মূল অংশে যান

আল-আরাফ

الأعراف

সূরা ৭ মাক্কী ২০৬ আয়াত

بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

  1. ১

    الٓمٓصٓ

    আলিফ-লাম-মীম-সোয়াদ।(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  2. ২

    كِتَٰبٌ أُنزِلَ إِلَيۡكَ فَلَا يَكُن فِي صَدۡرِكَ حَرَجٞ مِّنۡهُ لِتُنذِرَ بِهِۦ وَذِكۡرَىٰ لِلۡمُؤۡمِنِينَ

    এটি কিতাব, যা তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে। সুতরাং তার সম্পর্কে তোমার অন্তরে যেন কোন সঙ্কীর্ণতা ও সন্দেহ না থাকে, যাতে তুমি এর দ্বারা সতর্ক করতে পারো এবং এটি মু’মিনদের জন্য উপদেশ।

  3. ৩

    ٱتَّبِعُواْ مَآ أُنزِلَ إِلَيۡكُم مِّن رَّبِّكُمۡ وَلَا تَتَّبِعُواْ مِن دُونِهِۦٓ أَوۡلِيَآءَۗ قَلِيلٗا مَّا تَذَكَّرُونَ

    (হে মানুষ!) তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে (আল্লাহকে) ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবকরূপে অনুসরণ করো না। তোমরা সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো।

  4. ৪

    وَكَم مِّن قَرۡيَةٍ أَهۡلَكۡنَٰهَا فَجَآءَهَا بَأۡسُنَا بَيَٰتًا أَوۡ هُمۡ قَآئِلُونَ

    আর কত জনপদকে আমি (শাস্তির মাধ্যমে) ধ্বংস করেছি। অতঃপর আমার শাস্তি তাদের ওপর রাতে অথবা দুপুরে, যখন তারা বিশ্রাম করছিল, আপতিত হয়েছে।

  5. ৫

    فَمَا كَانَ دَعۡوَىٰهُمۡ إِذۡ جَآءَهُم بَأۡسُنَآ إِلَّآ أَن قَالُوٓاْ إِنَّا كُنَّا ظَٰلِمِينَ

    অতঃপর যখন আমার শাস্তি তাদের ওপর আপতিত হয়েছিল, তখন তাদের মুখে শুধু এ কথাই ছিল যে, ‘অবশ্যই আমরা যালিম ছিলাম।’

  6. ৬

    فَلَنَسۡـَٔلَنَّ ٱلَّذِينَ أُرۡسِلَ إِلَيۡهِمۡ وَلَنَسۡـَٔلَنَّ ٱلۡمُرۡسَلِينَ

    অতঃপর আমি (কিয়ামতের দিন) অবশ্যই যাদের কাছে রাসূল পাঠানো হয়েছিল তাদেরকে জিজ্ঞেস করব এবং অবশ্যই রাসূলগণকেও জিজ্ঞেস করব।

  7. ৭

    فَلَنَقُصَّنَّ عَلَيۡهِم بِعِلۡمٖۖ وَمَا كُنَّا غَآئِبِينَ

    অতঃপর অবশ্যই আমি তাদের কাছে পূর্ণ জ্ঞানের সাথে তাদের কাজগুলো বর্ণনা করব। আর আমি তো তাদের নিকট থেকে অনুপস্থিতও ছিলাম না।

  8. ৮

    وَٱلۡوَزۡنُ يَوۡمَئِذٍ ٱلۡحَقُّۚ فَمَن ثَقُلَتۡ مَوَٰزِينُهُۥ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ

    আর সেদিন পরিমাপ হবে যথাযথ। সুতরাং যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম।

  9. ৯

    وَمَنۡ خَفَّتۡ مَوَٰزِينُهُۥ فَأُوْلَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ خَسِرُوٓاْ أَنفُسَهُم بِمَا كَانُواْ بِـَٔايَٰتِنَا يَظۡلِمُونَ

    আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই হবে সেই সব লোক, যারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কারণ তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি যুলম করত।

  10. ১০

    وَلَقَدۡ مَكَّنَّٰكُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَجَعَلۡنَا لَكُمۡ فِيهَا مَعَٰيِشَۗ قَلِيلٗا مَّا تَشۡكُرُونَ

    আর অবশ্যই আমি তোমাদেরকে জমিনে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং সেখানে তোমাদের জন্যে জীবনোপকরণসমূহ তৈরি করে দিয়েছি। অথচ তোমরা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো।

  11. ১১

    وَلَقَدۡ خَلَقۡنَٰكُمۡ ثُمَّ صَوَّرۡنَٰكُمۡ ثُمَّ قُلۡنَا لِلۡمَلَٰٓئِكَةِ ٱسۡجُدُواْ لِأٓدَمَ فَسَجَدُوٓاْ إِلَّآ إِبۡلِيسَ لَمۡ يَكُن مِّنَ ٱلسَّٰجِدِينَ

    আর অবশ্যই আমি (আল্লাহ) তোমাদেরকে (তোমাদের আদি পিতা আদমকে) সৃষ্টি করেছি। তারপর তোমাদের আকৃতি দিয়েছি। তারপর ফিরিশতাদেরকে বলেছি: ‘তোমরা আদমকে সাজদা করো।’ অতঃপর তারা সকলেই সাজদা করল, ইবলিস ছাড়া। সে (অহংকার ও হঠকারিতাবশত) সাজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

  12. ১২

    قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسۡجُدَ إِذۡ أَمَرۡتُكَۖ قَالَ أَنَا۠ خَيۡرٞ مِّنۡهُ خَلَقۡتَنِي مِن نَّارٖ وَخَلَقۡتَهُۥ مِن طِينٖ

    তিনি বললেন, ‘(হে ইবলিস!) আমি যখন তোমাকে আদেশ করেছিলাম, তখন আদমকে সাজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?’ সে বলল, ‘আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি থেকে।’

  13. ১৩

    قَالَ فَٱهۡبِطۡ مِنۡهَا فَمَا يَكُونُ لَكَ أَن تَتَكَبَّرَ فِيهَا فَٱخۡرُجۡ إِنَّكَ مِنَ ٱلصَّٰغِرِينَ

    তিনি বললেন: ‘তাহলে তুমি এখান থেকে বেরিয়ে যাও, এখানে থেকে অহংকার করার কোনো অধিকার তোমার নেই। সুতরাং তুমি বের হয়ে যাও। নিশ্চয় তুমি অধমদের অন্তর্ভুক্ত।’

  14. ১৪

    قَالَ أَنظِرۡنِيٓ إِلَىٰ يَوۡمِ يُبۡعَثُونَ

    ইবলিস বললো: ‘আমাকে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন।’

  15. ১৫

    قَالَ إِنَّكَ مِنَ ٱلۡمُنظَرِينَ

    আল্লাহ বললেন: ‘নিশ্চয় তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।’(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  16. ১৬

    قَالَ فَبِمَآ أَغۡوَيۡتَنِي لَأَقۡعُدَنَّ لَهُمۡ صِرَٰطَكَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ

    সে বলল: ‘আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সে কারণে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আপনার সরল সঠিক পথে বসে থাকব।’

  17. ১৭

    ثُمَّ لَأٓتِيَنَّهُم مِّنۢ بَيۡنِ أَيۡدِيهِمۡ وَمِنۡ خَلۡفِهِمۡ وَعَنۡ أَيۡمَٰنِهِمۡ وَعَن شَمَآئِلِهِمۡۖ وَلَا تَجِدُ أَكۡثَرَهُمۡ شَٰكِرِينَ

    ‘তারপর অবশ্যই আমি তাদের কাছে আসব, তাদের সামনে থেকে ও তাদের পিছন থেকে, তাদের ডানদিক থেকে ও তাদের বাম দিক থেকে(১) এবং আপনি তাদের অধিকাংশকে অকৃতজ্ঞ পাবেন।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  18. ১৮

    قَالَ ٱخۡرُجۡ مِنۡهَا مَذۡءُومٗا مَّدۡحُورٗاۖ لَّمَن تَبِعَكَ مِنۡهُمۡ لَأَمۡلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنكُمۡ أَجۡمَعِينَ

    আল্লাহ বললেন: ‘তুমি লাঞ্ছিত আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত অবস্থায় এখান (জান্নাত) থেকে বের হয়ে যাও । অবশ্যই তাদের মধ্য থেকে যে তোমার অনুসরণ করবে, আমি তোমাদের সবাইকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম ভরে দিবো।’

  19. ১৯

    وَيَٰٓـَٔادَمُ ٱسۡكُنۡ أَنتَ وَزَوۡجُكَ ٱلۡجَنَّةَ فَكُلَا مِنۡ حَيۡثُ شِئۡتُمَا وَلَا تَقۡرَبَا هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ

    আর ‘হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো। অতঃপর সেখানকার হতে যা ইচ্ছা তা খাও; কিন্তু এ গাছের ধারে–কাছেও যেও না, তাহলে তোমরা যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।’

  20. ২০

    فَوَسۡوَسَ لَهُمَا ٱلشَّيۡطَٰنُ لِيُبۡدِيَ لَهُمَا مَا وُۥرِيَ عَنۡهُمَا مِن سَوۡءَٰتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهَىٰكُمَا رَبُّكُمَا عَنۡ هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةِ إِلَّآ أَن تَكُونَا مَلَكَيۡنِ أَوۡ تَكُونَا مِنَ ٱلۡخَٰلِدِينَ

    তারপর শয়তান তাদের দুজনকে কুমন্ত্রণা দিল, যাতে তাদের লজ্জাস্থান, যা তাদের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল তা তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ে। আর সে বলল: ‘তোমাদের রব তোমাদেরকে এ গাছকে নিষিদ্ধ করেছেন, কারণ তোমরা উভয় ফিরিশতা হয়ে না যাও কিংবা তোমরা স্থায়ীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে না পড়ো।’

  21. ২১

    وَقَاسَمَهُمَآ إِنِّي لَكُمَا لَمِنَ ٱلنَّٰصِحِينَ

    আর সে আল্লাহর শপথ করে বলল: ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের উভয়ের জন্য কল্যাণকামীদের একজন।’

  22. ২২

    فَدَلَّىٰهُمَا بِغُرُورٖۚ فَلَمَّا ذَاقَا ٱلشَّجَرَةَ بَدَتۡ لَهُمَا سَوۡءَٰتُهُمَا وَطَفِقَا يَخۡصِفَانِ عَلَيۡهِمَا مِن وَرَقِ ٱلۡجَنَّةِۖ وَنَادَىٰهُمَا رَبُّهُمَآ أَلَمۡ أَنۡهَكُمَا عَن تِلۡكُمَا ٱلشَّجَرَةِ وَأَقُل لَّكُمَآ إِنَّ ٱلشَّيۡطَٰنَ لَكُمَا عَدُوّٞ مُّبِينٞ

    অতঃপর শয়তান তাদের উভয়কে ধোঁকার মাধ্যমে তাদেরকে তাদের পূর্বের সম্মানজনক অবস্থান থেকে নিচে নামিয়ে আনল। এরপর তারা উভয়ে যখন সে গাছের ফল খেলো, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের পরস্পরের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেদের লজ্জাস্থান আবৃত করতে লাগল। তখন তাদের রব তাদেরকে ডেকে বললেন: ‘আমি কি তোমাদের জন্য এ গাছকে নিষিদ্ধ করিনি এবং আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, নিশ্চয় শয়তান তোমাদের উভয়ের প্রকাশ্য শত্রু?।’

  23. ২৩

    قَالَا رَبَّنَا ظَلَمۡنَآ أَنفُسَنَا وَإِن لَّمۡ تَغۡفِرۡ لَنَا وَتَرۡحَمۡنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ

    তারা বলল: ‘হে আমাদের রব ! আমরা নিজেদের প্রতি যুলম করছি। আর আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন, তাহলে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবো।’

  24. ২৪

    قَالَ ٱهۡبِطُواْ بَعۡضُكُمۡ لِبَعۡضٍ عَدُوّٞۖ وَلَكُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ مُسۡتَقَرّٞ وَمَتَٰعٌ إِلَىٰ حِينٖ

    আল্লাহ বললেন: ‘তোমরা নেমে যাও, তোমরা একে অন্যের শত্রু। পৃথিবীতে তোমাদের কিছুদিনের জন্য বসবাস ও জীবিকার ব্যবস্থা থাকবে।’

  25. ২৫

    قَالَ فِيهَا تَحۡيَوۡنَ وَفِيهَا تَمُوتُونَ وَمِنۡهَا تُخۡرَجُونَ

    তিনি বললেন: ‘তোমরা সেখানেই জীবন যাপন করবে এবং সেখানেই তোমাদের মৃত্যু হবে। আর সেখান থেকেই তোমাদেরকে বের করা হবে।’

  26. ২৬

    يَٰبَنِيٓ ءَادَمَ قَدۡ أَنزَلۡنَا عَلَيۡكُمۡ لِبَاسٗا يُوَٰرِي سَوۡءَٰتِكُمۡ وَرِيشٗاۖ وَلِبَاسُ ٱلتَّقۡوَىٰ ذَٰلِكَ خَيۡرٞۚ ذَٰلِكَ مِنۡ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ لَعَلَّهُمۡ يَذَّكَّرُونَ

    ‘হে আদম সন্তান! অবশ্যই আমি তোমাদের জন্য পোশাক নাযিল করেছি, তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার জন্য ও সাজসজ্জার ও শোভাবর্ধক হিসেবে। আর তাকওয়ার পোষাক, এটাই উত্তম। এটা আল্লাহর নিদর্শসমূহের অন্যতম, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

  27. ২৭

    يَٰبَنِيٓ ءَادَمَ لَا يَفۡتِنَنَّكُمُ ٱلشَّيۡطَٰنُ كَمَآ أَخۡرَجَ أَبَوَيۡكُم مِّنَ ٱلۡجَنَّةِ يَنزِعُ عَنۡهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوۡءَٰتِهِمَآۚ إِنَّهُۥ يَرَىٰكُمۡ هُوَ وَقَبِيلُهُۥ مِنۡ حَيۡثُ لَا تَرَوۡنَهُمۡۗ إِنَّا جَعَلۡنَا ٱلشَّيَٰطِينَ أَوۡلِيَآءَ لِلَّذِينَ لَا يُؤۡمِنُونَ

    ‘হে আদম সন্তান! শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই ধোঁকায় না ফেলে(১), যেভাবে সে তোমাদের পিতামাতাকেজান্নাত থেকে বের করেছিল। সে তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখাবার জন্য বিবস্ত্র করেছিল। নিশ্চয় সে ও তার বংশধররা তোমাদেরকে দেখতে পায়, যেখানে তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না। নিশ্চয় আমি শয়তানদেরকে তাদের অভিভাবক বানিয়েছি, যারা ঈমান আনায়ন করে না।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  28. ২৮

    وَإِذَا فَعَلُواْ فَٰحِشَةٗ قَالُواْ وَجَدۡنَا عَلَيۡهَآ ءَابَآءَنَا وَٱللَّهُ أَمَرَنَا بِهَاۗ قُلۡ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَأۡمُرُ بِٱلۡفَحۡشَآءِۖ أَتَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعۡلَمُونَ

    আর যখন তারা কোনো অশ্লীল কাজ করে(১), তখন বলে: ‘আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এর ওপর পেয়েছি এবং আল্লাহও আমাদেরকে এরই নির্দেশ দিয়েছেন।’ ‘ বলে দাও: আল্লাহ অশ্লীলতার নির্দেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহ সম্বদ্ধে এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  29. ২৯

    قُلۡ أَمَرَ رَبِّي بِٱلۡقِسۡطِۖ وَأَقِيمُواْ وُجُوهَكُمۡ عِندَ كُلِّ مَسۡجِدٖ وَٱدۡعُوهُ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَۚ كَمَا بَدَأَكُمۡ تَعُودُونَ

    বলো: ‘আমার রব আমাকে ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন।’ আর তোমরা প্রত্যেক মসজিদে তোমাদের লক্ষ্য একমাত্র আল্লাহকেই নির্ধারণ করো এবং তাঁকে খাঁটি আনুগত্যের ভিত্তিতে এককভাবে ডাকো। তিনি যেভাবে তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন, তোমরা সেভাবেই ফিরে আসবে।’

  30. ৩০

    فَرِيقًا هَدَىٰ وَفَرِيقًا حَقَّ عَلَيۡهِمُ ٱلضَّلَٰلَةُۚ إِنَّهُمُ ٱتَّخَذُواْ ٱلشَّيَٰطِينَ أَوۡلِيَآءَ مِن دُونِ ٱللَّهِ وَيَحۡسَبُونَ أَنَّهُم مُّهۡتَدُونَ

    একদলকে তিনি হিদায়াত করেছেন। আর আরেক দলের ওপর ভ্রষ্টতা নির্ধারিত হয়ে গেছে। নিশ্চয় তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে তাদের অভিভাবক বানিয়ে নিয়েছে এবং তারা ধারণা করছে যে, তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।

  31. ৩১

    ۞ يَٰبَنِيٓ ءَادَمَ خُذُواْ زِينَتَكُمۡ عِندَ كُلِّ مَسۡجِدٖ وَكُلُواْ وَٱشۡرَبُواْ وَلَا تُسۡرِفُوٓاْۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلۡمُسۡرِفِينَ

    হে আদম সন্তান! তোমরা প্রত্যেক মসজিদের সময় সুন্দর সাজে সুসজ্জিত হও। আর তোমরা খাও ও পান করো; কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না।

  32. ৩২

    قُلۡ مَنۡ حَرَّمَ زِينَةَ ٱللَّهِ ٱلَّتِيٓ أَخۡرَجَ لِعِبَادِهِۦ وَٱلطَّيِّبَٰتِ مِنَ ٱلرِّزۡقِۚ قُلۡ هِيَ لِلَّذِينَ ءَامَنُواْ فِي ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا خَالِصَةٗ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۗ كَذَٰلِكَ نُفَصِّلُ ٱلۡأٓيَٰتِ لِقَوۡمٖ يَعۡلَمُونَ

    বলো: ‘আল্লাহ তাঁর বান্দাহদের জন্যে যেসব সৌন্দর্য সামগ্রী এবং পবিত্র রিযক সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো কে হারাম করেছে?’ তুমি বলো: ‘দুনিয়ার জীবনে এসব জিনিস ঈমানদারদের জন্যে (যদিও কাফিররা তাতে অংশীদার হয়), তবে তা কিয়ামতের দিন তাদের জন্যেই নির্দিষ্ট থাকবে।’ এভাবেই আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি।’

  33. ৩৩

    قُلۡ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ ٱلۡفَوَٰحِشَ مَا ظَهَرَ مِنۡهَا وَمَا بَطَنَ وَٱلۡإِثۡمَ وَٱلۡبَغۡيَ بِغَيۡرِ ٱلۡحَقِّ وَأَن تُشۡرِكُواْ بِٱللَّهِ مَا لَمۡ يُنَزِّلۡ بِهِۦ سُلۡطَٰنٗا وَأَن تَقُولُواْ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعۡلَمُونَ

    তুমি বল: ‘নিশ্চয় আমার রব হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, সকল প্রকারের গুনাহের কাজ, অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন করা, কোনো কিছুকে আল্লাহর সাথে শরীক করা-যার স্বপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি এবং না জেনে-বুঝে আল্লাহরব্যাপারে তাঁর উপর মিথ্যারোপ করা।’

  34. ৩৪

    وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٞۖ فَإِذَا جَآءَ أَجَلُهُمۡ لَا يَسۡتَأۡخِرُونَ سَاعَةٗ وَلَا يَسۡتَقۡدِمُونَ

    আর প্রত্যেক জাতির রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সময়। অতঃপর যখন তাদের সময় আসবে, তখন তারা মুহূর্তকালও বিলম্ব করতে পারবে না এবং এগিয়েও আনতে পারবে না।

  35. ৩৫

    يَٰبَنِيٓ ءَادَمَ إِمَّا يَأۡتِيَنَّكُمۡ رُسُلٞ مِّنكُمۡ يَقُصُّونَ عَلَيۡكُمۡ ءَايَٰتِي فَمَنِ ٱتَّقَىٰ وَأَصۡلَحَ فَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ

    হে আদম সন্তান! যখন তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকে রাসূলগণ এসে আমার আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে বর্ণনা করবে, তখন যারা তাঁকে ভয় করবে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করবে, (কিয়ামতের দিন) তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা চিন্তিতও হবে না।

  36. ৩৬

    وَٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَا وَٱسۡتَكۡبَرُواْ عَنۡهَآ أُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ

    তবে যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে এবং অহংকারবশত তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।

  37. ৩৭

    فَمَنۡ أَظۡلَمُ مِمَّنِ ٱفۡتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًا أَوۡ كَذَّبَ بِـَٔايَٰتِهِۦٓۚ أُوْلَٰٓئِكَ يَنَالُهُمۡ نَصِيبُهُم مِّنَ ٱلۡكِتَٰبِۖ حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءَتۡهُمۡ رُسُلُنَا يَتَوَفَّوۡنَهُمۡ قَالُوٓاْ أَيۡنَ مَا كُنتُمۡ تَدۡعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِۖ قَالُواْ ضَلُّواْ عَنَّا وَشَهِدُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ أَنَّهُمۡ كَانُواْ كَٰفِرِينَ

    সুতরাং তার চেয়ে বড় যালিম আর কে, যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রটনা করে(১) কিংবা তাঁর আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে? তাদের জন্য যে অংশ লেখা আছে, তা তাদের কাছে পৌঁছবে। অবশেষে যখন আমার ফিরিশতাগণ তাদের জান কবজের জন্য তাদের কাছে আসবে, তখন তারা জিজ্ঞেস করবে: ‘আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকতে, তারা এখন কোথায়?' তারা বলবে: ‘তারা আমাদের থেকে উধাও হয়ে গেছে।’ আর তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে যে, নিশ্চয় তারা কাফির ছিল।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  38. ৩৮

    قَالَ ٱدۡخُلُواْ فِيٓ أُمَمٖ قَدۡ خَلَتۡ مِن قَبۡلِكُم مِّنَ ٱلۡجِنِّ وَٱلۡإِنسِ فِي ٱلنَّارِۖ كُلَّمَا دَخَلَتۡ أُمَّةٞ لَّعَنَتۡ أُخۡتَهَاۖ حَتَّىٰٓ إِذَا ٱدَّارَكُواْ فِيهَا جَمِيعٗا قَالَتۡ أُخۡرَىٰهُمۡ لِأُولَىٰهُمۡ رَبَّنَا هَٰٓؤُلَآءِ أَضَلُّونَا فَـَٔاتِهِمۡ عَذَابٗا ضِعۡفٗا مِّنَ ٱلنَّارِۖ قَالَ لِكُلّٖ ضِعۡفٞ وَلَٰكِن لَّا تَعۡلَمُونَ

    আল্লাহ বলবেন: ‘তোমাদের আগে যে জিন ও মানবজাতি গত হয়েছে, তাদের সাথে তোমরা জাহান্নামে প্রবেশ করো।’ যখনই কোনো একদল তাতে প্রবেশ করবে তখনই তারা অন্য দলকে অভিসম্পাত করবে। অবশেষে যখন সবাই তাতে একত্র হবে, তখন তাদের পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবে: ‘হে আমাদের রব! এরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল। কাজেই এদেরকে দ্বিগুণ আগুনের শাস্তি দিন।’ আল্লাহ বলবেন: ‘প্রত্যেকের জন্যই রয়েছে দ্বিগুণ শাস্তি; কিন্তু তোমরা তা জান না।’

  39. ৩৯

    وَقَالَتۡ أُولَىٰهُمۡ لِأُخۡرَىٰهُمۡ فَمَا كَانَ لَكُمۡ عَلَيۡنَا مِن فَضۡلٖ فَذُوقُواْ ٱلۡعَذَابَ بِمَا كُنتُمۡ تَكۡسِبُونَ

    আর তাদের পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদেরকে বলবে: ‘আমাদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। কাজেই তোমরা (কুফরি ও গুনাহের) যা অর্জন করেছিলে তার জন্য শাস্তি ভোগ করো ।

  40. ৪০

    إِنَّ ٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَا وَٱسۡتَكۡبَرُواْ عَنۡهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمۡ أَبۡوَٰبُ ٱلسَّمَآءِ وَلَا يَدۡخُلُونَ ٱلۡجَنَّةَ حَتَّىٰ يَلِجَ ٱلۡجَمَلُ فِي سَمِّ ٱلۡخِيَاطِۚ وَكَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلۡمُجۡرِمِينَ

    নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে এবং তা সম্বন্ধে অহংকার করেছে, (তারা মারা গেলে) তাদের (রূহগুলোর) জন্য আকাশের দরজা খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না; যতক্ষণ না সূঁচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে (যা সম্পূর্ণ অসম্ভব)। আর এভাবেই আমি অপরাধীদেরকে প্রতিফল দেই।

  41. ৪১

    لَهُم مِّن جَهَنَّمَ مِهَادٞ وَمِن فَوۡقِهِمۡ غَوَاشٖۚ وَكَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلظَّٰلِمِينَ

    তাদের জন্যে থাকবে জাহান্নামের বিছানা এবং তাদের ওপরের আচ্ছাদনও। আর এভাবেই আমি যালিমদেরকে প্রতিফল দেই।

  42. ৪২

    وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ لَا نُكَلِّفُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَآ أُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلۡجَنَّةِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ

    পক্ষান্তরে যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে ও সৎকাজ করবে, বস্তুত আমি কারো ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত ভার চাপিয়ে দেই না। আর তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।

  43. ৪৩

    وَنَزَعۡنَا مَا فِي صُدُورِهِم مِّنۡ غِلّٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهِمُ ٱلۡأَنۡهَٰرُۖ وَقَالُواْ ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ ٱلَّذِي هَدَىٰنَا لِهَٰذَا وَمَا كُنَّا لِنَهۡتَدِيَ لَوۡلَآ أَنۡ هَدَىٰنَا ٱللَّهُۖ لَقَدۡ جَآءَتۡ رُسُلُ رَبِّنَا بِٱلۡحَقِّۖ وَنُودُوٓاْ أَن تِلۡكُمُ ٱلۡجَنَّةُ أُورِثۡتُمُوهَا بِمَا كُنتُمۡ تَعۡمَلُونَ

    আর আমি তাদের অন্তরসমূহ থেকে হিংসা ও বিদ্বেষ দূর করে দিবো, তাদের পাদদেশে প্রবাহিত হবে নদীসমূহ। আর তারা বলবে: ‘সকল প্রশংসা আল্লাহরই যিনি আমাদেরকে এ পথের হিদায়াত দান করেছেন। আল্লাহ আমাদেরকে হিদায়াত না করলে, আমরা কখনো হিদায়াত পেতাম না। অবশ্যই আমাদের রবের প্রেরিত রাসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন।’ আর তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে: ‘তোমাদের নেক আমলের কারণে তোমাদেরকে এ জান্নাতের উত্তরাধিকার করা হয়েছে।’

  44. ৪৪

    وَنَادَىٰٓ أَصۡحَٰبُ ٱلۡجَنَّةِ أَصۡحَٰبَ ٱلنَّارِ أَن قَدۡ وَجَدۡنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقّٗا فَهَلۡ وَجَدتُّم مَّا وَعَدَ رَبُّكُمۡ حَقّٗاۖ قَالُواْ نَعَمۡۚ فَأَذَّنَ مُؤَذِّنُۢ بَيۡنَهُمۡ أَن لَّعۡنَةُ ٱللَّهِ عَلَى ٱلظَّٰلِمِينَ

    আর জান্নাতবাসীগণ জাহান্নামীদেরকে ডেকে বলবে: ‘আমাদের রব আমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন আমরা তা বাস্তবেও নিশ্চিতভাবে পেয়েছি। (হে কাফিররা!) তোমাদের রব তোমাদেরকে যে (জাহান্নামের) ওয়াদা দিয়েছিল, তোমরা কি তা বাস্তবে নিশ্চিতভাবে পেয়েছো?’ তারা বলবে: ‘হ্যাঁ।’ অতঃপর একজন ঘোষণাকারী তাদের মধ্যে ঘোষণা করবে: ‘যালিমদের ওপর আল্লাহর (স্থায়ী) অভিসম্পাত।

  45. ৪৫

    ٱلَّذِينَ يَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ وَيَبۡغُونَهَا عِوَجٗا وَهُم بِٱلۡأٓخِرَةِ كَٰفِرُونَ

    যারা আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করতো এবং তাতে বক্রতা খুঁজে বেড়াতো(১) এবং তারা ছিল, আখিরাতকে অস্বীকারকারী।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  46. ৪৬

    وَبَيۡنَهُمَا حِجَابٞۚ وَعَلَى ٱلۡأَعۡرَافِ رِجَالٞ يَعۡرِفُونَ كُلَّۢا بِسِيمَىٰهُمۡۚ وَنَادَوۡاْ أَصۡحَٰبَ ٱلۡجَنَّةِ أَن سَلَٰمٌ عَلَيۡكُمۡۚ لَمۡ يَدۡخُلُوهَا وَهُمۡ يَطۡمَعُونَ

    আর তাদের উভয়ের (জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসীদের) মধ্যে একটি পর্দা থাকবে। আর আ'রাফে(১) কিছু লোক থাকবে, যারা (জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসী) প্রত্যেককে তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনতে পারবে। আর তারা জান্নাতবাসীদেরকে ডেকে বলবে, ‘তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।’ তারা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করেনি; তবে (আল্লাহর রহমতে সেখানে প্রবেশের) আশা করে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  47. ৪৭

    ۞ وَإِذَا صُرِفَتۡ أَبۡصَٰرُهُمۡ تِلۡقَآءَ أَصۡحَٰبِ ٱلنَّارِ قَالُواْ رَبَّنَا لَا تَجۡعَلۡنَا مَعَ ٱلۡقَوۡمِ ٱلظَّٰلِمِينَ

    আর যখন আ‘রাফবাসীদের দৃষ্টি জাহান্নামবাসীদের দিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে, তখন তারাবলবে: ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে যালিম সম্প্রদায়ের সঙ্গী করবেন না।’

  48. ৪৮

    وَنَادَىٰٓ أَصۡحَٰبُ ٱلۡأَعۡرَافِ رِجَالٗا يَعۡرِفُونَهُم بِسِيمَىٰهُمۡ قَالُواْ مَآ أَغۡنَىٰ عَنكُمۡ جَمۡعُكُمۡ وَمَا كُنتُمۡ تَسۡتَكۡبِرُونَ

    আর আ‘রাফের অধিবাসীরা এমন লোকদেরকে ডাকবে, যাদেরকে তারা তাদের চি‎‎হ্ন দ্বারা চিনবে, তারা তাদেরকে ডেকে বলবে: ‘তোমাদের প্রচুর সম্পদ ও জনবল এবং তোমাদের অহংকার কোনো কাজে আসল না।’

  49. ৪৯

    أَهَٰٓؤُلَآءِ ٱلَّذِينَ أَقۡسَمۡتُمۡ لَا يَنَالُهُمُ ٱللَّهُ بِرَحۡمَةٍۚ ٱدۡخُلُواْ ٱلۡجَنَّةَ لَا خَوۡفٌ عَلَيۡكُمۡ وَلَآ أَنتُمۡ تَحۡزَنُونَ

    এরাই কি তারা যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করে বলতে যে, আল্লাহ তাদেরকে দয়া করবেন না? ‘তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমাদের কোনো ভয় নেই এবং তোমরা চিন্তিতও হবে না।’

  50. ৫০

    وَنَادَىٰٓ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِ أَصۡحَٰبَ ٱلۡجَنَّةِ أَنۡ أَفِيضُواْ عَلَيۡنَا مِنَ ٱلۡمَآءِ أَوۡ مِمَّا رَزَقَكُمُ ٱللَّهُۚ قَالُوٓاْ إِنَّ ٱللَّهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى ٱلۡكَٰفِرِينَ

    আর জাহান্নামীরা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবে: ‘আমাদের ওপর কিছু পানি অথবা তোমাদেরকে আল্লাহ যে রিযক দিয়েছেন, তা ঢেলে দাও।’ তারা বলবে: ‘নিশ্চয় আল্লাহ তো এ দুটি কাফিরদের ওপর হারাম করেছেন।’

  51. ৫১

    ٱلَّذِينَ ٱتَّخَذُواْ دِينَهُمۡ لَهۡوٗا وَلَعِبٗا وَغَرَّتۡهُمُ ٱلۡحَيَوٰةُ ٱلدُّنۡيَاۚ فَٱلۡيَوۡمَ نَنسَىٰهُمۡ كَمَا نَسُواْ لِقَآءَ يَوۡمِهِمۡ هَٰذَا وَمَا كَانُواْ بِـَٔايَٰتِنَا يَجۡحَدُونَ

    যারা তাদের দীনকে ঠাট্টার পাত্র ও খেল-তামাশা হিসেবে গ্রহণ করেছিল। আর দুনিয়ার জীবনের চাকচিক্য ও সৌন্দর্য যাদেরকে ধোঁকায় ফেলে দিয়েছিল। কাজেই আজ আমি তাদেরকে ভুলে যাবো, যেমনিভাবে তারা তাদের এ দিনের সাক্ষাতকে ভুলে গিয়েছিলো। উপরন্তু তারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছিল।

  52. ৫২

    وَلَقَدۡ جِئۡنَٰهُم بِكِتَٰبٖ فَصَّلۡنَٰهُ عَلَىٰ عِلۡمٍ هُدٗى وَرَحۡمَةٗ لِّقَوۡمٖ يُؤۡمِنُونَ

    আর অবশ্যই আমি তাদের নিকট নিয়ে এসেছি এমন এক কিতাব যা আমি পূর্ণ জ্ঞানের ভিত্তিতে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি এবং এটি মু’মিনদের জন্য পথনির্দেশনা ও রহমতস্বরূপ।

  53. ৫৩

    هَلۡ يَنظُرُونَ إِلَّا تَأۡوِيلَهُۥۚ يَوۡمَ يَأۡتِي تَأۡوِيلُهُۥ يَقُولُ ٱلَّذِينَ نَسُوهُ مِن قَبۡلُ قَدۡ جَآءَتۡ رُسُلُ رَبِّنَا بِٱلۡحَقِّ فَهَل لَّنَا مِن شُفَعَآءَ فَيَشۡفَعُواْ لَنَآ أَوۡ نُرَدُّ فَنَعۡمَلَ غَيۡرَ ٱلَّذِي كُنَّا نَعۡمَلُۚ قَدۡ خَسِرُوٓاْ أَنفُسَهُمۡ وَضَلَّ عَنۡهُم مَّا كَانُواْ يَفۡتَرُونَ

    তারা কি শুধু সে পরিণামের অপেক্ষা করছে? যেদিন তার পরিণাম প্রকাশ হবে, সেদিন যারা আগে সেটার কথা ভুলে গিয়েছিল তারা বলবে: ‘আমাদের রবের রাসূলগণ তো সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের কি এমন কোনো সুপারিশকারী আছে, যে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে, কিংবা আমাদেরকে কি আবার ফেরত পাঠানো হবে, যেন আমরা আগে যা করতাম তা থেকে ভিন্ন আমল করতে পারি? অবশ্যই তারা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তারা যে মিথ্যা রটাত, তা তাদের থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।

  54. ৫৪

    إِنَّ رَبَّكُمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٖ ثُمَّ ٱسۡتَوَىٰ عَلَى ٱلۡعَرۡشِۖ يُغۡشِي ٱلَّيۡلَ ٱلنَّهَارَ يَطۡلُبُهُۥ حَثِيثٗا وَٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَ وَٱلنُّجُومَ مُسَخَّرَٰتِۭ بِأَمۡرِهِۦٓۗ أَلَا لَهُ ٱلۡخَلۡقُ وَٱلۡأَمۡرُۗ تَبَارَكَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلۡعَٰلَمِينَ

    (হে মানুষ!) নিশ্চয় তোমাদের রব তো তিনিই (আল্লাহ), যিনি আসমানসমূহ ও জমিন (পূর্ব নমুনা ছাড়াই) ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন; তারপর তিনি ‘আরশের উপর ওঠেছেন। তিনিই দিনকে রাত দিয়ে ঢেকে দেন, তাদের একটি অন্যটিকে দ্রুতগতিতে অনুসরণ করে। আর সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্ররাজি (তিনিই সৃষ্টি করেছেন এবং এগুলো) তাঁরই হুকুমের অনুগত। জেনে রাখো, সৃষ্টিও তাঁর, আদেশও একমাত্র তাঁরই। সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ কত না বরকতময়!

  55. ৫৫

    ٱدۡعُواْ رَبَّكُمۡ تَضَرُّعٗا وَخُفۡيَةًۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلۡمُعۡتَدِينَ

    তোমরা তোমাদের রবকে ডাক অনুনয় বিনয় করে ও গোপনে। নিশ্চয় তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না।

  56. ৫৬

    وَلَا تُفۡسِدُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ بَعۡدَ إِصۡلَٰحِهَا وَٱدۡعُوهُ خَوۡفٗا وَطَمَعًاۚ إِنَّ رَحۡمَتَ ٱللَّهِ قَرِيبٞ مِّنَ ٱلۡمُحۡسِنِينَ

    আর তোমরা জমিনে শান্তি স্থাপনের পর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না এবং তাঁকে ডাক ভয় ও আশা নিয়ে। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের অতি নিকটে।

  57. ৫৭

    وَهُوَ ٱلَّذِي يُرۡسِلُ ٱلرِّيَٰحَ بُشۡرَۢا بَيۡنَ يَدَيۡ رَحۡمَتِهِۦۖ حَتَّىٰٓ إِذَآ أَقَلَّتۡ سَحَابٗا ثِقَالٗا سُقۡنَٰهُ لِبَلَدٖ مَّيِّتٖ فَأَنزَلۡنَا بِهِ ٱلۡمَآءَ فَأَخۡرَجۡنَا بِهِۦ مِن كُلِّ ٱلثَّمَرَٰتِۚ كَذَٰلِكَ نُخۡرِجُ ٱلۡمَوۡتَىٰ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُونَ

    আর তিনিই তাঁর রহমত বর্ষণের আগে সুসংবাদবাহী বাতাস প্রবাহিত করেন। অবশেষে যখন সেটা ভারী মেঘমালা ধারণ করে, তখন আমি সেটাকে মৃত জনপদের দিকে হাঁকিয়ে নেই। অতঃপর আমি তা দ্বারা বৃষ্টি বর্ষণ করি, তারপর তা দিয়ে সব রকমের ফল-ফসল উৎপাদন করি। এভাবেই আমি মৃতদেরকে বের করব। যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।

  58. ৫৮

    وَٱلۡبَلَدُ ٱلطَّيِّبُ يَخۡرُجُ نَبَاتُهُۥ بِإِذۡنِ رَبِّهِۦۖ وَٱلَّذِي خَبُثَ لَا يَخۡرُجُ إِلَّا نَكِدٗاۚ كَذَٰلِكَ نُصَرِّفُ ٱلۡأٓيَٰتِ لِقَوۡمٖ يَشۡكُرُونَ

    আর উৎকৃষ্ট ভূমি থেকে তার রবের আদেশে ফসল উৎপন্ন হয়।(১) আর যা নিকৃষ্ট ভূমিতে কঠোর পরিশ্রম না করলে, কিছুই জন্মে না।(২) এভাবে আমি কৃতজ্ঞ সম্প্রদায়ের জন্য (সত্যের পক্ষে) নিদর্শনসমূহ বিভিন্নভাবে বর্ণনা করি।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  59. ৫৯

    لَقَدۡ أَرۡسَلۡنَا نُوحًا إِلَىٰ قَوۡمِهِۦ فَقَالَ يَٰقَوۡمِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مَا لَكُم مِّنۡ إِلَٰهٍ غَيۡرُهُۥٓ إِنِّيٓ أَخَافُ عَلَيۡكُمۡ عَذَابَ يَوۡمٍ عَظِيمٖ

    অবশ্যই আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম। অতঃপর তিনি বলেছিলেন: 'হে আমার সম্প্রদায়! এক আল্লাহর ইবাদাত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই। নিশ্চয় আমি তোমাদের ওপর (কিয়ামতের) ভয়াবহ দিনের শাস্তির আশঙ্কা করছি।’

  60. ৬০

    قَالَ ٱلۡمَلَأُ مِن قَوۡمِهِۦٓ إِنَّا لَنَرَىٰكَ فِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٖ

    তার সম্প্রদায়ের নেতারা বলেছিল: ‘আমরা তো তোমাকে অবশ্যই সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।’

  61. ৬১

    قَالَ يَٰقَوۡمِ لَيۡسَ بِي ضَلَٰلَةٞ وَلَٰكِنِّي رَسُولٞ مِّن رَّبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ

    সে বললো: ‘হে আমার সম্প্রদায়, আমার মধ্যে কোন ভ্রষ্টতা নেই(১); বরং আমি তো সৃষ্টির রবের পক্ষ থেকে রাসূল।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  62. ৬২

    أُبَلِّغُكُمۡ رِسَٰلَٰتِ رَبِّي وَأَنصَحُ لَكُمۡ وَأَعۡلَمُ مِنَ ٱللَّهِ مَا لَا تَعۡلَمُونَ

    ‘আমি তোমাদের নিকট আমার রবের রিসালাত (অহী) পৌঁছাচ্ছি এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করছি।(১) আর আমি আল্লাহর কাছ থেকে সেসব বিষয় জানি, যা তোমরা জানো না।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  63. ৬৩

    أَوَعَجِبۡتُمۡ أَن جَآءَكُمۡ ذِكۡرٞ مِّن رَّبِّكُمۡ عَلَىٰ رَجُلٖ مِّنكُمۡ لِيُنذِرَكُمۡ وَلِتَتَّقُواْ وَلَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُونَ

    ‘তোমরা কি আশ্চর্য হচ্ছো যে, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকেএক ব্যক্তির নিকট উপদেশ এসেছে, যাতে সে তোমাদেরকে (কঠিন শাস্তি হতে) সতর্ক করে, আর যাতে তোমরা তাঁকে ভয় করো এবং যাতে তোমরা (তাঁর প্রতি ঈমান এনে) রহমতপ্রাপ্ত হও’?

  64. ৬৪

    فَكَذَّبُوهُ فَأَنجَيۡنَٰهُ وَٱلَّذِينَ مَعَهُۥ فِي ٱلۡفُلۡكِ وَأَغۡرَقۡنَا ٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَآۚ إِنَّهُمۡ كَانُواْ قَوۡمًا عَمِينَ

    অতঃপর তারা তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করলো। ফলে আমি তাকে ও তার সাথে নৌকায় যারা ছিল, তাদেরকে রক্ষা করলাম। আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যারোপ করেছিল, তাদেরকে আমি ডুবিয়ে দেই। নিশ্চয় তারা ছিল এক অন্ধ সম্প্রদায় ।

  65. ৬৫

    ۞ وَإِلَىٰ عَادٍ أَخَاهُمۡ هُودٗاۚ قَالَ يَٰقَوۡمِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مَا لَكُم مِّنۡ إِلَٰهٍ غَيۡرُهُۥٓۚ أَفَلَا تَتَّقُونَ

    আর ‘আদ জাতির কাছে তাদের ভাই হূদকে প্রেরণ করলাম। সে বলল: ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদাত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তোমরা কি তাঁকে ভয় করবে না?

  66. ৬৬

    قَالَ ٱلۡمَلَأُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِن قَوۡمِهِۦٓ إِنَّا لَنَرَىٰكَ فِي سَفَاهَةٖ وَإِنَّا لَنَظُنُّكَ مِنَ ٱلۡكَٰذِبِينَ

    তার সম্প্রদায়ের কাফির নেতৃবৃন্দরা বলল: ‘নিশ্চয় আমরা তোমাকে নির্বুদ্ধিতায় দেখতে পাচ্ছি এবং আমরা অবশ্যই তোমাকে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করি।’

  67. ৬৭

    قَالَ يَٰقَوۡمِ لَيۡسَ بِي سَفَاهَةٞ وَلَٰكِنِّي رَسُولٞ مِّن رَّبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ

    সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার মধ্যে কোন নির্বুদ্ধিতা নেই; বরং আমি সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে একজন রাসূল।’

  68. ৬৮

    أُبَلِّغُكُمۡ رِسَٰلَٰتِ رَبِّي وَأَنَا۠ لَكُمۡ نَاصِحٌ أَمِينٌ

    ‘আমি তোমাদের নিকট আমার রবের রিসালাতসমূহ পৌঁছাচ্ছি। আর আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্ক্ষী।’

  69. ৬৯

    أَوَعَجِبۡتُمۡ أَن جَآءَكُمۡ ذِكۡرٞ مِّن رَّبِّكُمۡ عَلَىٰ رَجُلٖ مِّنكُمۡ لِيُنذِرَكُمۡۚ وَٱذۡكُرُوٓاْ إِذۡ جَعَلَكُمۡ خُلَفَآءَ مِنۢ بَعۡدِ قَوۡمِ نُوحٖ وَزَادَكُمۡ فِي ٱلۡخَلۡقِ بَصۜۡطَةٗۖ فَٱذۡكُرُوٓاْ ءَالَآءَ ٱللَّهِ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ

    ‘তোমরা কি আশ্চর্য হচ্ছো যে, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির নিকট উপদেশ বাণী এসেছে, যাতে সে তোমাদেরকে সতর্ক করে? আর তোমরা স্মরণ করো, যখন তিনি নূহের সম্প্রদায়ের পর তোমাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং সৃষ্টিতে তোমাদেরকে অধিক হৃষ্ট-পুষ্ট ও বলিষ্ঠ করেছেন।(১) সুতরাং তোমরা আল্লাহর নি‘আমতসমূহের কথা স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  70. ৭০

    قَالُوٓاْ أَجِئۡتَنَا لِنَعۡبُدَ ٱللَّهَ وَحۡدَهُۥ وَنَذَرَ مَا كَانَ يَعۡبُدُ ءَابَآؤُنَا فَأۡتِنَا بِمَا تَعِدُنَآ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ

    তারা বলল: ‘তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যে এসেছো যে, আমরা যেন এক আল্লাহর ইবাদত করি এবং আমাদের পূর্বপুরুষরা যার ইবাদত করত তা ছেড়ে দেই? কাজেই তুমি সত্যবাদী হলে আমাদেরকে যার ভয় দেখাচ্ছ, তা নিয়ে এসো।’

  71. ৭১

    قَالَ قَدۡ وَقَعَ عَلَيۡكُم مِّن رَّبِّكُمۡ رِجۡسٞ وَغَضَبٌۖ أَتُجَٰدِلُونَنِي فِيٓ أَسۡمَآءٖ سَمَّيۡتُمُوهَآ أَنتُمۡ وَءَابَآؤُكُم مَّا نَزَّلَ ٱللَّهُ بِهَا مِن سُلۡطَٰنٖۚ فَٱنتَظِرُوٓاْ إِنِّي مَعَكُم مِّنَ ٱلۡمُنتَظِرِينَ

    সে বললো: ‘নিশ্চয় তোমাদের ওপর তোমাদের রবের পক্ষ থেকে শাস্তি ও ক্রোধ নির্ধারিত হয়েই আছে। তোমরা কি আমার সাথে এমন নামসমূহের ব্যাপারে বিবাদ করছ, তোমরা যেগুলোকে নামকরণ করেছো, যার ব্যাপারে আল্লাহ কোন প্রমাণ নাযিল করেননি? সুতরাং তোমরা অপেক্ষা করো। আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি।’

  72. ৭২

    فَأَنجَيۡنَٰهُ وَٱلَّذِينَ مَعَهُۥ بِرَحۡمَةٖ مِّنَّا وَقَطَعۡنَا دَابِرَ ٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَاۖ وَمَا كَانُواْ مُؤۡمِنِينَ

    অবশেষে আমি তাকে ও তার সাথীদেরকে আমার বিশেষ রহমতে মুক্তি দান করেছি। আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল এবং যারা মু’মিন ছিল না, তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে মূলোৎপাটন করেছি।

  73. ৭৩

    وَإِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمۡ صَٰلِحٗاۚ قَالَ يَٰقَوۡمِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مَا لَكُم مِّنۡ إِلَٰهٍ غَيۡرُهُۥۖ قَدۡ جَآءَتۡكُم بَيِّنَةٞ مِّن رَّبِّكُمۡۖ هَٰذِهِۦ نَاقَةُ ٱللَّهِ لَكُمۡ ءَايَةٗۖ فَذَرُوهَا تَأۡكُلۡ فِيٓ أَرۡضِ ٱللَّهِۖ وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوٓءٖ فَيَأۡخُذَكُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٞ

    আর ছামূদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালিহকে প্রেরণ করেছি। তিনি তাদেরকে বললেন: ‘হে আমার জাতি! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ নেই। নিশ্চয় তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ(১) এসেছে। এটি আল্লাহর উষ্ট্রী, তোমাদের জন্য একটি নিদর্শন। সুতরাং তোমরা তাকে আল্লাহর জমিনে চরে খেতে দাও(২) এবং তাকে কোনো কষ্ট দিও না, দিলে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তোমাদেরকে পাকড়াও করবে।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  74. ৭৪

    وَٱذۡكُرُوٓاْ إِذۡ جَعَلَكُمۡ خُلَفَآءَ مِنۢ بَعۡدِ عَادٖ وَبَوَّأَكُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ تَتَّخِذُونَ مِن سُهُولِهَا قُصُورٗا وَتَنۡحِتُونَ ٱلۡجِبَالَ بُيُوتٗاۖ فَٱذۡكُرُوٓاْ ءَالَآءَ ٱللَّهِ وَلَا تَعۡثَوۡاْ فِي ٱلۡأَرۡضِ مُفۡسِدِينَ

    আর স্মরণ করো, যখন ‘আদ জাতির পর তিনি তোমাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করলেন এবং তোমাদেরকে জমিনে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করলেন যে, তোমরা সমতল ভূমিতে প্রাসাদ নির্মাণ করছো এবং পাহাড় কেটে বাড়িঘর বানাচ্ছ। সুতরাং তোমরা আল্লাহর নি‘আমতসমূহ স্মরণ করো এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িও না।

  75. ৭৫

    قَالَ ٱلۡمَلَأُ ٱلَّذِينَ ٱسۡتَكۡبَرُواْ مِن قَوۡمِهِۦ لِلَّذِينَ ٱسۡتُضۡعِفُواْ لِمَنۡ ءَامَنَ مِنۡهُمۡ أَتَعۡلَمُونَ أَنَّ صَٰلِحٗا مُّرۡسَلٞ مِّن رَّبِّهِۦۚ قَالُوٓاْ إِنَّا بِمَآ أُرۡسِلَ بِهِۦ مُؤۡمِنُونَ

    তাঁর সম্প্রদায়ের দাম্ভিক নেতারা সে সম্প্রদায়ের শক্তি-সামর্থ্যহীন মু’মিনদেরকে বললো: ‘তোমরা কি এটা জানো যে, সালিহ তার রব এর পক্ষ থেকে (সত্যিকারার্থেই) প্রেরিত হয়েছেন?’ তারা বললো: ‘নিশ্চয় তিনি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, আমরা তাতে বিশ্বাসী।(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  76. ৭৬

    قَالَ ٱلَّذِينَ ٱسۡتَكۡبَرُوٓاْ إِنَّا بِٱلَّذِيٓ ءَامَنتُم بِهِۦ كَٰفِرُونَ

    তার সম্প্রদায়ের অহংকারীরা বললো: ‘নিশ্চয় তোমরা যার প্রতি ঈমান এনেছ, আমরা সেটাকে অস্বীকার করি।’

  77. ৭৭

    فَعَقَرُواْ ٱلنَّاقَةَ وَعَتَوۡاْ عَنۡ أَمۡرِ رَبِّهِمۡ وَقَالُواْ يَٰصَٰلِحُ ٱئۡتِنَا بِمَا تَعِدُنَآ إِن كُنتَ مِنَ ٱلۡمُرۡسَلِينَ

    অতঃপর তারা সেই উষ্ট্রীকে হত্যা করে এবং আল্লাহর আদেশ অমান্য করে। উপরন্তু তারা বললো: ‘হে সালিহ! তুমি আমাদেরকে যার ভয় দেখাচ্ছ, তা নিয়ে এসো, যদি তুমি সত্যিই রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকো?’

  78. ৭৮

    فَأَخَذَتۡهُمُ ٱلرَّجۡفَةُ فَأَصۡبَحُواْ فِي دَارِهِمۡ جَٰثِمِينَ

    অতঃপর তাদেরকে প্রচণ্ড ভূমিকম্প পাকড়াও করল। ফলে তারা তাদের গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।

  79. ৭৯

    فَتَوَلَّىٰ عَنۡهُمۡ وَقَالَ يَٰقَوۡمِ لَقَدۡ أَبۡلَغۡتُكُمۡ رِسَالَةَ رَبِّي وَنَصَحۡتُ لَكُمۡ وَلَٰكِن لَّا تُحِبُّونَ ٱلنَّٰصِحِينَ

    এরপর তিনি তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো এবং বললো: ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি তো আমার রবের রিসালত তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করেছি; কিন্তু তোমরা কল্যাণকামীদেরকে পছন্দ কর না।’

  80. ৮০

    وَلُوطًا إِذۡ قَالَ لِقَوۡمِهِۦٓ أَتَأۡتُونَ ٱلۡفَٰحِشَةَ مَا سَبَقَكُم بِهَا مِنۡ أَحَدٖ مِّنَ ٱلۡعَٰلَمِينَ

    আর আমি লূতকেও পাঠিয়েছিলাম। যখন তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন: ‘তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সৃষ্টিকুলের কেউ করেনি’?

  81. ৮১

    إِنَّكُمۡ لَتَأۡتُونَ ٱلرِّجَالَ شَهۡوَةٗ مِّن دُونِ ٱلنِّسَآءِۚ بَلۡ أَنتُمۡ قَوۡمٞ مُّسۡرِفُونَ

    ‘তোমরা তো যৌন তাড়না নিবারণের জন্য নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের সাথে মিলিত হচ্ছো; বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।

  82. ৮২

    وَمَا كَانَ جَوَابَ قَوۡمِهِۦٓ إِلَّآ أَن قَالُوٓاْ أَخۡرِجُوهُم مِّن قَرۡيَتِكُمۡۖ إِنَّهُمۡ أُنَاسٞ يَتَطَهَّرُونَ

    আর তাঁর সম্প্রদায়ের উত্তর কেবল এই ছিল যে, তারা বললো: ‘তোমরা তাদেরকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। নিশ্চয় তারা এমন লোক, যারা অতি পবিত্র হতে চায়।’

  83. ৮৩

    فَأَنجَيۡنَٰهُ وَأَهۡلَهُۥٓ إِلَّا ٱمۡرَأَتَهُۥ كَانَتۡ مِنَ ٱلۡغَٰبِرِينَ

    অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর পরিবার পরিজনকে রক্ষা করেছিলাম, তাঁর স্ত্রী ছাড়া, কারণ সে ছিল পিছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  84. ৮৪

    وَأَمۡطَرۡنَا عَلَيۡهِم مَّطَرٗاۖ فَٱنظُرۡ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلۡمُجۡرِمِينَ

    আর আমি তাদের ওপর ভীষণভাবে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম।(১) সুতরাং (হে রাসূল!) দেখো, এ অপরাধীদের পরিণতি কীরূপ ছিল?

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  85. ৮৫

    وَإِلَىٰ مَدۡيَنَ أَخَاهُمۡ شُعَيۡبٗاۚ قَالَ يَٰقَوۡمِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مَا لَكُم مِّنۡ إِلَٰهٍ غَيۡرُهُۥۖ قَدۡ جَآءَتۡكُم بَيِّنَةٞ مِّن رَّبِّكُمۡۖ فَأَوۡفُواْ ٱلۡكَيۡلَ وَٱلۡمِيزَانَ وَلَا تَبۡخَسُواْ ٱلنَّاسَ أَشۡيَآءَهُمۡ وَلَا تُفۡسِدُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ بَعۡدَ إِصۡلَٰحِهَاۚ ذَٰلِكُمۡ خَيۡرٞ لَّكُمۡ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ

    আর আমি মাদইয়ানবাসীদের কাছে তাদের ভাই শু‘আইবকে পাঠিয়েছিলাম।সে বললো: ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে। সুতরাং তোমরা পরিমাণে ও ওজনে পরিপূর্ণ দাও এবং লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দেবে না। আর তোমরা জমিনে শান্তি স্থাপনের পর বিপর্যয় সৃষ্টি করো না। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা মু`মিন হও।’

  86. ৮৬

    وَلَا تَقۡعُدُواْ بِكُلِّ صِرَٰطٖ تُوعِدُونَ وَتَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ مَنۡ ءَامَنَ بِهِۦ وَتَبۡغُونَهَا عِوَجٗاۚ وَٱذۡكُرُوٓاْ إِذۡ كُنتُمۡ قَلِيلٗا فَكَثَّرَكُمۡۖ وَٱنظُرُواْ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلۡمُفۡسِدِينَ

    আর মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করতে, যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে তাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিতে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করতে তোমরা প্রতিটি পথে বসে থেকো না।’ উপরন্তু স্মরণ করো, ‘তোমরা যখন সংখ্যায় কম ছিলে, আল্লাহ তখন তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন। আরো লক্ষ্য করে দেখো, জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কীরূপ হয়েছিল?

  87. ৮৭

    وَإِن كَانَ طَآئِفَةٞ مِّنكُمۡ ءَامَنُواْ بِٱلَّذِيٓ أُرۡسِلۡتُ بِهِۦ وَطَآئِفَةٞ لَّمۡ يُؤۡمِنُواْ فَٱصۡبِرُواْ حَتَّىٰ يَحۡكُمَ ٱللَّهُ بَيۡنَنَاۚ وَهُوَ خَيۡرُ ٱلۡحَٰكِمِينَ

    আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি, তাতে যদি তোমাদের কোনো একদল ঈমান আনে এবং আরেক দল ঈমান না আনে, তবে অপেক্ষা করো; যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেন। আর তিনিই সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।

  88. ৮৮

    ۞ قَالَ ٱلۡمَلَأُ ٱلَّذِينَ ٱسۡتَكۡبَرُواْ مِن قَوۡمِهِۦ لَنُخۡرِجَنَّكَ يَٰشُعَيۡبُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَعَكَ مِن قَرۡيَتِنَآ أَوۡ لَتَعُودُنَّ فِي مِلَّتِنَاۚ قَالَ أَوَلَوۡ كُنَّا كَٰرِهِينَ

    তাঁর সম্প্রদায়ের অহংকারী নেতারা বললো: ‘হে শু'আইব! আমরা অবশ্যই তোমাকে ও তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে, তাদেরকে আমাদের জনপদ থেকে বের করে দিবো। অন্যথায় তোমাদেরকে আমাদের আদর্শে ফিরে আসতে হবে।’ সে বললো: ‘যদিও আমরা সেটাকে ঘৃণা করি, তবুও?’

  89. ৮৯

    قَدِ ٱفۡتَرَيۡنَا عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًا إِنۡ عُدۡنَا فِي مِلَّتِكُم بَعۡدَ إِذۡ نَجَّىٰنَا ٱللَّهُ مِنۡهَاۚ وَمَا يَكُونُ لَنَآ أَن نَّعُودَ فِيهَآ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ رَبُّنَاۚ وَسِعَ رَبُّنَا كُلَّ شَيۡءٍ عِلۡمًاۚ عَلَى ٱللَّهِ تَوَكَّلۡنَاۚ رَبَّنَا ٱفۡتَحۡ بَيۡنَنَا وَبَيۡنَ قَوۡمِنَا بِٱلۡحَقِّ وَأَنتَ خَيۡرُ ٱلۡفَٰتِحِينَ

    ‘আমরা তো আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপকারী হয়ে যাবো- যদি আমরা তোমাদের ধর্মে ফিরে যাই- যে ধর্ম থেকে আল্লাহ আমাদেরকে মুক্ত করেছেন। আর আমাদের জন্য উচিত হবে না, তোমাদের ধর্মে ফিরে যাওয়া; তবে আমাদের রব আল্লাহ চাইলে সেটা ভিন্ন কথা। সবকিছুই আমাদের রবের জ্ঞানের সীমায় রয়েছে। আমরা আল্লাহরই ওপর তাওয়াক্কুল করি। হে আমাদের রব, আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায্যভাবে ফয়সালা করে দিন। আর আপনিই তো শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।’

  90. ৯০

    وَقَالَ ٱلۡمَلَأُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِن قَوۡمِهِۦ لَئِنِ ٱتَّبَعۡتُمۡ شُعَيۡبًا إِنَّكُمۡ إِذٗا لَّخَٰسِرُونَ

    আর তার সম্প্রদায়ের কাফির নেতারা বললো: ‘তোমরা যদি শু'আইবকে অনুসরণ করো, তবে নিশ্চয় তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

  91. ৯১

    فَأَخَذَتۡهُمُ ٱلرَّجۡفَةُ فَأَصۡبَحُواْ فِي دَارِهِمۡ جَٰثِمِينَ

    অতঃপর (নবীর বিরোধিতা করার কারণে) প্রচণ্ড ভূমিকম্প তাদেরকে পাকড়াও করল। ফলে তারা নিজ নিজ ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে (মরে) রইল।

  92. ৯২

    ٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ شُعَيۡبٗا كَأَن لَّمۡ يَغۡنَوۡاْ فِيهَاۚ ٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ شُعَيۡبٗا كَانُواْ هُمُ ٱلۡخَٰسِرِينَ

    শু'আইবকে যারা মিথ্যাবাদী বলেছিল, ‘মনে হলো তারা যেন কখনো সেখানে বসবাসই করেনি। যারা শু'আইবকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

  93. ৯৩

    فَتَوَلَّىٰ عَنۡهُمۡ وَقَالَ يَٰقَوۡمِ لَقَدۡ أَبۡلَغۡتُكُمۡ رِسَٰلَٰتِ رَبِّي وَنَصَحۡتُ لَكُمۡۖ فَكَيۡفَ ءَاسَىٰ عَلَىٰ قَوۡمٖ كَٰفِرِينَ

    অতঃপর সে তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো এবং বললো: ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার রবের রিসালাত আমি তো তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করেছি । সুতরাং আমি কাফির সম্প্রদায়ের জন্য কি করে আক্ষেপ করি?

  94. ৯৪

    وَمَآ أَرۡسَلۡنَا فِي قَرۡيَةٖ مِّن نَّبِيٍّ إِلَّآ أَخَذۡنَآ أَهۡلَهَا بِٱلۡبَأۡسَآءِ وَٱلضَّرَّآءِ لَعَلَّهُمۡ يَضَّرَّعُونَ

    আর আমি যে জনপদেই নবী প্রেরণ করেছি, এর অধিবাসীকে আমি অর্থসংকট ও দুঃখ-কষ্ট দ্বারা পাকড়াও করেছি, যেন তারা অনুনয় বিনয় করে।

  95. ৯৫

    ثُمَّ بَدَّلۡنَا مَكَانَ ٱلسَّيِّئَةِ ٱلۡحَسَنَةَ حَتَّىٰ عَفَواْ وَّقَالُواْ قَدۡ مَسَّ ءَابَآءَنَا ٱلضَّرَّآءُ وَٱلسَّرَّآءُ فَأَخَذۡنَٰهُم بَغۡتَةٗ وَهُمۡ لَا يَشۡعُرُونَ

    অতঃপর আমি অকল্যাণকে কল্যাণে পরিবর্তন করি। অবশেষে তারা প্রচুর প্রাচুর্যের অধিকারী হয়ে যায় এবং বলে: 'আমাদের পূর্বপুরুষদেরকেও তো দু:খ-দুর্দশা ও আনন্দ স্পর্শ করেছে।’(১) অতঃপর হঠাৎ আমি তাদেরকে এমনভাবে পাকড়াও করি যে, তারা টেরও পায় না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  96. ৯৬

    وَلَوۡ أَنَّ أَهۡلَ ٱلۡقُرَىٰٓ ءَامَنُواْ وَٱتَّقَوۡاْ لَفَتَحۡنَا عَلَيۡهِم بَرَكَٰتٖ مِّنَ ٱلسَّمَآءِ وَٱلۡأَرۡضِ وَلَٰكِن كَذَّبُواْ فَأَخَذۡنَٰهُم بِمَا كَانُواْ يَكۡسِبُونَ

    আর যদি জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করতো, তবে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম; কিন্তু তারা মিথ্যারোপ করেছিল। কাজেই আমি তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদেরকে পাকড়াও করেছি।

  97. ৯৭

    أَفَأَمِنَ أَهۡلُ ٱلۡقُرَىٰٓ أَن يَأۡتِيَهُم بَأۡسُنَا بَيَٰتٗا وَهُمۡ نَآئِمُونَ

    তবে কি জনপদের অধিবাসীরা নিরাপদ হয়ে গেছে যে, রাতের বেলায় তাদের নিকট আমার শাস্তি আসবে না, যখন তারা গভীর ঘুমে নিমগ্ন থাকবে?

  98. ৯৮

    أَوَأَمِنَ أَهۡلُ ٱلۡقُرَىٰٓ أَن يَأۡتِيَهُم بَأۡسُنَا ضُحٗى وَهُمۡ يَلۡعَبُونَ

    নাকি জনপদের অধিবাসীরা নিরাপদ হয়ে গেছে যে, দিনের বেলায় তাদের ওপর আমার শাস্তি আসবে না, যখন তারা খেলাধুলায় মগ্ন থাকবে?

  99. ৯৯

    أَفَأَمِنُواْ مَكۡرَ ٱللَّهِۚ فَلَا يَأۡمَنُ مَكۡرَ ٱللَّهِ إِلَّا ٱلۡقَوۡمُ ٱلۡخَٰسِرُونَ

    তারা কি আল্লাহর কৌশল ও পরিকল্পনা থেকেও নিরাপদ হয়ে গেছে? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর কৌশল থেকে কেউ নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারে না।

  100. ১০০

    أَوَلَمۡ يَهۡدِ لِلَّذِينَ يَرِثُونَ ٱلۡأَرۡضَ مِنۢ بَعۡدِ أَهۡلِهَآ أَن لَّوۡ نَشَآءُ أَصَبۡنَٰهُم بِذُنُوبِهِمۡۚ وَنَطۡبَعُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمۡ فَهُمۡ لَا يَسۡمَعُونَ

    কোনো জনপদের অধিবাসীদের পর যারা তার উত্তরাধিকারী হয়, তাদের কাছে কি এ ব্যাপারটি সুস্পষ্ট নয় যে, আমি চাইলে তাদের পাপের কারণে তাদেরকে শাস্তি দিতে পারি? এমনকি আমি তাদের অন্তরেও মোহর মেরে দিতে পারি। ফলে তারা আর শুনবে না।

  101. ১০১

    تِلۡكَ ٱلۡقُرَىٰ نَقُصُّ عَلَيۡكَ مِنۡ أَنۢبَآئِهَاۚ وَلَقَدۡ جَآءَتۡهُمۡ رُسُلُهُم بِٱلۡبَيِّنَٰتِ فَمَا كَانُواْ لِيُؤۡمِنُواْ بِمَا كَذَّبُواْ مِن قَبۡلُۚ كَذَٰلِكَ يَطۡبَعُ ٱللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِ ٱلۡكَٰفِرِينَ

    এসব জনপদের(১) কিছু সংবাদ আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি, তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণসহ এসেছিল; কিন্তু পূর্বে তারা যে বিষয়কে একবার মিথ্যারোপ করেছিল, এর ওপর তদের ঈমান আনার ছিল না।(২) এভাবেই আল্লাহ কাফিরদের অন্তরে মোহর মেরে দেন।(৩)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  102. ১০২

    وَمَا وَجَدۡنَا لِأَكۡثَرِهِم مِّنۡ عَهۡدٖۖ وَإِن وَجَدۡنَآ أَكۡثَرَهُمۡ لَفَٰسِقِينَ

    আর তাদের অধিকাংশকে আমি প্রতিশ্রুতি পালনকারী পাইনি; বরং আমি তাদের অধিকাংশকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে বের হয়ে যেতে দেখেছি ।

  103. ১০৩

    ثُمَّ بَعَثۡنَا مِنۢ بَعۡدِهِم مُّوسَىٰ بِـَٔايَٰتِنَآ إِلَىٰ فِرۡعَوۡنَ وَمَلَإِيْهِۦ فَظَلَمُواْ بِهَاۖ فَٱنظُرۡ كَيۡفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلۡمُفۡسِدِينَ

    অতঃপর আমি তাদের পরে মূসাকে আমার নিদর্শনসহ ফির’আউন ও তার সভাসদদের কাছে প্রেরণ করেছি; কিন্তু তারা সেগুলোর সাথে যুলম করেছে।(১) সুতরাং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কি হয়েছিল তা তুমি লক্ষ্য করো।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  104. ১০৪

    وَقَالَ مُوسَىٰ يَٰفِرۡعَوۡنُ إِنِّي رَسُولٞ مِّن رَّبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ

    মূসা বললো: ‘হে ফির‘আউন, আমি তো সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল।’

  105. ১০৫

    حَقِيقٌ عَلَىٰٓ أَن لَّآ أَقُولَ عَلَى ٱللَّهِ إِلَّا ٱلۡحَقَّۚ قَدۡ جِئۡتُكُم بِبَيِّنَةٖ مِّن رَّبِّكُمۡ فَأَرۡسِلۡ مَعِيَ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ

    ‘আমার উচিত তাঁর ব্যাপারে সত্য ছাড়া আর কিছু না বলা। আমি তোমাদের রবের কাছ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে, তোমাদের কাছে এসেছি। কাজেই বানূ ইসরাঈলকে তুমি আমার সাথে পাঠিয়ে দাও।’

  106. ১০৬

    قَالَ إِن كُنتَ جِئۡتَ بِـَٔايَةٖ فَأۡتِ بِهَآ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّٰدِقِينَ

    ফির’আউন বললো: ‘যদি তুমি কোনো নিদর্শন এনে থাকো, তবে তুমি সত্যবাদী হলে, তা পেশ করো।’

  107. ১০৭

    فَأَلۡقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعۡبَانٞ مُّبِينٞ

    অতঃপর মূসা তাঁর হাতের লাঠি নিক্ষেপ করলেন এবং সাথে সাথেই তা স্পষ্ট এক অজগর সাপে পরিণত হলো।

  108. ১০৮

    وَنَزَعَ يَدَهُۥ فَإِذَا هِيَ بَيۡضَآءُ لِلنَّٰظِرِينَ

    আর তিনি তাঁর হাত বের করলেন। ফলে তা তৎক্ষণাৎ দর্শকদের সামনে উজ্জ্বল-সাদা হয়ে দেখা দিল।

  109. ১০৯

    قَالَ ٱلۡمَلَأُ مِن قَوۡمِ فِرۡعَوۡنَ إِنَّ هَٰذَا لَسَٰحِرٌ عَلِيمٞ

    ফির’আউনের সম্প্রদায়ের সভাসদরা বললো: ‘নিশ্চয় এ তো একজন সুদক্ষ যাদুকর।’

  110. ১১০

    يُرِيدُ أَن يُخۡرِجَكُم مِّنۡ أَرۡضِكُمۡۖ فَمَاذَا تَأۡمُرُونَ

    সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। অতএব, এখন তোমরা এ ব্যাপারে কি পরামর্শ দাও?

  111. ১১১

    قَالُوٓاْ أَرۡجِهۡ وَأَخَاهُ وَأَرۡسِلۡ فِي ٱلۡمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَ

    তারা বললো: ‘তাকে ও তার ভাইকে কিছু সময় দিন এবং নগরে নগরে লোক পাঠান।’

  112. ১১২

    يَأۡتُوكَ بِكُلِّ سَٰحِرٍ عَلِيمٖ

    ‘তারা আপনার কাছে সকল বিজ্ঞ যাদুকর নিয়ে আসবে।’

  113. ১১৩

    وَجَآءَ ٱلسَّحَرَةُ فِرۡعَوۡنَ قَالُوٓاْ إِنَّ لَنَا لَأَجۡرًا إِن كُنَّا نَحۡنُ ٱلۡغَٰلِبِينَ

    যাদুকররা ফির‘আউনের কাছে এসে বললো: ‘যদি আমরাই বিজয়ী হই, তবে আমাদের জন্য কি সত্যিই পুরস্কার থাকবে?‘

  114. ১১৪

    قَالَ نَعَمۡ وَإِنَّكُمۡ لَمِنَ ٱلۡمُقَرَّبِينَ

    সে বললো: হ্যাঁ , উপরন্তু তোমরা অবশ্যই আমার ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’

  115. ১১৫

    قَالُواْ يَٰمُوسَىٰٓ إِمَّآ أَن تُلۡقِيَ وَإِمَّآ أَن نَّكُونَ نَحۡنُ ٱلۡمُلۡقِينَ

    তারা বললো: ‘হে মূসা, তুমিনিক্ষেপ করবে, না আমরাই নিক্ষেপ করব?’

  116. ১১৬

    قَالَ أَلۡقُواْۖ فَلَمَّآ أَلۡقَوۡاْ سَحَرُوٓاْ أَعۡيُنَ ٱلنَّاسِ وَٱسۡتَرۡهَبُوهُمۡ وَجَآءُو بِسِحۡرٍ عَظِيمٖ

    সে (মূসা) বললো: ‘তোমরাই নিক্ষেপ কর।’ যখন তারা নিক্ষেপ করলো, তখন তারা মানুষের চোখে যাদু করলো এবং তাদেরকে আতঙ্কিত করলো। আসলেই তারা এক বিশাল শক্তিশালী যাদু নিয়ে এলো।

  117. ১১৭

    ۞ وَأَوۡحَيۡنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنۡ أَلۡقِ عَصَاكَۖ فَإِذَا هِيَ تَلۡقَفُ مَا يَأۡفِكُونَ

    আর আমি মূসার প্রতি অহী পাঠালাম যে, ‘তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো।’ তৎক্ষণাৎ সেটা তারা যে অলীক বস্তু বানিয়েছিল, তা গিলে ফেলতে লাগল।

  118. ১১৮

    فَوَقَعَ ٱلۡحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ

    অবশেষে সত্য প্রকাশ হয়ে গেল এবং তারা যা কিছু করছিল, তা বাতিল হয়ে গেল।

  119. ১১৯

    فَغُلِبُواْ هُنَالِكَ وَٱنقَلَبُواْ صَٰغِرِينَ

    তাই সেখানে তারা পরাজিত হলো, উপরন্তু তারা লাঞ্ছিত ও পরাজিত হয়ে ফিরে গেলো।

  120. ১২০

    وَأُلۡقِيَ ٱلسَّحَرَةُ سَٰجِدِينَ

    আর যাদুকররা সাজদায় লুটিয়ে পড়ল।

  121. ১২১

    قَالُوٓاْ ءَامَنَّا بِرَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ

    তারা বললো: ‘আমরা সৃষ্টিকুলের রবের প্রতি ঈমান আনলাম।’

  122. ১২২

    رَبِّ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ

    ‘যিনি মূসা ও হারূনের রব।’

  123. ১২৩

    قَالَ فِرۡعَوۡنُ ءَامَنتُم بِهِۦ قَبۡلَ أَنۡ ءَاذَنَ لَكُمۡۖ إِنَّ هَٰذَا لَمَكۡرٞ مَّكَرۡتُمُوهُ فِي ٱلۡمَدِينَةِ لِتُخۡرِجُواْ مِنۡهَآ أَهۡلَهَاۖ فَسَوۡفَ تَعۡلَمُونَ

    ফির'আউন বললো: ‘আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার আগে তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? এটা তো এক বড় ষড়যন্ত্র; তোমরা নগরবাসীদেরকে এখান থেকে বের করে দেয়ার জন্য এ ষড়যন্ত্র করেছো। সুতরাং তোমরা শীঘ্রই এর পরিণাম জানতে পারবে।’

  124. ১২৪

    لَأُقَطِّعَنَّ أَيۡدِيَكُمۡ وَأَرۡجُلَكُم مِّنۡ خِلَٰفٖ ثُمَّ لَأُصَلِّبَنَّكُمۡ أَجۡمَعِينَ

    ‘আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে টুকরো করে ফেলবো। তারপর অবশ্যই তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব।’

  125. ১২৫

    قَالُوٓاْ إِنَّآ إِلَىٰ رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ

    তারা বললো: ‘অবশ্যই আমরা তো আমাদের রবের কাছেই ফিরে যাব।’

  126. ১২৬

    وَمَا تَنقِمُ مِنَّآ إِلَّآ أَنۡ ءَامَنَّا بِـَٔايَٰتِ رَبِّنَا لَمَّا جَآءَتۡنَاۚ رَبَّنَآ أَفۡرِغۡ عَلَيۡنَا صَبۡرٗا وَتَوَفَّنَا مُسۡلِمِينَ

    ‘আর তুমি তো আমাদেরকে শাস্তি দিচ্ছ শুধু এ জন্যে যে, আমরা আমাদের রবের নিদর্শনের ওপর ঈমান এনেছি, যখন তা আমাদের কাছে প্রমাণিত হয়েছে। হে আমাদের রব! আমাদেরকে পরিপূর্ণ ধৈর্য দান করুন এবং মুসলিম হিসেবে আমাদেরকে মৃত্যু দিন।’

  127. ১২৭

    وَقَالَ ٱلۡمَلَأُ مِن قَوۡمِ فِرۡعَوۡنَ أَتَذَرُ مُوسَىٰ وَقَوۡمَهُۥ لِيُفۡسِدُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَيَذَرَكَ وَءَالِهَتَكَۚ قَالَ سَنُقَتِّلُ أَبۡنَآءَهُمۡ وَنَسۡتَحۡيِۦ نِسَآءَهُمۡ وَإِنَّا فَوۡقَهُمۡ قَٰهِرُونَ

    আর ফির‘আউনের সম্প্রদায়ের সভাসদগণ বললো: ‘আপনি কি মূসা ও তার সম্প্রদায়কে ছেড়ে দিবেন, যাতে তারা জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং আপনাকে ও আপনার উপাস্যগুলোকে বর্জন করে?’ সে বললো: ‘অচিরেই আমরা তাদের পুত্রসন্তানদেরকে হত্যা করবো, আর তাদের কন্যা সন্তানদেরকে জীবিত রাখবো। আর নিশ্চয় আমরা তাদের ওপর শক্তিধর।’

  128. ১২৮

    قَالَ مُوسَىٰ لِقَوۡمِهِ ٱسۡتَعِينُواْ بِٱللَّهِ وَٱصۡبِرُوٓاْۖ إِنَّ ٱلۡأَرۡضَ لِلَّهِ يُورِثُهَا مَن يَشَآءُ مِنۡ عِبَادِهِۦۖ وَٱلۡعَٰقِبَةُ لِلۡمُتَّقِينَ

    মূসা তাঁর সম্প্রদায়কে বললো: ‘তোমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং ধৈর্যধারণ করো। নিশ্চয় জমিন আল্লাহরই। তিনিই তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছে এর উত্তরাধিকারী বানান। আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্যেই।’

  129. ১২৯

    قَالُوٓاْ أُوذِينَا مِن قَبۡلِ أَن تَأۡتِيَنَا وَمِنۢ بَعۡدِ مَا جِئۡتَنَاۚ قَالَ عَسَىٰ رَبُّكُمۡ أَن يُهۡلِكَ عَدُوَّكُمۡ وَيَسۡتَخۡلِفَكُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَيَنظُرَ كَيۡفَ تَعۡمَلُونَ

    তারা বললো: ‘তুমি আমাদের কাছে আসার আগেও আমাদেরকে কষ্ট দেয়া হয়েছে এবং তুমি আমাদের কাছে আসার পরেও।’(১) সে বললো: ‘আশা করা যায়, তোমাদের রব তোমাদের শত্রুকে ধ্বংস করবেন এবং জমিনে তোমাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করবেন। অতঃপর তিনি দেখবেন, তোমরা কেমন কাজ করো।’(২)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  130. ১৩০

    وَلَقَدۡ أَخَذۡنَآ ءَالَ فِرۡعَوۡنَ بِٱلسِّنِينَ وَنَقۡصٖ مِّنَ ٱلثَّمَرَٰتِ لَعَلَّهُمۡ يَذَّكَّرُونَ

    আর আমি ফির‘আউনের অনুসারীদেরকে বছরের পর বছর দুর্ভিক্ষ ও ফল- ফলাদির ক্ষয়-ক্ষতির মাধ্যমে আক্রান্ত করেছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

  131. ১৩১

    فَإِذَا جَآءَتۡهُمُ ٱلۡحَسَنَةُ قَالُواْ لَنَا هَٰذِهِۦۖ وَإِن تُصِبۡهُمۡ سَيِّئَةٞ يَطَّيَّرُواْ بِمُوسَىٰ وَمَن مَّعَهُۥٓۗ أَلَآ إِنَّمَا طَٰٓئِرُهُمۡ عِندَ ٱللَّهِ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَهُمۡ لَا يَعۡلَمُونَ

    অতঃপর যখনই তাদের কাছে কল্যাণ আসত, তখন তারা বলত: ‘এটা তো আমাদের প্রাপ্য।’(১) আর যখন তাদের কাছে অকল্যাণ পৌঁছত, তখন তারা মূসা ও তার সঙ্গীদেরকে অলক্ষুণে মনে করত। সাবধান! তাদের অকল্যাণ তো কেবল আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  132. ১৩২

    وَقَالُواْ مَهۡمَا تَأۡتِنَا بِهِۦ مِنۡ ءَايَةٖ لِّتَسۡحَرَنَا بِهَا فَمَا نَحۡنُ لَكَ بِمُؤۡمِنِينَ

    আর তারা বললো: ‘তুমি আমাদেরকে যাদু করার জন্য যে কোন নিদর্শন আমাদের কাছে নিয়ে আস না কেন, আমরা তো তোমার প্রতি ঈমান আনবো না।’

  133. ১৩৩

    فَأَرۡسَلۡنَا عَلَيۡهِمُ ٱلطُّوفَانَ وَٱلۡجَرَادَ وَٱلۡقُمَّلَ وَٱلضَّفَادِعَ وَٱلدَّمَ ءَايَٰتٖ مُّفَصَّلَٰتٖ فَٱسۡتَكۡبَرُواْ وَكَانُواْ قَوۡمٗا مُّجۡرِمِينَ

    অতঃপর আমি তাদের উপর তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে প্রেরণ করি। এরপরও তারা অহংকার করল। আর তারা ছিল এক অপরাধী সম্প্রদায়।

  134. ১৩৪

    وَلَمَّا وَقَعَ عَلَيۡهِمُ ٱلرِّجۡزُ قَالُواْ يَٰمُوسَى ٱدۡعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِندَكَۖ لَئِن كَشَفۡتَ عَنَّا ٱلرِّجۡزَ لَنُؤۡمِنَنَّ لَكَ وَلَنُرۡسِلَنَّ مَعَكَ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ

    আর যখন তাদের ওপর শাস্তি আসত হতো তখন তারা বলতো: ‘হে মূসা তুমি আমাদের জন্যে তোমার রবের কাছে দুআ করো, তিনি যে ওয়াদা তোমার সাথে করেছেন, সে অনুযায়ী।(১) যদি তুমি আমাদের ওপর থেকে শাস্তি সরিয়ে দাও, তাহলে অবশ্যই আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনবো এবং বানূ ইসরাঈলকে অবশ্যই তোমার সাথে যেতে দিবো।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  135. ১৩৫

    فَلَمَّا كَشَفۡنَا عَنۡهُمُ ٱلرِّجۡزَ إِلَىٰٓ أَجَلٍ هُم بَٰلِغُوهُ إِذَا هُمۡ يَنكُثُونَ

    যখনই আমি তাদের ওপর থেকে শাস্তি দূর করে দিতাম এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, যা তাদের জন্য নির্ধারিত ছিল, তারা তখনই তাদের কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করত।(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  136. ১৩৬

    فَٱنتَقَمۡنَا مِنۡهُمۡ فَأَغۡرَقۡنَٰهُمۡ فِي ٱلۡيَمِّ بِأَنَّهُمۡ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَا وَكَانُواْ عَنۡهَا غَٰفِلِينَ

    অতঃপর আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম। ফলে, তাদেরকে গভীর সমুদ্রে ডুবিয়ে দিলাম। কারণ তারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং এ সম্পর্কে তারা ছিল গাফিল।

  137. ১৩৭

    وَأَوۡرَثۡنَا ٱلۡقَوۡمَ ٱلَّذِينَ كَانُواْ يُسۡتَضۡعَفُونَ مَشَٰرِقَ ٱلۡأَرۡضِ وَمَغَٰرِبَهَا ٱلَّتِي بَٰرَكۡنَا فِيهَاۖ وَتَمَّتۡ كَلِمَتُ رَبِّكَ ٱلۡحُسۡنَىٰ عَلَىٰ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ بِمَا صَبَرُواْۖ وَدَمَّرۡنَا مَا كَانَ يَصۡنَعُ فِرۡعَوۡنُ وَقَوۡمُهُۥ وَمَا كَانُواْ يَعۡرِشُونَ

    আর যে জাতিকে একদা দুর্বল মনে করা হতো, তাদেরকে আমি বরকতপ্রাপ্ত ভূমির পূর্ব ও পশ্চিমের উত্তরাধিকারী বানালাম(১) এবং বানূ ইসরাঈলের ওপর তোমার রবের উত্তম বাণী পূর্ণতা লাভ করলো।(২) কারণ তারা ধৈর্যধারণ করেছিল। আর ধ্বংস করে দিলাম ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায় যা কিছু তৈরি করেছিল এবং তারা যেসব প্রাসাদ নির্মাণ করেছিল সেগুলোকে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  138. ১৩৮

    وَجَٰوَزۡنَا بِبَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ ٱلۡبَحۡرَ فَأَتَوۡاْ عَلَىٰ قَوۡمٖ يَعۡكُفُونَ عَلَىٰٓ أَصۡنَامٖ لَّهُمۡۚ قَالُواْ يَٰمُوسَى ٱجۡعَل لَّنَآ إِلَٰهٗا كَمَا لَهُمۡ ءَالِهَةٞۚ قَالَ إِنَّكُمۡ قَوۡمٞ تَجۡهَلُونَ

    আর আমি বানূ ইসরাঈলকে সাগর পার করিয়ে দেই। অতঃপর তারা এমন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো, যারা নিজেদের মূর্তিগুলোর পূজায় নিমগ্ন ছিল। তারা বললো: ‘হে মূসা! তাদের যেমন উপাস্য আছে, আমাদের জন্যও তেমনি একজন উপাস্য নির্ধারণ করে দাও।’ সে বললো: ‘নিশ্চয় তোমরা এক মূর্খ সম্প্রদায়।’(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  139. ১৩৯

    إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ مُتَبَّرٞ مَّا هُمۡ فِيهِ وَبَٰطِلٞ مَّا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ

    ‘নিশ্চয় এসব লোক যাতে লিপ্ত রয়েছে তার জন্য তারা তো ধ্বংসপ্রাপ্ত হবেই এবং তারা যা করছে, তাও বাতিল হয়ে যাবে।’

  140. ১৪০

    قَالَ أَغَيۡرَ ٱللَّهِ أَبۡغِيكُمۡ إِلَٰهٗا وَهُوَ فَضَّلَكُمۡ عَلَى ٱلۡعَٰلَمِينَ

    সে আরো বললো: ‘আল্লাহ ছাড়া আমি কি তোমাদের জন্য অন্য ইলাহ সন্ধান করব; অথচ তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টিকুলের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন?’

  141. ১৪১

    وَإِذۡ أَنجَيۡنَٰكُم مِّنۡ ءَالِ فِرۡعَوۡنَ يَسُومُونَكُمۡ سُوٓءَ ٱلۡعَذَابِ يُقَتِّلُونَ أَبۡنَآءَكُمۡ وَيَسۡتَحۡيُونَ نِسَآءَكُمۡۚ وَفِي ذَٰلِكُم بَلَآءٞ مِّن رَّبِّكُمۡ عَظِيمٞ

    আর স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদেরকে ফির‘আউনের লোকদের থেকে উদ্ধার করেছিলাম। তারা তোমাদেরকে কঠিন নিকৃষ্ট শাস্তি দিত। তোমাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করত এবং তোমাদের নারীদেরকে জীবিত রাখত। আর এতে(১) ছিল তোমাদের রবের পক্ষ থেকে মহাপরীক্ষা।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  142. ১৪২

    ۞ وَوَٰعَدۡنَا مُوسَىٰ ثَلَٰثِينَ لَيۡلَةٗ وَأَتۡمَمۡنَٰهَا بِعَشۡرٖ فَتَمَّ مِيقَٰتُ رَبِّهِۦٓ أَرۡبَعِينَ لَيۡلَةٗۚ وَقَالَ مُوسَىٰ لِأَخِيهِ هَٰرُونَ ٱخۡلُفۡنِي فِي قَوۡمِي وَأَصۡلِحۡ وَلَا تَتَّبِعۡ سَبِيلَ ٱلۡمُفۡسِدِينَ

    আর আমি মূসাকে ত্রিশ রাতের ওয়াদা দিয়েছিলাম এবং আরো দশ বাড়িয়ে তা পূর্ণ করেছিলাম। এভাবে তার রবের নির্ধারিত সময় চল্লিশ রাত পূর্ণ হয়। মূসা তার ভাই হারূনকে বললো: ‘আমার অনুপস্থিতিতে আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব করো, সংশোধন করো, আর বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করো না(১)।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  143. ১৪৩

    وَلَمَّا جَآءَ مُوسَىٰ لِمِيقَٰتِنَا وَكَلَّمَهُۥ رَبُّهُۥ قَالَ رَبِّ أَرِنِيٓ أَنظُرۡ إِلَيۡكَۚ قَالَ لَن تَرَىٰنِي وَلَٰكِنِ ٱنظُرۡ إِلَى ٱلۡجَبَلِ فَإِنِ ٱسۡتَقَرَّ مَكَانَهُۥ فَسَوۡفَ تَرَىٰنِيۚ فَلَمَّا تَجَلَّىٰ رَبُّهُۥ لِلۡجَبَلِ جَعَلَهُۥ دَكّٗا وَخَرَّ مُوسَىٰ صَعِقٗاۚ فَلَمَّآ أَفَاقَ قَالَ سُبۡحَٰنَكَ تُبۡتُ إِلَيۡكَ وَأَنَا۠ أَوَّلُ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ

    আর মূসা যখন আমাদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলেন এবং তাঁর রব তাঁর সঙ্গে কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, ‘হে আমার রব! আমাকে দেখান, যাতে আমি আপনার দিকে তাকাতে পারি।’ তিনি বললেন, ‘তুমি আমাকে কখনোই দেখতে পারবে না। তবে ওই পাহাড়ের দিকে তাকাও; যদি তা নিজের স্থানে স্থির থাকে, তবে তুমি আমাকে দেখতে পারবে।’ অতঃপর যখন তাঁর রব পাহাড়ে বিকশিত হলেন, তখন তিনি পাহাড়টিকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিলেন এবং মূসা অচেতন হয়ে পড়লেন। পরে যখন তাঁর চেতনা ফিরে এলো, তখন তিনি বললেন, ‘আপনি মহাপবিত্র! আমি আপনার কাছে তাওবা করলাম এবং আমি (আমার কওমের) মু’মিনদের মধ্যে প্রথম।’

  144. ১৪৪

    قَالَ يَٰمُوسَىٰٓ إِنِّي ٱصۡطَفَيۡتُكَ عَلَى ٱلنَّاسِ بِرِسَٰلَٰتِي وَبِكَلَٰمِي فَخُذۡ مَآ ءَاتَيۡتُكَ وَكُن مِّنَ ٱلشَّٰكِرِينَ

    তিনি বললেন: ‘হে মূসা! আমি তোমাকে আমার রিসালাত ও বাক্যালাপ দিয়ে মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। কাজেই আমি তোমাকে যা প্রদান করলাম, তা গ্রহণ করো এবং কৃতজ্ঞতা আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’

  145. ১৪৫

    وَكَتَبۡنَا لَهُۥ فِي ٱلۡأَلۡوَاحِ مِن كُلِّ شَيۡءٖ مَّوۡعِظَةٗ وَتَفۡصِيلٗا لِّكُلِّ شَيۡءٖ فَخُذۡهَا بِقُوَّةٖ وَأۡمُرۡ قَوۡمَكَ يَأۡخُذُواْ بِأَحۡسَنِهَاۚ سَأُوْرِيكُمۡ دَارَ ٱلۡفَٰسِقِينَ

    আর আমি তার জন্য ফলকসমূহে প্রত্যেক বিষয়ের উপদেশ এবং সকল বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা লিখে দিয়েছি। সুতরাং তা শক্ত করে ধরো এবং তোমার সম্প্রদায়কে নির্দেশ দাও, তারা যেন এর উত্তম বিষয়গুলো গ্রহণ করে ।(১) আমি অচিরেই তোমাদেরকে ফাসিকদের আবাস দেখাব ।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  146. ১৪৬

    سَأَصۡرِفُ عَنۡ ءَايَٰتِيَ ٱلَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي ٱلۡأَرۡضِ بِغَيۡرِ ٱلۡحَقِّ وَإِن يَرَوۡاْ كُلَّ ءَايَةٖ لَّا يُؤۡمِنُواْ بِهَا وَإِن يَرَوۡاْ سَبِيلَ ٱلرُّشۡدِ لَا يَتَّخِذُوهُ سَبِيلٗا وَإِن يَرَوۡاْ سَبِيلَ ٱلۡغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلٗاۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَا وَكَانُواْ عَنۡهَا غَٰفِلِينَ

    যারা অন্যায়ভাবে জমিনে অহংকার করে বেড়ায়, আমি অচিরেই তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ থেকে অবশ্যই ফিরিয়ে রাখবো।(১) আর তারা সকল নিদর্শন দেখলেও তার ওপর ঈমান আনবে না এবং তারা সৎপথ দেখলেও সেটাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করবে না। কিন্তু তারা ভ্রান্ত পথ দেখলেই সেটাকেপথ হিসেবে গ্রহণ করবে। এটা এ জন্য যে, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যারোপ করেছে এবং সে ব্যাপারে তারা গাফিল ছিল ।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  147. ১৪৭

    وَٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَا وَلِقَآءِ ٱلۡأٓخِرَةِ حَبِطَتۡ أَعۡمَٰلُهُمۡۚ هَلۡ يُجۡزَوۡنَ إِلَّا مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ

    আর যারা আমার আয়াতসমূহ ও আখিরাতের সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে, তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে গেছে। তারা যা করে, সে অনুযায়ীই তাদের প্রতিফল দেয়া হবে।

  148. ১৪৮

    وَٱتَّخَذَ قَوۡمُ مُوسَىٰ مِنۢ بَعۡدِهِۦ مِنۡ حُلِيِّهِمۡ عِجۡلٗا جَسَدٗا لَّهُۥ خُوَارٌۚ أَلَمۡ يَرَوۡاْ أَنَّهُۥ لَا يُكَلِّمُهُمۡ وَلَا يَهۡدِيهِمۡ سَبِيلًاۘ ٱتَّخَذُوهُ وَكَانُواْ ظَٰلِمِينَ

    আর মূসার সম্প্রদায় তার অনুপস্থিতিতে নিজেদের অলংকারাদি দিয়ে একটি গো-বাছুরের দেহাবয়ব তৈরি করল, যার থেকে 'হাম্বা’ ধ্বনি বের হতো। তারা কি দেখেনি যে, এটা তাদের সাথে কথা বলে না এবং তাদেরকে পথও দেখায় না? তারা এটাকে গ্রহণ করল আর তারা ছিল যালিম।

  149. ১৪৯

    وَلَمَّا سُقِطَ فِيٓ أَيۡدِيهِمۡ وَرَأَوۡاْ أَنَّهُمۡ قَدۡ ضَلُّواْ قَالُواْ لَئِن لَّمۡ يَرۡحَمۡنَا رَبُّنَا وَيَغۡفِرۡ لَنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ

    আর যখন তারা লজ্জিত ও অনুতপ্ত হলো এবং দেখলো যে, তারা তো পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, তখন তারা বললো: ‘আমাদের রব যদি আমাদের প্রতি রহম না করেন এবং আমাদেরকে ক্ষমা না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।’

  150. ১৫০

    وَلَمَّا رَجَعَ مُوسَىٰٓ إِلَىٰ قَوۡمِهِۦ غَضۡبَٰنَ أَسِفٗا قَالَ بِئۡسَمَا خَلَفۡتُمُونِي مِنۢ بَعۡدِيٓۖ أَعَجِلۡتُمۡ أَمۡرَ رَبِّكُمۡۖ وَأَلۡقَى ٱلۡأَلۡوَاحَ وَأَخَذَ بِرَأۡسِ أَخِيهِ يَجُرُّهُۥٓ إِلَيۡهِۚ قَالَ ٱبۡنَ أُمَّ إِنَّ ٱلۡقَوۡمَ ٱسۡتَضۡعَفُونِي وَكَادُواْ يَقۡتُلُونَنِي فَلَا تُشۡمِتۡ بِيَ ٱلۡأَعۡدَآءَ وَلَا تَجۡعَلۡنِي مَعَ ٱلۡقَوۡمِ ٱلظَّٰلِمِينَ

    আর মূসা যখন ক্ষুব্ধ ও দু:খ ভারাক্রান্ত হয়ে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসল, তখন সে বললো: ‘আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা আমার কত খারাপ প্রতিনিধিত্ব করেছ! তোমাদের রবের আদেশের আগেই তোমরা তাড়াহুড়া করলে?’ আর সে ফলকগুলো ফেলে দিল এবং স্বীয় ভাইয়ের মাথা ধরে নিজের দিকে টেনে আনতে লাগল। সে বললো: ‘হে আমার সহোদর! এ জাতি আমাকে দুর্বল মনে করেছে এবং আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছে। তাই তুমি আমার সাথে এমন আচরণ করো না, যাতে শত্রুরা আনন্দিত হয় এবং আমাকে যালিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করো না।’

  151. ১৫১

    قَالَ رَبِّ ٱغۡفِرۡ لِي وَلِأَخِي وَأَدۡخِلۡنَا فِي رَحۡمَتِكَۖ وَأَنتَ أَرۡحَمُ ٱلرَّٰحِمِينَ

    সে বললো: ‘হে আমার রব! আমাকে ও আমার ভাইকে ক্ষমা করুন এবং আপনার রহমতের মধ্যে আমাদেরকে প্রবেশ করান। আর আপনিই রহমকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।‘

  152. ১৫২

    إِنَّ ٱلَّذِينَ ٱتَّخَذُواْ ٱلۡعِجۡلَ سَيَنَالُهُمۡ غَضَبٞ مِّن رَّبِّهِمۡ وَذِلَّةٞ فِي ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۚ وَكَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلۡمُفۡتَرِينَ

    নিশ্চয় যারা গো-বাছুরকে গ্রহণ করেছে, অচিরেই দুনিয়ার জীবনে তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্রোধ ও লাঞ্ছনা তাদেরকে আক্রান্ত করবে । আর এভাবেই আমি মিথ্যা রটনাকারীদের প্রতিফল দান করি।

  153. ১৫৩

    وَٱلَّذِينَ عَمِلُواْ ٱلسَّيِّـَٔاتِ ثُمَّ تَابُواْ مِنۢ بَعۡدِهَا وَءَامَنُوٓاْ إِنَّ رَبَّكَ مِنۢ بَعۡدِهَا لَغَفُورٞ رَّحِيمٞ

    আর যারা মন্দ কাজ করল(১), তারপর (অনুতপ্ত হয়ে) তাওবা করল এবং(পরিপূর্ণ) ঈমান আনল, নিশ্চয় তোমার রব এরপরও (তাদের প্রতি ) ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  154. ১৫৪

    وَلَمَّا سَكَتَ عَن مُّوسَى ٱلۡغَضَبُ أَخَذَ ٱلۡأَلۡوَاحَۖ وَفِي نُسۡخَتِهَا هُدٗى وَرَحۡمَةٞ لِّلَّذِينَ هُمۡ لِرَبِّهِمۡ يَرۡهَبُونَ

    অবশেষে যখন মূসার ক্রোধ থেমে গেল, তখন সে ফলকগুলো তুলে নিল। যারা নিজেদের রবকে ভয় করে এর লেখাগুলোতে তাদের জন্যে হিদায়াত ও রহমত ছিলো ।

  155. ১৫৫

    وَٱخۡتَارَ مُوسَىٰ قَوۡمَهُۥ سَبۡعِينَ رَجُلٗا لِّمِيقَٰتِنَاۖ فَلَمَّآ أَخَذَتۡهُمُ ٱلرَّجۡفَةُ قَالَ رَبِّ لَوۡ شِئۡتَ أَهۡلَكۡتَهُم مِّن قَبۡلُ وَإِيَّٰيَۖ أَتُهۡلِكُنَا بِمَا فَعَلَ ٱلسُّفَهَآءُ مِنَّآۖ إِنۡ هِيَ إِلَّا فِتۡنَتُكَ تُضِلُّ بِهَا مَن تَشَآءُ وَتَهۡدِي مَن تَشَآءُۖ أَنتَ وَلِيُّنَا فَٱغۡفِرۡ لَنَا وَٱرۡحَمۡنَاۖ وَأَنتَ خَيۡرُ ٱلۡغَٰفِرِينَ

    আর মূসা তার সম্প্রদায় থেকে সত্তর জন লোককে আমার নির্ধারিত স্থানে নিয়ে আসার জন্যে নির্বাচন করল। অতঃপর যখন ভূমিকম্প তাদেরকে পাকড়াও করল, তখন সে বললো: ‘হে আমার রব, আপনি চাইলে ইতঃপূর্বে এদের এবং আমাকেও ধ্বংস করতে পারতেন । আমাদের মধ্যে নির্বোধরা যা করেছে, তার কারণে কি আপনি আমাদেরকে ধ্বংস করবেন? এটাতো আপনার পরীক্ষা ছাড়া কিছু না। এর মাধ্যমে যাকে চান আপনি পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান হিদায়াত দান করেন। আপনি আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আর ক্ষমাশীলদের মধ্যে আপনিই তো শ্রেষ্ঠ।’

  156. ১৫৬

    ۞ وَٱكۡتُبۡ لَنَا فِي هَٰذِهِ ٱلدُّنۡيَا حَسَنَةٗ وَفِي ٱلۡأٓخِرَةِ إِنَّا هُدۡنَآ إِلَيۡكَۚ قَالَ عَذَابِيٓ أُصِيبُ بِهِۦ مَنۡ أَشَآءُۖ وَرَحۡمَتِي وَسِعَتۡ كُلَّ شَيۡءٖۚ فَسَأَكۡتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤۡتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱلَّذِينَ هُم بِـَٔايَٰتِنَا يُؤۡمِنُونَ

    আর আপনি আমাদের জন্য এ দুনিয়াতে কল্যাণ লিখে দিন এবং আখেরাতেও । নিশ্চয় আমরা আপনার কাছেই ফিরে এসেছি।’ আল্লাহ বললেন: ‘আমার শাস্তি যাকে ইচ্ছে দিয়ে থাকি বটে; কিন্তু আমার রহমত তো প্রত্যেক বস্তুকে ঘিরে আছেই। কাজেই আমিই তা লিখে দিবো তাদের জন্য, যারা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকেই ভয় করে, যাকাত দেয় ও আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে।’

  157. ১৫৭

    ٱلَّذِينَ يَتَّبِعُونَ ٱلرَّسُولَ ٱلنَّبِيَّ ٱلۡأُمِّيَّ ٱلَّذِي يَجِدُونَهُۥ مَكۡتُوبًا عِندَهُمۡ فِي ٱلتَّوۡرَىٰةِ وَٱلۡإِنجِيلِ يَأۡمُرُهُم بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَىٰهُمۡ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيۡهِمُ ٱلۡخَبَٰٓئِثَ وَيَضَعُ عَنۡهُمۡ إِصۡرَهُمۡ وَٱلۡأَغۡلَٰلَ ٱلَّتِي كَانَتۡ عَلَيۡهِمۡۚ فَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ بِهِۦ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَٱتَّبَعُواْ ٱلنُّورَ ٱلَّذِيٓ أُنزِلَ مَعَهُۥٓ أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ

    যারা অনুসরণ করে রাসূল উম্মী নবীর(১), যার উল্লেখ তারা তাদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জীলে লিপিবদ্ধ পায়। সে তাদেরকে সৎকাজের আদেশ দেয়, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে, তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে এবং অপবিত্র বস্তু হারাম করে। আর সে তাদেরকে তাদের কঠিন বিধানাদি দূর করে ও শৃঙ্খল হতে মুক্ত করে, যা তাদের ওপর ছিল। কাজেই যারা তার প্রতি ঈমান আনে, তাকে সম্মান করে, তাকে সাহায্য করে এবং যে নূর তার সাথে নাযিল হয়েছে সেটার অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  158. ১৫৮

    قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِنِّي رَسُولُ ٱللَّهِ إِلَيۡكُمۡ جَمِيعًا ٱلَّذِي لَهُۥ مُلۡكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ يُحۡيِۦ وَيُمِيتُۖ فَـَٔامِنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِ ٱلنَّبِيِّ ٱلۡأُمِّيِّ ٱلَّذِي يُؤۡمِنُ بِٱللَّهِ وَكَلِمَٰتِهِۦ وَٱتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمۡ تَهۡتَدُونَ

    ‘হে মানুষ! নিশ্চয় আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল, যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের সার্বভৌমত্বের অধিকারী। তিনি ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই, তিনি (মৃতকে) জীবিত করেন ও (জীবিতকে) মৃত করেন। কাজেই তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূল উম্মী নবীর প্রতি, যে আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের(১) প্রতি ঈমান রাখে। আর তোমরা তার অনুসরণ করো, যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  159. ১৫৯

    وَمِن قَوۡمِ مُوسَىٰٓ أُمَّةٞ يَهۡدُونَ بِٱلۡحَقِّ وَبِهِۦ يَعۡدِلُونَ

    মূসার সম্প্রদায় থেকে এমন এক দল রয়েছে, যারা অন্যকে ন্যায়ভাবে পথ প্রদর্শন করে এবং তার ভিত্তিতেই ইনসাফ করে।

  160. ১৬০

    وَقَطَّعۡنَٰهُمُ ٱثۡنَتَيۡ عَشۡرَةَ أَسۡبَاطًا أُمَمٗاۚ وَأَوۡحَيۡنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ إِذِ ٱسۡتَسۡقَىٰهُ قَوۡمُهُۥٓ أَنِ ٱضۡرِب بِّعَصَاكَ ٱلۡحَجَرَۖ فَٱنۢبَجَسَتۡ مِنۡهُ ٱثۡنَتَا عَشۡرَةَ عَيۡنٗاۖ قَدۡ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٖ مَّشۡرَبَهُمۡۚ وَظَلَّلۡنَا عَلَيۡهِمُ ٱلۡغَمَٰمَ وَأَنزَلۡنَا عَلَيۡهِمُ ٱلۡمَنَّ وَٱلسَّلۡوَىٰۖ كُلُواْ مِن طَيِّبَٰتِ مَا رَزَقۡنَٰكُمۡۚ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَٰكِن كَانُوٓاْ أَنفُسَهُمۡ يَظۡلِمُونَ

    আর আমি তাদেরকে বারোটি গোত্রে বিভক্ত করেছি। আর মূসার সম্প্রদায় যখন তার কাছে পানি চাইল, তখন আমরা তার প্রতি অহী পাঠালাম যে, তুমি তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করো। ফলে এ থেকে বারোটি ঝর্ণা উৎসারিত হলো। প্রত্যেক গোত্র নিজেদের পানি পানের জায়গা চিনে নিল। আর আমি তাদের ওপর মেঘমালার ছায়া দিয়েছিলাম(১) এবং তাদের ওপর নাযিল করেছিলাম মান্না ও সালওয়া।(২) তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে পবিত্র বস্তু আহার করো। আর তারা আমার প্রতি যুলম করেনি; বরং তারা নিজেদের ওপরই যুলম করেছে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  161. ১৬১

    وَإِذۡ قِيلَ لَهُمُ ٱسۡكُنُواْ هَٰذِهِ ٱلۡقَرۡيَةَ وَكُلُواْ مِنۡهَا حَيۡثُ شِئۡتُمۡ وَقُولُواْ حِطَّةٞ وَٱدۡخُلُواْ ٱلۡبَابَ سُجَّدٗا نَّغۡفِرۡ لَكُمۡ خَطِيٓـَٰٔتِكُمۡۚ سَنَزِيدُ ٱلۡمُحۡسِنِينَ

    আর স্মরণ করো সে সময়ের কথা, যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল: ‘তোমরা এ জনপদে বসবাস করো এবং সেখানের যেখান থেকে ইচ্ছা আহার করো এবং বলো ‘হিত্তাহ’ । আর নতশিরে দরজা দিয়ে প্রবেশ করো। তাহলে আমি তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দিবো। অবশ্যই আমি সৎকর্মশীলদেরকে বাড়িয়ে দিবো।

  162. ১৬২

    فَبَدَّلَ ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ مِنۡهُمۡ قَوۡلًا غَيۡرَ ٱلَّذِي قِيلَ لَهُمۡ فَأَرۡسَلۡنَا عَلَيۡهِمۡ رِجۡزٗا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ بِمَا كَانُواْ يَظۡلِمُونَ

    অতঃপর তাদের মধ্যে যারা যালিম ছিল, তাদেরকে যা বলা হয়েছিল, তার পরিবর্তে তারা অন্য কথা বলল।(১) ফলে তাদের যুলমের কারণে আমি আসমান থেকে তাদের প্রতি শাস্তি পাঠালাম।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  163. ১৬৩

    وَسۡـَٔلۡهُمۡ عَنِ ٱلۡقَرۡيَةِ ٱلَّتِي كَانَتۡ حَاضِرَةَ ٱلۡبَحۡرِ إِذۡ يَعۡدُونَ فِي ٱلسَّبۡتِ إِذۡ تَأۡتِيهِمۡ حِيتَانُهُمۡ يَوۡمَ سَبۡتِهِمۡ شُرَّعٗا وَيَوۡمَ لَا يَسۡبِتُونَ لَا تَأۡتِيهِمۡۚ كَذَٰلِكَ نَبۡلُوهُم بِمَا كَانُواْ يَفۡسُقُونَ

    আর তাদের কাছে জিজ্ঞেস করো সাগর তীরের(১) জনপদবাসী সম্বন্ধে, যখন তাদের কাছে শনিবারে তাদের মাছগুলো ভেসে আসত তখন তারা শনিবারে সীমালঙ্ঘন করত; । আর যেদিন তারা ‘শনিবার’ পালন করত না, সেদিন তা তাদের কাছে আসত না। এভাবে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করতাম। কারণ তারা পাপাচার করত।(২)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  164. ১৬৪

    وَإِذۡ قَالَتۡ أُمَّةٞ مِّنۡهُمۡ لِمَ تَعِظُونَ قَوۡمًا ٱللَّهُ مُهۡلِكُهُمۡ أَوۡ مُعَذِّبُهُمۡ عَذَابٗا شَدِيدٗاۖ قَالُواْ مَعۡذِرَةً إِلَىٰ رَبِّكُمۡ وَلَعَلَّهُمۡ يَتَّقُونَ

    আর স্মরণ করো, যখন তাদের একদল বলেছিল: ‘তোমরা কেন উপদেশ দিচ্ছ এমন সম্প্রদায়কে, যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করবেন কিংবা কঠিন শাস্তি দিবেন’? তারা বললো: ‘তোমাদের রবের নিকট ওযর পেশ করার জন্যে এবং যাতে তারা সাবধান হয়।’

  165. ১৬৫

    فَلَمَّا نَسُواْ مَا ذُكِّرُواْ بِهِۦٓ أَنجَيۡنَا ٱلَّذِينَ يَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلسُّوٓءِ وَأَخَذۡنَا ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ بِعَذَابِۭ بَـِٔيسِۭ بِمَا كَانُواْ يَفۡسُقُونَ

    অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, যখন তারা তা ভুলে গেল, তখন যারা অসৎকাজ থেকে নিষেধ করত তাদেরকে আমি মুক্তি দিয়েছিলাম। আর যারা যুলম করেছিল, তাদেরকে আমি কঠোর শাস্তি দিয়ে পাকড়াও করেছিলাম, কারণ তারা পাপাচারে লিপ্ত ছিল।

  166. ১৬৬

    فَلَمَّا عَتَوۡاْ عَن مَّا نُهُواْ عَنۡهُ قُلۡنَا لَهُمۡ كُونُواْ قِرَدَةً خَٰسِـِٔينَ

    অতঃপর যখন তারা নিষিদ্ধ কাজ সীমালঙ্ঘনের সাথে করতে লাগল, তখন আমি তাদেরকে বললাম: ‘তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।’

  167. ১৬৭

    وَإِذۡ تَأَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبۡعَثَنَّ عَلَيۡهِمۡ إِلَىٰ يَوۡمِ ٱلۡقِيَٰمَةِ مَن يَسُومُهُمۡ سُوٓءَ ٱلۡعَذَابِۗ إِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيعُ ٱلۡعِقَابِ وَإِنَّهُۥ لَغَفُورٞ رَّحِيمٞ

    আর স্মরণ করো, যখন তোমার রব ঘোষণা করলেন যে, অবশ্যই তিনি কিয়ামত পর্যন্ত তাদের ওপর এমন লোকদেরকে পাঠাবেন , যারা তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিতে থাকবে। আর নিশ্চয় তোমার রব অত্যন্ত ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।

  168. ১৬৮

    وَقَطَّعۡنَٰهُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ أُمَمٗاۖ مِّنۡهُمُ ٱلصَّٰلِحُونَ وَمِنۡهُمۡ دُونَ ذَٰلِكَۖ وَبَلَوۡنَٰهُم بِٱلۡحَسَنَٰتِ وَٱلسَّيِّـَٔاتِ لَعَلَّهُمۡ يَرۡجِعُونَ

    আর আমি তাদেরকে জমিনে বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত করেছি; তাদের কেউ কেউ সৎকর্মপরায়ণ আর কেউ অন্য রকম । আর আমি তাদেরকে কল্যাণ ও অকল্যাণ(১) দ্বারা পরীক্ষা করেছি, যাতে তারা ফিরে আসে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  169. ১৬৯

    فَخَلَفَ مِنۢ بَعۡدِهِمۡ خَلۡفٞ وَرِثُواْ ٱلۡكِتَٰبَ يَأۡخُذُونَ عَرَضَ هَٰذَا ٱلۡأَدۡنَىٰ وَيَقُولُونَ سَيُغۡفَرُ لَنَا وَإِن يَأۡتِهِمۡ عَرَضٞ مِّثۡلُهُۥ يَأۡخُذُوهُۚ أَلَمۡ يُؤۡخَذۡ عَلَيۡهِم مِّيثَٰقُ ٱلۡكِتَٰبِ أَن لَّا يَقُولُواْ عَلَى ٱللَّهِ إِلَّا ٱلۡحَقَّ وَدَرَسُواْ مَا فِيهِۗ وَٱلدَّارُ ٱلۡأٓخِرَةُ خَيۡرٞ لِّلَّذِينَ يَتَّقُونَۚ أَفَلَا تَعۡقِلُونَ

    অতঃপর একটি নিকৃষ্ট দল একের পর এক তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছে, তারা এ নগণ্য (দুনিয়ার) সামগ্রী গ্রহণ করে। আর তারা বলে: ‘শীঘ্রই আমাদের ক্ষমা করে দেয়া হবে।’ কিন্তু পরক্ষণে যদি অনুরূপ সামগ্রী তাদের সামনে আসে তবে তারা তা গ্রহণ করবে। তাদের কাছ থেকে কি কিতাবের অঙ্গীকার নেয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ছাড়া কোন কথা বলবে না? আর তারা তো কিতাবে যা আছে, তা পাঠ করেছে। যারা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করে চলে আখিরাতের আবাস তাদের জন্য উত্তম। তোমরা কি বুঝ না?

  170. ১৭০

    وَٱلَّذِينَ يُمَسِّكُونَ بِٱلۡكِتَٰبِ وَأَقَامُواْ ٱلصَّلَوٰةَ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجۡرَ ٱلۡمُصۡلِحِينَ

    আর যারা কিতাবকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং সালাত কায়িম করে। নিশ্চয় আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করি না।

  171. ১৭১

    ۞ وَإِذۡ نَتَقۡنَا ٱلۡجَبَلَ فَوۡقَهُمۡ كَأَنَّهُۥ ظُلَّةٞ وَظَنُّوٓاْ أَنَّهُۥ وَاقِعُۢ بِهِمۡ خُذُواْ مَآ ءَاتَيۡنَٰكُم بِقُوَّةٖ وَٱذۡكُرُواْ مَا فِيهِ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ

    আর স্মরণ করো, যখন আমি তাদের ওপর পাহাড় তুলে ধরলাম, যেন তা একখণ্ড মেঘ এবং তারা মনে করল যে, নিশ্চয় তা তাদের ওপর ভেঙ্গে পড়বে। ‘আমি তোমাদের যা দিয়েছি, তা শক্তভাবে ধরো এবং তাতে যা আছে, তা স্মরণ করো। আশা করা যায়, তোমরা তাকওয়াবান হতে পারবে।’

  172. ১৭২

    وَإِذۡ أَخَذَ رَبُّكَ مِنۢ بَنِيٓ ءَادَمَ مِن ظُهُورِهِمۡ ذُرِّيَّتَهُمۡ وَأَشۡهَدَهُمۡ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ أَلَسۡتُ بِرَبِّكُمۡۖ قَالُواْ بَلَىٰ شَهِدۡنَآۚ أَن تَقُولُواْ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ إِنَّا كُنَّا عَنۡ هَٰذَا غَٰفِلِينَ

    আর স্মরণ করো, যখন তোমার রব আদম-সন্তানের পিঠ থেকে তাদের বংশধরকে বের করেছিলেন এবং তাদের নিজেদের ওপর নিজেদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: ‘আমি কি তোমাদের রব নই?’ তারা সমস্বরে বলেছিলো: ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আমরা সাক্ষী রইলাম।’ এটা এ জন্যে যে, তোমরা যেন কিয়ামতের দিন বলতে না পারো: ‘আমরা তো এ বিষয়ে গাফিল ছিলাম।’

  173. ১৭৩

    أَوۡ تَقُولُوٓاْ إِنَّمَآ أَشۡرَكَ ءَابَآؤُنَا مِن قَبۡلُ وَكُنَّا ذُرِّيَّةٗ مِّنۢ بَعۡدِهِمۡۖ أَفَتُهۡلِكُنَا بِمَا فَعَلَ ٱلۡمُبۡطِلُونَ

    অথবা তোমরা যাতে বলতে না পারো: ‘আমাদের পিতৃ-পুরুষরাই পূর্বে শিরক করেছে, আর আমরা তো তাদের পরবর্তী বংশধর। তবে কি বাতিলপন্থিরা যে আমল করেছে, তার কারণে আপনি কি আমাদেরকে ধ্বংস করবেন’?

  174. ১৭৪

    وَكَذَٰلِكَ نُفَصِّلُ ٱلۡأٓيَٰتِ وَلَعَلَّهُمۡ يَرۡجِعُونَ

    আর আমি এভাবেই আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি, যাতে তারা ফিরে আসে।

  175. ১৭৫

    وَٱتۡلُ عَلَيۡهِمۡ نَبَأَ ٱلَّذِيٓ ءَاتَيۡنَٰهُ ءَايَٰتِنَا فَٱنسَلَخَ مِنۡهَا فَأَتۡبَعَهُ ٱلشَّيۡطَٰنُ فَكَانَ مِنَ ٱلۡغَاوِينَ

    আর তুমি তাদেরকে সে ব্যক্তির(১) সংবাদ পাঠ করে শোনাও, যাকে আমি আমার আয়াতসমূহ দিয়েছিলাম। অতঃপর সে তা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অতঃপর শয়তান তার পেছনে লাগে। ফলে সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিল।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  176. ১৭৬

    وَلَوۡ شِئۡنَا لَرَفَعۡنَٰهُ بِهَا وَلَٰكِنَّهُۥٓ أَخۡلَدَ إِلَى ٱلۡأَرۡضِ وَٱتَّبَعَ هَوَىٰهُۚ فَمَثَلُهُۥ كَمَثَلِ ٱلۡكَلۡبِ إِن تَحۡمِلۡ عَلَيۡهِ يَلۡهَثۡ أَوۡ تَتۡرُكۡهُ يَلۡهَثۚ ذَّٰلِكَ مَثَلُ ٱلۡقَوۡمِ ٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَاۚ فَٱقۡصُصِ ٱلۡقَصَصَ لَعَلَّهُمۡ يَتَفَكَّرُونَ

    আর আমি ইচ্ছা করলে উক্ত নিদর্শনাবলীর দ্বারা তাকে অবশ্যই উচ্চ মর্যাদা দিতাম; কিন্তু সে পৃথিবীর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এবং সে তার কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। সুতরাং তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে, কুকুরের মতো । যদি তার ওপর বোঝা চাপিয়ে দাও, তাহলে সে জিহ্বা বের করে হাঁপাবে, আর বোঝা না চাপালেও সে জিহ্বা বের করে হাঁপাবে। এটি হচ্ছে সে সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত, যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে। অতএব, তুমি এ ঘটনাগুলো তাদের কাছে বর্ণনা করো, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করতে পারে।

  177. ১৭৭

    سَآءَ مَثَلًا ٱلۡقَوۡمُ ٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَا وَأَنفُسَهُمۡ كَانُواْ يَظۡلِمُونَ

    সে সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত কতই না মন্দ! যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যারোপ করে। আর তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতিই যুলম করত।

  178. ১৭৮

    مَن يَهۡدِ ٱللَّهُ فَهُوَ ٱلۡمُهۡتَدِيۖ وَمَن يُضۡلِلۡ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡخَٰسِرُونَ

    আল্লাহ যাকে সঠিক পথ দেখান, সে-ই সঠিক পথ পায় এবং তিনি যাদেরকে পথভ্রষ্ট করেন, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

  179. ১৭৯

    وَلَقَدۡ ذَرَأۡنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرٗا مِّنَ ٱلۡجِنِّ وَٱلۡإِنسِۖ لَهُمۡ قُلُوبٞ لَّا يَفۡقَهُونَ بِهَا وَلَهُمۡ أَعۡيُنٞ لَّا يُبۡصِرُونَ بِهَا وَلَهُمۡ ءَاذَانٞ لَّا يَسۡمَعُونَ بِهَآۚ أُوْلَٰٓئِكَ كَٱلۡأَنۡعَٰمِ بَلۡ هُمۡ أَضَلُّۚ أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡغَٰفِلُونَ

    আর আমি অবশ্যই বহু জিন ও মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাদের অন্তর আছে; কিন্তু তা দ্বারা তারা অনুধাবন করতে পারে না। তাদের চোখ আছে; তবে তা দ্বারা তারাদেখে না। আর তাদের কান আছে; কিন্তু তা দ্বারা তারা শুনে না। মূলত তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তারা এর চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট। তারাই হচ্ছে প্রকৃত গাফিল।

  180. ১৮০

    وَلِلَّهِ ٱلۡأَسۡمَآءُ ٱلۡحُسۡنَىٰ فَٱدۡعُوهُ بِهَاۖ وَذَرُواْ ٱلَّذِينَ يُلۡحِدُونَ فِيٓ أَسۡمَٰٓئِهِۦۚ سَيُجۡزَوۡنَ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ

    আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। অতএব তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো। আর যারা তাঁর নাম বিকৃত করে তাদেরকে বর্জন করো। অচিরেই তাদের কৃতকর্মের ফল তাদেরকে দেয়া হবে।

  181. ১৮১

    وَمِمَّنۡ خَلَقۡنَآ أُمَّةٞ يَهۡدُونَ بِٱلۡحَقِّ وَبِهِۦ يَعۡدِلُونَ

    আর আমি যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে এমন একদল আছে, যারা ন্যায়ভাবে সঠিক পথ দেখায় এবং তার ভিত্তিতেই ন্যায়বিচার করে।

  182. ১৮২

    وَٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَا سَنَسۡتَدۡرِجُهُم مِّنۡ حَيۡثُ لَا يَعۡلَمُونَ

    আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, অচিরেই আমি তাদেরকে এমনভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাব যে, তারা জানতেও পারবে না।

  183. ১৮৩

    وَأُمۡلِي لَهُمۡۚ إِنَّ كَيۡدِي مَتِينٌ

    আর আমি তাদেরকে অবকাশ দিচ্ছি। নিশ্চয় আমার কৌশল অতি শক্তিশালী।

  184. ১৮৪

    أَوَلَمۡ يَتَفَكَّرُواْۗ مَا بِصَاحِبِهِم مِّن جِنَّةٍۚ إِنۡ هُوَ إِلَّا نَذِيرٞ مُّبِينٌ

    তারা কি কখনো চিন্তা-ভাবনা করেনি যে, তাদের সঙ্গীর মধ্যে কোন মস্তিষ্ক বিকৃতি নেই; সে তো স্পষ্ট সতর্ককারী।

  185. ১৮৫

    أَوَلَمۡ يَنظُرُواْ فِي مَلَكُوتِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَمَا خَلَقَ ٱللَّهُ مِن شَيۡءٖ وَأَنۡ عَسَىٰٓ أَن يَكُونَ قَدِ ٱقۡتَرَبَ أَجَلُهُمۡۖ فَبِأَيِّ حَدِيثِۭ بَعۡدَهُۥ يُؤۡمِنُونَ

    তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আসমানসমূহ ও জমিনের সার্বভৌম কর্তৃত্ব সম্পর্কে এবং এতদুভয়ের মাঝে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, সে সম্পর্কে? আর এর প্রতি যে, হয়তো তাদের নির্ধারিত সময় নিকটে এসে গিয়েছে?(১) সুতরাং তারাএরপর আর কোন কথার প্রতি ঈমান আনবে?

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  186. ১৮৬

    مَن يُضۡلِلِ ٱللَّهُ فَلَا هَادِيَ لَهُۥۚ وَيَذَرُهُمۡ فِي طُغۡيَٰنِهِمۡ يَعۡمَهُونَ

    আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোন হিদায়াতকারী নেই এবং তিনি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায়(১) ছেড়ে দেন, ফলে তারা দিশেহারা হয়ে ঘুরে বেড়ায়।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  187. ১৮৭

    يَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلسَّاعَةِ أَيَّانَ مُرۡسَىٰهَاۖ قُلۡ إِنَّمَا عِلۡمُهَا عِندَ رَبِّيۖ لَا يُجَلِّيهَا لِوَقۡتِهَآ إِلَّا هُوَۚ ثَقُلَتۡ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ لَا تَأۡتِيكُمۡ إِلَّا بَغۡتَةٗۗ يَسۡـَٔلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنۡهَاۖ قُلۡ إِنَّمَا عِلۡمُهَا عِندَ ٱللَّهِ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعۡلَمُونَ

    তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে: ‘তা কখন সংঘটিত হবে’? তুমি বলো: ‘এর জ্ঞান তো রয়েছে আমার রবের নিকট। তিনিই এর নির্ধারিত সময়ে তা প্রকাশ করবেন। আসমানসমূহ ও জমিনের ওপর তা অত্যন্ত কঠিন হবে। সেটি তোমাদের কাছে আকস্মিক এসে পড়বে। তারা তোমাকে প্রশ্ন করছে যেন, তুমি এ সম্পর্কে বিশেষভাবে অবহিত আছো। তুমি বলো: ‘এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকট আছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।’

  188. ১৮৮

    قُل لَّآ أَمۡلِكُ لِنَفۡسِي نَفۡعٗا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَآءَ ٱللَّهُۚ وَلَوۡ كُنتُ أَعۡلَمُ ٱلۡغَيۡبَ لَٱسۡتَكۡثَرۡتُ مِنَ ٱلۡخَيۡرِ وَمَا مَسَّنِيَ ٱلسُّوٓءُۚ إِنۡ أَنَا۠ إِلَّا نَذِيرٞ وَبَشِيرٞ لِّقَوۡمٖ يُؤۡمِنُونَ

    তুমি বলো: ‘আমি আমার নিজের কোনো উপকার ও ক্ষতির ক্ষমতা রাখি না, তবে আল্লাহ যা চান তা ছাড়া। আর আমি যদি গায়িবের খবর জানতাম, তাহলে আমি অধিক কল্যাণ লাভ করতাম এবং আমাকে কোনো ক্ষতিই স্পর্শ করতো না। আমি তো ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে) একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা ছাড়া আর কিছুই নই।

  189. ১৮৯

    ۞ هُوَ ٱلَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفۡسٖ وَٰحِدَةٖ وَجَعَلَ مِنۡهَا زَوۡجَهَا لِيَسۡكُنَ إِلَيۡهَاۖ فَلَمَّا تَغَشَّىٰهَا حَمَلَتۡ حَمۡلًا خَفِيفٗا فَمَرَّتۡ بِهِۦۖ فَلَمَّآ أَثۡقَلَت دَّعَوَا ٱللَّهَ رَبَّهُمَا لَئِنۡ ءَاتَيۡتَنَا صَٰلِحٗا لَّنَكُونَنَّ مِنَ ٱلشَّٰكِرِينَ

    তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তার থেকে তার স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে সে তার কাছে প্রশান্তি পায়। অতঃপর যখন স্বামী তার স্ত্রীর সাথে মিলন করলো, তখন সে হালকা গর্ভধারণ করলো এবং এটা নিয়ে সে অনায়াসে চলাফেরা করতে লাগল। অতঃপর গর্ভ যখন বড় হয়ে ভারী হয়ে আসে তখন তারা উভয়ে তাদের রব আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, ‘যদি আপনি আমাদেরকে একটি পূর্ণাঙ্গ সুসন্তান দান করেন, তাহলে অবশ্যই আমরা আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো।’

  190. ১৯০

    فَلَمَّآ ءَاتَىٰهُمَا صَٰلِحٗا جَعَلَا لَهُۥ شُرَكَآءَ فِيمَآ ءَاتَىٰهُمَاۚ فَتَعَٰلَى ٱللَّهُ عَمَّا يُشۡرِكُونَ

    অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে এক পূর্ণাঙ্গ সুসন্তান দান করেন, তখন তারা তাদেরকে যা দেয়া হয়েছে, সেটাতে আল্লাহর বহু শরিক নির্ধারণ করে।(১) কিন্তু তারা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক করে, তিনি তাদের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  191. ১৯১

    أَيُشۡرِكُونَ مَا لَا يَخۡلُقُ شَيۡـٔٗا وَهُمۡ يُخۡلَقُونَ

    তারা কি এমন বস্তুকে আল্লাহর শরিক বানাচ্ছে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না? বরং এরা নিজেরাই সৃষ্ট।

  192. ১৯২

    وَلَا يَسۡتَطِيعُونَ لَهُمۡ نَصۡرٗا وَلَآ أَنفُسَهُمۡ يَنصُرُونَ

    এরা না তাদেরকে সাহায্য করতে করতে পারে, আর না নিজেদেরকে সাহায্য করতে পারে।

  193. ১৯৩

    وَإِن تَدۡعُوهُمۡ إِلَى ٱلۡهُدَىٰ لَا يَتَّبِعُوكُمۡۚ سَوَآءٌ عَلَيۡكُمۡ أَدَعَوۡتُمُوهُمۡ أَمۡ أَنتُمۡ صَٰمِتُونَ

    আর তোমরা তাদেরকে সৎপথে ডাকলেও তারা তোমাদেরকে অনুসরণ করবে না। তোমরা ওদেরকে ডাক বা চুপ থাক, তোমাদের জন্য উভয়ই সমান(১)।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  194. ১৯৪

    إِنَّ ٱلَّذِينَ تَدۡعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ عِبَادٌ أَمۡثَالُكُمۡۖ فَٱدۡعُوهُمۡ فَلۡيَسۡتَجِيبُواْ لَكُمۡ إِن كُنتُمۡ صَٰدِقِينَ

    আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদেরকে ডাকো, তারা তো তোমাদেরই মত বান্দা।(১) সুতরাং তোমরা তাদেরকে ডাকতে থাকো, অতঃপর তারা যেনো তোমাদের ডাকে সাড়া দেয়, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  195. ১৯৫

    أَلَهُمۡ أَرۡجُلٞ يَمۡشُونَ بِهَآۖ أَمۡ لَهُمۡ أَيۡدٖ يَبۡطِشُونَ بِهَآۖ أَمۡ لَهُمۡ أَعۡيُنٞ يُبۡصِرُونَ بِهَآۖ أَمۡ لَهُمۡ ءَاذَانٞ يَسۡمَعُونَ بِهَاۗ قُلِ ٱدۡعُواْ شُرَكَآءَكُمۡ ثُمَّ كِيدُونِ فَلَا تُنظِرُونِ

    ওদের কি পা আছে, যা দিয়ে ওরা চলে? ওদের কি হাত আছে, যা দিয়ে ওরা ধরে? কিংবা ওদের কি চোখ আছে, যা দিয়ে ওরা দেখে? কিংবা ওদের কি কান আছে, যা দিয়ে ওরা শুনে? বলো: ‘তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরিক করেছো তাদেরকে ডাকো, তারপর আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করো এবং আমাকে অবকাশ দিও না।’

  196. ১৯৬

    إِنَّ وَلِـِّۧيَ ٱللَّهُ ٱلَّذِي نَزَّلَ ٱلۡكِتَٰبَۖ وَهُوَ يَتَوَلَّى ٱلصَّٰلِحِينَ

    নিশ্চয় আমার অভিভাবক তো হলেন সেই আল্লাহ, যিনি কিতাব নাযিল করেছেন এবং তিনিই সৎকর্মপরায়ণদের অভিভাবকত্ব করে থাকেন।

  197. ১৯৭

    وَٱلَّذِينَ تَدۡعُونَ مِن دُونِهِۦ لَا يَسۡتَطِيعُونَ نَصۡرَكُمۡ وَلَآ أَنفُسَهُمۡ يَنصُرُونَ

    আর তোমরা তাঁকে ছাড়া যাদেরকে ডাকো, তারা তোমাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারে না এবং তারা নিজেদেরকেও সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারে না।(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  198. ১৯৮

    وَإِن تَدۡعُوهُمۡ إِلَى ٱلۡهُدَىٰ لَا يَسۡمَعُواْۖ وَتَرَىٰهُمۡ يَنظُرُونَ إِلَيۡكَ وَهُمۡ لَا يُبۡصِرُونَ

    আর যদি তোমরা তাদেরকে সৎপথের দিকে আহ্বান করো, তবে তারা কিছুই শুনতে পাবে না। আর তুমি দেখতে পাবে যে, তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে; অথচ তারা দেখে না।

  199. ১৯৯

    خُذِ ٱلۡعَفۡوَ وَأۡمُرۡ بِٱلۡعُرۡفِ وَأَعۡرِضۡ عَنِ ٱلۡجَٰهِلِينَ

    তুমি ক্ষমা প্রদর্শন করো এবং ভালো কাজের আদেশ দাও। আর মূর্খদের উপেক্ষা করে চলো।(১)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  200. ২০০

    وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ ٱلشَّيۡطَٰنِ نَزۡغٞ فَٱسۡتَعِذۡ بِٱللَّهِۚ إِنَّهُۥ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

    আর যদি শয়তানের কোন কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে তুমি আল্লাহর আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

  201. ২০১

    إِنَّ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوۡاْ إِذَا مَسَّهُمۡ طَٰٓئِفٞ مِّنَ ٱلشَّيۡطَٰنِ تَذَكَّرُواْ فَإِذَا هُم مُّبۡصِرُونَ

    নিশ্চয় যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, যখন তাদেরকে শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা স্পর্শ করে(১), তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। তখনই তাদের দৃষ্টি খুলে যায়।(২)

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  202. ২০২

    وَإِخۡوَٰنُهُمۡ يَمُدُّونَهُمۡ فِي ٱلۡغَيِّ ثُمَّ لَا يُقۡصِرُونَ

    আর সঙ্গী-সাথীরা তাদেরকে ভ্রষ্টতার দিকে টেনে নিয়ে যায়। অতঃপর এ বিষয়ে(১) তারা কোনো ত্রুটি করে না।

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  203. ২০৩

    وَإِذَا لَمۡ تَأۡتِهِم بِـَٔايَةٖ قَالُواْ لَوۡلَا ٱجۡتَبَيۡتَهَاۚ قُلۡ إِنَّمَآ أَتَّبِعُ مَا يُوحَىٰٓ إِلَيَّ مِن رَّبِّيۚ هَٰذَا بَصَآئِرُ مِن رَّبِّكُمۡ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٞ لِّقَوۡمٖ يُؤۡمِنُونَ

    তুমি যখন তাদের কাছে কোনো নিদর্শন নিয়ে না আসো, তখন তারা বলে: ‘তুমি নিজেই একটি নিদর্শন বানিয়ে নাও না কেন?’(১) বলো: ‘আমার রবের পক্ষ থেকে যা আমার কাছে ওহী হিসেবে প্রেরণ করা হয়, আমি তো শুধু তারই অনুসরণ করি। এটি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ। আর তা হিদায়াত ও রহমত এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা ঈমান আনে।’

    আয়াতটির পাতা

    টীকা আসছে…

    টীকা আনা গেল না। আয়াতের পাতা খুলে দেখুন। আয়াতটির পাতা

  204. ২০৪

    وَإِذَا قُرِئَ ٱلۡقُرۡءَانُ فَٱسۡتَمِعُواْ لَهُۥ وَأَنصِتُواْ لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُونَ

    আর যখন আল-কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং চুপ থাকো, যাতে তোমরা রহমত লাভ করো।

  205. ২০৫

    وَٱذۡكُر رَّبَّكَ فِي نَفۡسِكَ تَضَرُّعٗا وَخِيفَةٗ وَدُونَ ٱلۡجَهۡرِ مِنَ ٱلۡقَوۡلِ بِٱلۡغُدُوِّ وَٱلۡأٓصَالِ وَلَا تَكُن مِّنَ ٱلۡغَٰفِلِينَ

    আর তুমি তোমার রবকে সকাল-সন্ধ্যায় নিজ মনে স্মরণ করো, অনুনয়বিনয় ও ভীতি সহকারে এবং অনুচ্চস্বরে। উপরন্তু গাফিল হয়ো না।

  206. ২০৬

    إِنَّ ٱلَّذِينَ عِندَ رَبِّكَ لَا يَسۡتَكۡبِرُونَ عَنۡ عِبَادَتِهِۦ وَيُسَبِّحُونَهُۥ وَلَهُۥ يَسۡجُدُونَۤ۩

    নিশ্চয় তোমার রবের সান্নিধ্যে যারা আছে, তারা তাঁর ইবাদাতের ব্যাপারে অহংকার করে না এবং তারা তাঁরই তাসবীহ পাঠ করে। আর তাঁর জন্যই সাজদা করে।

অনুবাদ: রাওয়াদ ট্রান্সলেশন সেন্টার. উৎস: QuranEnc.com, সর্বশেষ মিলিয়ে দেখা: ২৬ অক্টোবর ২০২৬.

আরবি পাঠ: বাদশাহ ফাহাদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স. সূরার তথ্য: Tanzil.net (CC BY 3.0).

এটি কুরআনের অর্থের অনুবাদ। মানুষের যেকোনো কাজের মতো এতে ভুল থাকতে পারে।