

    আর আমি আমার বান্দার (মুহাম্মাদের) ওপর যা (কুরআন) নাযিল করেছি, সে সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তোমরা তার অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষী-সমর্থকদেরকে ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

  24. ২৪

    فَإِن لَّمۡ تَفۡعَلُواْ وَلَن تَفۡعَلُواْ فَٱتَّقُواْ ٱلنَّارَ ٱلَّتِي وَقُودُهَا ٱلنَّاسُ وَٱلۡحِجَارَةُۖ أُعِدَّتۡ لِلۡكَٰفِرِينَ

    অতএব যদি তোমরা করতে না পারো, আর তোমরা তা কখনই পারবে না, তাহলে তোমরা সে আগুনকে ভয় করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, যা কাফিরদের জন্যে প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে ।

  25. ২৫

    وَبَشِّرِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أَنَّ لَهُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُۖ كُلَّمَا رُزِقُواْ مِنۡهَا مِن ثَمَرَةٖ رِّزۡقٗا قَالُواْ هَٰذَا ٱلَّذِي رُزِقۡنَا مِن قَبۡلُۖ وَأُتُواْ بِهِۦ مُتَشَٰبِهٗاۖ وَلَهُمۡ فِيهَآ أَزۡوَٰجٞ مُّطَهَّرَةٞۖ وَهُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ

    আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎ কাজ করেছে, (হে নবী,) তুমি তাদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্যে রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার নিম্নদেশে নদ-নদী প্রবাহিত। যখনই তাদেরকে সেখানে ফলফলাদি জীবিকা হিসেবে দেয়া হবে তখনই তারা বলবে, ‘এ ধরনের ফলই ইতঃপূর্বে আমাদেরকে জীবিকা হিসেবে দেওয়া হয়েছিলো। আর তাদেরকে দুনিয়ার ফলের সাদৃশ্যপূর্ণ ফলফলাদিই দেয়া হবে। সেখানে তাদের জন্যে রয়েছে পবিত্র সঙ্গিনী এবং সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে ।

  26. ২৬

    ۞ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَسۡتَحۡيِۦٓ أَن يَضۡرِبَ مَثَلٗا مَّا بَعُوضَةٗ فَمَا فَوۡقَهَاۚ فَأَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ فَيَعۡلَمُونَ أَنَّهُ ٱلۡحَقُّ مِن رَّبِّهِمۡۖ وَأَمَّا ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ فَيَقُولُونَ مَاذَآ أَرَادَ ٱللَّهُ بِهَٰذَا مَثَلٗاۘ يُضِلُّ بِهِۦ كَثِيرٗا وَيَهۡدِي بِهِۦ كَثِيرٗاۚ وَمَا يُضِلُّ بِهِۦٓ إِلَّا ٱلۡفَٰسِقِينَ

    নিশ্চয় আল্লাহ মশা কিংবা তার চেয়েও ক্ষুদ্র কোনো বস্তুর উপমা দিতে লজ্জাবোধ করেন না। অতঃপর যারা ঈমান এনেছে, তারা জানে যে, এটি তাদের রবের পক্ষ হতে (আসা) সত্য। আর যারা কুফুরি করেছে, তারা বলে, ‘আল্লাহ এ উপমা দ্বারা কী উদ্দেশ্য করেছেন?’ এর দ্বারা তিনি অনেককে বিপথগামী করেন এবং অনেককে হিদায়াত দান করেন। আর তিনি ফাসিকদের ছাড়া আর কাউকে এর দ্বারা বিপথগামী করেন না।

  27. ২৭

    ٱلَّذِينَ يَنقُضُونَ عَهۡدَ ٱللَّهِ مِنۢ بَعۡدِ مِيثَٰقِهِۦ وَيَقۡطَعُونَ مَآ أَمَرَ ٱللَّهُ بِهِۦٓ أَن يُوصَلَ وَيُفۡسِدُونَ فِي ٱلۡأَرۡضِۚ أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡخَٰسِرُونَ

    যারা আল্লাহর সাথে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, আর যে (আত্মীয়তার) সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখতে আল্লাহ আদেশ করেছেন, তা ছিন্ন করে এবং জমিনে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

  28. ২৮

    كَيۡفَ تَكۡفُرُونَ بِٱللَّهِ وَكُنتُمۡ أَمۡوَٰتٗا فَأَحۡيَٰكُمۡۖ ثُمَّ يُمِيتُكُمۡ ثُمَّ يُحۡيِيكُمۡ ثُمَّ إِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ

    তোমরা কীভাবে আল্লাহর সাথে কুফরি করছ? অথচ তোমরা ছিলে মৃত, তিনি তোমাদেরকে জীবিত করেছেন। আবার তিনি তোমাদের মৃত্যু দিবেন ও পুনরায় জীবিত করবেন, তারপর তাঁরই দিকে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

  29. ২৯

    هُوَ ٱلَّذِي خَلَقَ لَكُم مَّا فِي ٱلۡأَرۡضِ جَمِيعٗا ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰٓ إِلَى ٱلسَّمَآءِ فَسَوَّىٰهُنَّ سَبۡعَ سَمَٰوَٰتٖۚ وَهُوَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٞ

    তিনিই জমিনে যা কিছু আছে সব তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি আসমানের প্রতি মনোনিবেশ করলেন এবং সেটাকে সাত আসমানে বিন্যস্ত করলেন। আর তিনি সর্ব বিষয়ে সবিশেষ অবগত।

  30. ৩০

    وَإِذۡ قَالَ رَبُّكَ لِلۡمَلَٰٓئِكَةِ إِنِّي جَاعِلٞ فِي ٱلۡأَرۡضِ خَلِيفَةٗۖ قَالُوٓاْ أَتَجۡعَلُ فِيهَا مَن يُفۡسِدُ فِيهَا وَيَسۡفِكُ ٱلدِّمَآءَ وَنَحۡنُ نُسَبِّحُ بِحَمۡدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَۖ قَالَ إِنِّيٓ أَعۡلَمُ مَا لَا تَعۡلَمُونَ

    (আর স্মরণ করুন) যখন আপনার রব ফিরিশতাদের বললেন: ‘নিশ্চয় আমি জমিনে খলীফাহ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।’ জবাবে তারা বলল: ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে? আর আমরাই তো আপনার সপ্রশংস তাসবীহ পাঠ করছি এবং পবিত্রতা ঘোষণা করছি।’ তিনি বললেন: ‘নিশ্চয়ই আমি যা জানি, তোমরা তা জান না।’

  31. ৩১

    وَعَلَّمَ ءَادَمَ ٱلۡأَسۡمَآءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمۡ عَلَى ٱلۡمَلَٰٓئِكَةِ فَقَالَ أَنۢبِـُٔونِي بِأَسۡمَآءِ هَٰٓؤُلَآءِ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ

    আর তিনি আদমকে সব কিছুর নাম শিক্ষা দিলেন। তারপর সেগুলো ফিরিশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন: ‘তোমরা আমাকে এগুলোর নাম বলে দাও; যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।

  32. ৩২

    قَالُواْ سُبۡحَٰنَكَ لَا عِلۡمَ لَنَآ إِلَّا مَا عَلَّمۡتَنَآۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلۡعَلِيمُ ٱلۡحَكِيمُ

    তারা বলল: ‘আপনি পবিত্র মহান! আপনি আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের তো কোন জ্ঞানই নেই। নিশ্চয় আপনিই মহাজ্ঞানী, মহা প্রজ্ঞাময়।’

  33. ৩৩

    قَالَ يَٰٓـَٔادَمُ أَنۢبِئۡهُم بِأَسۡمَآئِهِمۡۖ فَلَمَّآ أَنۢبَأَهُم بِأَسۡمَآئِهِمۡ قَالَ أَلَمۡ أَقُل لَّكُمۡ إِنِّيٓ أَعۡلَمُ غَيۡبَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَأَعۡلَمُ مَا تُبۡدُونَ وَمَا كُنتُمۡ تَكۡتُمُونَ

    তিনি বললেন: ‘হে আদম! তাদেরকে এসবের নাম বলে দাও’। অতঃপর সে যখন তাদেরকে সেসবের নাম বলল, তখন তিনি বললেন: ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, নিশ্চয় আমি আসমানসমূহ ও জমিনের গায়েব জানি। আমি আরও জানি তোমরা যা প্রকাশ করো এবং তোমরা যা গোপন করো।’

  34. ৩৪

    وَإِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلَٰٓئِكَةِ ٱسۡجُدُواْ لِأٓدَمَ فَسَجَدُوٓاْ إِلَّآ إِبۡلِيسَ أَبَىٰ وَٱسۡتَكۡبَرَ وَكَانَ مِنَ ٱلۡكَٰفِرِينَ

    যখন আমি ফিরিশতাদের বললাম: আদমকে সাজদাহ করো। তখন ইবলিস ছাড়া সকলেই সাজদাহ করলো। সে অস্বীকার করলো ও অহংকার করলো। আর সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো।

  35. ৩৫

    وَقُلۡنَا يَٰٓـَٔادَمُ ٱسۡكُنۡ أَنتَ وَزَوۡجُكَ ٱلۡجَنَّةَ وَكُلَا مِنۡهَا رَغَدًا حَيۡثُ شِئۡتُمَا وَلَا تَقۡرَبَا هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ

    আর আমি বললাম: ‘হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর এবং সেখান থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে আহার কর; কিন্তু এই গাছটির কাছে যেয়ো না; তাহলে তোমরা যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’

  36. ৩৬

    فَأَزَلَّهُمَا ٱلشَّيۡطَٰنُ عَنۡهَا فَأَخۡرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِۖ وَقُلۡنَا ٱهۡبِطُواْ بَعۡضُكُمۡ لِبَعۡضٍ عَدُوّٞۖ وَلَكُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ مُسۡتَقَرّٞ وَمَتَٰعٌ إِلَىٰ حِينٖ

    অতঃপর শয়তান জান্নাত থেকে তাদের দুজনের পদস্থলন ঘটাল এবং তারা যেখানে ছিল, সেখান থেকে তাদের দুজনকে বের করে দিল। আর আমি (শয়তানসহ তিনজনকে) বললাম, ‘তোমরা (পৃথিবীতে) নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। আর পৃথিবীতে তোমাদের জন্য এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বসবাস ও ভোগ-উপকরণ রয়েছে।’

  37. ৩৭

    فَتَلَقَّىٰٓ ءَادَمُ مِن رَّبِّهِۦ كَلِمَٰتٖ فَتَابَ عَلَيۡهِۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ

    অতঃপর আদম তাঁর রবের পক্ষ থেকে (যার মাধ্যমে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন) কিছু বাণী পেলেন। ফলে আল্লাহ তাঁর তাওবাহ কবুল করলেন। নিশ্চয় তিনি তাওবাহ কবুলকারী, অতি দয়ালু।

  38. ৩৮

    قُلۡنَا ٱهۡبِطُواْ مِنۡهَا جَمِيعٗاۖ فَإِمَّا يَأۡتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدٗى فَمَن تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ

    আমি বললাম: ‘তোমরা সকলে এখান থেকে নেমে যাও। অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট কোনো হিদায়াত আসবে, তখন যারা আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা চিন্তিতও হবে না।’

  39. ৩৯

    وَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ وَكَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَآ أُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ

    আর যারা কুফরী করবে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করবে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী। তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে।

  40. ৪০

    يَٰبَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ ٱذۡكُرُواْ نِعۡمَتِيَ ٱلَّتِيٓ أَنۡعَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ وَأَوۡفُواْ بِعَهۡدِيٓ أُوفِ بِعَهۡدِكُمۡ وَإِيَّٰيَ فَٱرۡهَبُونِ

    হে বানূ ইসরাঈল! তোমরা আমার সেসব নি‘আমতের কথা স্মরণ কর, যা আমি তোমাদেরকে দান করেছি এবং তোমরা আমার অঙ্গীকার পূর্ণ কর, তাহলে আমিও তোমাদের সঙ্গে আমার কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করব। আর শুধু আমাকেই ভয় কর।

  41. ৪১

    وَءَامِنُواْ بِمَآ أَنزَلۡتُ مُصَدِّقٗا لِّمَا مَعَكُمۡ وَلَا تَكُونُوٓاْ أَوَّلَ كَافِرِۭ بِهِۦۖ وَلَا تَشۡتَرُواْ بِـَٔايَٰتِي ثَمَنٗا قَلِيلٗا وَإِيَّٰيَ فَٱتَّقُونِ

    আর তোমাদের সাথে যে (তাওরাত) আছে তার সত্যায়নকারীস্বরূপ আমি যে (কুরআন) নাযিল করেছি তার প্রতি তোমরা ঈমান আনো এবং তোমরা তার প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না। আর আমার আয়াতসমূহের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করো না এবং শুধু আমাকেই ভয় করো।

  42. ৪২

    وَلَا تَلۡبِسُواْ ٱلۡحَقَّ بِٱلۡبَٰطِلِ وَتَكۡتُمُواْ ٱلۡحَقَّ وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ

    আর তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে বুঝে সত্যকে গোপন করো না।

  43. ৪৩

    وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱرۡكَعُواْ مَعَ ٱلرَّٰكِعِينَ

    আর তোমরা সালাত কায়িম করো, যাকাত প্রদান করো এবং রুকূ‘কারীদের সাথে রুকূ‘ করো ।

  44. ৪৪

    ۞ أَتَأۡمُرُونَ ٱلنَّاسَ بِٱلۡبِرِّ وَتَنسَوۡنَ أَنفُسَكُمۡ وَأَنتُمۡ تَتۡلُونَ ٱلۡكِتَٰبَۚ أَفَلَا تَعۡقِلُونَ

    তোমরা কি মানুষকে সৎকাজের আদেশ দিচ্ছ, আর নিজেদেরকে ভুলে যাচ্ছ? অথচ তোমরা আল্লাহর কিতাব (তাওরাত) তিলাওয়াত কর। তোমরা কি বুঝ না?

  45. ৪৫

    وَٱسۡتَعِينُواْ بِٱلصَّبۡرِ وَٱلصَّلَوٰةِۚ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى ٱلۡخَٰشِعِينَ

    আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও । নিশ্চয় তা বিনীত-অনুগত ছাড়া অন্যদের জন্যে অবশ্যই কঠিন।

  46. ৪৬

    ٱلَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَٰقُواْ رَبِّهِمۡ وَأَنَّهُمۡ إِلَيۡهِ رَٰجِعُونَ

    যারা বিশ্বাস করে যে, নিশ্চয় তারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাত করবে এবং নিশ্চয় তারা তাঁরই কাছে ফিরে যাবে।

  47. ৪৭

    يَٰبَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ ٱذۡكُرُواْ نِعۡمَتِيَ ٱلَّتِيٓ أَنۡعَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ وَأَنِّي فَضَّلۡتُكُمۡ عَلَى ٱلۡعَٰلَمِينَ

    হে বানূ ইসরাঈল! আমার সে নি‘আমাতের কথা স্মরণ করো, যা আমি তোমাদেরকে দান করেছি। আর নিশ্চয় আমি বিশ্ববাসীর ওপর তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।

  48. ৪৮

    وَٱتَّقُواْ يَوۡمٗا لَّا تَجۡزِي نَفۡسٌ عَن نَّفۡسٖ شَيۡـٔٗا وَلَا يُقۡبَلُ مِنۡهَا شَفَٰعَةٞ وَلَا يُؤۡخَذُ مِنۡهَا عَدۡلٞ وَلَا هُمۡ يُنصَرُونَ

    আর তোমরা সে দিনকে ভয় কর, যেদিন কেউ কারো কোন কাজে আসবে না। আর কারো পক্ষ থেকে কোন সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না এবং কারও কাছ থেকে কোন বিনিময় গ্রহণ হবে না। আর সেদিন তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।

  49. ৪৯

    وَإِذۡ نَجَّيۡنَٰكُم مِّنۡ ءَالِ فِرۡعَوۡنَ يَسُومُونَكُمۡ سُوٓءَ ٱلۡعَذَابِ يُذَبِّحُونَ أَبۡنَآءَكُمۡ وَيَسۡتَحۡيُونَ نِسَآءَكُمۡۚ وَفِي ذَٰلِكُم بَلَآءٞ مِّن رَّبِّكُمۡ عَظِيمٞ

    (আর স্মরণ কর) যখন আমি তোমাদেরকে ফির‘আউনের সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করেছিলাম। তারা তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি প্রদান করতো। তোমাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করতো এবং তোমাদের কন্যা সন্তানদেরকে জীবিত রাখতো। আর এতে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ছিল মহাপরীক্ষা।

  50. ৫০

    وَإِذۡ فَرَقۡنَا بِكُمُ ٱلۡبَحۡرَ فَأَنجَيۡنَٰكُمۡ وَأَغۡرَقۡنَآ ءَالَ فِرۡعَوۡنَ وَأَنتُمۡ تَنظُرُونَ

    (আর স্মরণ করো) যখন তোমাদের জন্য আমি সমুদ্রকে বিভক্ত করেছিলাম। অতঃপর আমি তোমাদেরকে নাজাত দিয়েছিলাম এবং ফির‘আউনের দলকে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম; আর তোমরা তা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলে।

  51. ৫১

    وَإِذۡ وَٰعَدۡنَا مُوسَىٰٓ أَرۡبَعِينَ لَيۡلَةٗ ثُمَّ ٱتَّخَذۡتُمُ ٱلۡعِجۡلَ مِنۢ بَعۡدِهِۦ وَأَنتُمۡ ظَٰلِمُونَ

    (আর স্মরণ করো) যখন আমি মূসার সাথে চল্লিশ রাতের অঙ্গীকার করেছিলাম। এরপর তার (মূসার) অনুপস্থিতিতে তোমরা গো-বাছুরকে (উপাস্যরূপে) গ্রহণ করেছিলে; আর (সে সময়) তোমরা তো যালিম ছিলে।

  52. ৫২

    ثُمَّ عَفَوۡنَا عَنكُم مِّنۢ بَعۡدِ ذَٰلِكَ لَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُونَ

    এরপর (এত বড় অপরাধ করলেও) আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।

  53. ৫৩

    وَإِذۡ ءَاتَيۡنَا مُوسَى ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡفُرۡقَانَ لَعَلَّكُمۡ تَهۡتَدُونَ

    (আর স্মরণ করো) যখন আমি মূসাকে দিয়েছিলাম সত্য মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী কিতাব, যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও।

  54. ৫৪

    وَإِذۡ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوۡمِهِۦ يَٰقَوۡمِ إِنَّكُمۡ ظَلَمۡتُمۡ أَنفُسَكُم بِٱتِّخَاذِكُمُ ٱلۡعِجۡلَ فَتُوبُوٓاْ إِلَىٰ بَارِئِكُمۡ فَٱقۡتُلُوٓاْ أَنفُسَكُمۡ ذَٰلِكُمۡ خَيۡرٞ لَّكُمۡ عِندَ بَارِئِكُمۡ فَتَابَ عَلَيۡكُمۡۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ

    (আর স্মরণ করো) যখন মূসা স্বীয় জাতির লোকদের বললো: ‘হে আমার জাতি! গো-বাছুরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ। কাজেই তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করে তোমাদের স্রষ্টার কাছে তাওবাহ কর। তোমাদের স্রষ্টার কাছে এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর। অতঃপর (তোমরা তা করলে) তিনি তোমাদের তাওবাহ কবুল করলেন। অবশ্যই তিনি তাওবাহ কবুলকারী, পরম দয়ালু।'

  55. ৫৫

    وَإِذۡ قُلۡتُمۡ يَٰمُوسَىٰ لَن نُّؤۡمِنَ لَكَ حَتَّىٰ نَرَى ٱللَّهَ جَهۡرَةٗ فَأَخَذَتۡكُمُ ٱلصَّٰعِقَةُ وَأَنتُمۡ تَنظُرُونَ

    (আর স্মরণ কর) যখন তোমরা বলেছিলে: ‘হে মূসা! আমরা আল্লাহকে প্রকাশ্যভাবে না দেখা পর্যন্ত তোমাকে কখনও বিশ্বাস করব না।’ ফলে আকস্মিক বজ্রপাত তোমাদেরকে পাকড়াও করল আর তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে।

  56. ৫৬

    ثُمَّ بَعَثۡنَٰكُم مِّنۢ بَعۡدِ مَوۡتِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُونَ

    কিন্তু তোমাদের মৃত্যুর পর আমি তোমাদেরকে পুনর্জীবিত করলাম, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।

  57. ৫৭

    وَظَلَّلۡنَا عَلَيۡكُمُ ٱلۡغَمَامَ وَأَنزَلۡنَا عَلَيۡكُمُ ٱلۡمَنَّ وَٱلسَّلۡوَىٰۖ كُلُواْ مِن طَيِّبَٰتِ مَا رَزَقۡنَٰكُمۡۚ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَٰكِن كَانُوٓاْ أَنفُسَهُمۡ يَظۡلِمُونَ

    আর আমি তোমাদের ওপর মেঘমালা দিয়ে ছায়া দিয়েছিলাম এবং তোমাদের প্রতি মান্না ও সালওয়া নাযিল করেছিলাম। (আর আমি তোমাদেরকে বলেছিলাম:) ‘তোমরা সেই পবিত্র রিযক থেকে আহার কর, যা আমি তোমাদেরকে দিয়েছি।’ আর তারা আমার প্রতি কোনো যুলম করেনি; বরং তারা নিজেদের প্রতিই যুলম করত।

  58. ৫৮

    وَإِذۡ قُلۡنَا ٱدۡخُلُواْ هَٰذِهِ ٱلۡقَرۡيَةَ فَكُلُواْ مِنۡهَا حَيۡثُ شِئۡتُمۡ رَغَدٗا وَٱدۡخُلُواْ ٱلۡبَابَ سُجَّدٗا وَقُولُواْ حِطَّةٞ نَّغۡفِرۡ لَكُمۡ خَطَٰيَٰكُمۡۚ وَسَنَزِيدُ ٱلۡمُحۡسِنِينَ

    (আর স্মরণ করো) যখন আমি বলেছিলাম, ‘এই জনপদে প্রবেশ করো এবং এতে যেখানে ইচ্ছা স্বচ্ছন্দে আহার করো। আর দরজা দিয়ে নতশিরে প্রবেশ করো এবং বলো, “হিত্তাতুন” (আমাদের পাপ মোচন করুন)। তাহলে আমি তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করব। আর সৎকর্মশীলদেরকে আরও অনুগ্রহ দান করব।’

  59. ৫৯

    فَبَدَّلَ ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ قَوۡلًا غَيۡرَ ٱلَّذِي قِيلَ لَهُمۡ فَأَنزَلۡنَا عَلَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ رِجۡزٗا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ بِمَا كَانُواْ يَفۡسُقُونَ

    কিন্তু যারা যালিম তারা তাদের শিখিয়ে দেয়া কথাটি পরিবর্তন করে তার স্থলে অন্য কথা বলল। ফলে আমি যালিমদের প্রতি তাদের অবাধ্যতার কারণে আকাশ হতে শাস্তি নাযিল করলাম।

  60. ৬০

    ۞ وَإِذِ ٱسۡتَسۡقَىٰ مُوسَىٰ لِقَوۡمِهِۦ فَقُلۡنَا ٱضۡرِب بِّعَصَاكَ ٱلۡحَجَرَۖ فَٱنفَجَرَتۡ مِنۡهُ ٱثۡنَتَا عَشۡرَةَ عَيۡنٗاۖ قَدۡ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٖ مَّشۡرَبَهُمۡۖ كُلُواْ وَٱشۡرَبُواْ مِن رِّزۡقِ ٱللَّهِ وَلَا تَعۡثَوۡاْ فِي ٱلۡأَرۡضِ مُفۡسِدِينَ

    (আরো স্মরণ করো) যখন মূসা তার জাতির জন্য (তীহের মরু প্রান্তরে) পানি চাইলেন। আমি বললাম: ‘তুমি লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত করো।’ ফলে তা হতে বারোটি ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হলো। প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পানি সংগ্রহের স্থান জেনে নিলো। ‘আল্লাহর দেয়া জীবিকা হতে তোমরা খাও এবং পান করো, তবে জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করোনা।’

  61. ৬১

    وَإِذۡ قُلۡتُمۡ يَٰمُوسَىٰ لَن نَّصۡبِرَ عَلَىٰ طَعَامٖ وَٰحِدٖ فَٱدۡعُ لَنَا رَبَّكَ يُخۡرِجۡ لَنَا مِمَّا تُنۢبِتُ ٱلۡأَرۡضُ مِنۢ بَقۡلِهَا وَقِثَّآئِهَا وَفُومِهَا وَعَدَسِهَا وَبَصَلِهَاۖ قَالَ أَتَسۡتَبۡدِلُونَ ٱلَّذِي هُوَ أَدۡنَىٰ بِٱلَّذِي هُوَ خَيۡرٌۚ ٱهۡبِطُواْ مِصۡرٗا فَإِنَّ لَكُم مَّا سَأَلۡتُمۡۗ وَضُرِبَتۡ عَلَيۡهِمُ ٱلذِّلَّةُ وَٱلۡمَسۡكَنَةُ وَبَآءُو بِغَضَبٖ مِّنَ ٱللَّهِۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ كَانُواْ يَكۡفُرُونَ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ وَيَقۡتُلُونَ ٱلنَّبِيِّـۧنَ بِغَيۡرِ ٱلۡحَقِّۚ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَواْ وَّكَانُواْ يَعۡتَدُونَ

    (আর স্মরণ করো) যখন তোমরা বললে: ‘হে মূসা, আমরা এক খাবারের উপর কখনো ধৈর্যধারণ করব না। সুতরাং আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের নিকট দু‘আ করুন, যেন তিনি আমাদের জন্য জমিন থেকে শাক-সবজি, কাঁকুড় , রসুন, মসুর ও পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন। তখন মূসা তাদেরকে বললো: ‘তোমরা কি উত্তম জিনিসের বদলে নিম্নমানের জিনিস চাও? তবে তোমরা অন্য কোন শহরে অবতরণ কর, তোমরা যা চাও, সেখানে তা আছে।’ অবশেষে তাদের উপর লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্য আপতিত হলো এবং তারা আল্লাহর গজবের শিকার হলো। এটা এ জন্য যে , তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার এবং নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করতো। তাদের এই পরিণতি এ কারণে যে, তারা নাফরমানি করেছিল এবং তারা সীমালঙ্ঘন করত।

  62. ৬২

    إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَٱلَّذِينَ هَادُواْ وَٱلنَّصَٰرَىٰ وَٱلصَّٰبِـِٔينَ مَنۡ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا فَلَهُمۡ أَجۡرُهُمۡ عِندَ رَبِّهِمۡ وَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ

    নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, আর ইয়াহূদী, নাসারা ও সাবিঈরা, যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের নিকট পুরস্কার । আর তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।

  63. ৬৩

    وَإِذۡ أَخَذۡنَا مِيثَٰقَكُمۡ وَرَفَعۡنَا فَوۡقَكُمُ ٱلطُّورَ خُذُواْ مَآ ءَاتَيۡنَٰكُم بِقُوَّةٖ وَٱذۡكُرُواْ مَا فِيهِ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ

    (আর স্মরণ করো) যখন আমি তোমাদের ওপর তূর পর্বত তুলে ধরে তোমাদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম; ‘আমি তোমাদেরকে যা দিলাম দৃঢ়তার সাথে তা গ্রহণ করো এবং তাতে যা আছে তা স্মরণে রাখ, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার।’

  64. ৬৪

    ثُمَّ تَوَلَّيۡتُم مِّنۢ بَعۡدِ ذَٰلِكَۖ فَلَوۡلَا فَضۡلُ ٱللَّهِ عَلَيۡكُمۡ وَرَحۡمَتُهُۥ لَكُنتُم مِّنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ

    এরপরও তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে। আর তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমত না থাকলে, অবশ্যই তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হতে।

  65. ৬৫

    وَلَقَدۡ عَلِمۡتُمُ ٱلَّذِينَ ٱعۡتَدَوۡاْ مِنكُمۡ فِي ٱلسَّبۡتِ فَقُلۡنَا لَهُمۡ كُونُواْ قِرَدَةً خَٰسِـِٔينَ

    আর তোমাদের মধ্যে যারা শনিবারে (মাছ শিকার করে) সীমালঙ্ঘন করেছিল, তাদের বিষয়টি তো তোমরা অবশ্যই জানো। তখন আমি তাদেরকে বলেছিলাম, ‘তোমরা লাঞ্ছিত বানরে পরিণত হয়ে যাও।’

  66. ৬৬

    فَجَعَلۡنَٰهَا نَكَٰلٗا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيۡهَا وَمَا خَلۡفَهَا وَمَوۡعِظَةٗ لِّلۡمُتَّقِينَ

    আর আমি এ (জনপদের) ঘটনাকে তাদের সমকালীন ও পরবর্তীদের জন্য এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত এবং মুত্তাকীদের জন্য উপদেশস্বরূপ করেছি।

  67. ৬৭

    وَإِذۡ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوۡمِهِۦٓ إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُكُمۡ أَن تَذۡبَحُواْ بَقَرَةٗۖ قَالُوٓاْ أَتَتَّخِذُنَا هُزُوٗاۖ قَالَ أَعُوذُ بِٱللَّهِ أَنۡ أَكُونَ مِنَ ٱلۡجَٰهِلِينَ

    (আর স্মরণ করো) যখন মূসা তার জাতিকে বললো: ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে একটি গাভি যবহ করার আদেশ দিচ্ছেন।’ তখন তারা বলল: ‘তুমি কি আমাদের সঙ্গে ঠাট্টা করছো?’ মূসা জবাবে বললো: ‘আমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।’

  68. ৬৮

    قَالُواْ ٱدۡعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا هِيَۚ قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٞ لَّا فَارِضٞ وَلَا بِكۡرٌ عَوَانُۢ بَيۡنَ ذَٰلِكَۖ فَٱفۡعَلُواْ مَا تُؤۡمَرُونَ

    তারা (মূসাকে) বলল, ‘তুমি তোমার রবের কাছে আমাদের জন্য দুআ করো, তিনি যেন আমাদের কাছে স্পষ্ট করে জানান, গাভিটি কেমন হবে।’ তিনি বললেন, ‘তিনি বলছেন, সেটি এমন একটি গাভী, যা বৃদ্ধও নয়, অল্পবয়স্কও নয়; বরং মধ্যবয়সী। অতএব তোমাদেরকে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা পালন করো।’

  69. ৬৯

    قَالُواْ ٱدۡعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا لَوۡنُهَاۚ قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٞ صَفۡرَآءُ فَاقِعٞ لَّوۡنُهَا تَسُرُّ ٱلنَّٰظِرِينَ

    তারা বলল: ‘ তুমি তোমার রাবের কাছে আমাদের জন্যে দু‘আ করো , তিনি যেন আমাদেরকে সুস্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, গাভিটির রং কী হবে?’ সে বললো, ‘আল্লাহ বলেছেন, সেটা হলুদ বর্ণের গাভি, উজ্জ্বল গাঢ় হলুদ রংবিশিষ্ট, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে।’

  70. ৭০

    قَالُواْ ٱدۡعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا هِيَ إِنَّ ٱلۡبَقَرَ تَشَٰبَهَ عَلَيۡنَا وَإِنَّآ إِن شَآءَ ٱللَّهُ لَمُهۡتَدُونَ

    তারা বলল: ‘তুমি তোমার রাবের কাছে আমাদের জন্যে দু‘আ করো, তিনি যেন আমাদেরকে সুস্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, গাভিটি কেমন হবে? নিশ্চয় গাভিটির সম্পর্কে আমরা সংশয়ে আছি । আর আল্লাহ ইচ্ছে করলে নিশ্চয় আমরা সঠিক (গাভি)টির সন্ধান পাবো।’

  71. ৭১

    قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٞ لَّا ذَلُولٞ تُثِيرُ ٱلۡأَرۡضَ وَلَا تَسۡقِي ٱلۡحَرۡثَ مُسَلَّمَةٞ لَّا شِيَةَ فِيهَاۚ قَالُواْ ٱلۡـَٰٔنَ جِئۡتَ بِٱلۡحَقِّۚ فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُواْ يَفۡعَلُونَ

    সে (মূসা) বললো: ‘আল্লাহ বলেছেন,‘ সেটা এমন এক গাভি, যা জমি চাষে ও ক্ষেতে পানি সেচের জন্য ব্যবহৃত হয়নি, সুস্থ-সবল ও নিখুঁত গাভি।’ তারা বলল: ‘এবার তুমি সঠিক বর্ণনা নিয়ে এসেছো।’ অবশেষে তারা সেটাকে যবহ করলো; যদিও তারা তা (যবহ) করতে প্রস্তুত ছিলো না।

  72. ৭২

    وَإِذۡ قَتَلۡتُمۡ نَفۡسٗا فَٱدَّٰرَٰءۡتُمۡ فِيهَاۖ وَٱللَّهُ مُخۡرِجٞ مَّا كُنتُمۡ تَكۡتُمُونَ

    আর (স্মরণ করো) যখন তোমরা এক ব্যক্তিকে হত্যা করলে, তখন (সে হত্যার ব্যাপারে) তোমরা পরস্পরের ওপর দোষ চাপাতে লাগলে; কিন্তু তোমরা যা গোপন করতে, আল্লাহ তা প্রকাশকারী।

  73. ৭৩

    فَقُلۡنَا ٱضۡرِبُوهُ بِبَعۡضِهَاۚ كَذَٰلِكَ يُحۡيِ ٱللَّهُ ٱلۡمَوۡتَىٰ وَيُرِيكُمۡ ءَايَٰتِهِۦ لَعَلَّكُمۡ تَعۡقِلُونَ

    তখন আমরা বললাম, ‘এর (জবাইকৃত গাভির) কোনো অংশ দিয়ে তাকে (মৃত ব্যক্তিকে) আঘাত করো।’ এভাবেই আল্লাহ মৃতদেরকে জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলি দেখান, যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পার।

  74. ৭৪

    ثُمَّ قَسَتۡ قُلُوبُكُم مِّنۢ بَعۡدِ ذَٰلِكَ فَهِيَ كَٱلۡحِجَارَةِ أَوۡ أَشَدُّ قَسۡوَةٗۚ وَإِنَّ مِنَ ٱلۡحِجَارَةِ لَمَا يَتَفَجَّرُ مِنۡهُ ٱلۡأَنۡهَٰرُۚ وَإِنَّ مِنۡهَا لَمَا يَشَّقَّقُ فَيَخۡرُجُ مِنۡهُ ٱلۡمَآءُۚ وَإِنَّ مِنۡهَا لَمَا يَهۡبِطُ مِنۡ خَشۡيَةِ ٱللَّهِۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُونَ

    এরপরেও তোমাদের হৃদয়গুলো কঠিন হয়ে গেলো, যেন পাথর কিংবা তার চেয়েও কঠিন। অথচ কোন কোন পাথর তো এমন যা থেকে নদী-নালা প্রবাহিত হয়। আর এমনও কিছু পাথর আছে, যেগুলো বিদীর্ণ হয়ে তা থেকে পানি নির্গত হয়। আবার এমন কিছু পাথর আছে, যা আল্লাহর ভয়ে নিচে ধ্বসে পড়ে, আর তোমাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আল্লাহ মোটেই অনবহিত নন।

  75. ৭৫

    ۞ أَفَتَطۡمَعُونَ أَن يُؤۡمِنُواْ لَكُمۡ وَقَدۡ كَانَ فَرِيقٞ مِّنۡهُمۡ يَسۡمَعُونَ كَلَٰمَ ٱللَّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُۥ مِنۢ بَعۡدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمۡ يَعۡلَمُونَ

    (হে ঈমানদারগণ,) তোমরা কি এ আশা পোষণ করছ যে, তারা (ইয়াহূদীরা) তোমাদের দাওয়াতে সাড়া দিয়ে ঈমান আনবে? অথচ তাদের একদল আল্লাহর বাণী শ্রবণ করত, অতঃপর তা অনুধাবন করার পর জেনেশুনেই তা বিকৃত করত।

  76. ৭৬

    وَإِذَا لَقُواْ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ قَالُوٓاْ ءَامَنَّا وَإِذَا خَلَا بَعۡضُهُمۡ إِلَىٰ بَعۡضٖ قَالُوٓاْ أَتُحَدِّثُونَهُم بِمَا فَتَحَ ٱللَّهُ عَلَيۡكُمۡ لِيُحَآجُّوكُم بِهِۦ عِندَ رَبِّكُمۡۚ أَفَلَا تَعۡقِلُونَ

    আর তারা (ইয়াহূদীরা) যখন মু’মিনদের সাথে সাক্ষাৎ করে তখন বলে: ‘আমরা ঈমান এনেছি।’ আবার যখন তারা একে অন্যের সাথে নিভৃতে মিলিত হয় তখন বলে: যা আল্লাহ (তাওরাতে) তোমাদের কাছে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন‘ তোমরা কি তাদেরকে (মুসলিমদেরকে) তা বলে দিয়েছো? এ দ্বারা তারা (মুসলিমরা) তো তোমাদের রাবের নিকট তোমাদের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করবে, তোমরা কি তা অনুধাবন করো না?’

  77. ৭৭

    أَوَلَا يَعۡلَمُونَ أَنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعۡلِنُونَ

    তারা কি জানে না যে, তারা যা গোপন রাখে এবং যা প্রকাশ করে, নিশ্চয় আল্লাহ তা জানেন?

  78. ৭৮

    وَمِنۡهُمۡ أُمِّيُّونَ لَا يَعۡلَمُونَ ٱلۡكِتَٰبَ إِلَّآ أَمَانِيَّ وَإِنۡ هُمۡ إِلَّا يَظُنُّونَ

    আর তাদের মধ্যে এমন কিছু নিরক্ষর লোক আছে যারা মিথ্যা আশা-আকাঙ্ক্ষা ছাড়া কিতাব সম্পর্কে কিছুই জানে না। আর তারা শুধু অমূলক ধারণা পোষণ করে।

  79. ৭৯

    فَوَيۡلٞ لِّلَّذِينَ يَكۡتُبُونَ ٱلۡكِتَٰبَ بِأَيۡدِيهِمۡ ثُمَّ يَقُولُونَ هَٰذَا مِنۡ عِندِ ٱللَّهِ لِيَشۡتَرُواْ بِهِۦ ثَمَنٗا قَلِيلٗاۖ فَوَيۡلٞ لَّهُم مِّمَّا كَتَبَتۡ أَيۡدِيهِمۡ وَوَيۡلٞ لَّهُم مِّمَّا يَكۡسِبُونَ

    কাজেই ধ্বংস-দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে, অতঃপর তুচ্ছ মূল্য পাওয়ার জন্য বলে: ‘এটা আল্লাহর কাছ থেকে (অবতীর্ণ হওয়া)।’ অতএব, তাদের হাত যা রচনা করেছে তার জন্য তাদের ধ্বংস-দুর্ভোগ এবং যা তারা উপার্জন করেছে তার কারণেও তাদের জন্য ধ্বংস-দুর্ভোগ।

  80. ৮০

    وَقَالُواْ لَن تَمَسَّنَا ٱلنَّارُ إِلَّآ أَيَّامٗا مَّعۡدُودَةٗۚ قُلۡ أَتَّخَذۡتُمۡ عِندَ ٱللَّهِ عَهۡدٗا فَلَن يُخۡلِفَ ٱللَّهُ عَهۡدَهُۥٓۖ أَمۡ تَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعۡلَمُونَ

    তারা (ইয়াহূদীরা) বলে: ‘নির্দিষ্ট কিছু দিন ছাড়া আগুন আমাদেরকে কখনও স্পর্শ করবে না।’ বলুন, ‘তোমরা কি আল্লাহর কাছ থেকে এমন কোনো অঙ্গীকার আদায় করে নিয়েছ, যে আল্লাহ কখনও তাঁর অঙ্গীকার ভঙ্গ করবেন না? নাকি তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলে বেড়াচ্ছ, যা তোমরা জান না?’

  81. ৮১

    بَلَىٰۚ مَن كَسَبَ سَيِّئَةٗ وَأَحَٰطَتۡ بِهِۦ خَطِيٓـَٔتُهُۥ فَأُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ

    হ্যাঁ, যে পাপ উপার্জন করেছে এবং তার পাপরাশি তাকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।

  82. ৮২

    وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلۡجَنَّةِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ

    আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।

  83. ৮৩

    وَإِذۡ أَخَذۡنَا مِيثَٰقَ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ لَا تَعۡبُدُونَ إِلَّا ٱللَّهَ وَبِٱلۡوَٰلِدَيۡنِ إِحۡسَانٗا وَذِي ٱلۡقُرۡبَىٰ وَٱلۡيَتَٰمَىٰ وَٱلۡمَسَٰكِينِ وَقُولُواْ لِلنَّاسِ حُسۡنٗا وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَ ثُمَّ تَوَلَّيۡتُمۡ إِلَّا قَلِيلٗا مِّنكُمۡ وَأَنتُم مُّعۡرِضُونَ

    (আর স্মরণ করো) যখন আমি বানূ ইসরাঈলের অঙ্গীকার এ মর্মে গ্রহণ করেছিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ‘ইবাদাত করবে না এবং সদাচার করবে পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম ও মিসকীনদের সাথে। আর মানুষকে উত্তম কথা বলবে, সালাত কায়িম করবে এবং যাকাত প্রদান করবে। অতঃপর তোমাদের মধ্য থেকে স্বল্প সংখ্যক ছাড়া তোমরা সকলেই অবজ্ঞা করে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে।

  84. ৮৪

    وَإِذۡ أَخَذۡنَا مِيثَٰقَكُمۡ لَا تَسۡفِكُونَ دِمَآءَكُمۡ وَلَا تُخۡرِجُونَ أَنفُسَكُم مِّن دِيَٰرِكُمۡ ثُمَّ أَقۡرَرۡتُمۡ وَأَنتُمۡ تَشۡهَدُونَ

    (আর স্মরণ করো) যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম যে, ‘তোমরা নিজেদের (অর্থাৎ একে অপরের) রক্তপাত করবে না এবং নিজেদের (অর্থাৎ একে অপরকে) নিজ নিজ আবাসভূমি থেকে বের করে দেবে না।’ তারপর তোমরা তা স্বীকার করেছিলে, আর তোমরাই এর সাক্ষী।

  85. ৮৫

    ثُمَّ أَنتُمۡ هَٰٓؤُلَآءِ تَقۡتُلُونَ أَنفُسَكُمۡ وَتُخۡرِجُونَ فَرِيقٗا مِّنكُم مِّن دِيَٰرِهِمۡ تَظَٰهَرُونَ عَلَيۡهِم بِٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡعُدۡوَٰنِ وَإِن يَأۡتُوكُمۡ أُسَٰرَىٰ تُفَٰدُوهُمۡ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيۡكُمۡ إِخۡرَاجُهُمۡۚ أَفَتُؤۡمِنُونَ بِبَعۡضِ ٱلۡكِتَٰبِ وَتَكۡفُرُونَ بِبَعۡضٖۚ فَمَا جَزَآءُ مَن يَفۡعَلُ ذَٰلِكَ مِنكُمۡ إِلَّا خِزۡيٞ فِي ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ وَيَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ يُرَدُّونَ إِلَىٰٓ أَشَدِّ ٱلۡعَذَابِۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُونَ

    এই সুদৃঢ় অঙ্গীকার করার পরেও তোমরাই তো তারা, যারা আজ নিজেরা পরস্পরকে হত্যা করছো, তোমাদেরই এক দল আরেক দলকে তাদের গৃহ থেকে বের করে দিচ্ছো। তোমরা পাপ (অবিচার) ও সীমালঙ্ঘনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে সহায়তা করছো। আর তারা যদি যুদ্ধবন্দি হয়ে তোমাদের নিকট আসে, তোমরা মুক্তিপণ দিয়ে তাদেরকে মুক্ত করো; অথচ তাদেরকে বের করাই তোমাদের জন্য হারাম ছিল। তাহলে তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশে ঈমান রাখো, আর কিছু অংশ অস্বীকার করো? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা তা করে দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ছাড়া তাদের আর কী বা প্রতিদান হতে পারে? আর কিয়ামতের দিনে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তিতে নিক্ষেপ করা হবে। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে অনবহিত নন।

  86. ৮৬

    أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ ٱشۡتَرَوُاْ ٱلۡحَيَوٰةَ ٱلدُّنۡيَا بِٱلۡأٓخِرَةِۖ فَلَا يُخَفَّفُ عَنۡهُمُ ٱلۡعَذَابُ وَلَا هُمۡ يُنصَرُونَ

    তারাই সেসব লোক, যারা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে ক্রয় করেছে। কাজেই তাদের শাস্তি বিন্দুমাত্র কমানো হবে না এবং তাদেরকে সাহায্যও করা হবে না।

  87. ৮৭

    وَلَقَدۡ ءَاتَيۡنَا مُوسَى ٱلۡكِتَٰبَ وَقَفَّيۡنَا مِنۢ بَعۡدِهِۦ بِٱلرُّسُلِۖ وَءَاتَيۡنَا عِيسَى ٱبۡنَ مَرۡيَمَ ٱلۡبَيِّنَٰتِ وَأَيَّدۡنَٰهُ بِرُوحِ ٱلۡقُدُسِۗ أَفَكُلَّمَا جَآءَكُمۡ رَسُولُۢ بِمَا لَا تَهۡوَىٰٓ أَنفُسُكُمُ ٱسۡتَكۡبَرۡتُمۡ فَفَرِيقٗا كَذَّبۡتُمۡ وَفَرِيقٗا تَقۡتُلُونَ

    অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব (তাওরাত) দিয়েছি এবং তাঁর পরে পর্যায়ক্রমে রাসূলগণকে পাঠিয়েছি। মারইয়াম-পুত্র ‘ঈসাকে আমি সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শনসমূহ দিয়েছি এবং ‘রূহুল কুদুস’ দ্বারা তাঁকে শক্তিশালী করেছি। তবে কি যখনই কোনো রাসূল তোমাদের কাছে এমন কিছু এনেছেন, যা তোমাদের মনঃপূত নয়, তখনই তোমরা অহংকার প্রদর্শন করেছ? অতঃপর একদলকে তোমরা মিথ্যাবাদী বলেছ এবং আরেকদলকে হত্যা করেছ।

  88. ৮৮

    وَقَالُواْ قُلُوبُنَا غُلۡفُۢۚ بَل لَّعَنَهُمُ ٱللَّهُ بِكُفۡرِهِمۡ فَقَلِيلٗا مَّا يُؤۡمِنُونَ

    আর তারা বলেছিলো: ‘আমাদের অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত’ বরং তাদের কুফরীর কারণে আল্লাহ তাদেরকে অভিসম্পাত দিয়েছেন । সুতরাং তাদের অতি অল্প সংখ্যকই ঈমান আনে।

  89. ৮৯

    وَلَمَّا جَآءَهُمۡ كِتَٰبٞ مِّنۡ عِندِ ٱللَّهِ مُصَدِّقٞ لِّمَا مَعَهُمۡ وَكَانُواْ مِن قَبۡلُ يَسۡتَفۡتِحُونَ عَلَى ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ فَلَمَّا جَآءَهُم مَّا عَرَفُواْ كَفَرُواْ بِهِۦۚ فَلَعۡنَةُ ٱللَّهِ عَلَى ٱلۡكَٰفِرِينَ

    আর যখন আল্লাহর কাছ থেকে তাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারী কিতাব আসলো; অথচ পূর্বে তারা এর সাহায্যে কাফিরদের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করতো, তারপর যখন তাদের কাছে পরিচিত কিতাব আসল, তখন তারা এটিকে অস্বীকার করে বসলো। কাজেই কাফিরদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত।

  90. ৯০

    بِئۡسَمَا ٱشۡتَرَوۡاْ بِهِۦٓ أَنفُسَهُمۡ أَن يَكۡفُرُواْ بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ بَغۡيًا أَن يُنَزِّلَ ٱللَّهُ مِن فَضۡلِهِۦ عَلَىٰ مَن يَشَآءُ مِنۡ عِبَادِهِۦۖ فَبَآءُو بِغَضَبٍ عَلَىٰ غَضَبٖۚ وَلِلۡكَٰفِرِينَ عَذَابٞ مُّهِينٞ

    যার বিনিময়ে তারা তদের নিজেদেরকে বিক্রি করেছে তা কতই না নিকৃষ্ট! তা হচ্ছে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তারা তার সাথে হঠকারিতা বশত কুফরী করেছে, শুধু এজন্য যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা স্বীয় অনুগ্রহ নাযিল করেন। কাজেই তারা ক্রোধের উপর ক্রোধ অর্জন করেছে। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাময় শাস্তি।

  91. ৯১

    وَإِذَا قِيلَ لَهُمۡ ءَامِنُواْ بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ قَالُواْ نُؤۡمِنُ بِمَآ أُنزِلَ عَلَيۡنَا وَيَكۡفُرُونَ بِمَا وَرَآءَهُۥ وَهُوَ ٱلۡحَقُّ مُصَدِّقٗا لِّمَا مَعَهُمۡۗ قُلۡ فَلِمَ تَقۡتُلُونَ أَنۢبِيَآءَ ٱللَّهِ مِن قَبۡلُ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ

    আর যখন তাদেরকে বলা হয়: ‘আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তাতে ঈমান আনো।’ তারা বলে: ‘আমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে আমরা কেবল তাতেই ঈমান আনি।’ আর এর বাইরে যা নাযিল করা হয়েছে তার সবকিছুই তারা অস্বীকার করে; অথচ তা মহা সত্য এবং তাদের নিকট যা আছে তার সত্যায়নকারী। বলো: ‘তোমরা যদি মু’মিনই হয়ে থাকো, তবে কেন তোমরা ইতঃপূর্বে আল্লাহর নবীদেরকে হত্যা করেছিলে?’

  92. ৯২

    ۞ وَلَقَدۡ جَآءَكُم مُّوسَىٰ بِٱلۡبَيِّنَٰتِ ثُمَّ ٱتَّخَذۡتُمُ ٱلۡعِجۡلَ مِنۢ بَعۡدِهِۦ وَأَنتُمۡ ظَٰلِمُونَ

    অবশ্যই মূসা তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ এসেছিল। এরপরেও তোমরা তার অনুপস্থিতিতে গো বৎসকে গ্রহণ করেছিলে। বাস্তবিকই তোমরা যালিম।

  93. ৯৩

    وَإِذۡ أَخَذۡنَا مِيثَٰقَكُمۡ وَرَفَعۡنَا فَوۡقَكُمُ ٱلطُّورَ خُذُواْ مَآ ءَاتَيۡنَٰكُم بِقُوَّةٖ وَٱسۡمَعُواْۖ قَالُواْ سَمِعۡنَا وَعَصَيۡنَا وَأُشۡرِبُواْ فِي قُلُوبِهِمُ ٱلۡعِجۡلَ بِكُفۡرِهِمۡۚ قُلۡ بِئۡسَمَا يَأۡمُرُكُم بِهِۦٓ إِيمَٰنُكُمۡ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ

    (স্মরণ করো) যখন আমি তূর পাহাড়কে তোমাদের মাথার ওপর উঠিয়ে ধরে তোমাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম (এবং বলেছিলাম), ‘যা আমি তোমাদেরকে দিয়েছি তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং শোনো।’ তারা বলেছিল, ‘আমরা শুনলাম এবং অমান্য করলাম।’ আর তাদের কুফরীর কারণে তাদের অন্তরে গোবৎসের ভালোবাসা প্রবিষ্ট করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। (হে মুহাম্মদ!) বলো, ‘যদি তোমরা মুমিন হও, তবে তোমাদের ঈমান তোমাদেরকে যার নির্দেশ দেয়, তা কতই না নিকৃষ্ট!’

  94. ৯৪

    قُلۡ إِن كَانَتۡ لَكُمُ ٱلدَّارُ ٱلۡأٓخِرَةُ عِندَ ٱللَّهِ خَالِصَةٗ مِّن دُونِ ٱلنَّاسِ فَتَمَنَّوُاْ ٱلۡمَوۡتَ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ

    (হে মুহাম্মাদ,) বলো: ‘যদি আল্লাহর কাছে আখিরাতের বাসস্থান মানবজাতিকে বাদ দিয়ে শুধু তোমাদের জন্যেই নির্ধারিত হয়ে থাকে, তবে তোমরা (দ্রুত সেখানে যাওয়ার জন্যে) মৃত্যু কামনা করো, যদি তোমরা (তোমাদের দাবিতে) সত্যবাদী হয়ে থাকো।’

  95. ৯৫

    وَلَن يَتَمَنَّوۡهُ أَبَدَۢا بِمَا قَدَّمَتۡ أَيۡدِيهِمۡۚ وَٱللَّهُ عَلِيمُۢ بِٱلظَّٰلِمِينَ

    কিন্তু তাদের কৃতকর্মের কারণে কখনোই তারা তা কামনা করবে না। আর আল্লাহ যালিমদের সম্বন্ধে সম্যক অবহিত।

  96. ৯৬

    وَلَتَجِدَنَّهُمۡ أَحۡرَصَ ٱلنَّاسِ عَلَىٰ حَيَوٰةٖ وَمِنَ ٱلَّذِينَ أَشۡرَكُواْۚ يَوَدُّ أَحَدُهُمۡ لَوۡ يُعَمَّرُ أَلۡفَ سَنَةٖ وَمَا هُوَ بِمُزَحۡزِحِهِۦ مِنَ ٱلۡعَذَابِ أَن يُعَمَّرَۗ وَٱللَّهُ بَصِيرُۢ بِمَا يَعۡمَلُونَ

    আর (হে নবী,) তুমি অবশ্যই তাদেরকে জীবনের প্রতি অন্যসব মানুষের চেয়ে বেশি লোভী দেখতে পাবে, এমনকি মুশরিকদের চেয়েও। তাদের প্রত্যেকে আশা করে যদি তাকে হাজার বছর আয়ু দেয়া হত; অথচ দীর্ঘায়ু তাকে শাস্তি হতে নিষ্কৃতি দিতে পারবে না। তারা যা করে আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।

  97. ৯৭

    قُلۡ مَن كَانَ عَدُوّٗا لِّـجِبۡرِيلَ فَإِنَّهُۥ نَزَّلَهُۥ عَلَىٰ قَلۡبِكَ بِإِذۡنِ ٱللَّهِ مُصَدِّقٗا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيۡهِ وَهُدٗى وَبُشۡرَىٰ لِلۡمُؤۡمِنِينَ

    বলো: ‘যে কেউ জিবরীলের শত্রু হবে, শুধু এজন্যে যে, নিশ্চয় সে আল্লাহর হুকুমে তোমার হৃদয়ে কুরআন নাযিল করেছে, যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহেরও সত্যায়নকারী এবং মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদ।’

  98. ৯৮

    مَن كَانَ عَدُوّٗا لِّلَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَرُسُلِهِۦ وَجِبۡرِيلَ وَمِيكَىٰلَ فَإِنَّ ٱللَّهَ عَدُوّٞ لِّلۡكَٰفِرِينَ

    যে কেউ আল্লাহর, তাঁর ফিরিশতাগণের, তাঁর রাসূলগণের এবং জিব্‌রীল ও মীকাঈলের শত্রু হবে, (সে কাফির) নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের শত্রু।

  99. ৯৯

    وَلَقَدۡ أَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ ءَايَٰتِۭ بَيِّنَٰتٖۖ وَمَا يَكۡفُرُ بِهَآ إِلَّا ٱلۡفَٰسِقُونَ

    আর অবশ্যই আমি তোমার প্রতি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি। ফাসিকরা ছাড়া অন্য কেউ তা অস্বীকার করে না।

  100. ১০০

    أَوَكُلَّمَا عَٰهَدُواْ عَهۡدٗا نَّبَذَهُۥ فَرِيقٞ مِّنۡهُمۚ بَلۡ أَكۡثَرُهُمۡ لَا يُؤۡمِنُونَ

    তবে কি এমনই নয় যে, তারা যখনই কোনো অঙ্গীকার করেছে, তখনই তাদের একদল তা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে? বরং তাদের অধিকাংশই ঈমান আনে না।

  101. ১০১

    وَلَمَّا جَآءَهُمۡ رَسُولٞ مِّنۡ عِندِ ٱللَّهِ مُصَدِّقٞ لِّمَا مَعَهُمۡ نَبَذَ فَرِيقٞ مِّنَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ كِتَٰبَ ٱللَّهِ وَرَآءَ ظُهُورِهِمۡ كَأَنَّهُمۡ لَا يَعۡلَمُونَ

    আর যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের কাছে একজন রাসূল (মুহাম্মাদ) এলেন, তাদের কাছে যা রয়েছে তার সত্যায়নকারী হিসেবে, তখন যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের একদল আল্লাহর কিতাবকে তাদের পিঠের পেছনে ছুড়ে ফেলল, যেন তারা কিছুই জানে না।

  102. ১০২

    وَٱتَّبَعُواْ مَا تَتۡلُواْ ٱلشَّيَٰطِينُ عَلَىٰ مُلۡكِ سُلَيۡمَٰنَۖ وَمَا كَفَرَ سُلَيۡمَٰنُ وَلَٰكِنَّ ٱلشَّيَٰطِينَ كَفَرُواْ يُعَلِّمُونَ ٱلنَّاسَ ٱلسِّحۡرَ وَمَآ أُنزِلَ عَلَى ٱلۡمَلَكَيۡنِ بِبَابِلَ هَٰرُوتَ وَمَٰرُوتَۚ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنۡ أَحَدٍ حَتَّىٰ يَقُولَآ إِنَّمَا نَحۡنُ فِتۡنَةٞ فَلَا تَكۡفُرۡۖ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنۡهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِۦ بَيۡنَ ٱلۡمَرۡءِ وَزَوۡجِهِۦۚ وَمَا هُم بِضَآرِّينَ بِهِۦ مِنۡ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذۡنِ ٱللَّهِۚ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمۡ وَلَا يَنفَعُهُمۡۚ وَلَقَدۡ عَلِمُواْ لَمَنِ ٱشۡتَرَىٰهُ مَا لَهُۥ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنۡ خَلَٰقٖۚ وَلَبِئۡسَ مَا شَرَوۡاْ بِهِۦٓ أَنفُسَهُمۡۚ لَوۡ كَانُواْ يَعۡلَمُونَ

    পক্ষান্তরে তারা সুলায়মানের রাজত্বে শয়তানরা যা আবৃত্তি করতো তা অনুসরণ করত। আর সুলায়মান কুফরী করেনি; বরং শয়তানরাই কুফরী করেছিল। তারা মানুষকে শিক্ষা দিতো জাদুবিদ্যা ও যা বাবিল শহরে হারূত ও মারূত ফিরিশতাদ্বয়ের উপর নাযিল করা হয়েছিলো। তারা উভয়েই এই কথা না বলে কাউকে যাদু শিক্ষা দিতো না যে, ‘আমরা নিছক একটি পরীক্ষা; কাজেই তুমি কুফরী করো না।' তা সত্ত্বেও তারা ফিরিশতাদ্বয়ের কাছ থেকে এমন জাদু শিখতো যা দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতো। অথচ তারা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তা দ্বারা কারো ক্ষতি করতে পারতো না। আর তারা তা-ই শিখতো যা তাদের ক্ষতি করতো এবং কোন উপকারে আসত না। আর তারা নিশ্চিত জানে যে, যে কেউ তা খরিদ করে,তার জন্য আখিরাতে কোন অংশ নেই। তারা যার বিনিময়ে নিজেদের জীবনকে বিক্রি করে দিয়েছে , তা কতোইনা নিকৃষ্ট। হায় যদি তারা জানতো!

  103. ১০৩

    وَلَوۡ أَنَّهُمۡ ءَامَنُواْ وَٱتَّقَوۡاْ لَمَثُوبَةٞ مِّنۡ عِندِ ٱللَّهِ خَيۡرٞۚ لَّوۡ كَانُواْ يَعۡلَمُونَ

    আর যদি তারা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আল্লাহর নিকটের প্রতিদানই হতো উত্তম, যদি তারা জানত।

  104. ১০৪

    يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَقُولُواْ رَٰعِنَا وَقُولُواْ ٱنظُرۡنَا وَٱسۡمَعُواْۗ وَلِلۡكَٰفِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٞ

    হে মুমিনগণ! তোমরা ‘রা‘ইনা’ বলো না; বরং ‘উনযুরনা" বলো এবং শোনো। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

  105. ১০৫

    مَّا يَوَدُّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ وَلَا ٱلۡمُشۡرِكِينَ أَن يُنَزَّلَ عَلَيۡكُم مِّنۡ خَيۡرٖ مِّن رَّبِّكُمۡۚ وَٱللَّهُ يَخۡتَصُّ بِرَحۡمَتِهِۦ مَن يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ ذُو ٱلۡفَضۡلِ ٱلۡعَظِيمِ

    আহলে কিতাবের মধ্যে যারা কুফরী করেছে এবং মুশরিকরা চায় না যে, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর কোনো কল্যাণ নাযিল হোক। অথচ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজ রহমতের জন্য বিশেষভাবে মনোনীত করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী।

  106. ১০৬

    ۞ مَا نَنسَخۡ مِنۡ ءَايَةٍ أَوۡ نُنسِهَا نَأۡتِ بِخَيۡرٖ مِّنۡهَآ أَوۡ مِثۡلِهَآۗ أَلَمۡ تَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٌ

    আমি কোন আয়াত রহিত করলে বা ভুলিয়ে দিলে তা থেকে উত্তম অথবা তারই অনুরূপ কোন আয়াত নিয়ে আসি। তুমি কি জানো না যে, নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান!

  107. ১০৭

    أَلَمۡ تَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ لَهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۗ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ مِن وَلِيّٖ وَلَا نَصِيرٍ

    তুমি কি জানো না যে, আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব ও আধিপত্য একমাত্র আল্লাহর? আর আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সাহায্যকারীও নেই।

  108. ১০৮

    أَمۡ تُرِيدُونَ أَن تَسۡـَٔلُواْ رَسُولَكُمۡ كَمَا سُئِلَ مُوسَىٰ مِن قَبۡلُۗ وَمَن يَتَبَدَّلِ ٱلۡكُفۡرَ بِٱلۡإِيمَٰنِ فَقَدۡ ضَلَّ سَوَآءَ ٱلسَّبِيلِ

    (হে মু’মিনগণ) তোমরা কি তোমাদের রাসূলকে সেরূপ প্রশ্ন করতে চাও যে-রূপ প্রশ্ন ইতঃপূর্বে মূসাকে করা হয়েছিল? আর যে ঈমানকে কুফরের দ্বারা পরিবর্তন করবে, সে অবশ্যই সরল সোজা পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে।

  109. ১০৯

    وَدَّ كَثِيرٞ مِّنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ لَوۡ يَرُدُّونَكُم مِّنۢ بَعۡدِ إِيمَٰنِكُمۡ كُفَّارًا حَسَدٗا مِّنۡ عِندِ أَنفُسِهِم مِّنۢ بَعۡدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ ٱلۡحَقُّۖ فَٱعۡفُواْ وَٱصۡفَحُواْ حَتَّىٰ يَأۡتِيَ ٱللَّهُ بِأَمۡرِهِۦٓۗ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ

    আহলে কিতাবের অনেকেই চায়, যদি তারা তোমাদেরকে ঈমান আনার পর কুফুরীতে ফিরিয়ে নিতে পারত! সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও তাদের নিজেদের পক্ষ থেকে বিদ্বেষবশতঃ। অতএব, তোমরা ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা কর যতক্ষণ না আল্লাহ্‌ তার কোন নির্দেশ দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

  110. ১১০

    وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَۚ وَمَا تُقَدِّمُواْ لِأَنفُسِكُم مِّنۡ خَيۡرٖ تَجِدُوهُ عِندَ ٱللَّهِۗ إِنَّ ٱللَّهَ بِمَا تَعۡمَلُونَ بَصِيرٞ

    আর তোমরা সালাত কায়িম করো ও যাকাত প্রদান করো। তোমরা নিজেদের জন্য যে নেক আমল অগ্রিম পাঠাবে, তা অবশ্যই আল্লাহর কাছে পাবে। নিশ্চয় তোমরা যা করছো আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।

  111. ১১১

    وَقَالُواْ لَن يَدۡخُلَ ٱلۡجَنَّةَ إِلَّا مَن كَانَ هُودًا أَوۡ نَصَٰرَىٰۗ تِلۡكَ أَمَانِيُّهُمۡۗ قُلۡ هَاتُواْ بُرۡهَٰنَكُمۡ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ

    আর তারা বলে: ‘ইয়াহূদী অথবা খৃস্টান ছাড়া অন্য কেউ কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ এটা তাদের মিথ্যা আশা মাত্র। (হে রাসূল) তাদেরকে বলো: ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে তোমাদের দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করো।’

  112. ১১২

    بَلَىٰۚ مَنۡ أَسۡلَمَ وَجۡهَهُۥ لِلَّهِ وَهُوَ مُحۡسِنٞ فَلَهُۥٓ أَجۡرُهُۥ عِندَ رَبِّهِۦ وَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ

    হ্যাঁ, (সে-ই জান্নাতে প্রবেশ করবে), যে আল্লাহর কাছে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ করেছে এবং সে সৎকর্মশীল। তার প্রতিদান তার রবের কাছে রয়েছে। আর তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।

  113. ১১৩

    وَقَالَتِ ٱلۡيَهُودُ لَيۡسَتِ ٱلنَّصَٰرَىٰ عَلَىٰ شَيۡءٖ وَقَالَتِ ٱلنَّصَٰرَىٰ لَيۡسَتِ ٱلۡيَهُودُ عَلَىٰ شَيۡءٖ وَهُمۡ يَتۡلُونَ ٱلۡكِتَٰبَۗ كَذَٰلِكَ قَالَ ٱلَّذِينَ لَا يَعۡلَمُونَ مِثۡلَ قَوۡلِهِمۡۚ فَٱللَّهُ يَحۡكُمُ بَيۡنَهُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ فِيمَا كَانُواْ فِيهِ يَخۡتَلِفُونَ

    আর ইয়াহূদীরা বলে, ‘খ্রিস্টানরা কোনো ভিত্তির (সত্য দীনের) ওপর নেই।’ আর খ্রিস্টানরা বলে, ‘ইয়াহূদীরা কোনো ভিত্তির (সত্য দীনের) ওপর নেই’; অথচ তারা কিতাব পাঠ করে। এভাবেই যারা কিছুই জানে না, তারাও তাদের মতো একই কথা বলে। সুতরাং যে বিষয়ে তারা মতভেদ করত, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের মধ্যে সে বিষয়ে মীমাংসা করবেন।

  114. ১১৪

    وَمَنۡ أَظۡلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَٰجِدَ ٱللَّهِ أَن يُذۡكَرَ فِيهَا ٱسۡمُهُۥ وَسَعَىٰ فِي خَرَابِهَآۚ أُوْلَٰٓئِكَ مَا كَانَ لَهُمۡ أَن يَدۡخُلُوهَآ إِلَّا خَآئِفِينَۚ لَهُمۡ فِي ٱلدُّنۡيَا خِزۡيٞ وَلَهُمۡ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٞ

    আর তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে, যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করে! অথচ ভীত-সন্ত্রস্ত হওয়া ছাড়া তাদের সেখানে প্রবেশ করার অধিকার ছিল না। দুনিয়াতে তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা এবং আখিরাতে রয়েছে মহাশাস্তি।

  115. ১১৫

    وَلِلَّهِ ٱلۡمَشۡرِقُ وَٱلۡمَغۡرِبُۚ فَأَيۡنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجۡهُ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ وَٰسِعٌ عَلِيمٞ

    আর পূর্ব-পশ্চিম (ও এর মধ্যকার যা কিছু আছে) সবকিছুরই মালিক আল্লাহ। সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাও না কেন, সেদিকই আল্লাহর দিক। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।

  116. ১১৬

    وَقَالُواْ ٱتَّخَذَ ٱللَّهُ وَلَدٗاۗ سُبۡحَٰنَهُۥۖ بَل لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ كُلّٞ لَّهُۥ قَٰنِتُونَ

    আর তারা (ইয়াহূদী, খৃস্টান ও মুশরিকরা) বলে: ‘আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি (এ অপবাদ থেকে) অতি পবিত্র। বরং আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর। সবাই একান্তভাবে তাঁরই অনুগত।

  117. ১১৭

    بَدِيعُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ وَإِذَا قَضَىٰٓ أَمۡرٗا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ

    তিনিই আসমানসমূহ ও জমিনের (পূর্ব নমুনা বিহীন) স্রষ্টা-উদ্ভাবক। আর তিনি যখন কোন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তার জন্য শুধু বলেন: ‘হও’, আর তা সাথে সাথেই হয়ে যায়।

  118. ১১৮

    وَقَالَ ٱلَّذِينَ لَا يَعۡلَمُونَ لَوۡلَا يُكَلِّمُنَا ٱللَّهُ أَوۡ تَأۡتِينَآ ءَايَةٞۗ كَذَٰلِكَ قَالَ ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِهِم مِّثۡلَ قَوۡلِهِمۡۘ تَشَٰبَهَتۡ قُلُوبُهُمۡۗ قَدۡ بَيَّنَّا ٱلۡأٓيَٰتِ لِقَوۡمٖ يُوقِنُونَ

    আর যারা কিছু জানে না তারা বলে: ‘আল্লাহ আমাদের সাথে কথা বলেন না কেন? অথবা আমাদের কাছে কোন নিদর্শন কেন আসে না?’ এভাবে তাদের পূর্ববর্তী তাদের মতো কথা বলতো। তাদের সকলের অন্তর একই রকম। অবশ্যই আমি নিদর্শনসমূহকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি, সেসব লোকদের জন্য, যারা দৃঢ়বিশ্বাস রাখে।

  119. ১১৯

    إِنَّآ أَرۡسَلۡنَٰكَ بِٱلۡحَقِّ بَشِيرٗا وَنَذِيرٗاۖ وَلَا تُسۡـَٔلُ عَنۡ أَصۡحَٰبِ ٱلۡجَحِيمِ

    (হে মুহাম্মদ) নিশ্চয় আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সত্য দীনসহ, (জান্নাতের) সুসংবাদদাতা ও (জাহান্নামের) সতর্ককারীরূপে। আর জাহান্নামীদের সম্পর্কে তোমাকে কোন প্রশ্ন করা হবে না।

  120. ১২০

    وَلَن تَرۡضَىٰ عَنكَ ٱلۡيَهُودُ وَلَا ٱلنَّصَٰرَىٰ حَتَّىٰ تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمۡۗ قُلۡ إِنَّ هُدَى ٱللَّهِ هُوَ ٱلۡهُدَىٰۗ وَلَئِنِ ٱتَّبَعۡتَ أَهۡوَآءَهُم بَعۡدَ ٱلَّذِي جَآءَكَ مِنَ ٱلۡعِلۡمِ مَا لَكَ مِنَ ٱللَّهِ مِن وَلِيّٖ وَلَا نَصِيرٍ

    আর ইয়াহূদী ও খৃস্টানরা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না; যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন। বলো: ‘নিশ্চয় আল্লাহর হিদায়াতই প্রকৃত হিদায়াত।’ আর তোমার কাছে জ্ঞান আসার পরেও তুমি যদি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার কোন অভিভাবক থাকবে না এবং থাকবে না কোন সাহায্যকারীও।

  121. ১২১

    ٱلَّذِينَ ءَاتَيۡنَٰهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ يَتۡلُونَهُۥ حَقَّ تِلَاوَتِهِۦٓ أُوْلَٰٓئِكَ يُؤۡمِنُونَ بِهِۦۗ وَمَن يَكۡفُرۡ بِهِۦ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡخَٰسِرُونَ

    যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তাদের মধ্যে যারা যথাযথভাবে তা তিলাওয়াত করে, তারাই মূলত এর প্রতি ঈমান আনে। আর যারা একে (আল-কুরআনকে) অস্বীকার করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

  122. ১২২

    يَٰبَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ ٱذۡكُرُواْ نِعۡمَتِيَ ٱلَّتِيٓ أَنۡعَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ وَأَنِّي فَضَّلۡتُكُمۡ عَلَى ٱلۡعَٰلَمِينَ

    হে বানূ ইসরাঈল! আমার সে নি‘আমাতের কথা স্মরণ করো যা আমি তোমাদেরকে দান করেছিলাম। আর নিশ্চয় আমি সমগ্র বিশ্ববাসীর ওপর তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম।

  123. ১২৩

    وَٱتَّقُواْ يَوۡمٗا لَّا تَجۡزِي نَفۡسٌ عَن نَّفۡسٖ شَيۡـٔٗا وَلَا يُقۡبَلُ مِنۡهَا عَدۡلٞ وَلَا تَنفَعُهَا شَفَٰعَةٞ وَلَا هُمۡ يُنصَرُونَ

    আর তোমরা ভয় কর সেদিনকে, যেদিন কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তির কোনো কাজে আসবে না। কারো কাছ থেকে কোনো বিনিময় গ্রহণ করা হবে না এবং কোনো সুপারিশও তার কোনো উপকারে আসবে না। আর তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।

  124. ১২৪

    ۞ وَإِذِ ٱبۡتَلَىٰٓ إِبۡرَٰهِـۧمَ رَبُّهُۥ بِكَلِمَٰتٖ فَأَتَمَّهُنَّۖ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامٗاۖ قَالَ وَمِن ذُرِّيَّتِيۖ قَالَ لَا يَنَالُ عَهۡدِي ٱلظَّٰلِمِينَ

    (আর স্মরণ করুন), যখন ইবরাহীমকে তাঁর রব কয়েকটি বাণী (বিধান) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন। অতঃপর তিনি সেগুলো পূর্ণ করেছিলেন। তিনি বললেন, ‘নিশ্চয় আমি তোমাকে মানুষের ইমাম বানাবো।’ সে বলল, ‘আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও?’ তিনি বললেন, ‘আমার প্রতিশ্রুতি যালিমদের কাছে পৌঁছাবে না।’

  125. ১২৫

    وَإِذۡ جَعَلۡنَا ٱلۡبَيۡتَ مَثَابَةٗ لِّلنَّاسِ وَأَمۡنٗا وَٱتَّخِذُواْ مِن مَّقَامِ إِبۡرَٰهِـۧمَ مُصَلّٗىۖ وَعَهِدۡنَآ إِلَىٰٓ إِبۡرَٰهِـۧمَ وَإِسۡمَٰعِيلَ أَن طَهِّرَا بَيۡتِيَ لِلطَّآئِفِينَ وَٱلۡعَٰكِفِينَ وَٱلرُّكَّعِ ٱلسُّجُودِ

    (আর স্মরণ করো) যখন আমি কা‘বা ঘরকে মানবজাতির মিলনকেন্দ্র ও নিরাপত্তাস্থল করেছিলাম এবং বলেছিলাম: ‘তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান হিসাবে গ্রহণ করো। আর আমি ইবরাহীম ও ইসমা’ঈলকে আদেশ দিয়েছিলাম: ‘তোমরা দুজন আমার (কা‘বা) ঘরকে তাওয়াফকারী, ই’তিকাফকারী, রুকূ‘ ও সাজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখবে ।’

  126. ১২৬

    وَإِذۡ قَالَ إِبۡرَٰهِـۧمُ رَبِّ ٱجۡعَلۡ هَٰذَا بَلَدًا ءَامِنٗا وَٱرۡزُقۡ أَهۡلَهُۥ مِنَ ٱلثَّمَرَٰتِ مَنۡ ءَامَنَ مِنۡهُم بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۚ قَالَ وَمَن كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُۥ قَلِيلٗا ثُمَّ أَضۡطَرُّهُۥٓ إِلَىٰ عَذَابِ ٱلنَّارِۖ وَبِئۡسَ ٱلۡمَصِيرُ

    (আর স্মরণ করো) যখন ইবরাহীম বলেছিলেন, ‘হে আমার রব! এ নগরকে নিরাপদ নগরে পরিণত করুন এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনে, তাদেরকে ফলমূল থেকে জীবিকা দান করুন।’ তিনি বললেন, ‘আর যে কুফরি করবে, তাকেও কিছু কালের জন্য ভোগের সুযোগ দেব। তারপর তাকে আগুনের শাস্তি ভোগ করতে বাধ্য করব। আর তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল!’

  127. ১২৭

    وَإِذۡ يَرۡفَعُ إِبۡرَٰهِـۧمُ ٱلۡقَوَاعِدَ مِنَ ٱلۡبَيۡتِ وَإِسۡمَٰعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلۡ مِنَّآۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ

    (আর স্মরণ করো) যখন ইবরাহীম ও ইসমা‘ঈল কা‘বা ঘরের ভিত্তি স্থাপন করেছিলো, তখন (তারা বলছিলো): ‘হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’

  128. ১২৮

    رَبَّنَا وَٱجۡعَلۡنَا مُسۡلِمَيۡنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَآ أُمَّةٗ مُّسۡلِمَةٗ لَّكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبۡ عَلَيۡنَآۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ

    ‘হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে আপনার এক অনুগত জাতি সৃষ্টি করুন। আর আমাদেরকে আমাদের ইবাদাতের বিধি-বিধান দেখিয়ে দিন এবং আমাদের তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনিই তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’

  129. ১২৯

    رَبَّنَا وَٱبۡعَثۡ فِيهِمۡ رَسُولٗا مِّنۡهُمۡ يَتۡلُواْ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَيُزَكِّيهِمۡۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ

    ‘হে আমাদের রাব! আর আপনি তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠান, যিনি আপনার আয়াতসমূহ তাদের কাছে তিলাওয়াত করে শোনাবেন ; তাদেরকে (আল্লাহর) কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবেন এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

  130. ১৩০

    وَمَن يَرۡغَبُ عَن مِّلَّةِ إِبۡرَٰهِـۧمَ إِلَّا مَن سَفِهَ نَفۡسَهُۥۚ وَلَقَدِ ٱصۡطَفَيۡنَٰهُ فِي ٱلدُّنۡيَاۖ وَإِنَّهُۥ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ لَمِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ

    আর যে নিজেকে বোকা-নির্বোধ বানিয়েছে, সে ব্যতীত ইব্রাহীম এর মিল্লাত হতে আর কে বিমুখ হবে! দুনিয়াতে আমি তাকে মনোনীত করেছি ; আর আখিরাতেও সে হবে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।

  131. ১৩১

    إِذۡ قَالَ لَهُۥ رَبُّهُۥٓ أَسۡلِمۡۖ قَالَ أَسۡلَمۡتُ لِرَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ

    (স্মরণ করো) যখন তাঁর রব তাঁকে বলেছিলেন: ‘আত্মসমর্পণ করো।’ সে বলেছিলো: ‘আমি সৃষ্টিকুলের রবের কাছে আত্মসমর্পণ করলাম।’

  132. ১৩২

    وَوَصَّىٰ بِهَآ إِبۡرَٰهِـۧمُ بَنِيهِ وَيَعۡقُوبُ يَٰبَنِيَّ إِنَّ ٱللَّهَ ٱصۡطَفَىٰ لَكُمُ ٱلدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسۡلِمُونَ

    আর ইবরাহীম ও ইয়া‘কূব তাঁদের পুত্রদেরকে এ (দীনেরই) নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘হে আমার পুত্রগণ! নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ দীনকে মনোনীত করেছেন। কাজেই তোমরা মুসলিম না হয়ে কখনো মারা যেয়ো না।’

  133. ১৩৩

    أَمۡ كُنتُمۡ شُهَدَآءَ إِذۡ حَضَرَ يَعۡقُوبَ ٱلۡمَوۡتُ إِذۡ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعۡبُدُونَ مِنۢ بَعۡدِيۖ قَالُواْ نَعۡبُدُ إِلَٰهَكَ وَإِلَٰهَ ءَابَآئِكَ إِبۡرَٰهِـۧمَ وَإِسۡمَٰعِيلَ وَإِسۡحَٰقَ إِلَٰهٗا وَٰحِدٗا وَنَحۡنُ لَهُۥ مُسۡلِمُونَ

    নাকি তোমরা সাক্ষী ছিলে, যখন ইয়াকুবের নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়েছিল? যখন তিনি তাঁর সন্তানদের বলেছিলেন, ‘আমার পরে তোমরা কার ‘ইবাদাত করবে?’ তারা বলেছিল, ‘আমরা আপনার ইলাহ এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের ইলাহর ‘ইবাদাত করব, যিনি একমাত্র ইলাহ। আর আমরা তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)।’

  134. ১৩৪

    تِلۡكَ أُمَّةٞ قَدۡ خَلَتۡۖ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَلَكُم مَّا كَسَبۡتُمۡۖ وَلَا تُسۡـَٔلُونَ عَمَّا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ

    সেটি ছিল এমন এক উম্মাহ, যারা অতীত হয়ে গেছে। তারা যা অর্জন করেছে, তা তাদেরই জন্য; আর তোমরা যা অর্জন করেছ, তা তোমাদেরই জন্য। তারা যা করত, সে সম্পর্কে তোমাদেরকে কোনো প্রশ্ন করা হবে না।

  135. ১৩৫

    وَقَالُواْ كُونُواْ هُودًا أَوۡ نَصَٰرَىٰ تَهۡتَدُواْۗ قُلۡ بَلۡ مِلَّةَ إِبۡرَٰهِـۧمَ حَنِيفٗاۖ وَمَا كَانَ مِنَ ٱلۡمُشۡرِكِينَ

    আর তারা বলে: ‘তোমরা ইয়াহূদী অথবা খৃস্টান হয়ে যাও, হিদায়াত পাবে।’ (হে মুহাম্মাদ) তুমি বলো: ‘বরং আমরা ইবরাহীমের মিল্লাত অনুসরণ করি, যে ছিল একনিষ্ঠ এবং যে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।’

  136. ১৩৬

    قُولُوٓاْ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيۡنَا وَمَآ أُنزِلَ إِلَىٰٓ إِبۡرَٰهِـۧمَ وَإِسۡمَٰعِيلَ وَإِسۡحَٰقَ وَيَعۡقُوبَ وَٱلۡأَسۡبَاطِ وَمَآ أُوتِيَ مُوسَىٰ وَعِيسَىٰ وَمَآ أُوتِيَ ٱلنَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمۡ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّنۡهُمۡ وَنَحۡنُ لَهُۥ مُسۡلِمُونَ

    (হে মুসলিমগণ!) তোমরা বলো, ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে, যা নাযিল করা হয়েছে ইবরাহীম, ইসমা'ঈল, ইসহাক, ইয়া'কূব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি এবং যা প্রদান করা হয়েছে মূসা ও ঈসাকে, আর যা তাদের রবের পক্ষ থেকে নবীগণকে প্রদান করা হয়েছে। আমরা তাদের কারো মধ্যে কোনো তারতম্য করি না। আর আমরা তাঁরই প্রতি আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)।’

  137. ১৩৭

    فَإِنۡ ءَامَنُواْ بِمِثۡلِ مَآ ءَامَنتُم بِهِۦ فَقَدِ ٱهۡتَدَواْۖ وَّإِن تَوَلَّوۡاْ فَإِنَّمَا هُمۡ فِي شِقَاقٖۖ فَسَيَكۡفِيكَهُمُ ٱللَّهُۚ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ

    অতএব তোমরা (মুসলিমরা) যেরূপ ঈমান এনেছো, তারাও যদি সেরূপ ঈমান আনে, তবে নিশ্চয় তারা হিদায়াত (সঠিক পথ) পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে অবশ্যই তারা বিরোধিতায় লিপ্ত। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।

  138. ১৩৮

    صِبۡغَةَ ٱللَّهِ وَمَنۡ أَحۡسَنُ مِنَ ٱللَّهِ صِبۡغَةٗۖ وَنَحۡنُ لَهُۥ عَٰبِدُونَ

    আল্লাহর রঙ গ্রহণ করো। আর আল্লাহর রঙের চেয়ে অধিকতর সুন্দর রঙ আর কার হতে পারে? আর আমরা তো তাঁরই ইবাদাতকারী।

  139. ১৩৯

    قُلۡ أَتُحَآجُّونَنَا فِي ٱللَّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمۡ وَلَنَآ أَعۡمَٰلُنَا وَلَكُمۡ أَعۡمَٰلُكُمۡ وَنَحۡنُ لَهُۥ مُخۡلِصُونَ

    (হে নবী, তুমি তাদেরকে) বলো: 'আল্লাহ সম্পর্কে তোমরা কি আমাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতে চাও? অথচ তিনি আমাদের রাব এবং তোমাদেরও রাব! আর আমাদের জন্য আমাদের ‘আমল এবং তোমাদের জন্য রয়েছে তোমাদের ‘আমলসমূহ। আর আমরা তাঁরই প্রতি একনিষ্ঠ।’

  140. ১৪০

    أَمۡ تَقُولُونَ إِنَّ إِبۡرَٰهِـۧمَ وَإِسۡمَٰعِيلَ وَإِسۡحَٰقَ وَيَعۡقُوبَ وَٱلۡأَسۡبَاطَ كَانُواْ هُودًا أَوۡ نَصَٰرَىٰۗ قُلۡ ءَأَنتُمۡ أَعۡلَمُ أَمِ ٱللَّهُۗ وَمَنۡ أَظۡلَمُ مِمَّن كَتَمَ شَهَٰدَةً عِندَهُۥ مِنَ ٱللَّهِۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُونَ

    নাকি তোমরা বলতে চাও যে, ‘অবশ্যই ইবরাহীম, ইসমা‘ঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরগণ ইয়াহূদী বা খৃস্টান ছিলো?’ (হে মুহাম্মাদ,) তুমি বলো: ‘তোমরা কি বেশি জানো, না আল্লাহ?’ আর তার চেয়ে বেশি যালিম আর কে হতে পারে, যার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাক্ষ্য-প্রমাণ বর্তমান থাকা সত্ত্বেও সে তা গোপন করে? আর তোমরা যা করছো, তা থেকে আল্লাহ অমনোযোগী নন।

  141. ১৪১

    تِلۡكَ أُمَّةٞ قَدۡ خَلَتۡۖ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَلَكُم مَّا كَسَبۡتُمۡۖ وَلَا تُسۡـَٔلُونَ عَمَّا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ

    সেটি ছিল এমন এক উম্মাহ, যারা অতীত হয়ে গেছে। তারা যা অর্জন করেছে, তা তাদেরই জন্য; আর তোমরা যা অর্জন করেছ, তা তোমাদেরই জন্য। তারা যা করত, সে সম্পর্কে তোমাদেরকে কোনো প্রশ্ন করা হবে না।

  142. ১৪২

    ۞ سَيَقُولُ ٱلسُّفَهَآءُ مِنَ ٱلنَّاسِ مَا وَلَّىٰهُمۡ عَن قِبۡلَتِهِمُ ٱلَّتِي كَانُواْ عَلَيۡهَاۚ قُل لِّلَّهِ ٱلۡمَشۡرِقُ وَٱلۡمَغۡرِبُۚ يَهۡدِي مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٖ

    অচিরেই মানুষের মধ্য হতে কিছু মূর্খ- নির্বোধরা (১) বলবে: কীসে তাদেরকে তাদের কিবলা থেকে ফিরিয়ে দিলো, যে কিবলার তারা এ যাবত অনুসরণ করে আসছিল? (হে মুহাম্মদ,) বলো: ‘পূর্ব ও পশ্চিমের মালিক আল্লাহ-ই। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে সরল-সঠিক পথের হিদায়াত দান করেন।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  143. ১৪৩

    وَكَذَٰلِكَ جَعَلۡنَٰكُمۡ أُمَّةٗ وَسَطٗا لِّتَكُونُواْ شُهَدَآءَ عَلَى ٱلنَّاسِ وَيَكُونَ ٱلرَّسُولُ عَلَيۡكُمۡ شَهِيدٗاۗ وَمَا جَعَلۡنَا ٱلۡقِبۡلَةَ ٱلَّتِي كُنتَ عَلَيۡهَآ إِلَّا لِنَعۡلَمَ مَن يَتَّبِعُ ٱلرَّسُولَ مِمَّن يَنقَلِبُ عَلَىٰ عَقِبَيۡهِۚ وَإِن كَانَتۡ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى ٱلَّذِينَ هَدَى ٱللَّهُۗ وَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَٰنَكُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ بِٱلنَّاسِ لَرَءُوفٞ رَّحِيمٞ

    আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে একটি মধ্যপন্থী উম্মাহ(১) বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানবজাতির ওপর সাক্ষী হতে পার এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন। আর তুমি যে কিবলার ওপর ছিলে, তা আমি এ উদ্দেশ্যেই নির্ধারণ করেছিলাম, যাতে আমি জানতে পারি, কে রাসূলের অনুসরণ করে এবং কে পশ্চাদপসরণ করে। আর এটি আল্লাহ যাদেরকে হিদায়াত করেছেন তারা ছাড়া অন্যদের জন্য অবশ্যই অত্যন্ত কঠিন ছিল। আর আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন।(২) নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  144. ১৪৪

    قَدۡ نَرَىٰ تَقَلُّبَ وَجۡهِكَ فِي ٱلسَّمَآءِۖ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبۡلَةٗ تَرۡضَىٰهَاۚ فَوَلِّ وَجۡهَكَ شَطۡرَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِۚ وَحَيۡثُ مَا كُنتُمۡ فَوَلُّواْ وُجُوهَكُمۡ شَطۡرَهُۥۗ وَإِنَّ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ لَيَعۡلَمُونَ أَنَّهُ ٱلۡحَقُّ مِن رَّبِّهِمۡۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا يَعۡمَلُونَ

    অবশ্যই আমি তোমার বারবার আকাশের দিকে মুখ ফিরানো লক্ষ্য করেছি। সুতরাং অবশ্যই আমি তোমাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব, যা তুমি পছন্দ কর। অতএব তুমি মাসজিদুল হারামের দিকে তোমার চেহারা ফিরাও। আর তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের চেহারা তার দিকেই ফিরাও। আর নিশ্চয় যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে, তারা অবশ্যই জানে যে, এটি তাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য। আর তারা যা করে, সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফিল নন।

  145. ১৪৫

    وَلَئِنۡ أَتَيۡتَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ بِكُلِّ ءَايَةٖ مَّا تَبِعُواْ قِبۡلَتَكَۚ وَمَآ أَنتَ بِتَابِعٖ قِبۡلَتَهُمۡۚ وَمَا بَعۡضُهُم بِتَابِعٖ قِبۡلَةَ بَعۡضٖۚ وَلَئِنِ ٱتَّبَعۡتَ أَهۡوَآءَهُم مِّنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَكَ مِنَ ٱلۡعِلۡمِ إِنَّكَ إِذٗا لَّمِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ

    আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে, তাদের কাছে আপনি যদি সব দলিল-প্রমাণও নিয়ে আসেন, তবুও তারা আপনার কিবলার অনুসরণ করবে না। আর আপনিও তাদের কিবলার অনুসারী নন। আর তারাও পরস্পরের কিবলার অনুসারী নয়। আর আপনার কাছে সত্য-জ্ঞান আসার পরও যদি আপনি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনি তখন যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।

  146. ১৪৬

    ٱلَّذِينَ ءَاتَيۡنَٰهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ يَعۡرِفُونَهُۥ كَمَا يَعۡرِفُونَ أَبۡنَآءَهُمۡۖ وَإِنَّ فَرِيقٗا مِّنۡهُمۡ لَيَكۡتُمُونَ ٱلۡحَقَّ وَهُمۡ يَعۡلَمُونَ

    আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে(১) ঠিক সেভাবেই চিনে, যেভাবে নিজেদের সন্তানদেরকে চিনে। আর নিশ্চয় তাদের একদল জেনে-বুঝেই সত্য গোপন করে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  147. ১৪৭

    ٱلۡحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡمُمۡتَرِينَ

    এটাই সত্য, যা তোমার রব-এর কাছ থেকে এসেছে। কাজেই তুমি কখনোই সন্দিহানদের অন্তর্ভুক্ত হইও না।

  148. ১৪৮

    وَلِكُلّٖ وِجۡهَةٌ هُوَ مُوَلِّيهَاۖ فَٱسۡتَبِقُواْ ٱلۡخَيۡرَٰتِۚ أَيۡنَ مَا تَكُونُواْ يَأۡتِ بِكُمُ ٱللَّهُ جَمِيعًاۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ

    আর প্রত্যেকেরই একটি দিক রয়েছে, যে দিকে সে (ইবাদতে) মুখ ফিরায়। অতএব তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করো। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, আল্লাহ তোমাদের সবাইকে (কিয়ামতের দিন) একত্রিত করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

  149. ১৪৯

    وَمِنۡ حَيۡثُ خَرَجۡتَ فَوَلِّ وَجۡهَكَ شَطۡرَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِۖ وَإِنَّهُۥ لَلۡحَقُّ مِن رَّبِّكَۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُونَ

    আর যে স্থান থেকেই তুমি বের হও না কেন, সেখান থেকেই মসজিদুল হারামের দিকে তোমার চেহারা ফিরাও। নিশ্চয় এটি তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য। আর তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আল্লাহ মোটেই গাফিল নন।

  150. ১৫০

    وَمِنۡ حَيۡثُ خَرَجۡتَ فَوَلِّ وَجۡهَكَ شَطۡرَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِۚ وَحَيۡثُ مَا كُنتُمۡ فَوَلُّواْ وُجُوهَكُمۡ شَطۡرَهُۥ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَيۡكُمۡ حُجَّةٌ إِلَّا ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ مِنۡهُمۡ فَلَا تَخۡشَوۡهُمۡ وَٱخۡشَوۡنِي وَلِأُتِمَّ نِعۡمَتِي عَلَيۡكُمۡ وَلَعَلَّكُمۡ تَهۡتَدُونَ

    আর যেখান থেকেই তুমি যাত্রা কর না কেন, সেখান থেকেই (সালাত আদায়ের সময়) মসজিদুল হারামের দিকে তোমার চেহারা ফিরাও এবং (হে মু’মিনগণ!) তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তার দিকেই তোমাদের চেহারা ফিরাও; যাতে তাদের মধ্যে যালিম ছাড়া অন্যদের তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো যুক্তি না থাকে। কাজেই তোমরা তাদেরকে ভয় করো না এবং আমাকেই ভয় করো। আর যাতে(১) আমি তোমাদের উপর আমার নি‘আমত পরিপূর্ণ করে দিতে পারি এবং যাতে তোমরা হিদায়াত লাভ করতে পারো।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  151. ১৫১

    كَمَآ أَرۡسَلۡنَا فِيكُمۡ رَسُولٗا مِّنكُمۡ يَتۡلُواْ عَلَيۡكُمۡ ءَايَٰتِنَا وَيُزَكِّيكُمۡ وَيُعَلِّمُكُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَيُعَلِّمُكُم مَّا لَمۡ تَكُونُواْ تَعۡلَمُونَ

    যেভাবে(১) (আরেকটি নি‘আমতস্বরূপ) আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের মাঝে একজন রাসূল পাঠিয়েছি, যে তোমাদের কাছে আমাদের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে, তোমাদেরকে পরিশুদ্ধ করে এবং কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেয। আর তোমাদেরকে শিক্ষা দেয় সেসব বিষয় যা তোমরা জানতে না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  152. ১৫২

    فَٱذۡكُرُونِيٓ أَذۡكُرۡكُمۡ وَٱشۡكُرُواْ لِي وَلَا تَكۡفُرُونِ

    কাজেই (এসব অনুগ্রহের জন্য) তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করবো। আর আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না।

  153. ১৫৩

    يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسۡتَعِينُواْ بِٱلصَّبۡرِ وَٱلصَّلَوٰةِۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ

    হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গেই আছেন।

  154. ১৫৪

    وَلَا تَقُولُواْ لِمَن يُقۡتَلُ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ أَمۡوَٰتُۢۚ بَلۡ أَحۡيَآءٞ وَلَٰكِن لَّا تَشۡعُرُونَ

    আর তোমরা যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদেরকে মৃত বলো না; বরং তারা জীবিত; কিন্তু তোমরা তা বুঝতে পারো না।

  155. ১৫৫

    وَلَنَبۡلُوَنَّكُم بِشَيۡءٖ مِّنَ ٱلۡخَوۡفِ وَٱلۡجُوعِ وَنَقۡصٖ مِّنَ ٱلۡأَمۡوَٰلِ وَٱلۡأَنفُسِ وَٱلثَّمَرَٰتِۗ وَبَشِّرِ ٱلصَّٰبِرِينَ

    আমি তোমাদেরকে অবশ্যই পরীক্ষা করবো কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। আর তুমি ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দাও।

  156. ১৫৬

    ٱلَّذِينَ إِذَآ أَصَٰبَتۡهُم مُّصِيبَةٞ قَالُوٓاْ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّآ إِلَيۡهِ رَٰجِعُونَ

    যারা বিপদ-মুসিবতে আক্রান্ত হলে বলে: ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজি্ঊন (‘নিশ্চয় আমরা তো আল্লাহরই এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী)।

  157. ১৫৭

    أُوْلَٰٓئِكَ عَلَيۡهِمۡ صَلَوَٰتٞ مِّن رَّبِّهِمۡ وَرَحۡمَةٞۖ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُهۡتَدُونَ

    এরা সেই সব লোক, যাদের প্রতি তাদের রব-এর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ এবং অপার করুণা বর্ষিত হতে থাকে। আর তারাই (তাঁর পক্ষ থেকে) হিদায়াতপ্রাপ্ত।

  158. ১৫৮

    ۞ إِنَّ ٱلصَّفَا وَٱلۡمَرۡوَةَ مِن شَعَآئِرِ ٱللَّهِۖ فَمَنۡ حَجَّ ٱلۡبَيۡتَ أَوِ ٱعۡتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيۡهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَاۚ وَمَن تَطَوَّعَ خَيۡرٗا فَإِنَّ ٱللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ

    নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া (পাহাড়) আল্লাহর নিদর্শনসমূহের(১) অন্তর্ভুক্ত। কাজেই যে কেউ (কা’বা) ঘরের হজ্জ বা “উমরা আদায় করবে, তার জন্য এ দু'টির মধ্যে সা‘ঈ (২) করলে কোন পাপ নেই। আর যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোন সৎকাজ করবে, নিশ্চয় আল্লাহ উত্তম পুরস্কারদাতা, সর্বজ্ঞ।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  159. ১৫৯

    إِنَّ ٱلَّذِينَ يَكۡتُمُونَ مَآ أَنزَلۡنَا مِنَ ٱلۡبَيِّنَٰتِ وَٱلۡهُدَىٰ مِنۢ بَعۡدِ مَا بَيَّنَّٰهُ لِلنَّاسِ فِي ٱلۡكِتَٰبِ أُوْلَٰٓئِكَ يَلۡعَنُهُمُ ٱللَّهُ وَيَلۡعَنُهُمُ ٱللَّٰعِنُونَ

    নিশ্চয় যারা(১) (নবীর সত্যতার ওপর) আমি যে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি ও হিদায়াত নাযিল করেছি, মানুষের জন্য কিতাবে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পরও সেগুলো গোপন করে, আল্লাহ তাদেরকে অভিসম্পাত করেন, আর সকল অভিসম্পাতকারীও তাদেরকে অভিসম্পাত করে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  160. ১৬০

    إِلَّا ٱلَّذِينَ تَابُواْ وَأَصۡلَحُواْ وَبَيَّنُواْ فَأُوْلَٰٓئِكَ أَتُوبُ عَلَيۡهِمۡ وَأَنَا ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ

    তবে যারা তাওবা করেছে (১), নিজেদেরকে সংশোধন করেছে এবং সত্যকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। আমি তাদের তাওবা কবুল করি। আর একমাত্র আমিই অধিক তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  161. ১৬১

    إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ وَمَاتُواْ وَهُمۡ كُفَّارٌ أُوْلَٰٓئِكَ عَلَيۡهِمۡ لَعۡنَةُ ٱللَّهِ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةِ وَٱلنَّاسِ أَجۡمَعِينَ

    নিশ্চয়ই যারা কুফুরি করেছে এবং কাফির হয়েই মারা গেছে, তাদের ওপর আল্লাহ, ফিরিশতাগণ ও সকল মানুষের অভিসম্পাত।

  162. ১৬২

    خَٰلِدِينَ فِيهَا لَا يُخَفَّفُ عَنۡهُمُ ٱلۡعَذَابُ وَلَا هُمۡ يُنظَرُونَ

    তারা তাতে চিরস্থায়ীভাবে বসবাস করবে। তাদের শাস্তি বিন্দুমাত্রও শিথিল করা হবে না এবং তাদেরকে কোন প্রকারের অবকাশও দেয়া হবে না।

  163. ১৬৩

    وَإِلَٰهُكُمۡ إِلَٰهٞ وَٰحِدٞۖ لَّآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلرَّحۡمَٰنُ ٱلرَّحِيمُ

    আর তোমাদের ইলাহ এক ও একক। তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি অতি দয়াময়, পরম দয়ালু।

  164. ১৬৪

    إِنَّ فِي خَلۡقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَٱخۡتِلَٰفِ ٱلَّيۡلِ وَٱلنَّهَارِ وَٱلۡفُلۡكِ ٱلَّتِي تَجۡرِي فِي ٱلۡبَحۡرِ بِمَا يَنفَعُ ٱلنَّاسَ وَمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ مِن مَّآءٖ فَأَحۡيَا بِهِ ٱلۡأَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِن كُلِّ دَآبَّةٖ وَتَصۡرِيفِ ٱلرِّيَٰحِ وَٱلسَّحَابِ ٱلۡمُسَخَّرِ بَيۡنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِ لَأٓيَٰتٖ لِّقَوۡمٖ يَعۡقِلُونَ

    নিশ্চয় আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের আবর্তনে, সে সব জাহাজে যা মানুষের উপকারী বস্তু নিয়ে সমুদ্রে চলাচল করে, আল্লাহ আসমান থেকে যে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর তা দ্বারা মৃত জমিনকে পুনর্জীবিত করেছেন এবং তাতে সব ধরনের বিচরণশীল প্রাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন, বায়ুর দিক পরিবর্তনে এবং আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালায় বিবেকবান সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।

  165. ১৬৫

    وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ ٱللَّهِ أَندَادٗا يُحِبُّونَهُمۡ كَحُبِّ ٱللَّهِۖ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَشَدُّ حُبّٗا لِّلَّهِۗ وَلَوۡ يَرَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓاْ إِذۡ يَرَوۡنَ ٱلۡعَذَابَ أَنَّ ٱلۡقُوَّةَ لِلَّهِ جَمِيعٗا وَأَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعَذَابِ

    আর মানুষের মধ্যে একদল লোক আছে, যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে আল্লাহর সমকক্ষরূপে গ্রহণ করে, তারা তাদেরকে ভালোবাসে আল্লাহর ভালোবাসার মতোই। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহকে সর্বাধিক ভালোবাসে। আর যারা যুলম করেছে, তারা যদি শাস্তি দেখতে পেতো,সমস্ত শক্তি একমাত্র আল্লাহরই। আর নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি দানে অতি কঠোর।

  166. ১৬৬

    إِذۡ تَبَرَّأَ ٱلَّذِينَ ٱتُّبِعُواْ مِنَ ٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُواْ وَرَأَوُاْ ٱلۡعَذَابَ وَتَقَطَّعَتۡ بِهِمُ ٱلۡأَسۡبَابُ

    যখন (পথভ্রষ্ট) যেসব নেতার আনুগত্য করা হয়েছিল, তারা তাদের অনুসারীদের থেকে নিজেদেরকে মুক্ত ঘোষণা করবে, তারা সবাই (কিয়ামতের) শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে এবং তাদের পারস্পরিক সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে।

  167. ১৬৭

    وَقَالَ ٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُواْ لَوۡ أَنَّ لَنَا كَرَّةٗ فَنَتَبَرَّأَ مِنۡهُمۡ كَمَا تَبَرَّءُواْ مِنَّاۗ كَذَٰلِكَ يُرِيهِمُ ٱللَّهُ أَعۡمَٰلَهُمۡ حَسَرَٰتٍ عَلَيۡهِمۡۖ وَمَا هُم بِخَٰرِجِينَ مِنَ ٱلنَّارِ

    আর যারা অনুসরণ করেছিল তারা বলবে: ‘হায়! যদি একবার আমাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ হতো, তবে আমরাও তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করতাম, যেমন তারা আমাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।’ এভাবে আল্লাহ তাদের কার্যাবলী তদেরকে দেখাবেন, তাদের জন্য আক্ষেপস্বরূপ। আর তারা কখনোই জাহান্নামের আগুন থেকে বের হতে পারবে না।

  168. ১৬৮

    يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ كُلُواْ مِمَّا فِي ٱلۡأَرۡضِ حَلَٰلٗا طَيِّبٗا وَلَا تَتَّبِعُواْ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيۡطَٰنِۚ إِنَّهُۥ لَكُمۡ عَدُوّٞ مُّبِينٌ

    হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে তা থেকে তোমরা খাও। আর তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শক্র।

  169. ১৬৯

    إِنَّمَا يَأۡمُرُكُم بِٱلسُّوٓءِ وَٱلۡفَحۡشَآءِ وَأَن تَقُولُواْ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعۡلَمُونَ

    সে তো শুধু তোমাদেরকে মন্দ ও অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয়(১) এবং আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কথা বলতে বলে, যা তোমরা জানো না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  170. ১৭০

    وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ٱتَّبِعُواْ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ قَالُواْ بَلۡ نَتَّبِعُ مَآ أَلۡفَيۡنَا عَلَيۡهِ ءَابَآءَنَآۚ أَوَلَوۡ كَانَ ءَابَآؤُهُمۡ لَا يَعۡقِلُونَ شَيۡـٔٗا وَلَا يَهۡتَدُونَ

    আর যখন তাদেরকে বলা হয়: ‘আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তোমরা তার অনুসরণ কর।’ তখন তারা বলে: ‘না; বরং আমরা অনুসরণ করবো তার, যার ওপর আমাদের পিতৃ-পুরুষদেরকে পেয়েছি।’ যদিও তাদের পিতৃ-পুরুষরা কিছু বুঝতো না এবং তারা সৎপথেও পরিচালিত ছিল না, তবুও কি তারা তাদেরই অনুসরণ করবে?

  171. ১৭১

    وَمَثَلُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ كَمَثَلِ ٱلَّذِي يَنۡعِقُ بِمَا لَا يَسۡمَعُ إِلَّا دُعَآءٗ وَنِدَآءٗۚ صُمُّۢ بُكۡمٌ عُمۡيٞ فَهُمۡ لَا يَعۡقِلُونَ

    আর যারাকুফরী করেছে, তাদের উদাহরণ সে রাখালের ন্যায়, যে তার চরানো পশুগুলোকে খুব চিৎকার করে ডাকছে; বস্তুত তারা তার হাঁক-ডাক ছাড়া আর কিছুই শোনে না। আসলে তারা বধির, বোবা, অন্ধ। কাজেই তারা বুঝে না।

  172. ১৭২

    يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُلُواْ مِن طَيِّبَٰتِ مَا رَزَقۡنَٰكُمۡ وَٱشۡكُرُواْ لِلَّهِ إِن كُنتُمۡ إِيَّاهُ تَعۡبُدُونَ

    হে ঈমানদারগণ! তোমাদেরকে আমি যেসব পবিত্র ও হালাল বস্তু রিযক দিয়েছি তোমরা তা থেকে খাও এবং (এসব নি‘আমতের জন্য) আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, যদি তোমরা শুধু তাঁরই ‘ইবাদাত করে থাকো।

  173. ১৭৩

    إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيۡكُمُ ٱلۡمَيۡتَةَ وَٱلدَّمَ وَلَحۡمَ ٱلۡخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ بِهِۦ لِغَيۡرِ ٱللَّهِۖ فَمَنِ ٱضۡطُرَّ غَيۡرَ بَاغٖ وَلَا عَادٖ فَلَآ إِثۡمَ عَلَيۡهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمٌ

    নিশ্চয় তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের মাংস এবং যা আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কারো নামে যবহ করা হয়েছে। কিন্তু যে কেউ নিরুপায় হয়ে খেতে বাধ্য হয় অথচ সে অবাধ্য এবং সীমালঙ্ঘনকারী নয়, তার কোন পাপ হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

  174. ১৭৪

    إِنَّ ٱلَّذِينَ يَكۡتُمُونَ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلۡكِتَٰبِ وَيَشۡتَرُونَ بِهِۦ ثَمَنٗا قَلِيلًا أُوْلَٰٓئِكَ مَا يَأۡكُلُونَ فِي بُطُونِهِمۡ إِلَّا ٱلنَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ ٱللَّهُ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمۡ وَلَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٌ

    আল্লাহ কিতাব হতে যা নাযিল করেছেন, যারা তা গোপন করে এবং এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে, তারা তাদের নিজেদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছুই ভরছে না। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

  175. ১৭৫

    أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ ٱشۡتَرَوُاْ ٱلضَّلَٰلَةَ بِٱلۡهُدَىٰ وَٱلۡعَذَابَ بِٱلۡمَغۡفِرَةِۚ فَمَآ أَصۡبَرَهُمۡ عَلَى ٱلنَّارِ

    এরাই তারা, যারা হিদায়াতের বিনিময়ে ভ্রষ্টতা এবং ক্ষমার পরিবর্তে শাস্তি ক্রয় করেছে। সুতরাং আগুন সহ্য করতে তারা কতই না ধৈর্যশীল!

  176. ১৭৬

    ذَٰلِكَ بِأَنَّ ٱللَّهَ نَزَّلَ ٱلۡكِتَٰبَ بِٱلۡحَقِّۗ وَإِنَّ ٱلَّذِينَ ٱخۡتَلَفُواْ فِي ٱلۡكِتَٰبِ لَفِي شِقَاقِۭ بَعِيدٖ

    তা এই কারণে যে, আল্লাহ সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছেন। আর যারা কিতাব নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি করেছে, অবশ্যই তারা চরম বিবাদে লিপ্ত রয়েছে। (১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  177. ১৭৭

    ۞ لَّيۡسَ ٱلۡبِرَّ أَن تُوَلُّواْ وُجُوهَكُمۡ قِبَلَ ٱلۡمَشۡرِقِ وَٱلۡمَغۡرِبِ وَلَٰكِنَّ ٱلۡبِرَّ مَنۡ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةِ وَٱلۡكِتَٰبِ وَٱلنَّبِيِّـۧنَ وَءَاتَى ٱلۡمَالَ عَلَىٰ حُبِّهِۦ ذَوِي ٱلۡقُرۡبَىٰ وَٱلۡيَتَٰمَىٰ وَٱلۡمَسَٰكِينَ وَٱبۡنَ ٱلسَّبِيلِ وَٱلسَّآئِلِينَ وَفِي ٱلرِّقَابِ وَأَقَامَ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَى ٱلزَّكَوٰةَ وَٱلۡمُوفُونَ بِعَهۡدِهِمۡ إِذَا عَٰهَدُواْۖ وَٱلصَّٰبِرِينَ فِي ٱلۡبَأۡسَآءِ وَٱلضَّرَّآءِ وَحِينَ ٱلۡبَأۡسِۗ أُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ صَدَقُواْۖ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُتَّقُونَ

    পূর্ব ও পশ্চিমদিকে (১) তোমাদের মুখ ফিরানো সৎকর্ম নয়; কিন্তু সৎকর্ম হলো যে ব্যক্তি আল্লাহ, শেষ দিবস, ফিরিশতাগণ, কিতাবসমূহ ও নবীগণের প্রতি ঈমান আনবে। আর সম্পদের প্রতি ভালোবাসা (২) থাকা সত্ত্বেও তা দান করবে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী ও দাসমুক্তির জন্য এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত দিবে, প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পূর্ণ করবে, অর্থ-সংকটে, দুঃখ-কষ্টে ও সংগ্রাম-সংকটে ধৈর্যধারণ করবে। মূলত তারাই সত্যবাদী এবং তারাই মুত্তাকী।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  178. ১৭৮

    يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلۡقِصَاصُ فِي ٱلۡقَتۡلَىۖ ٱلۡحُرُّ بِٱلۡحُرِّ وَٱلۡعَبۡدُ بِٱلۡعَبۡدِ وَٱلۡأُنثَىٰ بِٱلۡأُنثَىٰۚ فَمَنۡ عُفِيَ لَهُۥ مِنۡ أَخِيهِ شَيۡءٞ فَٱتِّبَاعُۢ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَأَدَآءٌ إِلَيۡهِ بِإِحۡسَٰنٖۗ ذَٰلِكَ تَخۡفِيفٞ مِّن رَّبِّكُمۡ وَرَحۡمَةٞۗ فَمَنِ ٱعۡتَدَىٰ بَعۡدَ ذَٰلِكَ فَلَهُۥ عَذَابٌ أَلِيمٞ

    হে মুমিনগণ! নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের উপর ‘কিসাস’ (১) ফরয করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তির বদলে স্বাধীন ব্যক্তির, ক্রীতদাসের বদলে ক্রীতদাসের এবং নারীর বদলে নারীর মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। তবে তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে কোন ক্ষমা (২) প্রদর্শন করা হলে যথাযথ বিধির অনুসরণ করা ও সততার সাথে তার রক্ত-বিনিময় আদায় করা কর্তব্য। এটা তোমাদের রব-এর পক্ষ থেকে শিথিলতা ও অনুগ্রহ। সুতরাং এর পরও যে সীমালঙ্ঘন করে, তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  179. ১৭৯

    وَلَكُمۡ فِي ٱلۡقِصَاصِ حَيَوٰةٞ يَٰٓأُوْلِي ٱلۡأَلۡبَٰبِ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ

    হে বুদ্ধি-বিবেকসম্পন্ন লোকেরা! তোমাদের জন্যে কিসাসের মধ্যে রয়েছে জীবন।(১) আশা করা যায়, তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  180. ১৮০

    كُتِبَ عَلَيۡكُمۡ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ ٱلۡمَوۡتُ إِن تَرَكَ خَيۡرًا ٱلۡوَصِيَّةُ لِلۡوَٰلِدَيۡنِ وَٱلۡأَقۡرَبِينَ بِٱلۡمَعۡرُوفِۖ حَقًّا عَلَى ٱلۡمُتَّقِينَ

    তোমাদের মধ্যে কারো মৃত্যু উপস্থিত হলে সে যদি ধন-সম্পত্তি রেখে যায়, তবে প্রচলিত ন্যায়নীতি অনুযায়ী তার পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য অসিয়াত করার বিধান তোমাদের উপর বিধিবদ্ধ।(১) এটা মুত্তাকীদের জন্য অবশ্য পালনীয়।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  181. ১৮১

    فَمَنۢ بَدَّلَهُۥ بَعۡدَ مَا سَمِعَهُۥ فَإِنَّمَآ إِثۡمُهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ يُبَدِّلُونَهُۥٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٞ

    যদি কোন ব্যক্তি এটা শোনার পরও তাতে রদবদল করে, তবে যারা রদবদল করবে, এর পাপ তাদের উপরেই বর্তাবে ৷ নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

  182. ১৮২

    فَمَنۡ خَافَ مِن مُّوصٖ جَنَفًا أَوۡ إِثۡمٗا فَأَصۡلَحَ بَيۡنَهُمۡ فَلَآ إِثۡمَ عَلَيۡهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمٞ

    তবে যদি কেউ অসিয়াতকারীর পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্ব বা অন্যায়ের আশঙ্কা করে, অতঃপর সে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়, তাহলে তার কোন অপরাধ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

  183. ১৮৩

    يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ

    হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হলো, যেমন ফরয করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার।

  184. ১৮৪

    أَيَّامٗا مَّعۡدُودَٰتٖۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٖ فَعِدَّةٞ مِّنۡ أَيَّامٍ أُخَرَۚ وَعَلَى ٱلَّذِينَ يُطِيقُونَهُۥ فِدۡيَةٞ طَعَامُ مِسۡكِينٖۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيۡرٗا فَهُوَ خَيۡرٞ لَّهُۥۚ وَأَن تَصُومُواْ خَيۡرٞ لَّكُمۡ إِن كُنتُمۡ تَعۡلَمُونَ

    (ফরজ সিয়াম) নির্দিষ্ট কয়েক দিন। অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ রোগাক্রান্ত(১) হলে বা সফরে(২) থাকলে, সে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আর যাদের জন্য সিয়াম পালন কষ্টসাধ্য হয়(৩), তাদের কর্তব্য হলো ফিদইয়া, একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করা। অতঃপর কেউ যদি স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত সৎকাজ করে, তবে তা তার জন্য কল্যাণকর। আর সিয়াম পালন করাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  185. ১৮৫

    شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلۡقُرۡءَانُ هُدٗى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَٰتٖ مِّنَ ٱلۡهُدَىٰ وَٱلۡفُرۡقَانِۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ ٱلشَّهۡرَ فَلۡيَصُمۡهُۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٖ فَعِدَّةٞ مِّنۡ أَيَّامٍ أُخَرَۗ يُرِيدُ ٱللَّهُ بِكُمُ ٱلۡيُسۡرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ ٱلۡعُسۡرَ وَلِتُكۡمِلُواْ ٱلۡعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَىٰكُمۡ وَلَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُونَ

    রামাদান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য হিদায়াত এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে। তবে তোমাদের কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ চান এবং তোমাদের জন্য কষ্ট চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করো এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন সে জন্য তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো এবং যাতে তোমরা তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।

  186. ১৮৬

    وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌۖ أُجِيبُ دَعۡوَةَ ٱلدَّاعِ إِذَا دَعَانِۖ فَلۡيَسۡتَجِيبُواْ لِي وَلۡيُؤۡمِنُواْ بِي لَعَلَّهُمۡ يَرۡشُدُونَ

    আর যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞেস করে, নিশ্চয় আমি (তাদের) অতি নিকটে।(১) আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে আমি তার আহ্বানে সাড়া দেই। কাজেই তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে, যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  187. ১৮৭

    أُحِلَّ لَكُمۡ لَيۡلَةَ ٱلصِّيَامِ ٱلرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَآئِكُمۡۚ هُنَّ لِبَاسٞ لَّكُمۡ وَأَنتُمۡ لِبَاسٞ لَّهُنَّۗ عَلِمَ ٱللَّهُ أَنَّكُمۡ كُنتُمۡ تَخۡتَانُونَ أَنفُسَكُمۡ فَتَابَ عَلَيۡكُمۡ وَعَفَا عَنكُمۡۖ فَٱلۡـَٰٔنَ بَٰشِرُوهُنَّ وَٱبۡتَغُواْ مَا كَتَبَ ٱللَّهُ لَكُمۡۚ وَكُلُواْ وَٱشۡرَبُواْ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ ٱلۡخَيۡطُ ٱلۡأَبۡيَضُ مِنَ ٱلۡخَيۡطِ ٱلۡأَسۡوَدِ مِنَ ٱلۡفَجۡرِۖ ثُمَّ أَتِمُّواْ ٱلصِّيَامَ إِلَى ٱلَّيۡلِۚ وَلَا تُبَٰشِرُوهُنَّ وَأَنتُمۡ عَٰكِفُونَ فِي ٱلۡمَسَٰجِدِۗ تِلۡكَ حُدُودُ ٱللَّهِ فَلَا تَقۡرَبُوهَاۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ ءَايَٰتِهِۦ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمۡ يَتَّقُونَ

    সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সহবাস বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পোশাকস্বরূপ এবং তোমরাও তাদের পোশাকস্বরূপ। আল্লাহ জানেন যে, তোমরা নিজেদের প্রতি খিয়ানত করছিলে। তাই তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দিয়েছেন। কাজেই এখন তোমরা তাদের সঙ্গে মিলিত হতে পারো এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তা (সন্তান) কামনা করো। আর তোমরা পানাহার করো, যতক্ষণ না উষার সাদা রেখা রাতের কালো রেখা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।(১) তারপর রাতের আগমন (সূর্যাস্ত) পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো। আর তোমরা মসজিদে ই‘তিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করো না। এগুলো (সিয়াম-সংক্রান্ত) আল্লাহর সীমারেখা। কাজেই এগুলোর নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবেই আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ (বিধি-বিধান) মানুষের জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  188. ১৮৮

    وَلَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَكُم بَيۡنَكُم بِٱلۡبَٰطِلِ وَتُدۡلُواْ بِهَآ إِلَى ٱلۡحُكَّامِ لِتَأۡكُلُواْ فَرِيقٗا مِّنۡ أَمۡوَٰلِ ٱلنَّاسِ بِٱلۡإِثۡمِ وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ

    আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে (১) ভক্ষণ করো না এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিছু অংশ জেনে বুঝে অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে বিচারকদের সামনে উত্থাপন করো না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  189. ১৮৯

    ۞ يَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡأَهِلَّةِۖ قُلۡ هِيَ مَوَٰقِيتُ لِلنَّاسِ وَٱلۡحَجِّۗ وَلَيۡسَ ٱلۡبِرُّ بِأَن تَأۡتُواْ ٱلۡبُيُوتَ مِن ظُهُورِهَا وَلَٰكِنَّ ٱلۡبِرَّ مَنِ ٱتَّقَىٰۗ وَأۡتُواْ ٱلۡبُيُوتَ مِنۡ أَبۡوَٰبِهَاۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ

    লোকেরা তোমার কাছে নতুন চাঁদ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বলো: ‘এটা (১) মানুষ এবং হজ্জের জন্য সময় নির্দেশক।’ আর ঘরের পিছন দিক দিয়ে প্রবেশ করাতে কোন সাওয়াব নেই; বরং সাওয়াব তো রয়েছে ঐ ব্যক্তির জন্যে, যে তাকওয়া অবলম্বন করে। সুতরাং তোমরা দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করো এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  190. ১৯০

    وَقَٰتِلُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱلَّذِينَ يُقَٰتِلُونَكُمۡ وَلَا تَعۡتَدُوٓاْۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلۡمُعۡتَدِينَ

    আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। কিন্তু সীমালঙ্ঘন করো না।(১) নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে ভালোবাসেন না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  191. ১৯১

    وَٱقۡتُلُوهُمۡ حَيۡثُ ثَقِفۡتُمُوهُمۡ وَأَخۡرِجُوهُم مِّنۡ حَيۡثُ أَخۡرَجُوكُمۡۚ وَٱلۡفِتۡنَةُ أَشَدُّ مِنَ ٱلۡقَتۡلِۚ وَلَا تُقَٰتِلُوهُمۡ عِندَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِ حَتَّىٰ يُقَٰتِلُوكُمۡ فِيهِۖ فَإِن قَٰتَلُوكُمۡ فَٱقۡتُلُوهُمۡۗ كَذَٰلِكَ جَزَآءُ ٱلۡكَٰفِرِينَ

    আর তোমরা তাদেরকে যেখানেই পাবে হত্যা করবে(১) এবং যে স্থান (মক্কা) থেকে তারা তোমাদেরকে বহিষ্কার করেছে, তোমরাও তাদেরকে সে স্থান থেকে বহিষ্কার করবে। আর ফিতনা (কুফর, শিরক এবং মানুষকে ইসলাম থেকে বিরত রাখা) হত্যার চেয়েও গুরুতর। আর তারা মসজিদুল হারামে তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু না করা পর্যন্ত তোমরা সেখানে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করবে না। তবে তারা যদি সেখানে তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে, তাহলে তোমরা তাদেরকে হত্যা করবে। এটাই কাফিরদের প্রতিদান।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  192. ১৯২

    فَإِنِ ٱنتَهَوۡاْ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمٞ

    আর যদি তারা (ফিতনা-ফ্যাসাদ থেকে) বিরত থাকে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

  193. ১৯৩

    وَقَٰتِلُوهُمۡ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتۡنَةٞ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ لِلَّهِۖ فَإِنِ ٱنتَهَوۡاْ فَلَا عُدۡوَٰنَ إِلَّا عَلَى ٱلظَّٰلِمِينَ

    আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকবে যতক্ষণ না ফিতনা চুড়ান্তভাবে নির্মূল হয়ে যায় এবং দ্বীন একমাত্র আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। অতঃপর যদি তারা থেকে বিরত থাকে, তবে যালিমরা (১) ছাড়া আর কারও উপর সীমালঙ্ঘন করা যাবে না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  194. ১৯৪

    ٱلشَّهۡرُ ٱلۡحَرَامُ بِٱلشَّهۡرِ ٱلۡحَرَامِ وَٱلۡحُرُمَٰتُ قِصَاصٞۚ فَمَنِ ٱعۡتَدَىٰ عَلَيۡكُمۡ فَٱعۡتَدُواْ عَلَيۡهِ بِمِثۡلِ مَا ٱعۡتَدَىٰ عَلَيۡكُمۡۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلۡمُتَّقِينَ

    পবিত্র মাস পবিত্র মাসের বিনিময়ে(১), আর পবিত্র বিষয়সমূহের ক্ষেত্রেও কিসাস প্রযোজ্য। কাজেই যে তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে, তোমরাও তার ওপর ঠিক তেমনিভাবে আক্রমণ কর, যেমন সে তোমাদের ওপর আক্রমণ করেছে। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদের সঙ্গে আছেন।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  195. ১৯৫

    وَأَنفِقُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَلَا تُلۡقُواْ بِأَيۡدِيكُمۡ إِلَى ٱلتَّهۡلُكَةِ وَأَحۡسِنُوٓاْۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُحۡسِنِينَ

    আর তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং নিজেদের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না। আর তোমরা ইহসান করো। নিশ্চয় আল্লাহ মুহসীনদের ভালোবাসেন।

  196. ১৯৬

    وَأَتِمُّواْ ٱلۡحَجَّ وَٱلۡعُمۡرَةَ لِلَّهِۚ فَإِنۡ أُحۡصِرۡتُمۡ فَمَا ٱسۡتَيۡسَرَ مِنَ ٱلۡهَدۡيِۖ وَلَا تَحۡلِقُواْ رُءُوسَكُمۡ حَتَّىٰ يَبۡلُغَ ٱلۡهَدۡيُ مَحِلَّهُۥۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوۡ بِهِۦٓ أَذٗى مِّن رَّأۡسِهِۦ فَفِدۡيَةٞ مِّن صِيَامٍ أَوۡ صَدَقَةٍ أَوۡ نُسُكٖۚ فَإِذَآ أَمِنتُمۡ فَمَن تَمَتَّعَ بِٱلۡعُمۡرَةِ إِلَى ٱلۡحَجِّ فَمَا ٱسۡتَيۡسَرَ مِنَ ٱلۡهَدۡيِۚ فَمَن لَّمۡ يَجِدۡ فَصِيَامُ ثَلَٰثَةِ أَيَّامٖ فِي ٱلۡحَجِّ وَسَبۡعَةٍ إِذَا رَجَعۡتُمۡۗ تِلۡكَ عَشَرَةٞ كَامِلَةٞۗ ذَٰلِكَ لِمَن لَّمۡ يَكُنۡ أَهۡلُهُۥ حَاضِرِي ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ

    আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও ‘উমরা পূর্ণ করো। তবে যদি তোমরা বাধাপ্রাপ্ত হও, তাহলে যে হাদী(১) সহজলভ্য হয় তা যবেহ করো। আর হাদী তার নির্ধারিত স্থানে না পৌঁছা পর্যন্ত তোমরা মাথা মুণ্ডন করো না। অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অসুস্থ হয় অথবা তার মাথায় কোনো কষ্টদায়ক সমস্যা থাকে (এবং সে মাথা মুণ্ডন করে), তবে তাকে সিয়াম, সদকা অথবা কুরবানির মাধ্যমে ফিদিয়া দিতে হবে। তারপর যখন তোমরা নিরাপদ হবে, তখন যে ব্যক্তি হজের আগে উমরা করে (তামাত্তু হজ পালন করে), সে যেন সহজলভ্য হাদী যবেহ করে। আর যদি সে তা না পায়, তবে তাকে হজের সময় তিন দিন এবং ফিরে আসার পর সাত দিন, মোট পূর্ণ দশ দিন সিয়াম পালন করতে হবে। এ বিধান তাদের জন্য, যাদের পরিবার-পরিজন মসজিদুল হারামের অধিবাসী নয়। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  197. ১৯৭

    ٱلۡحَجُّ أَشۡهُرٞ مَّعۡلُومَٰتٞۚ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ ٱلۡحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي ٱلۡحَجِّۗ وَمَا تَفۡعَلُواْ مِنۡ خَيۡرٖ يَعۡلَمۡهُ ٱللَّهُۗ وَتَزَوَّدُواْ فَإِنَّ خَيۡرَ ٱلزَّادِ ٱلتَّقۡوَىٰۖ وَٱتَّقُونِ يَٰٓأُوْلِي ٱلۡأَلۡبَٰبِ

    হজ্জের সময় নির্দিষ্ট (১) মাসসমূহ। অতএব যে কেউ এ মাসগুলোতে হজ্জ করা স্থির করল, তার জন্য হজ্জের সময় স্ত্রী-সম্ভোগ, অন্যায় আচরণ ও কলহ-বিবাদ করা বৈধ নয়। আর তোমরা উত্তম কাজ থেকে যা-ই করো আল্লাহ্ তা জানেন। আর তোমরা পাথেয় (২) সংগ্রহ করো। নিশ্চয় সবচেয়ে উত্তম পাথেয় হচ্ছে তাকওয়া। হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ ! তোমরা আমাকে ভয় করো।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  198. ১৯৮

    لَيۡسَ عَلَيۡكُمۡ جُنَاحٌ أَن تَبۡتَغُواْ فَضۡلٗا مِّن رَّبِّكُمۡۚ فَإِذَآ أَفَضۡتُم مِّنۡ عَرَفَٰتٖ فَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ عِندَ ٱلۡمَشۡعَرِ ٱلۡحَرَامِۖ وَٱذۡكُرُوهُ كَمَا هَدَىٰكُمۡ وَإِن كُنتُم مِّن قَبۡلِهِۦ لَمِنَ ٱلضَّآلِّينَ

    তোমাদের রবের অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোনো পাপ নেই। (১) সুতরাং যখন তোমরা ‘আরাফাত হতে ফিরে আসবে তখন মাশ’আরুল হারামের কাছে পৌঁছে আল্লাহকে স্মরণ করো (২) এবং তিনি যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন ঠিক সেভাবে তাঁকে স্মরণ করো। যদিও ইতঃপূর্বে তোমরা বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  199. ১৯৯

    ثُمَّ أَفِيضُواْ مِنۡ حَيۡثُ أَفَاضَ ٱلنَّاسُ وَٱسۡتَغۡفِرُواْ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمٞ

    তারপর অন্যান্য লোকেরা (হজ্জ পালনকারীরা) যে স্থান (‘আরাফাহ) থেকে ফিরে আসে তোমরাও সে স্থান থেকে ফিরে আসো। আর (নিজেদের ভুল-ভ্রান্তির জন্যে) আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

  200. ২০০

    فَإِذَا قَضَيۡتُم مَّنَٰسِكَكُمۡ فَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ كَذِكۡرِكُمۡ ءَابَآءَكُمۡ أَوۡ أَشَدَّ ذِكۡرٗاۗ فَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِي ٱلدُّنۡيَا وَمَا لَهُۥ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنۡ خَلَٰقٖ

    অতঃপর যখন তোমরা হজ্জের কাজসমূহ সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যেভাবে স্মরণ করতে তোমাদের পিতৃ পুরুষদের অথবা তার চেয়েও অধিক স্মরণ। মানুষের মধ্যে যারা বলে, ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতেই দিন।’ এ ধরনের লোকদের জন্যে আখিরাতে কোনো অংশ নেই।

  201. ২০১

    وَمِنۡهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِي ٱلدُّنۡيَا حَسَنَةٗ وَفِي ٱلۡأٓخِرَةِ حَسَنَةٗ وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ

    আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ (১) দিন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  202. ২০২

    أُوْلَٰٓئِكَ لَهُمۡ نَصِيبٞ مِّمَّا كَسَبُواْۚ وَٱللَّهُ سَرِيعُ ٱلۡحِسَابِ

    এরাই হলো সে সব মানুষ, যাদের জন্যে তাদের উপার্জনের ভিত্তিতে যথাযথ প্রাপ্য রয়েছে। আর আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

  203. ২০৩

    ۞ وَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ فِيٓ أَيَّامٖ مَّعۡدُودَٰتٖۚ فَمَن تَعَجَّلَ فِي يَوۡمَيۡنِ فَلَآ إِثۡمَ عَلَيۡهِ وَمَن تَأَخَّرَ فَلَآ إِثۡمَ عَلَيۡهِۖ لِمَنِ ٱتَّقَىٰۗ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّكُمۡ إِلَيۡهِ تُحۡشَرُونَ

    আর তোমরা নির্ধারিত দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করো।(১) অতঃপর কেউ যদি তাড়াতাড়ি করে দুই দিনে (২) চলে আসে, তবে তার কোনো পাপ নেই। আর যে ব্যক্তি বিলম্ব (৩) করে আসে তারও কোনো পাপ নেই। এ (বিধান) তার জন্য যে তাক্‌ওয়া অবলম্বন করে। আর তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন করো এবং জেনে রাখো, একদিন তোমাদেরকে তাঁরই নিকট সমবেত করা হবে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  204. ২০৪

    وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يُعۡجِبُكَ قَوۡلُهُۥ فِي ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا وَيُشۡهِدُ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا فِي قَلۡبِهِۦ وَهُوَ أَلَدُّ ٱلۡخِصَامِ

    আর মানুষের মধ্যে এমন ব্যক্তি আছে, পার্থিব জীবনে যার কথাবার্তা তোমাকে অভিভুত করে। আর নিজের অন্তরে যা কিছু আছে সে ব্যাপারে বারবার আল্লাহকে সাক্ষী রাখে। প্রকৃতপক্ষে সে ভীষণ ঝগড়াটে ।

  205. ২০৫

    وَإِذَا تَوَلَّىٰ سَعَىٰ فِي ٱلۡأَرۡضِ لِيُفۡسِدَ فِيهَا وَيُهۡلِكَ ٱلۡحَرۡثَ وَٱلنَّسۡلَۚ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ ٱلۡفَسَادَ

    আর যখন সে আপনার কাছ থেকে প্রস্থান করে তখন সে জমিনে অশান্তি সৃষ্টি এবং শস্যক্ষেত্র ও প্রাণীকুল ধ্বংসের চেষ্টা করে। আর আল্লাহ ফ্যাসাদ পছন্দ করেন না।

  206. ২০৬

    وَإِذَا قِيلَ لَهُ ٱتَّقِ ٱللَّهَ أَخَذَتۡهُ ٱلۡعِزَّةُ بِٱلۡإِثۡمِۚ فَحَسۡبُهُۥ جَهَنَّمُۖ وَلَبِئۡسَ ٱلۡمِهَادُ

    আর যখন তাকে বলা হয়, ‘আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো’, তখন তার অহংকার বোধ ও আত্মাভিমান তাকে পাপাচারে লিপ্ত করে। কাজেই জাহান্নামই তার জন্য যথেষ্ট। নিশ্চয়ই তা কতই না নিকৃষ্ট আশ্রয়স্থল।

  207. ২০৭

    وَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَشۡرِي نَفۡسَهُ ٱبۡتِغَآءَ مَرۡضَاتِ ٱللَّهِۚ وَٱللَّهُ رَءُوفُۢ بِٱلۡعِبَادِ

    আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিজেদের জান-প্রাণ বিক্রিয় করে দেয়।(১) আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  208. ২০৮

    يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱدۡخُلُواْ فِي ٱلسِّلۡمِ كَآفَّةٗ وَلَا تَتَّبِعُواْ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيۡطَٰنِۚ إِنَّهُۥ لَكُمۡ عَدُوّٞ مُّبِينٞ

    হে মুমিনগণ! তোমরা পুর্ণাঙ্গভাবে ইসলামে প্রবেশ করো (১) এবং শয়তানের পদাঙ্কসমূহ অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শক্ৰ।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  209. ২০৯

    فَإِن زَلَلۡتُم مِّنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡكُمُ ٱلۡبَيِّنَٰتُ فَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

    অতঃপর তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পরও যদি তোমাদের পদস্খলন ঘটে, তবে জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

  210. ২১০

    هَلۡ يَنظُرُونَ إِلَّآ أَن يَأۡتِيَهُمُ ٱللَّهُ فِي ظُلَلٖ مِّنَ ٱلۡغَمَامِ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَقُضِيَ ٱلۡأَمۡرُۚ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرۡجَعُ ٱلۡأُمُورُ

    তারা কি শুধু এ বিষয়েরই প্রতীক্ষায় রয়েছে যে, মেঘের ছায়ায় আল্লাহ তাদের কাছে আসবেন এবং ফিরিশতাগণও (অবতরণ করে সৃষ্টিজগতকে পরিবেষ্টন করবেন)? তখন (আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে ন্যায়বিচার অনুযায়ী) সবকিছুর মীমাংসা করে দেবেন। আর সমস্ত বিষয়ই আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তিত হবে।

  211. ২১১

    سَلۡ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ كَمۡ ءَاتَيۡنَٰهُم مِّنۡ ءَايَةِۭ بَيِّنَةٖۗ وَمَن يُبَدِّلۡ نِعۡمَةَ ٱللَّهِ مِنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡهُ فَإِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ

    বানূ ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করো, আমি তাদেরকে কত সুস্পষ্ট নিদর্শন প্রদান করেছি! আর আল্লাহর নি‘আমত আসার পর যে সেটাকে পরিবর্তন করে, নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দানে কঠোর।

  212. ২১২

    زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُواْ ٱلۡحَيَوٰةُ ٱلدُّنۡيَا وَيَسۡخَرُونَ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْۘ وَٱلَّذِينَ ٱتَّقَوۡاْ فَوۡقَهُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۗ وَٱللَّهُ يَرۡزُقُ مَن يَشَآءُ بِغَيۡرِ حِسَابٖ

    যারা কুফুরী করে তাদের জন্য দুনিয়ার জীবন সুশোভিত করা হয়েছে এবং তারা মুমিনদেরকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে থাকে। অথচ যারা তাকওয়া অবলম্বন করে কিয়ামতের দিন তারাই এদের মোকাবেলায় উঁচু ও শ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করবে।(১) আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে অগণিত রিযক দান করেন।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  213. ২১৩

    كَانَ ٱلنَّاسُ أُمَّةٗ وَٰحِدَةٗ فَبَعَثَ ٱللَّهُ ٱلنَّبِيِّـۧنَ مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ وَأَنزَلَ مَعَهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ بِٱلۡحَقِّ لِيَحۡكُمَ بَيۡنَ ٱلنَّاسِ فِيمَا ٱخۡتَلَفُواْ فِيهِۚ وَمَا ٱخۡتَلَفَ فِيهِ إِلَّا ٱلَّذِينَ أُوتُوهُ مِنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡهُمُ ٱلۡبَيِّنَٰتُ بَغۡيَۢا بَيۡنَهُمۡۖ فَهَدَى ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لِمَا ٱخۡتَلَفُواْ فِيهِ مِنَ ٱلۡحَقِّ بِإِذۡنِهِۦۗ وَٱللَّهُ يَهۡدِي مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٍ

    (একটা সময়ে) সমস্ত মানুষ একই উম্মত ছিল।(১) অতঃপর আল্লাহ নবীগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেন এবং তাদের সঙ্গে সত্যবাহী কিতাব নাযিল করেন, যাতে সে (কিতাব) মানুষের মধ্যে তারা যে বিষয়ে মতভেদ করত, তার মীমাংসা করে। আর যাদেরকে তা (তাওরাত) দেওয়া হয়েছিল, তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পরও তারা কেবল পরস্পরের বিদ্বেষবশত সে বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত হয়। অতঃপর আল্লাহ তাঁর ইচ্ছাক্রমে ঈমানদারদেরকে সে সত্য বিষয়ে হিদায়াত দান করেন, যে বিষয়ে তারা মতভেদে লিপ্ত হয়েছিল। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে হিদায়াত দান করেন।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  214. ২১৪

    أَمۡ حَسِبۡتُمۡ أَن تَدۡخُلُواْ ٱلۡجَنَّةَ وَلَمَّا يَأۡتِكُم مَّثَلُ ٱلَّذِينَ خَلَوۡاْ مِن قَبۡلِكُمۖ مَّسَّتۡهُمُ ٱلۡبَأۡسَآءُ وَٱلضَّرَّآءُ وَزُلۡزِلُواْ حَتَّىٰ يَقُولَ ٱلرَّسُولُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَعَهُۥ مَتَىٰ نَصۡرُ ٱللَّهِۗ أَلَآ إِنَّ نَصۡرَ ٱللَّهِ قَرِيبٞ

    তোমরা কী মনে করো যে, তোমরা এমনিতেই জান্নাতে প্রবেশ করবে; অথচ এখনও তোমাদের কাছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো অবস্থা আসেনি? অর্থসংকট, দুঃখ-ক্লেশ ও রোগ- ব্যাধি তাদেরকে স্পর্শ করেছিলো এবং তারা ভীত-প্রকম্পিত হয়েছিল। এমনকি রাসূল ও তাঁর ঈমানদার সাথীগণ ) বলে উঠেছিল, ‘আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে’? জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটে।

  215. ২১৫

    يَسۡـَٔلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَۖ قُلۡ مَآ أَنفَقۡتُم مِّنۡ خَيۡرٖ فَلِلۡوَٰلِدَيۡنِ وَٱلۡأَقۡرَبِينَ وَٱلۡيَتَٰمَىٰ وَٱلۡمَسَٰكِينِ وَٱبۡنِ ٱلسَّبِيلِۗ وَمَا تَفۡعَلُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٞ

    হে নবী! তোমার সাথীরা তোমাকে জিজ্ঞাসা করছে, তারা কি ব্যয় করবে? বলো, তোমরা উত্তম যা কিছুই ব্যয় করবে, তা করো পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম- মিসকীন এবং মুসাফিরদের জন্যে। মনে রেখো, উত্তম কাজের যা কিছুই তোমরা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।

  216. ২১৬

    كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلۡقِتَالُ وَهُوَ كُرۡهٞ لَّكُمۡۖ وَعَسَىٰٓ أَن تَكۡرَهُواْ شَيۡـٔٗا وَهُوَ خَيۡرٞ لَّكُمۡۖ وَعَسَىٰٓ أَن تُحِبُّواْ شَيۡـٔٗا وَهُوَ شَرّٞ لَّكُمۡۚ وَٱللَّهُ يَعۡلَمُ وَأَنتُمۡ لَا تَعۡلَمُونَ

    তোমাদের ওপর আল্লাহর পথে যুদ্ধ করাকে ফরয করা হয়েছে; যদিও তোমাদের নিকট এটা অপ্রিয় বস্তু (১)। বস্তুত তোমরা যা অপছন্দ করছো , হতে পারে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর (২) । পক্ষান্তরে তোমরা যা ভালোবাস , হতে পারে তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ্‌ই ভাল জানেন, তোমরা তা জান না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  217. ২১৭

    يَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلشَّهۡرِ ٱلۡحَرَامِ قِتَالٖ فِيهِۖ قُلۡ قِتَالٞ فِيهِ كَبِيرٞۚ وَصَدٌّ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ وَكُفۡرُۢ بِهِۦ وَٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِ وَإِخۡرَاجُ أَهۡلِهِۦ مِنۡهُ أَكۡبَرُ عِندَ ٱللَّهِۚ وَٱلۡفِتۡنَةُ أَكۡبَرُ مِنَ ٱلۡقَتۡلِۗ وَلَا يَزَالُونَ يُقَٰتِلُونَكُمۡ حَتَّىٰ يَرُدُّوكُمۡ عَن دِينِكُمۡ إِنِ ٱسۡتَطَٰعُواْۚ وَمَن يَرۡتَدِدۡ مِنكُمۡ عَن دِينِهِۦ فَيَمُتۡ وَهُوَ كَافِرٞ فَأُوْلَٰٓئِكَ حَبِطَتۡ أَعۡمَٰلُهُمۡ فِي ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأٓخِرَةِۖ وَأُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ

    পবিত্র মাসে (১) যুদ্ধ করা সম্পর্কে লোকেরা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, ‘এতে যুদ্ধ করা ভয়ানক অপরাধ। কিন্তু আল্লাহর পথে বাঁধা দান করা, তাঁর সাথে কুফরী করা, মসজিদুল হারামে বাঁধা দেয়া ও এর বাসিন্দাকে এর থেকে বহিষ্কার করা আল্লাহর নিকট তার চেয়েও (২) বেশি ভয়ানক অপরাধ। আর ফিতনা হত্যার চেয়েও গুরুতর অপরাধ। আর তারা নিরন্তর তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকবে, যে পর্যন্ত না তোমাদেরকে তোমাদের দীন থেকে ফিরিয়ে নিতে পারে, যদি তারা সক্ষম হয়। আর তোমাদের মধ্য থেকে যে কেউ নিজের দীন থেকে ফিরে যাবে(৩) এবং কাফির হয়ে মারা যাবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যাবে। আর এরাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  218. ২১৮

    إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَٱلَّذِينَ هَاجَرُواْ وَجَٰهَدُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ أُوْلَٰٓئِكَ يَرۡجُونَ رَحۡمَتَ ٱللَّهِۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ

    নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, তারাই আল্লাহর অনুগ্রহ প্রত্যাশা করতে পারে। আর আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

  219. ২১৯

    ۞ يَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡخَمۡرِ وَٱلۡمَيۡسِرِۖ قُلۡ فِيهِمَآ إِثۡمٞ كَبِيرٞ وَمَنَٰفِعُ لِلنَّاسِ وَإِثۡمُهُمَآ أَكۡبَرُ مِن نَّفۡعِهِمَاۗ وَيَسۡـَٔلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَۖ قُلِ ٱلۡعَفۡوَۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلۡأٓيَٰتِ لَعَلَّكُمۡ تَتَفَكَّرُونَ

    লোকেরা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো, এ ‘দু’টোর মধ্যেই রয়েছে মহাপাপ (১) এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারও।(২) আর এ দু’টোর পাপ উপকারের চেয়ে অনেক বড়’। আর তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তারা কী ব্যয় করবে? বলো, যা উদ্বৃত্ত(৩)। এভাবে আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ তোমাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তোমরা চিন্তা ভাবনা করো।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  220. ২২০

    فِي ٱلدُّنۡيَا وَٱلۡأٓخِرَةِۗ وَيَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡيَتَٰمَىٰۖ قُلۡ إِصۡلَاحٞ لَّهُمۡ خَيۡرٞۖ وَإِن تُخَالِطُوهُمۡ فَإِخۡوَٰنُكُمۡۚ وَٱللَّهُ يَعۡلَمُ ٱلۡمُفۡسِدَ مِنَ ٱلۡمُصۡلِحِۚ وَلَوۡ شَآءَ ٱللَّهُ لَأَعۡنَتَكُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٞ

    যাতে তোমরা দুনিয়া ও আখিরাত সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা কর। আর তারা তোমাকে ইয়াতিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো, ‘তাদের কল্যাণসাধনই উত্তম।’(১) আর যদি তোমরা তাদের সঙ্গে মিশে থাকো, তবে তারা তো তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ জানেন কে অনিষ্টকারী আর কে কল্যাণসাধনকারী। আর আল্লাহ চাইলে এ বিষয়ে তোমাদেরকে অবশ্যই কঠিন সংকটে ফেলতে পারতেন। নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  221. ২২১

    وَلَا تَنكِحُواْ ٱلۡمُشۡرِكَٰتِ حَتَّىٰ يُؤۡمِنَّۚ وَلَأَمَةٞ مُّؤۡمِنَةٌ خَيۡرٞ مِّن مُّشۡرِكَةٖ وَلَوۡ أَعۡجَبَتۡكُمۡۗ وَلَا تُنكِحُواْ ٱلۡمُشۡرِكِينَ حَتَّىٰ يُؤۡمِنُواْۚ وَلَعَبۡدٞ مُّؤۡمِنٌ خَيۡرٞ مِّن مُّشۡرِكٖ وَلَوۡ أَعۡجَبَكُمۡۗ أُوْلَٰٓئِكَ يَدۡعُونَ إِلَى ٱلنَّارِۖ وَٱللَّهُ يَدۡعُوٓاْ إِلَى ٱلۡجَنَّةِ وَٱلۡمَغۡفِرَةِ بِإِذۡنِهِۦۖ وَيُبَيِّنُ ءَايَٰتِهِۦ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمۡ يَتَذَكَّرُونَ

    তোমরা মুশরিক নারীকে ঈমান না আনা পর্যন্ত বিবাহ করো না। মুশরিক নারী তোমাদেরকেমুগ্ধ করলেও, অবশ্যই মুমিন ক্রীতদাসী তার চেয়ে উত্তম। তেমনিভাবে ঈমান না আনা পর্যন্ত মুশরিক পুরুষদের সাথে তোমরা মুসলিম মেয়েদেরকে বিবাহ দিও না। মুশরিক পুরুষ তোমাদেরকে মুগ্ধ করলেও অবশ্যই মু’মিন ক্রীতদাস তার চেয়ে উত্তম। তারা তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে আহ্বান করে; অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে নিজ ইচ্ছায় ও অনুগ্রহে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহ্বান করেন। আর তিনি মানুষের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।

  222. ২২২

    وَيَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡمَحِيضِۖ قُلۡ هُوَ أَذٗى فَٱعۡتَزِلُواْ ٱلنِّسَآءَ فِي ٱلۡمَحِيضِ وَلَا تَقۡرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطۡهُرۡنَۖ فَإِذَا تَطَهَّرۡنَ فَأۡتُوهُنَّ مِنۡ حَيۡثُ أَمَرَكُمُ ٱللَّهُۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلتَّوَّٰبِينَ وَيُحِبُّ ٱلۡمُتَطَهِّرِينَ

    (হে নবী!) তারা আপনাকে হায়িয (নারীদের মাসিক ঋতুস্রাব ও এ সময়ে তাদের সঙ্গে দৈহিক মিলন) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা একটি (অপবিত্র ও) কষ্টকর অবস্থা। কাজেই ঋতুস্রাব চলাকালে স্ত্রী-সঙ্গম থেকে বিরত থাকো এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত (সঙ্গমের জন্যে) তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর তারা যখন (হায়িয শেষে গোসল করে) উত্তমরূপে পবিত্র হবে, তখন তাদের নিকট সেভাবেই গমন করো, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্রতা অবলম্বন করে, তাদেরও ভালোবাসেন।

  223. ২২৩

    نِسَآؤُكُمۡ حَرۡثٞ لَّكُمۡ فَأۡتُواْ حَرۡثَكُمۡ أَنَّىٰ شِئۡتُمۡۖ وَقَدِّمُواْ لِأَنفُسِكُمۡۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّكُم مُّلَٰقُوهُۗ وَبَشِّرِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ

    তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র । অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছে গমন করতে পারো। আর তোমরা নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য কিছু পাঠিয়ে রাখো এবং আল্লাহকে ভয় করো। জেনে রেখো, তোমরা অবশ্যই আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে। আর মুমিনদেরকে সুসংবাদ দিন।

  224. ২২৪

    وَلَا تَجۡعَلُواْ ٱللَّهَ عُرۡضَةٗ لِّأَيۡمَٰنِكُمۡ أَن تَبَرُّواْ وَتَتَّقُواْ وَتُصۡلِحُواْ بَيۡنَ ٱلنَّاسِۚ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٞ

    আর তোমরা সৎকাজ, তাকওয়া অবলম্বন এবং মানুষের মাঝে সন্ধি-সমঝোতা স্থাপন থেকে বিরত থাকার জন্য আল্লাহর নামের শপথকে অজুহাত ও প্রতিবন্ধক হিসেবে দাঁড় করো না।(১) আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  225. ২২৫

    لَّا يُؤَاخِذُكُمُ ٱللَّهُ بِٱللَّغۡوِ فِيٓ أَيۡمَٰنِكُمۡ وَلَٰكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا كَسَبَتۡ قُلُوبُكُمۡۗ وَٱللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٞ

    তোমাদের অনর্থক শপথের জন্যে আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন না;(১) কিন্তু তিনি সেসব শপথের ব্যাপারে পাকড়াও করবেন, যেগুলোর ব্যাপারে তোমাদের অন্তরসমূহ সংকল্পবদ্ধ ছিল। আর আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম ধৈর্যশীল।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  226. ২২৬

    لِّلَّذِينَ يُؤۡلُونَ مِن نِّسَآئِهِمۡ تَرَبُّصُ أَرۡبَعَةِ أَشۡهُرٖۖ فَإِن فَآءُو فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٞ رَّحِيمٞ

    যারা নিজ স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক রাখবে না (সহবাস করবে না) বলে শপথ করে, তাদের অবকাশ চার মাস। যদি স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়, তবে ( নিশ্চয়ই আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

  227. ২২৭

    وَإِنۡ عَزَمُواْ ٱلطَّلَٰقَ فَإِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٞ

    আর যদি তারা তালাক দেয়ারই সিদ্ধান্ত নেয় (১), তবে নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  228. ২২৮

    وَٱلۡمُطَلَّقَٰتُ يَتَرَبَّصۡنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَٰثَةَ قُرُوٓءٖۚ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَن يَكۡتُمۡنَ مَا خَلَقَ ٱللَّهُ فِيٓ أَرۡحَامِهِنَّ إِن كُنَّ يُؤۡمِنَّ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۚ وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَٰلِكَ إِنۡ أَرَادُوٓاْ إِصۡلَٰحٗاۚ وَلَهُنَّ مِثۡلُ ٱلَّذِي عَلَيۡهِنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ وَلِلرِّجَالِ عَلَيۡهِنَّ دَرَجَةٞۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

    আর তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ তিন ঋতুস্রাব (১) অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত (পুনরায় বিয়ের বন্ধন থেকে) বিরত থাকবে। আর তারা আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখলে তাদের গর্ভাশয়ে আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন তা গোপন রাখা তাদের পক্ষে হালাল নয়। আর যদি তারা (ইদ্দত চলাকালীন সময়ে) আপোশ-নিষ্পত্তি করতে চায়, তবে এতে তাদের পুনঃ গ্রহণে তাদের স্বামীরাই বেশি অধিকার রাখে। আর নারীদের তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে, যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের অধিকার। আর (২) নারীদের উপর পুরুষদের একটি আলাদা মর্যাদা আছে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  229. ২২৯

    ٱلطَّلَٰقُ مَرَّتَانِۖ فَإِمۡسَاكُۢ بِمَعۡرُوفٍ أَوۡ تَسۡرِيحُۢ بِإِحۡسَٰنٖۗ وَلَا يَحِلُّ لَكُمۡ أَن تَأۡخُذُواْ مِمَّآ ءَاتَيۡتُمُوهُنَّ شَيۡـًٔا إِلَّآ أَن يَخَافَآ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ ٱللَّهِۖ فَإِنۡ خِفۡتُمۡ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ ٱللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيۡهِمَا فِيمَا ٱفۡتَدَتۡ بِهِۦۗ تِلۡكَ حُدُودُ ٱللَّهِ فَلَا تَعۡتَدُوهَاۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ ٱللَّهِ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ

    তালাক দু’বার।(১) অতঃপর (দু’ তালাক শেষে স্ত্রীকে) হয় বিধিমতো রেখে দিবে, নতুবা সদয়ভাবে চলে যেতে দিবে। আর তোমরা তোমাদের স্ত্রীদেরকে যা প্রদান করেছ তা থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করা তোমাদের পক্ষে হালাল নয়। অবশ্য যদি তাদের উভয়ের আশঙ্কা হয় যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না তারপর তোমরাও আশঙ্কা করো যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না, তবে স্ত্রী কোনো কিছুর বিনিময়ে বিচ্ছেদ পেতে চাইলে তাতে তাদের কারো কোনো অপরাধ নেই। এ সব আল্লাহর সীমারেখা। সুতরাং তোমরা তা লঙ্ঘন করো না। আর যারা আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে তারাই যালিম।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  230. ২৩০

    فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُۥ مِنۢ بَعۡدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوۡجًا غَيۡرَهُۥۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيۡهِمَآ أَن يَتَرَاجَعَآ إِن ظَنَّآ أَن يُقِيمَا حُدُودَ ٱللَّهِۗ وَتِلۡكَ حُدُودُ ٱللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوۡمٖ يَعۡلَمُونَ

    অতএব স্বামী যদি তার স্ত্রীকে (তৃতীয় বার) তালাক দেয় তাহলে ঐ স্ত্রী স্বামীর জন্য ততক্ষণ হালাল হবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত ভিন্ন একজন স্বামী সে গ্রহণ না করে (এবং তারা সহবাস না করে )। অতঃপর সে (দ্বিতীয় স্বামী) যদি তালাক (১) দেয়, আর তারা উভয়ে (স্ত্রী ও প্রথম স্বামী) মনে করে যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করতে পারবে, তবে তাদের পুনঃবিয়েতে কারো কোনো অপরাধ হবে না। আর এটা আল্লাহর সীমারেখা, তিনি তা বিবেকবান সম্প্রদায়ের জন্য স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন ।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  231. ২৩১

    وَإِذَا طَلَّقۡتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَبَلَغۡنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمۡسِكُوهُنَّ بِمَعۡرُوفٍ أَوۡ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعۡرُوفٖۚ وَلَا تُمۡسِكُوهُنَّ ضِرَارٗا لِّتَعۡتَدُواْۚ وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٰلِكَ فَقَدۡ ظَلَمَ نَفۡسَهُۥۚ وَلَا تَتَّخِذُوٓاْ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ هُزُوٗاۚ وَٱذۡكُرُواْ نِعۡمَتَ ٱللَّهِ عَلَيۡكُمۡ وَمَآ أَنزَلَ عَلَيۡكُم مِّنَ ٱلۡكِتَٰبِ وَٱلۡحِكۡمَةِ يَعِظُكُم بِهِۦۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٞ

    আর যখন তোমরা স্ত্রীকে (এক বা দুই) তালাক দাও, অতঃপর তারা ‘ইদ্দত পূর্তির নিকটবর্তী হয়, তখন তোমরা হয় বিধি অনুযায়ী তাদেরকে রেখে দিবে অথবা ন্যায়সংগতভাবে বিদায় করে দিবে।(১) তাদের ক্ষতি করে সীমালঙ্ঘনের উদ্দেশ্যে তাদেরকে আটকে রেখো না। আর যে তা করে, সে নিজের প্রতি যুলম করে। আর তোমরা আল্লাহর বিধানকে ঠাট্টা-বিদ্রুপের বস্তু করো না। আর তোমাদের প্রতি আল্লাহর নি‘আমত এবং কিতাব ও হিকমত যা তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন, যা দ্বারা তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, তা স্মরণ করো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আর জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  232. ২৩২

    وَإِذَا طَلَّقۡتُمُ ٱلنِّسَآءَ فَبَلَغۡنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا تَعۡضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحۡنَ أَزۡوَٰجَهُنَّ إِذَا تَرَٰضَوۡاْ بَيۡنَهُم بِٱلۡمَعۡرُوفِۗ ذَٰلِكَ يُوعَظُ بِهِۦ مَن كَانَ مِنكُمۡ يُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۗ ذَٰلِكُمۡ أَزۡكَىٰ لَكُمۡ وَأَطۡهَرُۚ وَٱللَّهُ يَعۡلَمُ وَأَنتُمۡ لَا تَعۡلَمُونَ

    আর তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে (তিন তালাকের কম) তালাক দাও এবং তারা তাদের ‘ইদ্দতকাল পূর্ণ করে, তারপর তারা যদি ন্যায়সংগত পদ্ধতিতে পরম্পর সম্মত হয়, তবে স্ত্রীরা নিজেদের (পূর্বের) স্বামীদের (পুনরায়) বিয়ে করতে চাইলে তোমরা (অভিভাবকরা) তাদেরকে বাধা দিও না। এ দ্বারা তাকেই উপদেশ দেয়া হচ্ছে যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখে। এটাই তোমাদের জন্য বিশুদ্ধ ও পবিত্রতম পন্থা। আর আল্লাহ (সকল বস্তুর মূল রহস্য ও পরিণতি সম্পর্কে) জানেন; অথচ তোমরা তা জানো না।

  233. ২৩৩

    ۞ وَٱلۡوَٰلِدَٰتُ يُرۡضِعۡنَ أَوۡلَٰدَهُنَّ حَوۡلَيۡنِ كَامِلَيۡنِۖ لِمَنۡ أَرَادَ أَن يُتِمَّ ٱلرَّضَاعَةَۚ وَعَلَى ٱلۡمَوۡلُودِ لَهُۥ رِزۡقُهُنَّ وَكِسۡوَتُهُنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ لَا تُكَلَّفُ نَفۡسٌ إِلَّا وُسۡعَهَاۚ لَا تُضَآرَّ وَٰلِدَةُۢ بِوَلَدِهَا وَلَا مَوۡلُودٞ لَّهُۥ بِوَلَدِهِۦۚ وَعَلَى ٱلۡوَارِثِ مِثۡلُ ذَٰلِكَۗ فَإِنۡ أَرَادَا فِصَالًا عَن تَرَاضٖ مِّنۡهُمَا وَتَشَاوُرٖ فَلَا جُنَاحَ عَلَيۡهِمَاۗ وَإِنۡ أَرَدتُّمۡ أَن تَسۡتَرۡضِعُوٓاْ أَوۡلَٰدَكُمۡ فَلَا جُنَاحَ عَلَيۡكُمۡ إِذَا سَلَّمۡتُم مَّآ ءَاتَيۡتُم بِٱلۡمَعۡرُوفِۗ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ بِمَا تَعۡمَلُونَ بَصِيرٞ

    আর মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দু’বছর দুধ পান করাবে, এটা সে ব্যক্তির (পিতার) জন্য, যে (সন্তানের) দুধ পানের মেয়াদ পূর্ণ করতে চায়। শিশুর পিতার কর্তব্য যথাবিধি তাদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা। কারো উপর যেন তার সাধ্যাতীত ভার চাপিয়ে দেওয়া না হয়। কোনো মাতাকে তার সন্তানের জন্য এবং পিতাকেও তার সন্তানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করা ও কষ্ট দেওয়া যাবে না। আর (বাচ্চার পিতার অবর্তমানে ) উত্তরাধিকারীরও রয়েছে (পিতার) অনুরূপ দায়িত্ব-কর্তব্য। কিন্তু যদি তারা পরস্পরের সম্মতি ও পরামর্শক্রমে দুধ পান বন্ধ রাখতে চায়, তবে তাদের কারো কোনো অপরাধ নেই। আর যদি তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে দুধ পান করাতে চাও, তাহলে যদি তোমরা প্রচলিত বিধি মোতাবেক তাদেরকে বিনিময় দিয়ে দাও, তবে তোমাদের কোনো পাপ নেই। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো, তোমরা যা কিছু করো নিশ্চয় আল্লাহ তা প্রত্যক্ষকারী।

  234. ২৩৪

    وَٱلَّذِينَ يُتَوَفَّوۡنَ مِنكُمۡ وَيَذَرُونَ أَزۡوَٰجٗا يَتَرَبَّصۡنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرۡبَعَةَ أَشۡهُرٖ وَعَشۡرٗاۖ فَإِذَا بَلَغۡنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيۡكُمۡ فِيمَا فَعَلۡنَ فِيٓ أَنفُسِهِنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٞ

    আর তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তাদের স্ত্রীগণ চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে (ইদ্দত পালন করবে)। অতঃপর যখন তারা তাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করবে, তখন বিধিসম্মতভাবে নিজেদের ব্যাপারে (বিয়ে করা বা না করা) যে সিদ্ধান্ত নেবে, তাতে তোমাদের কোনো পাপ নেই। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।

  235. ২৩৫

    وَلَا جُنَاحَ عَلَيۡكُمۡ فِيمَا عَرَّضۡتُم بِهِۦ مِنۡ خِطۡبَةِ ٱلنِّسَآءِ أَوۡ أَكۡنَنتُمۡ فِيٓ أَنفُسِكُمۡۚ عَلِمَ ٱللَّهُ أَنَّكُمۡ سَتَذۡكُرُونَهُنَّ وَلَٰكِن لَّا تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا إِلَّآ أَن تَقُولُواْ قَوۡلٗا مَّعۡرُوفٗاۚ وَلَا تَعۡزِمُواْ عُقۡدَةَ ٱلنِّكَاحِ حَتَّىٰ يَبۡلُغَ ٱلۡكِتَٰبُ أَجَلَهُۥۚ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُ مَا فِيٓ أَنفُسِكُمۡ فَٱحۡذَرُوهُۚ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ حَلِيمٞ

    আর যদি তোমরা ইশারা-ইঙ্গিতে (বায়িন তালাক ও মৃত্যুর ইদ্দত পালনকারী) নারীদের বিয়ের প্রস্তাব দাও বা তোমাদের অন্তরে গোপন রাখো, তবে তোমাদের কোনো পাপ নেই। আল্লাহ জানেন যে, তোমরা তাদের সম্বন্ধে অবশ্যই আলোচনা করবে; কিন্তু বিধিমত কথাবার্তা ছাড়া গোপনে তাদের সাথে কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখো না; এবং নির্দিষ্ট কাল (ইদ্দত) পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার দৃঢ় সংকল্প করো না। আর জেনে রাখো , নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের অন্তরে যা আছে, তা জানেন। কাজেই তাঁকে ভয় করো। আর একথাও জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাপরায়ণ, পরম সহনশীল।

  236. ২৩৬

    لَّا جُنَاحَ عَلَيۡكُمۡ إِن طَلَّقۡتُمُ ٱلنِّسَآءَ مَا لَمۡ تَمَسُّوهُنَّ أَوۡ تَفۡرِضُواْ لَهُنَّ فَرِيضَةٗۚ وَمَتِّعُوهُنَّ عَلَى ٱلۡمُوسِعِ قَدَرُهُۥ وَعَلَى ٱلۡمُقۡتِرِ قَدَرُهُۥ مَتَٰعَۢا بِٱلۡمَعۡرُوفِۖ حَقًّا عَلَى ٱلۡمُحۡسِنِينَ

    যদি তোমরা স্ত্রীদেরকে স্পর্শ না করে অথবা মাহর নির্ধারণ না করেই তালাক দাও, তবে তোমাদের কোনো অপরাধ নেই। কিন্তু তোমরা তাদেরকে ন্যায়ানুগ পন্থায় কিছু অর্থ-সামগ্রী দিবে। সচ্ছল ব্যক্তি দিবে তার স্বচ্ছলতা অনুযায়ী এবং অসচ্ছল ব্যক্তি দিবে তার সামর্থ্য অনুযায়ী। এটা মুহসিন সৎকর্মশীল লোকদের ওপর কর্তব্য।

  237. ২৩৭

    وَإِن طَلَّقۡتُمُوهُنَّ مِن قَبۡلِ أَن تَمَسُّوهُنَّ وَقَدۡ فَرَضۡتُمۡ لَهُنَّ فَرِيضَةٗ فَنِصۡفُ مَا فَرَضۡتُمۡ إِلَّآ أَن يَعۡفُونَ أَوۡ يَعۡفُوَاْ ٱلَّذِي بِيَدِهِۦ عُقۡدَةُ ٱلنِّكَاحِۚ وَأَن تَعۡفُوٓاْ أَقۡرَبُ لِلتَّقۡوَىٰۚ وَلَا تَنسَوُاْ ٱلۡفَضۡلَ بَيۡنَكُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ بِمَا تَعۡمَلُونَ بَصِيرٌ

    আর তোমরা যদি তাদেরকে স্পর্শ করার আগে তালাক দাও; অথচ তাদের জন্য মাহর ধার্য করে থাকো, তাহলে যা তোমরা ধার্য করেছ তার অর্ধেক । তবে তারা যদি (অর্ধেক মাহর) না নিয়ে (স্বামীকে) ক্ষমা করে দেয় অথবা যার হাতে বিয়ের বন্ধন রয়েছে (১) সে অনুগ্রহ করতে চায় (সেটা ভিন্ন কথা)। তবে মাফ করে দেয়াই তাকওয়ার নিকটতর। আর তোমরা নিজেদের মধ্যে অনুগ্রহের কথা ভুলে যেও না। তোমরা যা করো, নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  238. ২৩৮

    حَٰفِظُواْ عَلَى ٱلصَّلَوَٰتِ وَٱلصَّلَوٰةِ ٱلۡوُسۡطَىٰ وَقُومُواْ لِلَّهِ قَٰنِتِينَ

    তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হও, (১) বিশেষত মধ্যবর্তী সালাতের (২) এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা বিনীতভাবে দাঁড়াবে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  239. ২৩৯

    فَإِنۡ خِفۡتُمۡ فَرِجَالًا أَوۡ رُكۡبَانٗاۖ فَإِذَآ أَمِنتُمۡ فَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ كَمَا عَلَّمَكُم مَّا لَمۡ تَكُونُواْ تَعۡلَمُونَ

    কিন্তু যদি তোমরা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে থাকো, তবে পদচারী বা আরোহী অবস্থায় । অতঃপর যখন নিরাপদ হবে তখন আল্লাহর স্মরণ করো সেভাবে, যেভাবে তিনি তোমাদেরকে শিখিয়েছেন, যা তোমরা জানতে না।

  240. ২৪০

    وَٱلَّذِينَ يُتَوَفَّوۡنَ مِنكُمۡ وَيَذَرُونَ أَزۡوَٰجٗا وَصِيَّةٗ لِّأَزۡوَٰجِهِم مَّتَٰعًا إِلَى ٱلۡحَوۡلِ غَيۡرَ إِخۡرَاجٖۚ فَإِنۡ خَرَجۡنَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيۡكُمۡ فِي مَا فَعَلۡنَ فِيٓ أَنفُسِهِنَّ مِن مَّعۡرُوفٖۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٞ

    আর তোমাদের মধ্যে যারা নিজের মৃত্যু আসন্ন অনুভব করবে এবং স্ত্রীদেরকে রেখে যাবে, তারা যেন তাদের স্ত্রীদেরকে তাদের ঘর-বাড়ী থেকে বের না করে তাদের এক বছরের ভরণ-পোষণের অসিয়াত (ওয়ারিশদেরকে) করে যায়।(১) কিন্তু তারা যদি নিজেরাই বের হয়ে যায়, তবে বিধিমত তারা নিজেদের জন্য যা করবে তাতে তোমাদের কোনো পাপ নেই। আর আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  241. ২৪১

    وَلِلۡمُطَلَّقَٰتِ مَتَٰعُۢ بِٱلۡمَعۡرُوفِۖ حَقًّا عَلَى ٱلۡمُتَّقِينَ

    আর তালাকপ্রাপ্তা নারীদের ন্যায়সংগত ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা মুত্তাকীদের কর্তব্য।

  242. ২৪২

    كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمۡ ءَايَٰتِهِۦ لَعَلَّكُمۡ تَعۡقِلُونَ

    এভাবে আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ তোমাদের সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা বুঝতে পারো।

  243. ২৪৩

    ۞ أَلَمۡ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ خَرَجُواْ مِن دِيَٰرِهِمۡ وَهُمۡ أُلُوفٌ حَذَرَ ٱلۡمَوۡتِ فَقَالَ لَهُمُ ٱللَّهُ مُوتُواْ ثُمَّ أَحۡيَٰهُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَذُو فَضۡلٍ عَلَى ٱلنَّاسِ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَشۡكُرُونَ

    তুমি কি তাদের(১) (পরিণতি) দেখো নি যারা মৃত্যুভয়ে হাজারে হাজারে স্বীয় আবাসাভুমি পরিত্যাগ করেছিল? অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে বলেছিলেন: ‘তোমরা মরে যাও।’ তারপর আল্লাহ তাদেরকে জীবিত করেছিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  244. ২৪৪

    وَقَٰتِلُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٞ

    আর তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো এবং জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

  245. ২৪৫

    مَّن ذَا ٱلَّذِي يُقۡرِضُ ٱللَّهَ قَرۡضًا حَسَنٗا فَيُضَٰعِفَهُۥ لَهُۥٓ أَضۡعَافٗا كَثِيرَةٗۚ وَٱللَّهُ يَقۡبِضُ وَيَبۡصُۜطُ وَإِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ

    তোমাদের মধ্যে কে আছে যে আল্লাহকে করযে হাসানা প্রদান করবে? ফলে তিনি তা বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিবেন। আর আল্লাহ সংকুচিত ও সম্প্রসারিত করেন এবং তাঁর দিকেই তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তিত করা হবে।

  246. ২৪৬

    أَلَمۡ تَرَ إِلَى ٱلۡمَلَإِ مِنۢ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ مِنۢ بَعۡدِ مُوسَىٰٓ إِذۡ قَالُواْ لِنَبِيّٖ لَّهُمُ ٱبۡعَثۡ لَنَا مَلِكٗا نُّقَٰتِلۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِۖ قَالَ هَلۡ عَسَيۡتُمۡ إِن كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلۡقِتَالُ أَلَّا تُقَٰتِلُواْۖ قَالُواْ وَمَا لَنَآ أَلَّا نُقَٰتِلَ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَقَدۡ أُخۡرِجۡنَا مِن دِيَٰرِنَا وَأَبۡنَآئِنَاۖ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيۡهِمُ ٱلۡقِتَالُ تَوَلَّوۡاْ إِلَّا قَلِيلٗا مِّنۡهُمۡۚ وَٱللَّهُ عَلِيمُۢ بِٱلظَّٰلِمِينَ

    তুমি কি মুসার পরবর্তী বানূ ইসরাইল নেতাদের দেখনি? তারা যখন তাদের নবীকে বলেছিল: ‘আমাদের জন্য একজন বাদশাহ নিযুক্ত করুন, যাতে আমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতে পারি।’ তিনি বললেন: ‘এমন তো হবে না যে, তোমাদের প্রতি যুদ্ধ ফরয করলে তখন তোমরা আর যুদ্ধ করবে না?’ তারা বলল: ‘কেন আমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করব না? অথচ আমাদেরকে আমাদের আবাসভূমি ও স্বীয় সন্তান-সন্ততি হতে বহিষ্কার করা হয়েছে।’ অতঃপর যখন তাদের প্রতি যুদ্ধ ফরয করা হলো, তখন তাদের কিছুসংখ্যক লোক ছাড়া সবাই পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলো। আর আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে সবিশেষ জ্ঞানী।

  247. ২৪৭

    وَقَالَ لَهُمۡ نَبِيُّهُمۡ إِنَّ ٱللَّهَ قَدۡ بَعَثَ لَكُمۡ طَالُوتَ مَلِكٗاۚ قَالُوٓاْ أَنَّىٰ يَكُونُ لَهُ ٱلۡمُلۡكُ عَلَيۡنَا وَنَحۡنُ أَحَقُّ بِٱلۡمُلۡكِ مِنۡهُ وَلَمۡ يُؤۡتَ سَعَةٗ مِّنَ ٱلۡمَالِۚ قَالَ إِنَّ ٱللَّهَ ٱصۡطَفَىٰهُ عَلَيۡكُمۡ وَزَادَهُۥ بَسۡطَةٗ فِي ٱلۡعِلۡمِ وَٱلۡجِسۡمِۖ وَٱللَّهُ يُؤۡتِي مُلۡكَهُۥ مَن يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٞ

    আর তাদের নবী তাদেরকে বলেছিল: ‘আল্লাহ তালূতকে তোমাদের জন্যে বাদশাহ করে পাঠিয়েছেন।’ তারা বললো: ‘আমাদের উপর তাঁর রাজত্ব কিভাবে হবে? অথচ আমরা তো তাঁর চেয়ে রাজত্ব লাভের বেশি হকদার। তাছাড়া তাকে প্রচুর ঐশ্বর্যও দেয়া হয়নি!’ সে বলল: ‘আল্লাহ অবশ্যই তাঁকে তোমাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তিনি তাঁকে জ্ঞানে ও দৈহিকভাবে সমৃদ্ধ করেছেন।’ আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে স্বীয় রাজত্ব দান করেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞানী।

  248. ২৪৮

    وَقَالَ لَهُمۡ نَبِيُّهُمۡ إِنَّ ءَايَةَ مُلۡكِهِۦٓ أَن يَأۡتِيَكُمُ ٱلتَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٞ مِّن رَّبِّكُمۡ وَبَقِيَّةٞ مِّمَّا تَرَكَ ءَالُ مُوسَىٰ وَءَالُ هَٰرُونَ تَحۡمِلُهُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَةٗ لَّكُمۡ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ

    আর তাদের নবী তাদেরকে আরো বলেছিল: তার রাজত্বের নিদর্শন হলো: ‘তিনি তোমাদের নিকট সেই তাবূত (হারানো সিন্ধুক) ফিরিয়ে নিয়ে আসবেন, যাতে রয়েছে তোমাদের রবের নিকট হতে প্রশান্তি, আরও রয়েছে মুসা ও হারুন এর পরিবারের পরিত্যক্ত কিছু জিনিসপত্র।(১) ফিরিশতাগণ তা বহন করে আনবে। তোমরা যদি মু’মিন হও, তবে নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য এতে রয়েছে নিদর্শন।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  249. ২৪৯

    فَلَمَّا فَصَلَ طَالُوتُ بِٱلۡجُنُودِ قَالَ إِنَّ ٱللَّهَ مُبۡتَلِيكُم بِنَهَرٖ فَمَن شَرِبَ مِنۡهُ فَلَيۡسَ مِنِّي وَمَن لَّمۡ يَطۡعَمۡهُ فَإِنَّهُۥ مِنِّيٓ إِلَّا مَنِ ٱغۡتَرَفَ غُرۡفَةَۢ بِيَدِهِۦۚ فَشَرِبُواْ مِنۡهُ إِلَّا قَلِيلٗا مِّنۡهُمۡۚ فَلَمَّا جَاوَزَهُۥ هُوَ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَعَهُۥ قَالُواْ لَا طَاقَةَ لَنَا ٱلۡيَوۡمَ بِجَالُوتَ وَجُنُودِهِۦۚ قَالَ ٱلَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَٰقُواْ ٱللَّهِ كَم مِّن فِئَةٖ قَلِيلَةٍ غَلَبَتۡ فِئَةٗ كَثِيرَةَۢ بِإِذۡنِ ٱللَّهِۗ وَٱللَّهُ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ

    তারপর তালূত যখন সেনাবাহিনীসহ বের হল তখন সে বলল, ‘আল্লাহ এক নদীর দ্বারা তোমাদের পরীক্ষা করবেন।(১) যে তা থেকে পানি পান করবে , সে আমাদের দলভুক্ত নয়; আর যে তার স্বাদ গ্রহণ করবে না সে আমার দলভুক্ত। তবে যে ব্যক্তি তার হাতে এক অঞ্জলি পরিমাণ পানি গ্রহণ করবে তার কথা ভিন্ন।’ অতঃপর অল্প সংখ্যক ছাড়া তারা তা থেকে পানি পান করল। সে এবং তার সঙ্গী ঈমানদারগণ যখন তা অতিক্রম করল, তখন তারা বলল: ‘জালূত ও তার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো শক্তি আজ আমাদের নেই। কিন্তু যাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, আল্লাহর সাথে তাদের সাক্ষাৎ হবে, তারা বলল: ‘ আল্লাহর হুকুমে কত ক্ষুদ্র দল কত বৃহৎ দলকে পরাজিত করেছে!’ আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথেই রয়েছেন।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  250. ২৫০

    وَلَمَّا بَرَزُواْ لِجَالُوتَ وَجُنُودِهِۦ قَالُواْ رَبَّنَآ أَفۡرِغۡ عَلَيۡنَا صَبۡرٗا وَثَبِّتۡ أَقۡدَامَنَا وَٱنصُرۡنَا عَلَى ٱلۡقَوۡمِ ٱلۡكَٰفِرِينَ

    আর তারা যখন যুদ্ধের জন্যে জালূত ও তার সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হলো তখন তারা বললো: ‘হে আমাদের রব! আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন, আমাদের পা অবিচলিত রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।’

  251. ২৫১

    فَهَزَمُوهُم بِإِذۡنِ ٱللَّهِ وَقَتَلَ دَاوُۥدُ جَالُوتَ وَءَاتَىٰهُ ٱللَّهُ ٱلۡمُلۡكَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَعَلَّمَهُۥ مِمَّا يَشَآءُۗ وَلَوۡلَا دَفۡعُ ٱللَّهِ ٱلنَّاسَ بَعۡضَهُم بِبَعۡضٖ لَّفَسَدَتِ ٱلۡأَرۡضُ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ ذُو فَضۡلٍ عَلَى ٱلۡعَٰلَمِينَ

    অতঃপর তারা (তালূতের বাহিনী ) আল্লাহর হুকুমে তাদেরকে ) পরাজিত করলো এবং দাঊদ জালূতকে হত্যা করল। আর আল্লাহ তাঁকে রাজত্ব ও হিকমত (নবুওয়াত) দান করলেন এবং তিনি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে শিক্ষা দিলেন। আর আল্লাহ যদি মানুষের এক দলকে অন্য দল দ্বারা দমন না করতেন, তবে পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে যেতো। কিন্তু আল্লাহ বিশ্ববাসীর উপর অত্যন্ত দয়াশীল।

  252. ২৫২

    تِلۡكَ ءَايَٰتُ ٱللَّهِ نَتۡلُوهَا عَلَيۡكَ بِٱلۡحَقِّۚ وَإِنَّكَ لَمِنَ ٱلۡمُرۡسَلِينَ

    (হে নবী!) এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি যথাযথভাবে তোমার কাছে তিলাওয়াত করে শুনাচ্ছি। আর নিশ্চয়ই তুমি প্রেরিত রাসুলগণের একজন।

  253. ২৫৩

    ۞ تِلۡكَ ٱلرُّسُلُ فَضَّلۡنَا بَعۡضَهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٖۘ مِّنۡهُم مَّن كَلَّمَ ٱللَّهُۖ وَرَفَعَ بَعۡضَهُمۡ دَرَجَٰتٖۚ وَءَاتَيۡنَا عِيسَى ٱبۡنَ مَرۡيَمَ ٱلۡبَيِّنَٰتِ وَأَيَّدۡنَٰهُ بِرُوحِ ٱلۡقُدُسِۗ وَلَوۡ شَآءَ ٱللَّهُ مَا ٱقۡتَتَلَ ٱلَّذِينَ مِنۢ بَعۡدِهِم مِّنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡهُمُ ٱلۡبَيِّنَٰتُ وَلَٰكِنِ ٱخۡتَلَفُواْ فَمِنۡهُم مَّنۡ ءَامَنَ وَمِنۡهُم مَّن كَفَرَۚ وَلَوۡ شَآءَ ٱللَّهُ مَا ٱقۡتَتَلُواْ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يَفۡعَلُ مَا يُرِيدُ

    সেইসব রাসুল, আমি তাদের কাউকে কারো ওপর (ওহী, অনুসারীর সংখ্যা ও মর্যাদাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে) শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছেন যার সাথে আল্লাহ স্বয়ং কথা বলেছেন(১), আবার কাউকে তিনি উঁচু মর্যাদায় উন্নীত করেছেন।(২) আর মারইয়াম পুত্র ‘ঈসাকে আমি সুস্পষ্ট প্রমাণাদি(৩) প্রদান করেছি এবং রুহুল কুদুস (জিবরাঈল) দ্বারা তাকে শক্তিশালী করেছি। আর আল্লাহ ইচ্ছে করলে তাদের পরবর্তীরা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পরও পারস্পরিক যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না; কিন্তু তারা মতভেদ করলো।(৪) ফলে তাদের কেউ কেউ ঈমান আনল এবং কেউ কেউ কুফরী করলো। আর আল্লাহ চাইলে তারা পারস্পরিক যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না; কিন্তু আল্লাহ (তাঁর ইনসাফ ও হিকমতের ভিত্তিতে) যা ইচ্ছা তা-ই করেন।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  254. ২৫৪

    يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَنفِقُواْ مِمَّا رَزَقۡنَٰكُم مِّن قَبۡلِ أَن يَأۡتِيَ يَوۡمٞ لَّا بَيۡعٞ فِيهِ وَلَا خُلَّةٞ وَلَا شَفَٰعَةٞۗ وَٱلۡكَٰفِرُونَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ

    হে মুমিনগণ! আমি তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে তোমরা (আমার পথে) ব্যয় করো, সেদিন আসার পূর্বে যেদিন ক্রয়-বিক্রয়, বন্ধুত্ব ও সুপারিশ (কিছুয়ই) থাকবে না। আর কাফিররাই হলো যালিম।

  255. ২৫৫

    ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ

    আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার রক্ষণাবেক্ষণকারী, ধারক(১)। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও না। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমিনে যা রয়েছে সবই তাঁর । এমন কে আছে , যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে ? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তিনি তা সবই জানেন। আর তিনি যা ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই আয়ত্ত্ব করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’(২) আসমানসমূহ ও যমিনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত করে না। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  256. ২৫৬

    لَآ إِكۡرَاهَ فِي ٱلدِّينِۖ قَد تَّبَيَّنَ ٱلرُّشۡدُ مِنَ ٱلۡغَيِّۚ فَمَن يَكۡفُرۡ بِٱلطَّٰغُوتِ وَيُؤۡمِنۢ بِٱللَّهِ فَقَدِ ٱسۡتَمۡسَكَ بِٱلۡعُرۡوَةِ ٱلۡوُثۡقَىٰ لَا ٱنفِصَامَ لَهَاۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

    দীন গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই। ভ্রান্ত পথ থেকে সত্য-সঠিক পথ সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। অতএব, যে তাগূতকে(১) অস্বীকার করবে ও আল্লাহর উপর ঈমান আনবে, সে এমন এক শক্তিশালী রশি ধরলো, যা কখনো ছিঁড়ে যাবে না। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  257. ২৫৭

    ٱللَّهُ وَلِيُّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ يُخۡرِجُهُم مِّنَ ٱلظُّلُمَٰتِ إِلَى ٱلنُّورِۖ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ أَوۡلِيَآؤُهُمُ ٱلطَّٰغُوتُ يُخۡرِجُونَهُم مِّنَ ٱلنُّورِ إِلَى ٱلظُّلُمَٰتِۗ أُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ

    যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক।(১) তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে নিয়ে আসেন। অপরদিকে, যারা কুফরী করে, তাদের অভিভাবক হলো তাগূত। এরা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারে নিয়ে যায়। তারাই জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  258. ২৫৮

    أَلَمۡ تَرَ إِلَى ٱلَّذِي حَآجَّ إِبۡرَٰهِـۧمَ فِي رَبِّهِۦٓ أَنۡ ءَاتَىٰهُ ٱللَّهُ ٱلۡمُلۡكَ إِذۡ قَالَ إِبۡرَٰهِـۧمُ رَبِّيَ ٱلَّذِي يُحۡيِۦ وَيُمِيتُ قَالَ أَنَا۠ أُحۡيِۦ وَأُمِيتُۖ قَالَ إِبۡرَٰهِـۧمُ فَإِنَّ ٱللَّهَ يَأۡتِي بِٱلشَّمۡسِ مِنَ ٱلۡمَشۡرِقِ فَأۡتِ بِهَا مِنَ ٱلۡمَغۡرِبِ فَبُهِتَ ٱلَّذِي كَفَرَۗ وَٱللَّهُ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلظَّٰلِمِينَ

    তুমি কি সে ব্যক্তির অবস্থা লক্ষ্য করোনি, যে ইবরাহীমের সাথে তাঁর রবের সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিলো। যেহেতু আল্লাহ তাকে রাজত্ব দিয়েছিলেন। যখন ইবরাহীম বললো: ‘আমার রব তিনিই, যিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। সে বললো: ‘আমিও তো জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই।(১) ইবরাহীম বললো: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন। সুতরাং তুমি পারলে সেটাকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত করে দেখাও তো। এ কথা শুনে কাফিরটি হতভম্ব হয়ে গেলো। আসলে আল্লাহ যালিম সম্প্রয়ায়কে হিদায়াত করেন না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  259. ২৫৯

    أَوۡ كَٱلَّذِي مَرَّ عَلَىٰ قَرۡيَةٖ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّىٰ يُحۡيِۦ هَٰذِهِ ٱللَّهُ بَعۡدَ مَوۡتِهَاۖ فَأَمَاتَهُ ٱللَّهُ مِاْئَةَ عَامٖ ثُمَّ بَعَثَهُۥۖ قَالَ كَمۡ لَبِثۡتَۖ قَالَ لَبِثۡتُ يَوۡمًا أَوۡ بَعۡضَ يَوۡمٖۖ قَالَ بَل لَّبِثۡتَ مِاْئَةَ عَامٖ فَٱنظُرۡ إِلَىٰ طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمۡ يَتَسَنَّهۡۖ وَٱنظُرۡ إِلَىٰ حِمَارِكَ وَلِنَجۡعَلَكَ ءَايَةٗ لِّلنَّاسِۖ وَٱنظُرۡ إِلَى ٱلۡعِظَامِ كَيۡفَ نُنشِزُهَا ثُمَّ نَكۡسُوهَا لَحۡمٗاۚ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُۥ قَالَ أَعۡلَمُ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ

    অথবা সে ব্যক্তির বিষয়টি কি লক্ষ্য করোনি, যে এমন এক জনপদ অতিক্রম করেছিল, যা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে পড়েছিলো? সে বলল: ‘মৃত্যুর পর কীভাবে আল্লাহ এ জনপদের অধিবাসীদেরকে জীবিত করবেন? তারপর আল্লাহ তাকে শত বছর মৃত রাখলেন। অতঃপর তাকে পুনর্জীবিত করলেন। আল্লাহ্‌ বললেন: ‘ তুমি কত বছর মৃত অবস্থায় ছিলে?’ সে বললো: ‘একদিন বা একদিনেরও কিছু কম অবস্থান করেছি।’ তিনি বললেন: ‘বরং তুমিএকশত বছর অবস্থান করেছো। সুতরাং তুমি তোমার খাদ্যসামগ্রী ও পানীয় বস্তুর দিকে লক্ষ্য করো, সেগুলো পরিবর্তন হয়নি এবং লক্ষ্য করো তোমার গাধাটির দিকে। আর যাতে আমি তোমাকে মানুষের পুনর্জীবন সম্পর্কে নিদর্শন বানাতে পারি। আর হাড়গুলোর দিকে লক্ষ্য করো; কীভাবে সেগুলোকে সংযোজিত করি এবং গোশত দ্বারা ঢেকে দেই।’ অতঃপর যখন তার নিকট স্পষ্ট হলো তখন সে বললো: ‘আমি জানি নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।’

  260. ২৬০

    وَإِذۡ قَالَ إِبۡرَٰهِـۧمُ رَبِّ أَرِنِي كَيۡفَ تُحۡيِ ٱلۡمَوۡتَىٰۖ قَالَ أَوَلَمۡ تُؤۡمِنۖ قَالَ بَلَىٰ وَلَٰكِن لِّيَطۡمَئِنَّ قَلۡبِيۖ قَالَ فَخُذۡ أَرۡبَعَةٗ مِّنَ ٱلطَّيۡرِ فَصُرۡهُنَّ إِلَيۡكَ ثُمَّ ٱجۡعَلۡ عَلَىٰ كُلِّ جَبَلٖ مِّنۡهُنَّ جُزۡءٗا ثُمَّ ٱدۡعُهُنَّ يَأۡتِينَكَ سَعۡيٗاۚ وَٱعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٞ

    (হে নবী! তুমি স্মরণ কর) যখন ইবরাহীম বললো: ‘হে আমার রব! কীভাবে আপনি মৃতকে জীবিত করেন, সেটা আমাকে দেখান? তিনি বললেন: ‘তবে তুমি কি এ ব্যাপারটিকে বিশ্বাস করো না?’ সে বলল: ‘অবশ্যই হ্যাঁ; কিন্তু আমার মনের প্রশান্তি অর্জনের জন্যে।’ আল্লাহ বললেন: ‘তবে চারটি পাখি নাও এবং তাদেরকে তোমার কাছে রেখে বশীভূত কর। তারপরএক একটি টুকরো এক এক পাহাড়ে রেখে আস। তারপর সেগুলোকে) ডাক। সেগুলো তোমার নিকট দ্রুত দৌড়ে আসবে। আর জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

  261. ২৬১

    مَّثَلُ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمۡوَٰلَهُمۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنۢبَتَتۡ سَبۡعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنۢبُلَةٖ مِّاْئَةُ حَبَّةٖۗ وَٱللَّهُ يُضَٰعِفُ لِمَن يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ

    যারা নিজেদের ধন সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের উপমা একটি বীজের মতো, যা সাতটি শিষ উৎপাদন করে। প্রত্যেক শিষে রয়েছে একশ শস্যদানা। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছে বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। আর আল্লাহ মহা প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞানী।

  262. ২৬২

    ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمۡوَٰلَهُمۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ ثُمَّ لَا يُتۡبِعُونَ مَآ أَنفَقُواْ مَنّٗا وَلَآ أَذٗى لَّهُمۡ أَجۡرُهُمۡ عِندَ رَبِّهِمۡ وَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ

    যারা আল্লাহর রাস্তায় তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, অতঃপর তারা যা ব্যয় করেছে, তার জন্যে খোঁটা দেয় না এবং কোন কষ্টও দেয় না। তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের নিকট প্রতিদান এবং তাদের কোন ভয় নেই, আর তারা চিন্তিতও হবে না।

  263. ২৬৩

    ۞ قَوۡلٞ مَّعۡرُوفٞ وَمَغۡفِرَةٌ خَيۡرٞ مِّن صَدَقَةٖ يَتۡبَعُهَآ أَذٗىۗ وَٱللَّهُ غَنِيٌّ حَلِيمٞ

    উত্তম কথা ও ক্ষমা প্রদর্শন সে দানের চেয়ে অনেক ভালো, যে দানের পর কষ্ট দেয়া হয় (১)। আর আল্লাহ অভাবমুক্ত, সহনশীল।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  264. ২৬৪

    يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تُبۡطِلُواْ صَدَقَٰتِكُم بِٱلۡمَنِّ وَٱلۡأَذَىٰ كَٱلَّذِي يُنفِقُ مَالَهُۥ رِئَآءَ ٱلنَّاسِ وَلَا يُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۖ فَمَثَلُهُۥ كَمَثَلِ صَفۡوَانٍ عَلَيۡهِ تُرَابٞ فَأَصَابَهُۥ وَابِلٞ فَتَرَكَهُۥ صَلۡدٗاۖ لَّا يَقۡدِرُونَ عَلَىٰ شَيۡءٖ مِّمَّا كَسَبُواْۗ وَٱللَّهُ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلۡكَٰفِرِينَ

    হে মুমিনগণ! সাদাকা করে খোটা এবং কষ্ট দিয়ে তোমরা তোমাদের সাদাকাকে ঐ ব্যক্তির মতো বরবাদ করো না যে নিজের সম্পদ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যয় করে এবং আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে না। এ ধরনের সাদাকাকারীর উপমা হলো এমন একটি মসৃণ পাথর, যার উপর সামান্য মাটির আস্তর থাকে, তারপর প্রবল বৃষ্টিপাত সেটাকে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দেয়। তারা যা (দান সাদাকা করে) উপার্জন করে তার কিছুই তারা তাদের কাজে লাগাতে পারে না।(১) আর আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  265. ২৬৫

    وَمَثَلُ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمۡوَٰلَهُمُ ٱبۡتِغَآءَ مَرۡضَاتِ ٱللَّهِ وَتَثۡبِيتٗا مِّنۡ أَنفُسِهِمۡ كَمَثَلِ جَنَّةِۭ بِرَبۡوَةٍ أَصَابَهَا وَابِلٞ فَـَٔاتَتۡ أُكُلَهَا ضِعۡفَيۡنِ فَإِن لَّمۡ يُصِبۡهَا وَابِلٞ فَطَلّٞۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ بَصِيرٌ

    যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ও নিজেদেরকে সুদৃঢ় রাখার লক্ষ্যে ধন-সম্পদ ব্যয় করে তাদের উপমা কোনো উঁচুভূমিতে অবস্থিত একটি উদ্যান, যেখানে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়, ফলে তার ফলন হয় দ্বিগুণ। আর যদি মুষলধারে বৃষ্টিপাত নাও হয়, তবে হালকা বৃষ্টিপাতই যথেষ্ট( ১)। আর তোমরা যা আমল করো, সে ব্যাপারে আল্লাহ সম্যক দ্রষ্টা।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  266. ২৬৬

    أَيَوَدُّ أَحَدُكُمۡ أَن تَكُونَ لَهُۥ جَنَّةٞ مِّن نَّخِيلٖ وَأَعۡنَابٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ لَهُۥ فِيهَا مِن كُلِّ ٱلثَّمَرَٰتِ وَأَصَابَهُ ٱلۡكِبَرُ وَلَهُۥ ذُرِّيَّةٞ ضُعَفَآءُ فَأَصَابَهَآ إِعۡصَارٞ فِيهِ نَارٞ فَٱحۡتَرَقَتۡۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمُ ٱلۡأٓيَٰتِ لَعَلَّكُمۡ تَتَفَكَّرُونَ

    তোমাদের কেউ কি পছন্দ করবে যে, তার থাকবে একটি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত থাকবে অনেকগুলো ঝর্ণাধারা এবং যেখানে তার জন্য থাকবে সব ধরনের ফল-ফলাদি। ইতোমধ্যে সে বার্ধক্যে উপনীত হলো (১) এমন অবস্থায় যে, তার রয়েছে কতিপয় দুর্বল সন্তান-সন্ততি। এক অগ্নিবায়ু তার বাগানের উপর দিয়ে প্রবাহিত হলো, যাতে তা জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গেলো। (২) এভাবে আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ তোমাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা-ভাবনা করতে পারো।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  267. ২৬৭

    يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَنفِقُواْ مِن طَيِّبَٰتِ مَا كَسَبۡتُمۡ وَمِمَّآ أَخۡرَجۡنَا لَكُم مِّنَ ٱلۡأَرۡضِۖ وَلَا تَيَمَّمُواْ ٱلۡخَبِيثَ مِنۡهُ تُنفِقُونَ وَلَسۡتُم بِـَٔاخِذِيهِ إِلَّآ أَن تُغۡمِضُواْ فِيهِۚ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ

    হে মুমিনগণ! তোমরা হালাল ও পবিত্র বস্তু থেকে যা উপার্জন করো এবং আমি যা যমিন থেকে তোমাদের জন্য উৎপন্ন করি, তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করো। আর ব্যয়ের জন্য নিকৃষ্ট বস্তু বেছে নিও না; অথচ তোমরা নিজেরাও তা গ্রহণ করতে না, যদি না (বাধ্য হয়ে) চোখ বন্ধ করে তা গ্রহণ করতে। আর জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহ অভাবমুক্ত, সর্বপ্রশংসিত।(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  268. ২৬৮

    ٱلشَّيۡطَٰنُ يَعِدُكُمُ ٱلۡفَقۡرَ وَيَأۡمُرُكُم بِٱلۡفَحۡشَآءِۖ وَٱللَّهُ يَعِدُكُم مَّغۡفِرَةٗ مِّنۡهُ وَفَضۡلٗاۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٞ

    শয়তান তোমাদেরকে অভাব অনটনের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার নির্দেশ দেয়।(১) আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞানী।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  269. ২৬৯

    يُؤۡتِي ٱلۡحِكۡمَةَ مَن يَشَآءُۚ وَمَن يُؤۡتَ ٱلۡحِكۡمَةَ فَقَدۡ أُوتِيَ خَيۡرٗا كَثِيرٗاۗ وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّآ أُوْلُواْ ٱلۡأَلۡبَٰبِ

    তিনি যাকে ইচ্ছে হিকমত দান করেন। আর যাকে হিকমত প্রদান করা হয় তাকে তো প্রচুর কল্যাণ দান করা হয়। আর বিবেকসম্পন্নগণই (১) শুধু উপদেশ গ্রহণ করে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  270. ২৭০

    وَمَآ أَنفَقۡتُم مِّن نَّفَقَةٍ أَوۡ نَذَرۡتُم مِّن نَّذۡرٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ يَعۡلَمُهُۥۗ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِنۡ أَنصَارٍ

    আর তোমরা যা কিছু ব্যয় করো অথবা যে কোন মানত করো তা অবশ্যই আল্লাহ জানেন। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।

  271. ২৭১

    إِن تُبۡدُواْ ٱلصَّدَقَٰتِ فَنِعِمَّا هِيَۖ وَإِن تُخۡفُوهَا وَتُؤۡتُوهَا ٱلۡفُقَرَآءَ فَهُوَ خَيۡرٞ لَّكُمۡۚ وَيُكَفِّرُ عَنكُم مِّن سَيِّـَٔاتِكُمۡۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٞ

    তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান সাদাকা করো তবে তা ভালো; আর যদি গোপনে করো এবং অভাবী লোকদেরকে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও ভালো এবং এতে তিনি তোমাদের জন্য কিছু পাপ মোচন করবেন । আর তোমরা যে ‘আমলই করো, আল্লাহ তার খবর রাখেন।

  272. ২৭২

    ۞ لَّيۡسَ عَلَيۡكَ هُدَىٰهُمۡ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يَهۡدِي مَن يَشَآءُۗ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَلِأَنفُسِكُمۡۚ وَمَا تُنفِقُونَ إِلَّا ٱبۡتِغَآءَ وَجۡهِ ٱللَّهِۚ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ يُوَفَّ إِلَيۡكُمۡ وَأَنتُمۡ لَا تُظۡلَمُونَ

    তাদেরকে হিদায়াত করার দায়িত্ব তোমার নয় (১); বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছে হিদায়াত দেন। আর যে ধন-সম্পদ তোমরা ব্যয় করো, তা তোমাদের নিজেদের কল্যাণের জন্যেই। আর তোমরা তো শুধু আল্লাহর চেহারা দেখার জন্যই ব্যয় করে থাকো। আর তোমরা উত্তম কোনো কিছু ব্যয় করলে তার পুরস্কার তোমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি যুলম করা হবে না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  273. ২৭৩

    لِلۡفُقَرَآءِ ٱلَّذِينَ أُحۡصِرُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ لَا يَسۡتَطِيعُونَ ضَرۡبٗا فِي ٱلۡأَرۡضِ يَحۡسَبُهُمُ ٱلۡجَاهِلُ أَغۡنِيَآءَ مِنَ ٱلتَّعَفُّفِ تَعۡرِفُهُم بِسِيمَٰهُمۡ لَا يَسۡـَٔلُونَ ٱلنَّاسَ إِلۡحَافٗاۗ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٌ

    সেসব নিঃস্ব-অভাবী লোকেরা তোমাদের দান সাদাকা পাওয়ার প্রাপ্য; যারা আল্লাহর পথে নিজেদেরকে এমনভাবে ব্যাপৃত রাখে যে, যমিনে সফর করতে পারে না।আত্মসম্মানবোধে না চাওয়ার কারণে অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে সচ্ছল মনে করে। তুমি তাদের লক্ষণ দেখলেই চিনতে পারবে। তারা মানুষের কাছে কাকুতি মিনতি করে হাত পাতে না। আর যে ধন-সম্পদ তোমরা ব্যয় করো, নিশ্চয় আল্লাহ সে ব্যাপারে সবিশেষ জ্ঞানী।

  274. ২৭৪

    ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمۡوَٰلَهُم بِٱلَّيۡلِ وَٱلنَّهَارِ سِرّٗا وَعَلَانِيَةٗ فَلَهُمۡ أَجۡرُهُمۡ عِندَ رَبِّهِمۡ وَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ

    যারা নিজেদের ধন-সম্পদ রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তাদের প্রতিদান তাদের রবের নিকট রয়েছে। আর তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।

  275. ২৭৫

    ٱلَّذِينَ يَأۡكُلُونَ ٱلرِّبَوٰاْ لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ ٱلَّذِي يَتَخَبَّطُهُ ٱلشَّيۡطَٰنُ مِنَ ٱلۡمَسِّۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ قَالُوٓاْ إِنَّمَا ٱلۡبَيۡعُ مِثۡلُ ٱلرِّبَوٰاْۗ وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلۡبَيۡعَ وَحَرَّمَ ٱلرِّبَوٰاْۚ فَمَن جَآءَهُۥ مَوۡعِظَةٞ مِّن رَّبِّهِۦ فَٱنتَهَىٰ فَلَهُۥ مَا سَلَفَ وَأَمۡرُهُۥٓ إِلَى ٱللَّهِۖ وَمَنۡ عَادَ فَأُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ

    যারা সুদ খায় তারা দাঁড়াতে পারবে না, তবে দাঁড়াবে সে ব্যক্তির ন্যায় যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল বানিয়ে দেয়। এটা এ জন্য যে, তারা বলে, ‘ক্রয়-বিক্রয় তো সুদেরই মতোই।’ অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম। অতএব, যার নিকট তার রবের পক্ষ হতে উপদেশ আসার পর সে বিরত হলো, তাহলে অতীতে যা হয়েছে তা তারই এবং তার ব্যাপার আল্লাহর দায়িত্বে। আর যারা পুনরায় সুদ গ্রহণ করবে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।

  276. ২৭৬

    يَمۡحَقُ ٱللَّهُ ٱلرِّبَوٰاْ وَيُرۡبِي ٱلصَّدَقَٰتِۗ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ

    আল্লাহ সুদকে ধ্বংস করেন (১) এবং দানকে বর্ধিত করেন। আর আল্লাহ কোনো অধিক অকৃতজ্ঞ পাপিষ্ঠ ব্যক্তিদেরকে ভালোবাসেন না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  277. ২৭৭

    إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَأَقَامُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُاْ ٱلزَّكَوٰةَ لَهُمۡ أَجۡرُهُمۡ عِندَ رَبِّهِمۡ وَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ

    নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, সালাত কায়িম করেছে এবং যাকাত দিয়েছে, তাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের রবের নিকট। আর তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।

  278. ২৭৮

    يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَذَرُواْ مَا بَقِيَ مِنَ ٱلرِّبَوٰٓاْ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ

    হে মুমিনগণ! তোমরা (আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে) আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা (পুনরায় তলব না করে) ছেড়ে দাও; যদি তোমরা সত্যিই মুমিন হয়ে থাকো।

  279. ২৭৯

    فَإِن لَّمۡ تَفۡعَلُواْ فَأۡذَنُواْ بِحَرۡبٖ مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦۖ وَإِن تُبۡتُمۡ فَلَكُمۡ رُءُوسُ أَمۡوَٰلِكُمۡ لَا تَظۡلِمُونَ وَلَا تُظۡلَمُونَ

    অতঃপর যদি তোমরা না করো, (১) তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা গ্রহণ করো। আর যদি তোমরা তাওবা করো তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। তোমরা যুলম করবে না এবং তোমাদের ওপরও যুলম করা হবে না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  280. ২৮০

    وَإِن كَانَ ذُو عُسۡرَةٖ فَنَظِرَةٌ إِلَىٰ مَيۡسَرَةٖۚ وَأَن تَصَدَّقُواْ خَيۡرٞ لَّكُمۡ إِن كُنتُمۡ تَعۡلَمُونَ

    আর যদি ঋণগ্রহীতা অভাবগ্রস্ত হয়, তবে সচ্ছলতা পর্যন্ত তাকে সময় দাও। আর যদি তোমরা সাদকা করো, তবে তা তোমাদের জন্যেই কল্যাণকর; যদি তোমরা জানতে।

  281. ২৮১

    وَٱتَّقُواْ يَوۡمٗا تُرۡجَعُونَ فِيهِ إِلَى ٱللَّهِۖ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفۡسٖ مَّا كَسَبَتۡ وَهُمۡ لَا يُظۡلَمُونَ

    আর তোমরা সে দিনের শাস্তির ভয় করো, যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। তারপর প্রত্যেককেই তার কৃতকর্মের পুরোপুরি প্রতিদান প্রদান করা হবে। আর তাদের কাউকেই যুলম করা হবে না।

  282. ২৮২

    يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيۡنٍ إِلَىٰٓ أَجَلٖ مُّسَمّٗى فَٱكۡتُبُوهُۚ وَلۡيَكۡتُب بَّيۡنَكُمۡ كَاتِبُۢ بِٱلۡعَدۡلِۚ وَلَا يَأۡبَ كَاتِبٌ أَن يَكۡتُبَ كَمَا عَلَّمَهُ ٱللَّهُۚ فَلۡيَكۡتُبۡ وَلۡيُمۡلِلِ ٱلَّذِي عَلَيۡهِ ٱلۡحَقُّ وَلۡيَتَّقِ ٱللَّهَ رَبَّهُۥ وَلَا يَبۡخَسۡ مِنۡهُ شَيۡـٔٗاۚ فَإِن كَانَ ٱلَّذِي عَلَيۡهِ ٱلۡحَقُّ سَفِيهًا أَوۡ ضَعِيفًا أَوۡ لَا يَسۡتَطِيعُ أَن يُمِلَّ هُوَ فَلۡيُمۡلِلۡ وَلِيُّهُۥ بِٱلۡعَدۡلِۚ وَٱسۡتَشۡهِدُواْ شَهِيدَيۡنِ مِن رِّجَالِكُمۡۖ فَإِن لَّمۡ يَكُونَا رَجُلَيۡنِ فَرَجُلٞ وَٱمۡرَأَتَانِ مِمَّن تَرۡضَوۡنَ مِنَ ٱلشُّهَدَآءِ أَن تَضِلَّ إِحۡدَىٰهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحۡدَىٰهُمَا ٱلۡأُخۡرَىٰۚ وَلَا يَأۡبَ ٱلشُّهَدَآءُ إِذَا مَا دُعُواْۚ وَلَا تَسۡـَٔمُوٓاْ أَن تَكۡتُبُوهُ صَغِيرًا أَوۡ كَبِيرًا إِلَىٰٓ أَجَلِهِۦۚ ذَٰلِكُمۡ أَقۡسَطُ عِندَ ٱللَّهِ وَأَقۡوَمُ لِلشَّهَٰدَةِ وَأَدۡنَىٰٓ أَلَّا تَرۡتَابُوٓاْ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً حَاضِرَةٗ تُدِيرُونَهَا بَيۡنَكُمۡ فَلَيۡسَ عَلَيۡكُمۡ جُنَاحٌ أَلَّا تَكۡتُبُوهَاۗ وَأَشۡهِدُوٓاْ إِذَا تَبَايَعۡتُمۡۚ وَلَا يُضَآرَّ كَاتِبٞ وَلَا شَهِيدٞۚ وَإِن تَفۡعَلُواْ فَإِنَّهُۥ فُسُوقُۢ بِكُمۡۗ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ وَيُعَلِّمُكُمُ ٱللَّهُۗ وَٱللَّهُ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمٞ

    হে তোমরা যারা ঈমান এনেছ! তোমরা যখন একে অন্যের সাথে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণের চুক্তি করো তখন তা লিখে রাখো। তোমাদের মধ্যে যে কোনো লেখক যেন তা ন্যায়সঙ্গতভাবে লিখে দেয়। কোনো লেখক তা লিখতে অস্বীকার করবে না, যেমন আল্লাহ তাকে শিক্ষা দিয়েছেন। সুতরাং সে যেন লিখে দেয়। এবং যে ব্যক্তির উপর হক্ক রয়েছে সে যেন লেখার বিষয়বস্তু বলে দেয় এবং সে যেন তার রব আল্লাহকে ভয় করে এবং স্থিরকৃত কোন কিছুই যেন কম-বেশি না করে।(১) অতঃপর ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ (২) অথবা দুর্বল হয় অথবা লেখার বিষয়বস্তু বলে দেওয়ার যোগ্যতা না রাখে, তবে যেন তার অভিভাবক ন্যায়সঙ্গতভাবে লেখার বিষয়বস্তু বলে দেয়। আরতোমাদের পুরুষদের মধ্য হতে দু’জন সাক্ষী রাখো। অতঃপর যদি দু’জন পুরুষ পাওয়া না যায়, তবে একজন পুরুষ ও দু’জন স্ত্রীলোককে সাক্ষী রাখো, যাদেরকে (দীনদারিতা ও আমানতদারিতার বিবেচনায়) তোমরা সাক্ষী হিসেবে পছন্দ করো; যাতে স্ত্রীলোকদের মধ্যে একজন ভুলে গেলে তাদের একজন অপরজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আর সাক্ষীগণকে যখন ডাকা হবে তখন তারা যেন অস্বীকার না করে। আর তা ছোট-বড় যাই হোক, মেয়াদসহ লিখতে তোমরা কোনোরূপ অলসতা করো না। এটাই আল্লাহর নিকট ন্যায্যতার ও সাক্ষ্যদানের জন্য দৃঢ়তর এবং তোমাদের মধ্যে সন্দেহের উদ্রেক না হওয়ার জন্য অধিকতর উপযুক্ত। তবে তোমরা পরস্পর যে নগদ ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করো তা তোমরা না লিখলে কোনো দোষ নেই। আর তোমরা যখন পরস্পর বেচা-কেনা করো তখন সাক্ষী রেখো। আর কোনো লেখক ও সাক্ষীকে কষ্ট দেওয়া যাবে না। আর যদি তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করো, তবে তা হবে তোমাদের জন্যে একটি মারাত্মক গুনাহ। আর তোমরাআল্লাহকে ভয় করো এবং আল্লাহ তোমাদেরকে শিক্ষা দিবেন। আর আল্লাহ সকল বিষয়ে জ্ঞানী।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  283. ২৮৩

    ۞ وَإِن كُنتُمۡ عَلَىٰ سَفَرٖ وَلَمۡ تَجِدُواْ كَاتِبٗا فَرِهَٰنٞ مَّقۡبُوضَةٞۖ فَإِنۡ أَمِنَ بَعۡضُكُم بَعۡضٗا فَلۡيُؤَدِّ ٱلَّذِي ٱؤۡتُمِنَ أَمَٰنَتَهُۥ وَلۡيَتَّقِ ٱللَّهَ رَبَّهُۥۗ وَلَا تَكۡتُمُواْ ٱلشَّهَٰدَةَۚ وَمَن يَكۡتُمۡهَا فَإِنَّهُۥٓ ءَاثِمٞ قَلۡبُهُۥۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ عَلِيمٞ

    আর যদি তোমরা সফরে থাকো এবং কোনো লেখক না পাও, তবে হস্তান্তরযোগ্য বন্ধক রাখবে। অতঃপর তোমাদের একে অপরকে বিশ্বস্ত মনে করলে (১), যার কাছে আমানত রাখা হয়েছে সে যেন আমানত ফেরত দেয় এবং সে যেন তার রব আল্লাহকে ভয় করে। আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। আর যে কেউ তা গোপন করে অবশ্যই তার অন্তর পাপী। আর তোমরা যা-ই করোনা কেন, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  284. ২৮৪

    لِّلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ وَإِن تُبۡدُواْ مَا فِيٓ أَنفُسِكُمۡ أَوۡ تُخۡفُوهُ يُحَاسِبۡكُم بِهِ ٱللَّهُۖ فَيَغۡفِرُ لِمَن يَشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَآءُۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٌ

    আল্লাহর জন্যই আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু রয়েছে। তোমাদের মনে যা আছে তা প্রকাশ করো কিংবা গোপন রাখো, আল্লাহ সেগুলোর হিসেব তোমাদের কাছ থেকে নিবেন। অতঃপর তিনি যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছে শাস্তি দিবেন। আর আল্লাহ সবকিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

  285. ২৮৫

    ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّن رُّسُلِهِۦۚ وَقَالُواْ سَمِعۡنَا وَأَطَعۡنَاۖ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيۡكَ ٱلۡمَصِيرُ

    রাসূল (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তিনি তাতে ঈমান এনেছেন; আর মুমিনরাও ঈমান এনেছেন। তাদের প্রত্যেকেই আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান এনেছেন। (তারা বলে:) আমরা তাঁর কোনো রাসূলের মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে: আমরা শুনেছি ও আনুগত্য করেছি। হে আমাদের রব! আমরা আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার কাছেই আমাদের প্রত্যাবর্তন।

  286. ২৮৬

    لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَاۚ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَعَلَيۡهَا مَا ٱكۡتَسَبَتۡۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَآ إِن نَّسِينَآ أَوۡ أَخۡطَأۡنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تَحۡمِلۡ عَلَيۡنَآ إِصۡرٗا كَمَا حَمَلۡتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦۖ وَٱعۡفُ عَنَّا وَٱغۡفِرۡ لَنَا وَٱرۡحَمۡنَآۚ أَنتَ مَوۡلَىٰنَا فَٱنصُرۡنَا عَلَى ٱلۡقَوۡمِ ٱلۡكَٰفِرِينَ

    আল্লাহ কখনোই কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না। সে ভালো যা কিছু উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা কামাই করে তার প্রতিফলও তার উপরই বর্তায়। ‘হে আমাদের রব! যদি আমরা কিছু ভুলে যাই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের উপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না যার সামর্থ্য আমাদের নাই। আমাদের গুনাহসমূহ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই তো আমাদের অভিভাবক। অতএব, কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।

অনুবাদ: রাওয়াদ ট্রান্সলেশন সেন্টার. উৎস: QuranEnc.com, সর্বশেষ মিলিয়ে দেখা: ২৬ অক্টোবর ২০২৬.

আরবি পাঠ: বাদশাহ ফাহাদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স. সূরার তথ্য: Tanzil.net (CC BY 3.0).

এটি কুরআনের অর্থের অনুবাদ। মানুষের যেকোনো কাজের মতো এতে ভুল থাকতে পারে।